OrdinaryITPostAd

মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম

  

মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, মুখের তেলতেলে ভাব কাউরো কাছে সাধারণ সমস্যা মনে হলেও, অনেকের কাছে এটি একটি বিরক্তি কর বিষয়। বিশেষ করে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে খাদ্য গ্রহণে অসচেতনতা, আবহাওয়া, ঘাম, অনিয়মিত বা সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার না করার কারণে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে যায়। 

মুখের-তেলতেলে-ভাব-দূর-করার-ক্রিম

আপনি ত্বককে তেল মুক্ত করতে চাইলে সঠিক কারণ জেনে বুঝে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্রিম ব্যবহার করতে হবে খাদ্যভ্যাস এবং দৈনন্দিন জীবনেও পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। 

সূচিপত্র:-

মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম:-

মুখের তেলতেলে ভাব অনেকের কাছে একটি বিরক্তিকর ব্যাপার। সাধারণত গরমের সময় এটি বেশি দেখা দেয়, আবহাওয়া, শরীর-ঘামা, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য অভ্যাস, সঠিক নিয়মে ত্বক পরিষ্কার না করা এবং অনিয়মিত পরিচর্যার কারণে আমাদের ত্বকে অতিরিক্ত ব্রণ ও ব্রণের মত সমস্যা ব্ল্যাকহেডস এবং ত্বকের লোমকূপ বড় হয়ে যাওয়ার মত সমস্যা দেখা দেয়। এ ধরনের সমস্যা দূর করার জন্য বাজারে বিভিন্ন ধরনের অয়েল ফ্রি ক্রিম পাওয়া যায়। 

যেমন সেরাভি অয়েল কন্ট্রোল  ময়েশ্চারাইজিং জেল ক্রিম, সিম্পল অয়েল ব্যালেন্সিং নিউট্রোজিনা অয়েল ফ্রি মশ্চারাইজার,ম্যাটিফাই ডে ক্রিম ইত্যাদি। আপনার ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করার জন্য বাজারে কিছু ভালো মানের অয়েল ফ্রি ক্রিম পাওয়া যায়। ভালো ক্রিমের কিছু গুণাগুণ রয়েছে যেমন ক্রিমটি হালকা ধরনের হবে এবং খুব দ্রুত ত্বকের সঙ্গে মিশে যাবে।  ইহা লোমকূপ বন্ধ করবে না, ত্বকে অতিরিক্ত চকচকে ভাব ফুটে উঠবে না, বাজারে অনেক ধরনের  অয়েল ফ্রি ক্রিম পাওয়া যায়, যেমন  অ্যালোভেরা , টি ট্রি অয়েল, গ্রিন টি বা  নিয়াসিনামাইডের উপাদান কিনতে পাওয়া যায়।

এগুলো উপাদান ত্বকের তেল কমাতে সাহায্য করে। অনেক ক্রিমে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড থাকে যা ত্বকের অনেক সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তেলতেলে ত্বকে ক্রিম ব্যবহার করার সময় আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে| সর্বপ্রথম আপনাকে মাইন্ড ফেস  ওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে| এই মাইন্ড ফেসওয়াশে বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে, যা আপনার ত্বকের স্বাভাবিক আদ্রতা বজায় রাখে এবং হালকা রাসায়নিক কিছু উপাদানের মাধ্যমে ত্বক পরিষ্কার করা হয়। যেমন (coco-Glucoside) কোকো গ্লুকোসাইট, (Decyl Glucoside) ডেসিল গ্লুকোসাইড,  ( Glycerin) গ্লিসারিন,  (Aloe vera)  অ্যালোভেরা,  ( ceramide) সেরামাইড ইত্যাদি। নতুন  ক্রিম ব্যবহার করার আগে হাতের ত্বকে সামান্য পরিমাণ লাগিয়ে পরীক্ষা করে  নিতে হবে।

