উচ্চ রক্তচাপ মানবদেহের একটি চিরস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যা। মানব দেহের জন্য এ রোগটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটিকে অবহেলা বা এড়িয়ে চলা যাবে না সুস্থ থাকতে হলে আপনাকে সচেতন হতে হবে সুস্থতার জন্য সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই।

বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষেরই উচ্চ রক্তচাপ আছে, কিন্তু অনেকে এটি সম্পর্কে তেমন কোন ধারণা রাখেন না, কারণ এই রোগটি হচ্ছে শুরুতেই অনুভূতিহীন কোন লক্ষণ ছাড়াই আপনার দেহে বাসা বাঁধতে পারে।

সূচিপত্র

উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক

উচ্চ রক্তচাপ কি

উচ্চ রক্তচাপের সাধারণ কারণ

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কি কি

অতিরিক্ত রক্তচাপের কারণে মানবদেহে যে ধরনের ক্ষতি হয়

যেভাবে উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করাবেন

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার উপায়

লেখকের মন্তব্য

উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক

অসুস্থতা ছাড়াই আগামী দিনগুলো সুন্দরভাবে যেন কাটে এটি প্রত্যেকটি মানুষেরই চাওয়া। নিজের শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে সর্বপ্রথম নিজেকেই সচেতন হতে হবে । সুস্থতার জন্য সচেতনতার বিকল্প কিছু নেই। উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক। সুস্থতার জন্য এ বিষয়ে আমাদেরকে সঠিক ধারণা রাখতে হবে। এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ শুরুতে এ রোগের কোন লক্ষণ দেখা যায় না। স্বাভাবিকভাবে একজন মানুষ কাজকর্ম করে যেতে পারে। কিন্তু বয়সের তারতম্য অনুযায়ী রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যার উপর ভিত্তি করে রক্তচাপের অবস্থা নির্ণয় করা ঠিক না। আপনাকে সুস্থ থাকতে হলে অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করতে হবে। ১৮০/১২০mmHg এ ধরনের রক্তচাপ হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ধরনের পরিস্থিতিতে শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, শরীরের কোন অংশ দুর্বল হয়ে যাওয়া, এগুলো সমস্যা দেখা দিতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সবারই সঠিক ধারণা থাকা উচিত। মানবদেহের বিভিন্ন অংশের রক্ত পৌঁছানোর সময় রক্তনালের দেওয়ালের যে চাপ সৃষ্টি হয় সেটি রক্তচাপ। এই চাপের ও একটি স্বাভাবিকতা আছে। এই চাপ যদি স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে দীর্ঘ সময় থাকে তাহলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। প্রাণঘাতী এই নীরব রোগটি বিভিন্নভাবে আপনার দেহে বাসা বাঁধতে পারে এটি আপনার দেহে বাসা বাধার সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। যেমন বয়স বংশগত কারণ অতিরিক্ত লবণ খাওয়া ওজন বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত তেল চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া শারীরিক পরিশ্রম না করা ইত্যাদি। মানব দেহে এ রোগটি বাসা বাধার ক্ষেত্রে অনেক সময় দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক চাপ কেউ দায়ী করা হয়ে থাকে এছাড়া ধূমপানসহ কিছু অভ্যাসও ঝুঁকে বাড়ায় আবার কিছু রোগের ওষুধের কারণে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া সম্ভাবনা দেখা দেয়। সব মানুষের ক্ষেত্রে এ রোগের লক্ষণ এক রকমের হয় না। এ রোগ হলে কারো মাথা ব্যথা করে কারো মাথা ঘুরে কারো দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হয় এগুলো লক্ষণ দেখা দিলে উচ্চ রক্তচাপ আপনার দেহে বাসা বেধেছে এটা সুনিশ্চিত বলা যাবেনা বা ভাবাটাও ঠিক হবে না। এ ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে একজন ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তের চাপ মেপে নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে আপনার উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে কিনা। রক্তচাপ বেশি থাকলে আপনার প্রাণ প্রদীপ নেভেও যেতে পারে এর ফলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি হয় এবং কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে ও চোখের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই প্রাণঘাতী রোপ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপ আপনার শরীরে ভাষা বেধেছে কিনা সেটা জানার জন্য একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং রক্তচাপ পরীক্ষা করুন অনেক ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা প্রসাব পরীক্ষা বা নির্জন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয় এগুলো পরীক্ষার মাধ্যমে আপনার শরীরে রক্তচাপের পাশাপাশি অন্য কোন সমস্যা আছে কিনা সেটিও বোঝা সম্ভব হয়। আপনি যদি এই সমস্যাটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে জীবনযাপনের ক্ষেত্রে অনেক কিছুর পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। অতিরক্ত লবণ খাওয়া যাবেনা নিয়মিত হাঁটা এবং শরীরচর্চা করতে হয় হবে অথবা শরীরের ক্যালরি ক্ষয় করতে হবে। যে ধরনের কাজ আপনার শরীরের জন্য উপযুক্ত বা পরিশ্রম আপনার জন্য উপযুক্ত সেটা বেছে নিয়ে সে অনুপাতে পরিশ্রম বা শরীর চর্চা করতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘুম দিতে হবে ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। অ্যালকোহল এবং ধূমপান এড়িয়ে চলাটা ভালো। ডাক্তারের ওষুধের ডোজ নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী বন্ধ করা যাবে না । চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে এবং বন্ধ করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত জরুরী। উচ্চ রক্তচাপ কে অবহেলা করা উচিত নয়, এ রোগটি যদি কোনভাবে আপনার শরীরে বাসা বেঁধে যায় এতে আতঙ্কগ্রস্থ হওয়ার কিছু নেই। আপনার সচেতন মূলক জীবন যাপন পদ্ধতিতে এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব সম্ভব হবে।

