প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

প্রিডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, তবে তা এখনো ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পৌঁছায় না।প্রিডায়াবেটিসকে অবহেলা করা উচিত নয়।
প্রি-ডায়াবেটিসের-লক্ষণ,-কারণ-ও-প্রতিরোধের-উপায়
কারণ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে এটি ধীরে ধীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে। শুরুতে কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই অনেক সময় প্রিডায়াবেটিস ধরা পড়ে না। 

  সূচিপত্র

প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে জানা খুবই জরুরি। কারণ এই অবস্থায় রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু এখনো ডায়াবেটিসের পর্যায়ে পৌঁছায় না। অনেকেই এই সময় কোনো লক্ষণ বুঝতে পারেন না। তাই অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত পরীক্ষা ছাড়া এটি শনাক্ত করা কঠিন হয়। তবে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রি-ডায়াবেটিসকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের একটি সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরা হয়। এই অবস্থায় শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি আগের মতো সাড়া দিতে পারে না। ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না আনলে এটি পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে। তবে সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করলে এই অবস্থার উন্নতি সম্ভব। সাধারণত প্রি-ডায়াবেটিসের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কারও কারও ঘাড়, বগল বা শরীরের কিছু অংশের ত্বক কালচে হতে পারে।

আবার অতিরিক্ত তৃষ্ণা, বারবার প্রস্রাব, বেশি ক্ষুধা, ঝাপসা দেখা বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে তা ডায়াবেটিসের দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত হতে পারে। এই অবস্থার পেছনে কিছু পরিচিত ঝুঁকির কারণ রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন, কোমরের মাপ বেশি হওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, বয়স বৃদ্ধি এবং পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম এবং কিছু ঘুমজনিত সমস্যাও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রি-ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে রক্তে শর্করার পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রয়োজনে ফাস্টিং ব্লাড সুগার, ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট এবং HbA1c পরীক্ষার মাধ্যমে অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের নিয়মিত পরীক্ষা করানো উচিত। প্রতিরোধের জন্য জীবনধারায় পরিবর্তন সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং ধূমপান থেকে দূরে থাকা উপকারী। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চিনি, কোমল পানীয়, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এবং উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচকযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।

প্রি ডায়াবেটিস কি

প্রি-ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যেখানে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। তবে এই মাত্রা এখনো টাইপ-২ ডায়াবেটিস নির্ণয়ের পর্যায়ে পৌঁছায় না। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, একে অনেক সময় টাইপ-২ ডায়াবেটিসের পূর্ববর্তী সতর্ক সংকেত বলা হয়। এই অবস্থায় শরীর ইনসুলিনের প্রতি আগের মতো কার্যকরভাবে সাড়া দিতে পারে না।

ফলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে প্রি-ডায়াবেটিস পরবর্তীতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে। অনেক মানুষের প্রি-ডায়াবেটিস থাকলেও তারা তা বুঝতে পারেন না। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তাই নিয়মিত রক্তে শর্করার পরীক্ষা করলে এই অবস্থা সহজে শনাক্ত করা সম্ভব। প্রি-ডায়াবেটিসকে অবহেলা করা উচিত নয়। 

কারণ এটি শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে। প্রয়োজনীয় জীবনধারা পরিবর্তন করলে এই অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়। তাই প্রি-ডায়াবেটিস সম্পর্কে শুরু থেকেই সচেতন থাকা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ

প্রি-ডায়াবেটিসের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ অনেক সময় দেখা যায় না। তাই অনেকেই বুঝতে পারেন না যে তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা না করলে এই অবস্থা ধরা পড়ে না। তবে কিছু মানুষের শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন ঘাড়, বগল, কনুই, হাঁটু বা শরীরের ভাঁজযুক্ত কিছু স্থানের ত্বক কালচে হয়ে যেতে পারে।

কারও কারও ত্বকে ছোট ছোট স্কিন ট্যাগও দেখা দিতে পারে। প্রি-ডায়াবেটিসের অবস্থা দীর্ঘদিন থাকলে চোখেও পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো সমস্যার লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তাই চোখের অস্বাভাবিক পরিবর্তনকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কখনও কখনও অতিরিক্ত তৃষ্ণা, বারবার প্রস্রাব, বেশি ক্ষুধা, ঝাপসা দেখা এবং দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, এসব লক্ষণ দেখা দিলে তা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে অগ্রগতির ইঙ্গিত হতে পারে। কিছু মানুষের হাত-পায়ে জ্বালাপোড়ার অনুভূতিও হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যায় না। অনেকেই কোনো উপসর্গ ছাড়াই প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত থাকতে পারেন।