এরপরে পরিমাণ মত ক্রিম নিয়ে আলতোভাবে পুরো মুখে লাগাতে হবে। দিনে দুবার ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফল আশা করা যায়। শুধুমাত্র ক্রিমের উপর নির্ভরশীল হলে আপনি আশানুরূপ ফল পাবেন না। ক্রিম ব্যবহারের পাশাপাশি নিয়ম অনুযায়ী আপনাকে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে, পরিমাণ মতো পানি পান করতে হবে এবং নিয়মিত ভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে হবে। সপ্তাহে এক থেকে দুবার ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বকের তেল ও ময়লা দূর হবে। এছাড়া বাইরে বের হলে অয়েল ফ্রি সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে পারেন।

ক্রিম ব্যবহারের পূর্বে আপনাকে সতর্ক হতে হবে, মেয়াদ উত্তীর্ণ ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য ত্বকের জন্য ক্ষতি হতে পারে। মুখে তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, ত্বকে ক্রিম ব্যবহার করার পর যদি চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দেয় তাহলে সেই ক্রিম ব্যবহার করা বন্ধ করে দিতে হবে। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্রিম নির্বাচন করতে হবে। নিয়মিত যত্ন, ভালো মানের সঠিক ক্রিম ব্যবহারের মাধ্যমে। মুখের তেলতেলে ভাব অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মুখে তেলতেলে ভাব হওয়ার কারণ:-

অন্যান্য ত্বকের মত  তৈলাক্ত ত্বকের যত্ন নেওয়ার ধরন একই না। তৈলাক্ত ত্বকের যত্নের ধরনটা একটু ভিন্ন। তৈলাক্ত ত্বককে পুরোপুরি খারাপ বলা যাবে না, ইহা আমাদের ত্বকের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে এবং ত্বককে সুস্থতা রক্ষা করে এবং তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। ত্বকে বলিরেখা বা বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না। আমাদের প্রত্যেকের ত্বকের নিচে সেবাসিয়াস নামের গ্রন্থি আছে, এই গ্রন্থি থেকে সিবাম নামের একটি প্রাকৃতিক  তেল নিঃসরণ হয়। ইহা ত্বকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল নিঃসরণ হলে তখন মুখে তেলতেলে ভাব দেখা দেয়। যেগুলো কারণে ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে তা নিম্নে আলোচনা করা হলো।

১. সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার না করা:- 

ত্বক সঠিকভাবে পরিষ্কার না করার ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তেলতেলে ভাব তৈরি হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। আমাদের ত্বককে শুষ্কতা থেকে রক্ষা করার জন্য, ত্বকের গ্রন্থি থেকে প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ হয়। কিন্তু নিয়মিত সঠিকভাবে ত্বক পরিষ্কার না করলে এই প্রাকৃতিক তেল ত্বকে জমে থাকতে শুরু করে। এতে ধুলোবালি, ঘাম ও মৃত কোষ মিশে আরও বেশি তেলতেলে ভাব তৈরি হয়। অনেকে ভাবে শুধুমাত্র পানি দিয়ে ত্বক ধুলেই সব ধরনের ময়লা দূর হয়ে যায়। কিন্তু এ ধারণা ভুল, শুধুমাত্র পানি দ্বারা সব ময়লা দূর করা সম্ভব হয় না। যার কারণে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী হালকা ফেসওয়াশ বা  ক্লিনজার ব্যবহার করা প্রয়োজন।

২. অতিরিক্ত মুখ ধোয়া:-

অনেকের ধারণা বারবার মুখ ধুলে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। কিন্তু এই ধারণা ভুল। প্রত্যেকের ত্বকের নিজস্ব ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দরকার। কিন্তু অতিরিক্ত মুখ ধোয়ার ফলে এই তেলটি যখন আমাদের ত্বক থেকে ধুয়ে যায়, ত্বক তখন নিজস্ব ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য অতিরিক্ত তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়।  অনেকে গরমের দিনে বাইরে থেকে এসে বারবার মুখ ধয়। বেশি মুখ ধোয়ার ফলে ত্বকের রুক্ষতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক পণ্য এবং সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে।

