উচ্চ রক্তচাপ একটি মানবদেহের খুব পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে এ সমস্যার প্রাথমিক অবস্থায় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যার ফলে অনেকে বুঝতে পারে না তার শরীরে উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে গেছে।

অনেক লোকের মধ্যে মাথা ব্যথা মাথা ঘোরার চোখে ঝাপসা দেখা অস্বাভাবিক ক্লান্তি আসা এগুলো লক্ষণ দেখা যেতে পারে তবে এগুলো লক্ষণ দেখা দিলেই যে উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে এমন নয়

সূচিপত্র

উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক লক্ষণ কি কি

শরীরের লক্ষণ দেখে কিভাবে বুঝবেন

মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ কেন হয়

উচ্চ রক্তচাপ মাপার নিয়ম

উচ্চ রক্তচাপে ঝুঁকি কি কি

যে সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক লক্ষণ কি কি

উচ্চ রক্তচাপের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এর কারণ, পরীক্ষা, ঝুঁকি ও এ সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণের উপায় সম্পর্কে জানা জরুরী। মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা এবং দৈহিক ক্লান্তিও দেখা দিতে পারে। কিন্তু মনে রাখতে হবে এসব লক্ষণ থাকলে উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে এমন নয়। আপনার শরীরে উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে কিনা তা অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। শুধুমাত্র শরীরের লক্ষণ দেখে উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায় না। অভিজ্ঞ ডাক্তারের মাধ্যমে রক্তচাপ মেপে এর মাত্রা জানতে হবে। বারবার রক্তচাপের মাত্রা যদি বেশি পাওয়া যায় তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। খাবারের অতিরিক্ত লবণের কারণে শরীরের ওজন বেড়ে যাওয়া। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য অভ্যাস, ফাস্টফুড বা প্যাকেট জাত খাবার খাওয়া। শারীরিক পরিশ্রম না করা, ধূমপান বা অ্যালকোহল পান করা। এগুলো লক্ষণের কারণে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ বেড়ে যায়। আপনার রক্তচাপের বৃদ্ধির কারণে পারিবারিক ইতিহাসের কারনে থাকতে পারে। বর্ধমান সময় বর্তমান সময়ে অনেক ধরনের ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র বাজারে পাওয়া যায় আপনি আপনার পছন্দ অনুযায়ী সে ধরনের যন্ত্রণা সে ধরনের একটি যন্ত্র নিয়ে নিতে পারেন এবং বাসায় রেখে নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করতে পারেন নিয়মিত মাপলে রক্তচাপের পরিবর্তন বোঝা সহজ হয়। সঠিক ফলাফলের জন্য যন্ত্রের নির্দেশনা অবশ্যই আপনাকে মেনে চলতে হবে । দীর্ঘদিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকার ফলে আপনার হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনির ক্ষতি হতে পারে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতন ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। খাবারের লবণ কম খেতে হবে যথেষ্ট পরিমাণ শাকসবজি ও ফলমূল খেতে হবে নিয়মিত হাঁটতে হবে এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ধূমপান এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। আপনি নিজে অথবা বাসায় কোন প্রাথমিক চিকিৎসকের পরামর্শে বারবার রক্তচাপ মাপার ক্ষেত্রে রক্তচাপ যদি বেশি হয় তাহলে অবশ্যই অভিজ্ঞ অথবা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। আপনার শরীরে ঘন ঘন রক্তচাপ দেখা দিলে আপনাকে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। রক্তচাপ বেশি থাকার সঙ্গে বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন দেখা দিলে জরুরিভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন ।

শরীরের লক্ষণ দেখে কিভাবে বুঝবেন

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা অতি সহজে বোঝা যায় না। এ রোগের শুরুতে শরীরে কোন লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে। শুধুমাত্র শারীরিক অবস্থা দেখে রক্তচাপ বেশি হয়েছে কিনা বা রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে কিনা তা নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। এ রোগের প্রাথমিক অবস্থা কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কিছু কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন কারো মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে, মাথা ঘোরাও অনুভূতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শরীরের ক্লান্তি ভাব আসতে পারে। তবে এসব লক্ষণ থাকলে উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে এমন ধারণা সঠিক না। এগুলো সমস্যা শরীরের অন্য কোন সমস্যার কারণেও হতে পারে। তাই নিজের শরীরে পরিবর্তন হচ্ছে কিনা এ খেয়াল নিজেকে রাখা অত্যান্ত জরুরী। আপনার যদি হঠাৎ দৃষ্টি শক্তির পরিবর্তন চলে আসে বা শারীরিক কোন অস্বাভাবিকতা তৈরি হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । শুধুমাত্র মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরার উপর নির্ভর করে উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় করা ঠিক হবে না। এতে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ কেন হয়

মানবদেহে উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারণ রয়েছে। আমাদের শরীরের রক্ত ধমনীর মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়। এই রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সময় ধমনীর দেওয়ালে যে চাপ সৃষ্টি করে, আর এই চাপকেই রক্তচাপ বলা হয়। রক্তের এই চাপ সবাইকে চেয়ে বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। তবে সবার ক্ষেত্রে এ কারণ গুলো এক নয়।

১.খাদ্যভ্যাসের প্রভাব

অতিরিক্ত লবণ এবং অতিরিক্ত তেলজাতীয় খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপে ঝুঁকি বাড়ে। নিয়মিত ফাস্টফুড, চিপস ও অতিরিক্ত প্যাকেটজাত খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে। খাদ্য তালিকা পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ফলমূল রাখতে হবে এবং নিয়মিত দৈনিক পরিশ্রম করতে হবে।