উচ্চ রক্তচাপ কি

আমরা সাধারণত চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় হাইপারটেনশনকে উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি। শরীরের বিভিন্ন অংশের রক্ত পৌঁছানোর সময় রক্ত নালীর দেয়ালে যে চাপটা সৃষ্টি হয় এবং এই চাপটি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসাবে ধরে নেওয়া হয়। দুটি সংখ্যায় রক্তচাপ প্রকাশ করা হয়। প্রথম সংখ্যাটি উপরের চাপ বা সিস্টোলিক চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি নিচের চাপ বা ডায়াস্টোলিক চাপ হিসাবে ধরে নেওয়া হয়। আমি পাঠকের সুবিধার্থে উচ্চ রক্তচাপের একটি লক্ষণের তালিকা তুলে ধরলাম

১২০/৮০ এর নিচে হলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ধরা যায় এ ধরনের অবস্থায় থাকলে আপনাকে নিয়মিত পরীক্ষা করাতে হবে।

১২০-১২৯/৮০ এ ধরনের রক্তচাপ হলে আপনার জীবন যাপনে পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে

১৩০-১৩৯/৮০-৮৯ এ ধরনের অবস্থা হলে সেটাকে হাইপারটেনশন স্টেজ ওয়ান হিসেবে ধরে নেওয়া হয়, এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

১৪০/৯০ বা বেশি এ ধরনের পরিস্থিতি হলে হাইপারটেনশন স্টেজ টু হিসাবে বিবেচিত হয় এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

১৮০/১২০ এ ধরনের হলে বা এর চেয়ে বেশি হলে এটাকে হাইপারটেনসিভ ক্রাইসিস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতলে নিতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপের সাধারণ কারণ