সারাদিনে দুবার মুখ ধুলে যথেষ্ট। কোন কারণবশত অতিরিক্ত মুখ ধোয়া প্রয়োজন মনে করলে, পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরী। সারাদিনের ধুলোবালি ময়লা ত্বকে জমে থাকে, এতে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। ত্বক পরিষ্কার করে নিয়ে হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ভালো।

৩. ভুল প্রসাধনী ব্যবহার করা:-

আমাদের ত্বকে তেলতেলে ভাব হওয়ার পেছনে অন্যান্য কারনের মধ্যে, ভুল প্রসাধনী ব্যবহার করা একটি প্রধান কারণ। সবার ত্বকের ধরন এক না। অতএব আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসপ্যাক, ক্রিম, ফেসওয়াশ, মেকআপ বা  স্কিন পণ্য ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য ঠিক থাকবে। তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী কেউ যদি অতিরিক্ত অয়েল যুক্ত ভারী প্রসাধনে ব্যবহার করে থাকেন, এতে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। 

অনেক সময় বাজারের কিছু প্রসাধনীতে অতিরিক্ত কেমিক্যাল, সুগন্ধি ভারী তেল জাতীয় উপাদান থাকে। মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, এসব প্রসাধনী ব্যবহারের ফলে আপনার ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ত্বকে তেল জমে ব্রণ ও ব্রণের মত সমস্যা. ব্ল্যাকহেডস এবং হোয়াইট হেডসের মত সমস্যা দেখা যেতে পারে। অনেকে মনে করে দামি প্রসাধনী মানে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

কিন্তু এ ধারণাটা ভুল। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী কোন ধরনের প্রসাধনী উপযুক্ত এবং আপনি যে প্রসাধনী ব্যবহার  করবেন সেটাতে যে কেমিক্যাল আছে সেগুলো আপনার ত্বকের জন্য কতটুকু সুফল বয়ে নিয়ে আসবে তা জেনে বুঝে ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়া ভালোর পরিবর্তে খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪. গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া:-

মুখের তেলতেলে ভাব হওয়ার জন্য গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অনেকটা দায়ী। গ্রীষ্মের সময় মানুষের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। গরমের কারণে শরীর যেমন ঘামে, তেমনি আমাদের ত্বকের সেবাসিয়াস  গ্রন্থিও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তেল নিঃসরণ করে। এজন্য ত্বকে তেলতেলে ভাব বেশি দেখা যায়। গরম ও আদ্র আবহাওয়া, মুখে তেলতেলে ভাব বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। বাইরে বের হওয়ার সময় ছাতা ব্যবহার ও সানস্ক্রিন লাগালে রোদ ও ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আপনার ত্বক সুরক্ষিত থাকবে। সঠিক যত্নের মাধ্যমে সমস্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৫. অতিরিক্ত ঘাম:-

গরমের সময় আদ্র আবহাওয়া কারণে আমরা প্রায় ঘেমে যায়। ঘাম নিজে তেল নয়। কিন্তু ঘাম ও ত্বকের প্রাকৃতিক তেল একসঙ্গে মিশে গেলে মুখ অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দেখায়।  প্রচন্ড গরমের সময় শরীরকে শীতল রাখতে বা শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য ঘাম বের হয়। এই সময় ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে সিবাম নামের প্রাকৃতিক তেল নিঃসরণ হয়। ঘাম এবং তেল একত্রিত হয়ে মুখে আরো বেশি তেল তেল ভাব দেখা দেয়।

এই সময় বারবার মুখ ধোয়া যাবে না, ভারি মেকআপ বা তৈলাক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা যাবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে হালকা ফ্রি অয়েল ব্যবহার করতে হবে।  তৈলাক্ত এবং ফাস্টফুড বা প্যাকেটজাত খাবার এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, এ ধরনের পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত পানি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ফলমূল শাকসবজি এবং পানি জাতীয় খাবার শরীরকে ঠান্ডা রাখে।

