OrdinaryITPostAd

কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর

কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর । কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের মোমযুক্ত চর্বি সদৃশ্য পদার্থ যা শরীরের প্রতিটি কোষে থাকে এবং কোষের গঠন হরমোন ভিটামিন ডি  ও হজমের জন্য অপরিহার্য । 


এটি  কয়েক ধরনের ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল ,এইচডিএল এবং টোটাল ।এর মধ্যে একটা হল উপকারী আর তিনটা শরীরের জন্য ক্ষতিকর । এটি মানব দেহকে সুস্থভাবে পরিচালিত করার জন্য শরীরের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান । 

পোস্ট সূচিপত্র: কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর 
  •  ইহা  কি ?
  •  এটির প্রকারভেদ
  •   এলডিএল  ( খারাপ করেস্টরেল )    
  •  এইচডিএল  ( ভালো কোলেস্টেরল )
  •  ট্রাই গ্লিসারাইড এবং টোটাল
  • এটি মানবদেহের জন্য কেন ক্ষতিকর ?
  • ইহার কারণে  কি কি স্বাস্থ্য ঝুঁকি হয়
  •  ইহার বৃদ্ধির প্রধান কারণ সমূহ
  •  ইহার লক্ষণ ও উপসর্গ
  •  ইহাকে নিয়ন্ত্রণে খাদ্য অভ্যাস
  •  ইহাকে নিয়ন্ত্রণে জীবন যাত্রার পরিবর্তন

 প্রাকৃতিক উপায়ে ইহাকে কমানো পদ্ধতি

  •  নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার গুরুত্ব
  • এটির সম্পর্কে সাধারণ ভুল ধারণা
  •  সচেতন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
  • লেখকের মন্তব্য

কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর 

 কিন্তু কোলেস্টরলের সঠিক মাত্রা যা আমাদের শরীরের জন্য প্রতিটি কোষের জন্য প্রয়োজনীয় । এটি মূলত যকৃতে উৎপন্ন হয় এবং কিছু নির্দিষ্ট খাবারের মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশ করে । । তবে সমস্যা তখনই দেখা দেয়, শরীরে ইহার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার বাইরে চলে গেলে। তখনই কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে উঠে ।ইহার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হলেও  এটি আপনার শরীরে সুস্থ কোষ তৈরি করে ।আধুনিক জীবনে খাদ্য ভাসের পরিবর্তন ফাস্টফুডের প্রতি  ঝোঁক শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপের কারণে নানা ধরনের অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে একটি বহুল আলোচিত  এবং গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হচ্ছে কোলেস্টরেল ।অনেকেই জানে না ইহা কি , এটি কেন তৈরি হয় এবং কিভাবে কোলেস্ট্ররেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে । এই লেখায় আমরা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব ইহা কি এর প্রকারভেদ মানবদেহে এর  প্রভাব ক্ষতিকর দিক ঝুঁকি প্রতিরোধ এবং নিয়ন্ত্রণের উপায়

ইহা কি ?

এটি হলো এক ধরনের চর্বি  জাতীয় পদার্থ   ( লিপিড ) ,হরমোন তৈরি ভিটামিন ডি উৎপাদন এবং কোষের ঝিল্লি গঠনে ইহার ভূমিকা রয়েছে

ইহার প্রকারভেদ

মানবদেহে এটি সাধারণত চার ধরনের হয়ে থাকে

১ . এলডিএল ( LDL -  Low Density Lipoprotein )

এটি কে সাধারণত খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয়। কারণ এটি ধমনীর দেওয়ালে জমে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে । এর ফলে হৃদরোগ স্ট্রোক উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায় ।

২. এইচডিএল ( HDL - High Density Lipoprotein )এটিকে বলা হয় ভালো কোলেস্টরেল । এটি ধমনী থেকে অতিরিক্ত চর্বি  সংগ্রহ করে যকৃতে নিয়ে যায় এবং শরীর থেকে বের করে দিতে সাহায্য করে । যখন খারাপ কোলেস্টরেলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে যায় তখনই মানব দেহে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয় ।

৩. ট্রাইগ্লিসারাইড  ( Triglycerides  ) শরীর যখন অতিরিক্ত ক্যালরি ব্যবহার করেনা তখন তা ট্রাইগ্লিসারাইড হিসাবে জমা রাখে যা অতিরিক্ত হলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়

৪. টোটাল  এটি এক ধরনের চর্বিযুক্ত পদার্থ যা শরীরের প্রতিটি কোষে থাকে এবং এটি ভালো এইচডিএল ও খারাপ এল ডি এল উভয়প্রকার কোলেস্টরেল এবং ট্রাই গ্লিসারাইড মিলিয়ে তৈরি হয় টোটাল কোলেস্টরেল । টোটাল পরীক্ষা আপনাকে হৃদর রোগ স্ট্রোক এবং অন্যান্য রক্তনালীর রোগের ঝুঁকি বুঝতে সাহায্য করে। উচ্চ টোটাল  মানে সাধারণত এলডিএল বেশি এবং এইচডিএল কম যা স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণএই চার প্রকারের মধ্যে তিনটি  মানব দেহের জন্য ক্ষতি এবং একটি উপকারী। উপকারী  বলতে আমরা এইচডিএল এটাকে বুঝে থাকি ।