উচ্চ রক্তচাপ মানুষ দেহে বাসা বাধা সুনির্দিষ্ট কোন কারণ নেই। তাই একে প্রাথমিক বা প্রাইমারি উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। এ ধরনের সমস্যা মানব দেহে ধীরে ধীরে তৈরি হতে পারে। আপনার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর ঝুঁকিও বাড়ে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেক মানুষের শারীরিক অন্য কোন কারণে রক্তচাপ বেড়ে যায়। যেমন কিডনির সমস্যা থাকলে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলেও রক্তচাপ বাড়তে পারে। আবার আপনি যদি শারীরিক অন্য কোন সমস্যার কারণে ওষুধ সেবন করেন, সেগুলো কারণেও রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত লবণ খাওয়া যাবেনা। শরীরের অন্য কোন সমস্যার জন্য আপনাকে প্রতিনিয়ত ওষুধ খেতে হচ্ছে, এই ওষুধের কারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিতে পারে। আপনার শরীরে যদি হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এতে রক্তচাপ বাড়ার সম্ভাবনা আছে। অতিরিক্ত শারীরিক ওজন রক্তচাপের জন্য অনেকটা দায়ী। আপনার শরীরে যেন অতিরিক্ত ওজন না থাকে সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। ধূমপান এবং অ্যালকোহলকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত তেল এবং চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এর সাথে বাজারের প্যাকেটজাত খাবার কেউ পরিহার করা আপনার শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর হবে। দীর্ঘদিন মানসিক চাপের মধ্যে থাকলেও এ রোগটি আপনার শরীরে বাসা বাঁধার সম্ভাবনা আছে। অতএব মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করুন । শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভরশীল না হয়ে প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করার দিকে বিশেষ খেয়াল রাখুন। এতে আপনার সুস্থতা দীর্ঘস্থায়ী হবে।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ কি কি

উচ্চ রক্তচাপ নিরব একটি প্রাণঘাতী সমস্যা অনেকের উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও প্রাথমিক অবস্থায় বোঝা যায় না তাই শুধু লক্ষণের উপর নির্ভর করেই দিন পার করা ঠিক হবে না আপনার নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী।

তবে আপনার শরীরে যদি রক্তচাপ বেড়ে যায় তাহলে কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যার মধ্যে নিয়মিত মাথা ব্যথা হতে পারে, মাথা হালকা লাগার মত অনুভুতিও থাকতে পারে।

বুকে ব্যথা এবং চাপ অনুভূতি দেখা দিতে পারে। চুপ চোখে ঝাপসা দেখার মতন সমস্যা ও হতে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি তো পরিবর্তন আসতে পারে।

রক্তচাপ দেশে বেড়ে গেলে শ্বাস নেওয়ার মতন সমস্যা ও দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে নাক দিয়ে বারবার রক্ত পড়তে পারে আবার বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে এমন কে বমি হতেও পারে।

এ সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে আবার কোন বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখার মতন সমস্যা তৈরি হতে পারে। শরীর অতিরিক্ত ক্লান্তি দেখা দিতে পারে দুর্বলতা ও লাগতে পারে।

এসব বিষয়ে আমাদের মনে রাখা অত্যন্ত জরুরী। সবার ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো সাধারণত একসঙ্গে দেখা যায় না। অনেক সময় লক্ষণ ছাড়া রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। তাই আপনার সুস্থতার জন্য নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। যদি রক্তচাপ বেড়ে যায় বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

অতিরিক্ত রক্তচাপের কারনে মানবদেহে যে ধরনের ক্ষতি হয়

আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকে তাহলে আপনার শরীরে অনেক ধরনের ক্ষতি দেখা দিতে পারে। এতে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক, কিডনি ও চোখের মতন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এই সমস্যাকে অবহেলা না করে গুরুত্বসহকারে নিতে হবে।

হৃদযন্ত্রের ক্ষতি

শরীরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। এতে আপনার হার্ট অ্যাটাক ও হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। আপনি যদি সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত না নেন তাহলে দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় থাকলে হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কাজে বিঘ্ন হতে পারে ।

মস্তিষ্কের ক্ষতি

আপনার শরীরে যদি উচ্চ রক্তচাপের মাত্রা বেশি থেকে থাকে তাহলে এতে আপনার মস্তিষ্কের রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সম্ভাবনা আছে। এতে স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এ ধরনের অবস্থায় শরীরে দীর্ঘদিন থাকলে আপনার স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব পড়ে যা প্রাত্যহিক জীবনে নতুন নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে।