৬. তৈলাক্ত খাবার ও ফাস্টফুড বেশি খাওয়া:-

মুখে তেলতেলে ভাবের জন্য খাদ্যভ্যাস  যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । বাজারের ফাস্টফুড জাতীয় খাবার ত্বকের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব খাবারে রাসায়নিক দ্রব্য থাকে এতে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এ ধরনের খাবার শরীরের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে শরীর পরিবর্তন হওয়ায় এবং ত্বকে তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। অপরদিকে টাটকা ফলমূল, শাকসবজি, পর্যাপ্ত পানি এবং পুষ্টিকর খাবার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং সুস্থতা এনে দেয়। 

পানি সমৃদ্ধ খাবার আপনার শরীরকে ভিতর থেকে সতেজ রাখে এবং ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীর থেকে ক্ষতিকর উপাদান বের হয় এবং ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। তৈলাক্ত ফাস্টফুড জাতীয় খাবার নিঃসন্দেহে শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাই পরিষ্কার সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে হলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন অনুসরণ করতে হবে।

৭. পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি না খাওয়া:-

অনেকের ধারণা মুখের তেলতেলে ভাব শুধু বাহ্যিক  কারণে হয়। মুখের তেল তেল ভাবের জন্য অনেকে আবহাওয়া, প্রসাধনী বা তৈলাক্ত খাবার কে আমরা সাধারণত দায়ী করে থাকি। আমার ধারণা আমাদের শরীরের ভেতরে ভারসাম্য ঠিক না থাকলে এর প্রভাব  ত্বকের উপর পড়বে। যখন শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয় তখন মুখে অতিরিক্ত তেল হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। মানুষের জীবনকে সুস্থ রাখতে যতগুলো গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আছে, পানি এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে কাজ করার জন্য পানির প্রয়োজন হয়।

তখন ত্বকও এই নিয়মের বাহিরে নয়। আপনার ত্বককে কোমল, সতেজ রাখতে পানি অত্যন্ত জরুরী। সারাদিন কর্মব্যস্ততা এবং অলসতার কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা হয় না। যার ফলে শরীরে পানি শূন্যতা তৈরি তৈরি হয় এবং ত্বক নিজেই আদ্রতা ধরে রাখতে পারে না।  ত্বক পানি না পেলে অতিরিক্ত তেল উৎপন্ন শুরু করে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখে  অতএব আমাদেরকে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে।

৮. মেকআপ ব্যবহার করা:-

বর্তমান সময়ে নারীর পাশাপাশি  পুরুষদের মধ্যেও সৌন্দর্য চর্চার হওয়া লেগেছে। সৌন্দর্য চর্চার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মেকআপ। অনেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বাইরে ঘোরাঘুরি কিংবা প্রতিদিনের সৌন্দর্য চর্চায় ব্যবহার করে থাকেন। মেকআপ সাময়িকভাবে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুললেও এর ভুল ব্যবহারের কারণে ত্বকে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে বুঝতে পারেনা প্রতিদিন কসমেটিক ব্যবহারের কারণে ত্বকের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

আমাদের প্রত্যেকের ত্বকের মধ্যে এক ধরনের  প্রাকৃতিক তৈল তৈরি হয়। এটাকে সিবাম বলে। এই সিবাম ত্বককে শুষ্কতা  হওয়া থেকে রক্ষা করে। কিন্তু অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহারের কারণে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। যেমন ভারী ফাউন্ডেশন, প্রাইমার, কনসিলার বা অয়েল বেইসড মেকআপ আপনার ত্বকের উপর  এক ধরনের স্তর তৈরি করে। এর ফলে ত্বকের ভেতর জমে থাকা তেল সহজে বের হতে পারে না।  তখন ত্বকে  অস্বাভাবিক তেলতেলে ভাব দেখা দেয়।

নিম্নমানের অতিরিক্ত কেমিক্যাল আপনার ত্বকের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মেকআপ নেওয়ার আগে পণ্যের গুণগতমান এবং সেটি আপনার জন্য উপযুক্ত কিনা সেটা লক্ষ্য রাখতে হবে। মেকআপ সাময়িকভাবে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করলেও এর সঠিক ব্যবহার না জানলে ত্বকের তেলতেলে ভাব বেড়ে যাবে এবং অনেক ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে। নিম্নমানের প্রসাধনী ব্যবহার থেকে দূরে থাকতে হবে এবং ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে ।