এ কারণে শুধু লক্ষণের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাদের ঝুঁকি বেশি, তাদের সময়মতো পরীক্ষা করানো উচিত। প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। এতে পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সহজ হতে পারে।

প্রি ডায়াবেটিসের কারণ

প্রি-ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ হলো শরীরে ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ না করা। এই অবস্থায় শরীরের কোষ ইনসুলিনের প্রতি আগের মতো সাড়া দিতে পারে না। ফলে রক্তে থাকা গ্লুকোজ সঠিকভাবে ব্যবহার হয় না। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে ধীরে বেড়ে যায়।বিশেষজ্ঞদের মতে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঠিক কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে কিছু বিষয় এই অবস্থার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। 

অতিরিক্ত ওজন তার মধ্যে অন্যতম। বিশেষ করে কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। শারীরিক পরিশ্রম কম করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন শরীরের ইনসুলিনের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসেরও  ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, লাল মাংস এবং চিনি মেশানো পানীয় বেশি খাওয়ার সঙ্গে প্রি-ডায়াবেটিসের সম্পর্ক রয়েছে।

বয়সের  সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়তে পারে। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলেও প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এ ছাড়া গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম, কিছু ঘুমজনিত সমস্যা এবং ধূমপানও এই অবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব ঝুঁকির বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সময়মতো জীবনধারায় পরিবর্তন আনলে প্রি-ডায়াবেটিস থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার সম্ভাবনা কমানো যেতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন

প্রি-ডায়াবেটিসে সবার সমান ঝুঁকি থাকে না। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তাই ঝুঁকির বিষয়গুলো জানা এবং শুরু থেকেই সতর্ক থাকা জরুরি। যাদের শরীরের ওজন বেশি, তাদের প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, বিশেষ করে কোমরের মাপ বেশি হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম না করলেও এই সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়। 

বয়সও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। পরিবারে যদি বাবা-মা, ভাই বা বোনের টাইপ-২ ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে অন্য সদস্যদেরও ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় যাদের ডায়াবেটিস হয়েছিল, তাদের ভবিষ্যতে প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

একই সঙ্গে তাদের সন্তানেরও এই ঝুঁকি বাড়তে পারে। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেশি থাকে। প্রতিবন্ধকতাজনিত ঘুমের সমস্যা বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার সঙ্গে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সম্পর্ক রয়েছে। ধূমপানও এই ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, এছাড়া অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস, লাল মাংস এবং চিনি মেশানো পানীয় বেশি খাওয়ার অভ্যাস থাকলেও প্রি-ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

যাদের মধ্যে এসব ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। সময়মতো সচেতন হলে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

প্রি ডায়াবেটিস কিভাবে নির্ণয় করা হয়

প্রি-ডায়াবেটিস অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকে। তাই শুধু শারীরিক উপসর্গ দেখে এই অবস্থা নিশ্চিত করা যায় না। সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য রক্তে শর্করার পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ফাস্টিং অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। প্রি-ডায়াবেটিসে এই মাত্রা সাধারণত ৬.১ থেকে ৬.৯ mmol/L এর মধ্যে থাকে। খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করেও এই অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়।

এ সময় মাত্রা ৭.৮ থেকে ১১.০ mmol/L হলে প্রি-ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। HbA1c পরীক্ষাও প্রি-ডায়াবেটিস শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষায় ফলাফল ৫.৭% থেকে ৬.৪% এর মধ্যে থাকলে তা প্রি-ডায়াবেটিসের পর্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ টেস্ট, ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট এবং গ্লাইকোসিলেটেড হিমোগ্লোবিন (HbA1c) পরীক্ষার মাধ্যমেও এই অবস্থা শনাক্ত করা সম্ভব। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী এসব পরীক্ষার পরামর্শ দিতে পারেন।