কিডনির ক্ষতি

উচ্চ রক্তচাপ কিডনি রক্তনালী গুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে, যার ফলে কিডনির রক্ত পরিশোধনের ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে, এ অবস্থায় কিডনির অনেক কার্যকর ক্ষমতা কমে যায়। এতে আপনার মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চোখের ক্ষতি

উচ্চ রক্তচাপ চোখের সূক্ষ্ম রক্ত নালীর ক্ষতি করার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে আপনার দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে এবং আপনি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নিলে আপনার দৃষ্টি শক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

হাত-পায়ে রক্ত চলাচলের সমস্যা

উচ্চ রক্তপাতের সঙ্গে রক্তের ধমনীর সম্পর্ক রয়েছে। রক্ত চলাচল কমে গেলে হাটার সময়ে পা ব্যথা অনুভব হতে পারে। এ ধরনের অবস্থায় আপনার শরীরের টিস্যুও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরী। আপনার শরীরে যদি রক্তচাপ বেশি থেকে থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস গড়ে তুলুন। স্বাস্থ্য সচেতন অভ্যাস আপনাকে সুস্থতা এনে দিতে পারে।

যেভাবে উচ্চ রক্তচাপ পরীক্ষা করাবেন

আপনার শরীরের উচ্চ রক্তচাপ আছে কিনা তার নিয়মিত রক্তচাপ মাপার মাধ্যমে জানতে পারবেন। এজন্য ব্লাড প্রেসার মাপার যন্ত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সঠিক ফল পেতে হলে আপনাকে কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে হবে।

রক্তচাপ মাপার আগে প্রস্তুতি

আপনি যখন রক্তচাপ মাপবেন তখন চেয়ারে সোজা হয়ে বসবেন। পিঠ চেয়ারে ঠেকিয়ে রাখুন কিন্তু সম্পূর্ণ শরীরের শক্তি পিঠের উপর দেবেন না। যেটাকে আমরা বলি হেলান দেওয়া। হেলান দেবেন না। স্বাভাবিকভাবে দুই পা মেঝেতে রাখুন। আপনার পা দুটিকে আড়াআড়ি করে বসবেন না। আপনার হাতগুলো টেবিলের উপরে রাখুন। হাতগুলো এমন উচ্চতায় রাখুন সেগুলো যেন হৃদ যন্ত্রের সমতলে থাকে। রক্তচাপ মাপার পূর্বে পাঁচ মিনিট বিশ্রাম নিন।

যন্ত্রের কাফ সঠিকভাবে লাগাতে হবে

আপনার বাহুর উপরের অংশে যন্ত্রের কাফ লাগাতে হবে। জামা বা গেঞ্জির উপর দিয়ে রক্তচাপ মাপবেন না। কাফ সরাসরি ত্বকের উপরে রাখুন। কাফ খুব শক্ত বা ঢিলা করে বাঁধবেন না। স্বাভাবিক ভাবে যেটা প্রয়োজন সে অনুপাতে রাখবেন। আপনার হাতের মাপ অনুযায়ী সঠিক কাফ ব্যবহার করুন।

রক্তচাপ মাপার নিয়ম

আপনি যদি আপনার উচ্চ রক্তচাপ মাপার জন্য স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ব্যবহার করেন তাহলে যন্ত্রণার নির্দেশনা অনুসরণ করুন। মাপার সময় কথা বলবেন না হাতের রাখবেন যন্ত্রের পর্দায় রক্তচাপের দুটি সংখ্যা দেখা যাবে। প্রথম সংখ্যাটি সিস্টোলিক এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক । ম্যানুয়াল যন্ত্রের মাধ্যমে রক্ত মাপার সময় কাফে বাতাস ভরা হয় এরপরে স্থিতিস্কোপের সাহায্যে রক্ত চলাচলের শব্দ সোনা হয়। এ পদ্ধতিতে সঠিক ফল পেতে হলে অবশ্যই প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