৯. বংশগত কারণ:-

অনেকে মুখের ত্বক নিয়মিত ভাবে পরিষ্কার রাখার পরও তেল তেলে ভাব কমাতে পারে না। এর জন্য অনেক কারণ থাকলেও বংশগত কারণকে বাদ দেওয়া যাবে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, মা বাবার ত্বকের মত  একই ধরনের ত্বক হয়। ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও তেল উৎপাদনের প্রবণতা অনেক অংশে জিনগত ভাবে নির্ধারণ হয়। সাধারণত কৈশোর বয়সে এই সমস্যা দেখা দেয়। এই সময় বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে হরমোনের পরিবর্তন হয় এবং পাশাপাশি জীনগত বৈশিষ্ট্য সক্রিয় হয়ে ওঠে।
 
ফলে ত্বক তেল উৎপাদন করে।  পরিবার থেকে পাওয়া জিন অনেক ক্ষেত্রে আপনার ত্বকের তেল উৎপাদনের মাত্রা নির্ধারণ করে দেয়। এ ধরনের সমস্যায় শুধুমাত্র বাহ্যিক কারণকে দায়ী না করে, আপনার ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিতে হবে। এটার সমাধান করতে চাইলে আপনাকে সচেতন হতে হবে। নিয়মিত পরিচর্যা এবং স্বাস্থ্যকর চলাফেরার মাধ্যমে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

১০. হরমোনের পরিবর্তন:-

মুখে তেল তেল ভাবের পিছনে অনেক কারণের মধ্যে শরীরের হরমোন পরিবর্তন একটি প্রধান কারণ। শরীরের হরমোন পরিবর্তনের কারণে মুখে তেল তেলে ভাব বৃদ্ধি হয়। অ্যান্ড্রোজেন নামের এই হরমোন ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থিকে বেশি সক্রিয় করে। এই গ্রন্থি সেবাম নামের প্রাকৃতিক তৈল উৎপাদন করে যা ত্বকের স্বাভাবিকতা বজায় রাখে। কিন্তু হরমোনের প্রভাবে অতিরিক্ত তৈল উৎপন্ন হলে মুখে তেলতেলে ভাব দেখা দেয়। হরমোনের কারণে ত্বকে সৃষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয়।

আপনাকে ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। দিনে দুবার হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে এবং  অয়েল ফ্রি, হাল্কা প্রসাধনী ব্যবহার করতে হবে। এগুলোর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং ঘুমের প্রতি যত্নশীল হতে হবে। কেননা পর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে কারণ মানসিক চাপ হরমোনের পরিবর্তন বাড়িয়ে দেয়।

১১. মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা:-

প্রতিটি মানুষের জীবনে কম বেশি মানসিক চাপ আছে। সবার জীবনের ক্ষেত্রে এটি একটি অদৃশ্য বোঝা। আমাদের জীবনে কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ,  ব্যক্তিগত নানা ধরনের দুশ্চিন্তা আমাদের মনকে ক্লান্ত করে তুলে। এই চাপ আমাদের মনের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না। এগুলো চাপ আমাদের শরীর ও ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপের কারণে কর্টিসল হরমোন বেড়ে যায়। এই হরমোন শরীরকে চাপ মোকাবেলা করতে সাহায্য করে।

কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় এটি ত্বকের  তৈল গ্রন্থিকে সক্রিয় করে তোলে। এগুলো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আপনাকে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুম, নিজের পছন্দের কাজের জন্য কিছু সময় রাখা এবং নিয়মিত হাটাহাটি অথবা ধ্যানের অভ্যাস গড়ে তোলা। এগুলো কাজের মাধ্যমে আপনি নিজের মানসিক চাপ কমাতে পারেন। ধ্যান মনকে শান্ত রাখতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