এটি মানব দেহের জন্য কেন ক্ষতিকর 

 কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর। ইহা ধীরে ধীরে ধমনীর ভিতরে জমে একটি স্তর তৈরি করে যাকে প্লাক বলা হয় । এই প্লাক ধমনীর ভেতরের পথ শুরু করে দেয় এবং রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে

১. হৃদরোগের ঝুঁকি

এটির উচ্চমাত্রার কারণে করোনারি  আর্টারিতে  ব্লক তৈরি করে যা হার্ট অ্যাটাকের প্রধান কারণ ।

২. স্ট্রোক

মস্তিষ্কের রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে ব্লক তৈরি হলে স্ট্রোক হতে পারে ,যা অনেক সময় প্রাণঘাতী হয় ।

৩. উচ্চ রক্তচাপ

ধমনী সরু হয়ে গেলে হৃদপিণ্ডকে বেশি চাপ দিয়ে রক্ত পাম্প করতে হয় ফলে উচ্চ রক্তচাপে সৃষ্টি হয়।

৪. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় 

গবেষণায় দেখা গেছে দীর্ঘদিন ধরে এটি উচ্চ মাত্রায় থাকলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

এটির বৃদ্ধির প্রধান কারণ সমূহ

যেকোনো বয়সে কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে । তবে ধুমপান মাদক গ্রহণ, দৈহিক পরিশ্রমের অভাব , খুব বেশি মানসিক অস্থিরতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার ছাড়াও বংশগত কারণে রক্তে ইহার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

শরীরে এটি বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ 

অনেক সময় এটি বেড়ে গেলেও কোন লক্ষণ দেখা যায় না। এইজন্য একে নীরব ঘাতক বলা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণ গুলো দেখা দিতে পারে।

১. বুকে ব্যথা

২. শ্বাসকষ্ট

৩. দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়া

৪. মাথা ঘোরা

৫. চোখের চারপাশে হলুদাভা  চর্বিস্তর

এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী

এটি নিয়ন্ত্রণের জন্য খাদ্য অভ্যাস

কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর, বেশ কিছু ঘরোয়া প্রতিকার প্রাকৃতিকভাবে ইহার মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে । সঠিক খাদ্য অভ্যাস এটিকে নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । দ্রবণীয় ফাইবার জাতীয় খাবার যেমন ফল ওটস  বার্লি মটরশুটি এবং মসুর ডাল এলডিএল এর মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। হার্ট স্বাস্থ্যকর খাদ্য যেমন ফল শাকসবজি চর্বিমুক্ত  দুগ্ধ জাতপণ্য বাদাম গোটা শস্য চর্বিহীন প্রোটিন ইহার অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়া-কলাপ যেমন জগিং, হাটা ,সাইকেল চালানো ,সাঁতার কাটা সুস্থতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে

  • শাকসবজি ও ফলমূল
  • ওটস 
  • বাদাম ও বীজ
  • অলিভ অয়েল
  • সামুদ্রিক মাছ


যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে

কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর এ কথাটি মনে রেখে দৈনন্দিন জীবনে আমাদেরকে অনেক কিছু এড়িয়ে চলতে হবে যেমন

  • ভাজা খাবার 
  • লাল মাংস
  • অতিরিক্ত মাখন ও ঘি
  • চিনি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার

এ ধরনের খাদ্য অভ্যাস অনুসরণ করলে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়

জীবনযাত্রার পরিবর্তনের গুরুত্ব

কেবল খাদ্য নয় জীবনযাত্রার পরিবর্তনও এটিকে নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। দৈনন্দিন জীবনে চলার পথে আমাদেরকে মনে রাখতে হবে কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর । নিয়মিত ব্যায়াম , পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ত্যাগ এবং মানসিক চাপ কমানো শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সাহায্য করে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করলে শরীলে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ে এবং খারাপের  মাত্রা কমে।

প্রাকৃতিক উপায়ে এটাকে কমানোর পদ্ধতি

  • রসুন খাওয়া
  • গ্রিন টি পান করা
  • লেবু ও মধু খাওয়া
  • ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার

এই পদ্ধতি গুলো নিয়মিত অনুসরণ করলে উপকার পাওয়া যায়

যখন খাদ্য ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনেও এটি নিয়ন্ত্রণে আসে না তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

লেখকের  মন্তব্য : কোলেস্টরেলের অতিরিক্ত পরিমাণ মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর

আশা করি কোলেস্ট্ররেল সম্পর্কে আপনারা বুঝতে পেরেছেন, মানবদেহে কি পরিমান কোলেস্টরেল থাকা প্রয়োজন ,ইহা মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য উপাদান। মাছ ,মাংস ,দুধ, ডিম এগুলো খাবার ছাড়া মানুষের জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না বা মানুষের সুস্থতা কল্পনা করা যায় না কিন্তু এগুলো আমাদেরকে পরিমিত খেতে হবে এবং সমস্যা হওয়ার আগেই সমস্যা সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে বা নিয়ম-নীতি মেনে চলতে হবে তবেই আমরা সুস্থতার সহিত জীবন অতিবাহিত করতে পারব। কিন্তু  অতিরিক্ত মাত্রাই মানব দেহের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে । সচেতন জীবন যাপন সঠিক খাদ্য অভ্যাস এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ইহাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে বড় কার্যকর উপায়। আজ থেকে সচেতন হলে ভবিষ্যতে হৃদরোগ সহ নানা জটিল রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব ।



















এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ১

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