ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০ টি কার্যকর উপায়
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়, ডায়াবেটিস বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বে খুব দ্রুত আকারে ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও দিন দিন ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ রোগটি হলে শরীরের রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়, যার ফলে মানব দেহে দীর্ঘমেয়াদি নানা রকমের জটিলতা দেখা দেয়।
সঠিক চিকিৎসা ও সঠিক খাদ্য অভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও
সচেতনতার মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আপনি এটিকে নিয়ন্ত্রণে
রাখলে ভবিষ্যতে অনেক বড় ধরনের শারীরিক জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
সূচিপত্র
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়
- ডায়াবেটিস কি এবং কেন নিয়ন্ত্রণ জরুরী
- সময় মত খাবার খাওয়ার গুরুত্ব
- পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ
- আঁশযুক্ত ও গোটা শস্যজাত খাবার খাওয়ার উপকারিতা
- অতিরিক্ত লবণ চর্বি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করা
- ফাস্টফুড কোমল পানীয় অতিরিক্ত চিনি বর্জন করা
- ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী পানীয়
-
দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও ধূমপানের ক্ষতি কর প্রভাব
-
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ
- ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়
- লেখকের মন্তব্য
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়
ডায়াবেটিস বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বজুড়ে দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া একটি দীর্ঘমেয়াদি
স্বাস্থ্য সমস্যা International Diabetes Federation (IDF) IDF Diabetes
Atlas, 9th Edition. 2019 তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে বিশ্বে প্রায় ৪৬ কোটি
৩০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসের আক্রান্ত ছিলেন। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ৮.৮% যার মধ্যে
৯০% টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। International Diabetes Federation (IDF) IDF
Diabetes Atlas 10th Edition 2021 এর তথ্য অনুযায়ী এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩
কোটি ৭০ লাখে। ডায়াবেটিস নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই দেখা যায়।International
Diabetes Federation (IDF) Diabetes Atlas 9th Edition (2019) অনুযায়ী
আগামী বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে।
WHO (2013) এর তথ্য অনুযায়ী ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অকাল
মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় দ্বিগুণ। যুক্তরাষ্ট্রের Centers for Disease Control
and Prevention (CDC) ১১ই মার্চ ২০২০ এর তথ্য অনুযায়ী ডায়াবেটিস
বিশ্বব্যাপী মৃত্যু সপ্তম প্রধান কারণ। ডায়াবেটিসে এমন একটি রোগ যা শরীরে দেখা
দিলে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না বা উৎপাদিত ইনসুলিনের প্রতি
দেহের কোষগুলো যথাযথভাবে সাড়া প্রদান করে না। যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা
বেড়ে যায়, এতে হৃদরোগ, চোখের ক্ষতি, পায়ের ক্ষত, কিডনি সমস্যা, স্নায়ুর
জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। তাই সুস্থ জীবনের জন্য এটিকে
নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বপ্রথম আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গড়ে তুলতে
হবে নিয়মিত ও সময় মতন খাবার গ্রহণ রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকে। অনেকে
খাবার সময়সূচি উপেক্ষা করে, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন
হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ এই রোগ নিয়ন্ত্রণে বাধা
সৃষ্টি করে। তাই পরিমাণ মতো খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এই রোগ
নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আপনাকে সঠিক খাদ্য নির্বাচন করতে হবে।
আঁশযুক্ত খাবার যেমন লাল চাল, ডাল, শাকসবজি রক্তে শর্করা ধীরে
বেড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ফাস্টফুড, কমল পানীয়, , ময়দা, চকলেট, আইসক্রিম