১২. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব:-

আমাদের জীবনের কর্মব্যস্ততার কারণে, কাজের চাপে, পড়াশোনা, মোবাইল ব্যবহার কিংবা দুশ্চিন্তার কারণে রাত জেগে থাকি। শরীরে যে পরিমাণ ঘুমের দরকার সেই পরিমাণ ঘুমোতে পারি না। পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে শুধু শরীর ক্লান্ত হয় তা না। এটি ত্বকের উপরও অনেক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সুন্দর ও সতেজ ত্বকের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরী। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার এবং ত্বকের কোষ গুলো নতুন ভাবে কাজ শুরু করে। ঘুম কম হলে শরীরের ঠিকমতো বিশ্রাম পাইনা। 

এতে শরীরের বিভিন্ন হরমোনের সঠিক কার্যক্রমে সমস্যা দেখা দেয়। এরফলে মুখে তৈলাক্ত ভাব বেশি দেখা দেয়। আমরা শুধু শরীরের বাহ্যিক সমস্যা কে গুরুত্ব দিই। কিন্তু শরীরের ভেতরের চাহিদা গুলোকে গুরুত্ব দেয় না। আপনি যদি সুস্থ সুন্দর ত্বক পেতে চান তাহলে অবশ্যই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।

১৩. অনিয়মিত জীবন যাপন:-

মুখের তেলতেলে ভাব একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অনেক ক্ষেত্রে এটি বিব্রতকর পরিবেশ তৈরি করে। এ ধরনের সমস্যার জন্য কেউ কেউ প্রসাধনী বা আবহাওয়াকে দায়ী করে থাকেন। কিন্তু আমার ধারণা অনুযায়ী, অনিয়মিত জীবন যাপন এর অন্যতম প্রধান কারণ। আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাস, ঘুমের সময়সূচী, খাদ্য অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং শরীর চর্চার অভাব।

সবকিছুই আমাদের ত্বকের উপর প্রভাব ফেলে। আপনার জীবন যাপন যখন নিয়মের বাইরে চলে যাবে, তখন শরীরে স্বাভাবিক কার্যক্রমের বিঘ্ন ঘটবে। অতএব সুস্থ সুন্দর সতেজ ত্বক পেতে হলে শুধু রূপচর্চার উপর নির্ভরশীল হলে হবে না। আপনাকে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

মুখের-তেলতেলে-ভাব-দূর-করার-ক্রিম

ভালো  অয়েল ফ্রি ক্রিমের  বৈশিষ্ট্য:-

ত্বকের যত্নে অয়েল ফ্রি ক্রিম একটি জনপ্রিয় নাম। যারা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী বা অতিরিক্ত ঘাম হয় এ ধরনের ত্বকের জন্য অয়েল ফ্রী ক্রিম খুব ভালো কাজ করে। কিন্তু বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির প্রচুর অয়েল ফ্রী ক্রিম থাকার ফলে, ভালো মানের ওয়েল ফ্রী ক্রিম চেনা কঠিন হয়ে যায়। মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, ভালো অয়েল ফ্রী ক্রিমের কিছু বৈশিষ্ট্য আছে, যা আপনার ত্বককে সুস্থ সতেজ ও সুন্দর রাখতে সাহায্য করবে। নিম্নে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য দেওয়া হল।

১. ভালো মানের ওয়াল ফ্রী ক্রিম ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমতে দেয় না ইহা ত্বকের তেল নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘসময় ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে যার ফলে ত্বক ভারী এবং আঠালো লাগেনা।

২. ভালো মানের  অয়েল ফ্রি ক্রিমের টেক্সচার হালকা হয়। এ ধরনের ক্রিম ত্বকে লাগানোর সাথে সাথে দ্রুত শোষিত হয়ে যায় এবং ত্বকে অতিরিক্ত স্তর তৈরি করে না। ভারী ক্রিম গুলো ত্বকের  লোমকূপ বন্ধ করে দেয় এবং ফলে ত্বকে ব্রণ ব্ল্যাক হেডের মত সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু ভালো অয়েল ফ্রী ক্রিম আপনার ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করে না, ত্বককে ময়েশ্চারাইজার করে রাখবে, ফলে ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দেখায় না এবং ত্বক শুষ্ক হয় না।