২.শারীরিক পরিশ্রমের অভাব

নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে আপনি যদি শরীরচর্চায় অলসতা করেন তাহলে আপনার শরীরের ওজন বেড়ে যাবে অতিরিক্ত ওজন রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায় তাই প্রতিদিন হাঁটা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলুন এতে আপনার শরীরের ক্যালরি ক্ষয় হবে এবং সুস্থ থাকবেন।

৩.ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস

ধূমপান রক্ত নারীর ক্ষতি করে এবং হৃদ যন্ত্রের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত অ্যালকোহল রক্তচাপের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। তাই এসব অভ্যাস থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

৪,ঘুম বয়স ও পারিবারিক ইতিহাস

পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া এবং দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এগুলো রক্তচাপের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ে। পরিবারে মা-বাবা বা অন্য নিকট আত্মীয়র উচ্চ রক্তচাপ থাকলে আপনার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে অনেক সময় এর সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। হঠাৎ একদিনেই উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হয় না। তাই আপনাকে স্বাস্থ্যকর খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শরীরের ওজন নিয়মিত রাখতে হবে। নিয়ম সুশৃংখল জীবন যাপন করতে হবে, নিয়মিত হাটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কিছুদিন পর পর ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আপনাকে চলাফেরা করতে হবে। এগুলো নিয়ম-নীতি মেনে চললে আশা করা যায় অনেকটা নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন।

উচ্চ রক্তচাপ মাপার নিয়ম

আপনার শরীরে উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা তা জানার জন্য রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরী। শুধুমাত্র শরীরের লক্ষণ দেখে রক্তচাপ বোঝা যায় না। নিয়মিত ডাক্তারের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করাও যদি বিরক্ত মনে করেন, তাহলে নিজের সুস্থতার জন্য বাসা বাড়িতে ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে আপনি পরীক্ষা করতে পারেন। রক্তচাপ মাপার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখা অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রথমে চেয়ারে বসুন,অন্তত ৫ মিনিট বিশ্রাম নিন, পরীক্ষার ঠিক আগে চাপ কফি পান করা থেকে বিরত থাকুন। চেয়ারে পিঠ সোজা করে বসতে হবে। আবার সময় পা গুলো স্বাভাবিক অবস্থায় রাখবে। যন্ত্রের দুটি সংখ্যা দেখা যায় প্রথম সংখ্যাটির শ্রেষ্ঠ লীগ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি ডায়াস্টলিক রক্তচাপ নির্দেশ করে সাধারণত রক্তচাপ ১২০/৮০mmHg যদি থাকে তাহলে এটাকে স্বাভাবিক হিসেবে ধরে নেওয়া হয় কিন্তু ব্যক্তিভেদে এ সংখ্যার ভিন্ন তা আসতে পারে। যদি প্রথমবার এইমাত্র অতিক্রম করে যায়, তাহলে কিছুক্ষণ পর বিশ্রাম নিয়ে আবার মাপুন। কয়েকবার মাপার পর যদি বেশি বুঝতে পারেন, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরী।

উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কি কি

উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘ দিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত রক্তচাপ ধমনীর উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কে গুরুতর সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এতে বুকে ব্যথা হতে পারে এবং ফেইলিওর হয়। উচ্চ রক্তচাপের কারণে, মস্তিষ্কে রক্তনালী ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় যার ফলে স্ট্রোকের ঝুঁকিও বাড়ে, কথা বলা হাঁটাচলা এবং স্বাভাবিক কার্যকর্মের সমস্যা দেখা দেয়। গুরুতর অবস্থায় জীবনহানিও ঘটে। এছাড়া দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তা শক্তির উপর নেগেটিভ প্রভাব পড়ে।

যে সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

আপনার শরীরে যদি উচ্চ রক্তচাপ বারবার বেশি পাওয়া যায় সে সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কোন স্পষ্ট লক্ষণ পাওয়ার যায় না। তাই শুধু শরীর অবস্থা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা ঠিক হবে না। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করুন। মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরার মতন সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী। নিজের ইচ্ছায় রক্তচাপের কোন ওষুধ খাবেন না বা বন্ধ করবেন না। আপনার যদি বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট,হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন, কথা বলতে অসুবিধা বা শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে গেলে অপেক্ষা করবেন না, দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এসব লক্ষণ গুরুতর সমস্যার সংকেত বলে বিবেচনা করা হয়।

সতর্কীকরণ ও জরুরি নির্দেশনা

উচ্চ রক্তচাপ একটি প্রাণঘাতী স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রাথমিক অবস্থায় এ রোগের স্পষ্ট কোন লক্ষণ দেখা যায় না। শুধুমাত্র আপনার সচেতনতাই এই রোগ নির্ণয় করতে সহায়তা করবে। শরীরে যদি কোন অসুস্থতা দেখা না দেয় তবুও আপনার সুস্থতার জন্য মাঝেমধ্যে রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরী। লক্ষণ না থাকার অর্থ এই নয় যে আপনার শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ বা ঝুঁকিমুক্ত। মাঝে মাঝে সাধারণ মাথাব্যথা বা ক্লান্তি অনুভাব হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ ভেবে নিচ থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না এই লক্ষণগুলো অন্য কোন শারীরিক সমস্যার কারণে হতে পারে। তাই সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য শুধু লক্ষণের উপর নির্ভর না করে নিয়মিত শরীর চেকআপ করা প্রয়োজন। হঠাৎ করে শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে দেরি করবেন না চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিচ থেকে কোন ঔষধ খাবেন না বা বন্ধ করবেন না এবং পরিবর্তনও করবেন না। সঠিক ও নিরাপদ চিকিৎসার জন্য সব সময় বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন ।

Leave a Reply

error: Content is protected !!