অভিজ্ঞতা এবং সঠিক নিয়মে রক্তচাপ পরীক্ষা করলে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করা সহজ হয়। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া এবং ভবিষ্যতের জটিলতার ঝুঁকি কম থাকে।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়

সাতটি সহজ উপায় এর মাধ্যমে আপনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন। আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। খাবারের মাধ্যমে আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হয়। অতএব আমরা প্রাত্যহিক জীবনে যদি স্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ম অনুযায়ী খেতে পারি তাহলে অবশ্যই আমরা এ রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো বা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব।

তরমুজ খাওয়া যেতে পারে

তরমুজ আমাদের সুপরিচিত মৌসুমী একটি ফল। এই ফলে অনেক পুষ্টি উপাদান আছে। এটি রক্তনালীর স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সহায়তা রাখতে সাহায্য করে। তবে শুধু তরমুজ খেয়ে আপনি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবেন না। তরমুজে সিট্রলিন নামের একটি উপাদান থাকে যা আপনার শরীরের সুস্থতা ক্ষেতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

নিয়মিত শাকসবজি খেতে হবে

খাদ্য তালিকায় বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের শাকসবজিতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আশেঁর মতন উপকারী উপাদান থাকে যা আপনার শরীরের সুস্থতা বজায় রাখবে। প্রতিদিন খাবারের তালিকায় পরিমিত শাকসবজি রাখা আপনার সুস্বাস্থ্যের জন্য অনেক প্রয়োজনীয়।

বাদাম ও বীজ খেতে পারেন

কুমড়া বীজ, আখরোট, পেস্তা এগুলো পুষ্টিকর খাবার। এ খাবারগুলো আমরা প্রতিদিন পরিমিত আকারে খেলে আমাদের শরীরের জন্য যে স্বাস্থ্যকর চর্বি দরকার সেই চর্বি এবং অন্যান্য উপকারী উপাদান গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এই বীজ দানা গুলো আমরা প্রাত্যহিক জীবনে পরিমিত আকারে খেলে শরীরটাকে সুস্থ রাখা অনেকটাই সম্ভব।

খাবারে বিট রাখতে পারেন

এ খাবারটি একটি পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার এ খাবারে প্রাকৃতিক নাইট্রেট নামের একটি উপাদান আছে। যা আপনার রক্ত নালীকে প্রসারিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। মনে রাখবেন শুধুমাত্র বিট খাওয়াকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা ঠিক হবে না। আপনি প্রাত্যহিক জীবনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত আকারে গ্রহণ করতে পারেন।

ওমেগা -৩ সমৃদ্ধ মাছ খান

কিছু তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড আছে। এই মাছগুলোর হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। এ ধরনের মাছ খাবারের রাখতে পারেন। রান্নার সময় অতিরিক্ত তেল ও লবণ ব্যবহার না করায় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

বিভিন্ন ধরনের ফল খান

কমলা, মালটা ও লেবুর মতো ফলে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি ও অন্যান্য পুষ্টির উপাদান আছে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় পরিমিত ফল রাখা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কিন্তু জাম্বুরা বা গ্রেট ফ্রুট কিছু ওষুধের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া হতে পারে সেজন্য নিয়মিত ওষুধ খেলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন

নিয়মিত হাঁটার ফলে আপনার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করতে পারে নিজের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী ৯৮ অভ্যাস গড়ে তুলুন প্রয়োজন হলে ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

সতর্কতা

উচ্চ রক্তচাপ যদি আপনার শরীরে বাসা বেঁধেই যায় সেক্ষেত্রে ওষুধের বিকল্প কিছু নেই। আপনার খাদ্য তালিকায় বড় পরিবর্তন আনতে হবে। আপনাকে সচেতন হতে হবে এবং পরিশ্রম করতে হবে। শরীরের ক্যালরি ক্ষয় করতে হবে, এতে আপনি অনেক সুস্থতা ফিরে পাবেন। কিন্তু মনে রাখবেন চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ না করাই ভালো বা ডোজের কোন পরিবর্তন আনা যাবে না। খাদ্য তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চাইলে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Leave a Reply

error: Content is protected !!