৩. ভালো অয়েল ফ্রি ক্রিম সাধারণত নন কমেডোজেনিক উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। ইহা ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করেনা। ব্রণের প্রবণতা বেশি এমন ধরনের ত্বকের জন্য ইহা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ধরনের ক্রিম ব্যবহার করলে প্রবণতা বেড়ে যায়। আপনি এমন ধরনের অয়েল ফ্রী ক্রিম ব্যবহার করবেন যা আপনার ত্বককে পরিষ্কার ও আরামদায়ক রাখে।

৪. ভালো মানের অয়েল ফ্রী ক্রিম আপনার ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অনেকের ধারণা অয়েল ফ্রি ক্রিম মানে ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু বিষয়টা সে ধরনের না, ভালো মানের ক্রিম আপনার ত্বকের প্রয়োজনীয় পানি ও পুষ্টি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে গ্লিসারিন, অ্যালোভেরা বা হায়ালুরনিক অ্যাসিডের মতো উপাদান থাকে যা আপনার ত্বককে নরম ও মসৃন করে রাখবে।

৫. ভালো মানের অয়েল ফ্রী ক্রিম আপনার ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়। যেগুলো ক্রিমে এসপিএফ থাকে, সেগুলো ক্রিম আপনার ত্বকে সূর্যের বেগুনি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। একটি ভালো মানের অয়েল ফ্রি ক্রিম শুধুমাত্র ত্বকের তেল কমায় না, ইহা ত্বকের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং দীর্ঘ সময় ত্বককে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ক্রিম নির্ণয়ের মাধ্যমে ত্বকের ব্রণ, অতিরিক্ত তেল ও অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়।

 তেলতেলে ত্বকে ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম:-

অনেকের ধারণা  তেলতেলে ত্বকে ক্রিম ব্যবহার না করলেও হবে। কিন্তু এ ধারণাটা সম্পূর্ণ ভুল। আপনার ত্বকের ধারণা অনুযায়ী ভালো ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বক সুস্থ ও সতেজ থাকে, যার ফলে তেলতেলে ত্বকে ক্রিম ব্যবহারের নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরী। আপনি যদি তেলতেলে ত্বকের অধিকারী হয়ে থাকেন, তাহলে আপনাকে বুঝতে হবে,এই ধরনের ত্বকে ভারী অতিরিক্ত তৈলাক্ত ক্রীম ব্যবহার করা যাবে না। 

এ ধরনের ত্বকের ক্ষেত্রে হালকা অয়েল ফ্রি ব্যবহার করা ভালো। বর্তমান সময় বাজারে অনেক ধরনের ওয়াটার বেসডপাওয়া যায়।  এগুলো ত্বকের তেল না বাড়িয়ে প্রয়োজনীয় আদ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কারণ ত্বক শুষ্ক হলে শরীর আরো বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে, যার ফলে তেলতেলে ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা  দরকার। মুখ ভালো ভাবে পরিষ্কার করে নেওয়ার পর ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। 

সারাদিনের ধুলোবালি ঘাম এবং অতিরিক্ত তেলের কারণে আপনার ত্বকের লোমকূপ বন্ধ থাকতে পারে। তাই আপনাকে প্রথমে একটি ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে ধুয়ে নিতে হবে এবং পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে হালকা ভাবে মুছে নিতে হবে। মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, একটু সময় অপেক্ষা করার পর ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্রিম বেছে নিতে হবে এবং ত্বকের প্রয়োজনীয় উপাদান ক্রিমে আছে কিনা সেটা লক্ষ্য করতে হবে। 

শুধুমাত্র ক্রিম ব্যবহার করলেই হবে না, জীবন ধারার পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে, পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, নিয়মিত ঘুম ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। নিয়ম অনুবর্তিতার সহিত চলাফেরা করে শরীরের ভেতরের ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। তাছাড়া আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে না। অতএব আপনাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং ত্বকের জন্য উপযুক্ত ক্রিম নির্বাচন করতে হবে ।