যাদের ওজন বেশি, বয়স ৪৫ বছরের বেশি, পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে অথবা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ আছে, তাদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা উচিত। সময়মতো পরীক্ষা করলে প্রি-ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্ত করা সহজ হয়। এতে প্রয়োজনীয় জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন

প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। কিছু খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। তাই এসব খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। এতে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সহজ হতে পারে। ঘন চিনিযুক্ত খাবার কম খাওয়া উচিত। মিষ্টি, চকলেট এবং চিনি দিয়ে তৈরি খাবার রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত বাড়াতে পারে। কোমল পানীয়ও এড়িয়ে চলা প্রয়োজন।

এসব পানীয়তে সাধারণত চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, উচ্চ ক্যালরিযুক্ত ফাস্টফুড এবং অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবারও সীমিত রাখা উচিত। এসব খাবার শরীরের ওজন বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত ওজন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবারও পরিহার করা ভালো। যেমন সাদা চালের ভাত, আটার তৈরি রুটি এবং অতিরিক্ত মিষ্টি ফল।

এসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং লাল মাংস বেশি খাওয়ার অভ্যাসও প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। এ ছাড়া ধূমপান এবং অ্যালকোহলও পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ। 

প্রয়োজন হলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা উচিত। সঠিক খাবার নির্বাচন এবং নিয়মিত জীবনধারা মেনে চললে প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

প্রি ডায়াবেটিস প্রতিরোধের উপায়

প্রি-ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জীবনধারার পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সময়মতো সচেতন হলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। তাই প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন রুটিনের দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। শরীরের ওজন বেশি থাকলে তা ধীরে ধীরে কমানোর চেষ্টা করা দরকার। অতিরিক্ত ওজন ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম এবং শারীরিক পরিশ্রমও উপকারী।

প্রতিদিন সক্রিয় থাকলে শরীরের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। সবজি, ফল এবং পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। একই সঙ্গে ক্যালরি ও চর্বি বেশি এমন খাবার কম খাওয়া ভালো। চিনি বেশি থাকে এমন খাবার এবং কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান এবং অ্যালকোহল থেকেও দূরে থাকা দরকার। এগুলো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। 
প্রি-ডায়াবেটিসের-লক্ষণ,-কারণ-ও-প্রতিরোধের-উপায় (2)
যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের সেই সমস্যারও চিকিৎসা করা উচিত। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন দীর্ঘমেয়াদে উপকার দিতে পারে।যাদের প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি, তাদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা উচিত। মাঝে মাঝে খালি পেটে এবং খাবারের দুই ঘণ্টা পরে রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করা যেতে পারে।

প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, প্রয়োজনে HbA1c পরীক্ষাও করানো উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ম মেনে চললে প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত

প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। তাই অনেকেই দীর্ঘদিন এই অবস্থার কথা জানতে পারেন না। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ঘন ঘন তৃষ্ণা লাগা, বারবার প্রস্রাব হওয়া, অতিরিক্ত ক্ষুধা, দুর্বলতা বা ঝাপসা দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। এসব লক্ষণ টাইপ-২ ডায়াবেটিসের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। শরীরের কিছু স্থানে ত্বক কালচে হয়ে গেলে বা স্কিন ট্যাগ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে ঘাড়, বগল, কনুই বা হাঁটুর মতো স্থানে এমন পরিবর্তন দেখা গেলে তা অবহেলা করা ঠিক নয়। যাদের শরীরের ওজন বেশি, বয়স ৪৫ বছরের বেশি অথবা পরিবারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ইতিহাস রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানো দরকার। পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারেন। প্রি-ডায়াবেটিস ধরা পড়লে অবশ্যই ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। 

প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সহজ হতে পারে।চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সময়মতো পরীক্ষা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা প্রি-ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখকের মন্তব্য

প্রি-ডায়াবেটিস এমন একটি অবস্থা, যা সময়মতো শনাক্ত করা গেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে অগ্রসর হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অনেকের ক্ষেত্রে এই অবস্থায় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তাই ঝুঁকির কারণ থাকলে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রি-ডায়াবেটিস ধরা পড়লে অবহেলা করা উচিত নয়।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক জীবনধারা অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রি ডায়াবেটিসের লক্ষণ, কারণ ও প্রতিরোধের উপায়, একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাওয়াও জরুরি। সময়মতো সচেতনতা এবং সঠিক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url