ত্বকের তেলতেলে ভাব দূর করার জন্য অতিরিক্ত যত্ন:-

ত্বকের তেলতেলে ভাব একটি সাধারন সমস্যা। অনিমিত জীবন যাপন, গরম আবহাওয়া, ধুলাবালি, ভুল স্কিন কেয়ারের কারনে এই সমস্যা আরো বেশি হয়। অনেকের ধারণা এই সমস্যা দূর করার জন্য দিনে কয়েকবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুতে হবে এবং বাজারের নামী দামী কসমেটিক্স ব্যবহার করতে হবে।  কিন্তু অনেক সময় না বুঝে না জেনে ত্বকের অতিরিক্ত যত্ন নেওয়া ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। ত্বক সাধারণত একটি সংবেদনশীল অঙ্গ। 

সঠিকভাবে যত্ন না নিলে  ত্বক তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতে পারে। সমস্যার সঠিক সমাধান না জানার কারণে, অনেকে দিনে কয়েকবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে থাকেন, এতে আপনার ত্বক পরিষ্কার মনে হলেও ধীরে ধীরে ত্বকের আদ্রতা নষ্ট হতে থাকে। এর ফলে ত্বক আরো বেশি তেল উৎপাদন শুরু করে। মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, তখন ত্বকে অতিরিক্ত তৈলাক্ত ভাব দেখায়।

ত্বকে তেল তেল ভাব এই সমস্যা সমাধান করার জন্য অনেকে বিভিন্ন ধরনের স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করে থাকেন, যেমন টোনার, স্ক্রাব, ফেসপ্যাক, সিরাম এবংঅয়েল কন্ট্রোল ক্রিম। কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের প্রোডাক্ট একই ত্বকের জন্য উপযুক্ত না। আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে হবে।

ক্রিম ব্যবহারে সর্তকতা:-

ত্বকের পরিচর্যার ক্ষেত্রে ক্রিম ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা সাধারণত ত্বকের শুষ্কতা, ময়েশ্চারাইজার, উজ্জ্বলতা, লাবণ্য, সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য ক্রিম ব্যবহার করে থাকে। ক্রিমের সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। তাছাড়া উপকারের বদলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ত্বককে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করার জন্য, আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

আপনাকে ক্রিম ব্যবহারের পূর্বে মনে রাখতে হবে, সব ক্রিম সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। অনেক ধরনের ত্বক রয়েছে যেমন স্বাভাবিক, শুষ্ক,  সংবেদনশীল,  তৈলাক্ত,ও  মিশ্র ত্বক। অতএব আপনার ত্বক কি ধরনের সেটা জেনে আপনাকে ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।  যারা তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারী, তাদের ক্ষেত্রে ভারী অয়েল বেসড ক্রিম ব্যবহার করা যাবে না। এতে আপনার ত্বকের লোমকূপের ছিদ্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এতে ব্রণ ও ব্রনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার ক্রিম, অতএব ক্রিম কেনার আগে আপনাকে দেখতে হবে, আপনার ত্বকের সমস্যার সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান আছে কিনা, তা দেখে নিতে হবে। ক্রিম অনেক ধরনের কেমিক্যাল আছে। এই ক্রিমগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের সমস্যা হতে পারে। ভবিষ্যতে যেন সমস্যা সমস্যায় না পড়েন তাই আপনাকে ত্বকের সুরক্ষার জন্য হালকা এবং প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

মুখের-তেলতেলে-ভাব-দূর-করার-ক্রিম


লেখকের মন্তব্য:-

আমার মনে হয় মুখের তেলতেলে ভাব দূর করার জন্য ক্রিম যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাস। সুন্দর ত্বককে শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরলেই হবে না এটি একটি মানুষের যত্নশীল জীবনের ফলাফল। স্থায়ী সৌন্দর্য কখনো মনুষ্য তৈরির মধ্যে থাকে না, ইহা  স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ও আত্মবিশ্বাসের মধ্যে লুকায়িত থাকে।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