এড়িয়ে চলতে হবে। অতিরিক্ত তেলে ভাজাপোড়া কম খেতে হবে এবং স্যাচুরেটেড
ফ্যাট যুক্ত খাবার কম খেতে হবে। এর সাথে আলু ও স্টার্চ যুক্ত খাবার অল্প
পরিমাণে খেতে হবে। এগুলো খাবার রক্তে গ্লুকোজ বাড়িয়ে দেয়। এ রোগ নিয়ন্ত্রণের
জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ১০টি কার্যকর
উপায়, পানি শরীরের বিপাকক্রিয়াকে ঠিক রাখে এবং শরীরের টক্সিন বের করে দেয়।
যেমন শারীরিক ব্যায়াম,হাঁটা, দৌড়ানো শরীরচর্চা ইন্সুলেনের কার্যকারিতা কে
বাড়িয়ে দেয় ও রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন ৩০-৪০
মিনিট হাঁটা এ রোগ নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে। অপরদিকে দীর্ঘ সময় বসে থাকা
ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং এই রোগ নিয়ন্ত্রণের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ধূমপান
ও অ্যালকোহল এ রোগের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জটিলতা বাড়িয়ে দেয়, সুস্থতার জন্য
এই অভ্যাসগুলো ত্যাগ করতে হবে।
এর সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, ও স্বাস্থ্যকর রুটিন
অনুযায়ী চলাফেরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ রোগ
নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন রাখে নিয়মিত
স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তে শর্করার চাপ এবং কোলেস্টরেল নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করলে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করলে
শারীরিক বড় জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।
বহুমূত্র রোগ নিয়ন্ত্রণ করা একদিনের কাজ নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি
কার্যকর উপায়, ইহাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হলে ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যেতে
হবে। স্বাস্থ্যকর সঠিক খাদ্য অভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, নিয়মিত স্বাস্থ্য
পরীক্ষা ও সচেতনতা এগুলো বিষয় মেনে চললে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক
সুস্থ জীবন যাপন করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস কি এবং কেন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী
ডায়াবেটিস বলতে ইনসুলিন নামক হরমোনের সমস্যা বা ঘাটতিকে বোঝানো হয়।
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র বা মধুমেহ এই রোগটি দীর্ঘমেয়াদী একটি স্বাস্থ্য
সমস্যা। এই রোগ হওয়ার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
থাকে। এ রোগ হলে অগ্নাশয় ঠিকমতো ইনসুলিন উৎপাদন করতে পারে না বা উৎপাদিত
ইনসুলিনের প্রতি দেহের কোষ গুলো সাড়া দেয়না । এতে শরীরে কয়েকটি উপসর্গ দেখা
দেয়, যেমন ঘন ঘন প্রস্রাব (পলিইউরিয়া), অত্যাধিক তৃষ্ণা (পলিডিপসিয়া), এবং
অত্যাধিক ক্ষুধা (পলিফেজিয়া)। টাইপ -1 ডায়াবেটিসের লক্ষণ খুব দ্রুত প্রকাশ
পায়।
কিন্তু টাইপ -2 ডায়াবেটিসের লক্ষণ অনেক ধীরে প্রকাশ পায়। অনেক সময় লক্ষণ নাও
প্রকাশ পেতে পারে। সঠিক সময় সঠিক চিকিৎসা না করলে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
যার শেষ পরিণতি মৃত্যু হতে পারে। বিশ্বজুড়ে এই রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে
থাকায় ১৯৯১ সালের ১৪ ই নভেম্বরকে আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF) ও
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইনসুলিনের সহআবিষ্কারক ফ্রেডরিক ব্যানটিংয়ের
জন্মদিনটিকে ডায়াবেটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন।
সকল ধরনের বহুমূত্র রোগেই দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই জটিলতা গুলো
সাধারণত ১০ থেকে ২০ বছরের পরে দেখা দেয়। কিন্তু জিনাদের রোগ সনাক্ত দেরিতে হয়
উনারা রোগের উপসর্গ শুরুতেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়া
শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। যে কারণে
ডায়াবেটিস রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, এর কারণগুলো নিম্নে আলোচনা করা হলো। এ
রোগ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে দীর্ঘ মেয়াদী এই
জটিলতা গুলো রক্ত প্রবাহের ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত ডায়াবেটিসের কারণে হার্টের
রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
o' Gara et al, তথ্যসূত্র অনুযায়ী ডায়াবেটিসের ৭৫ পার্সেন্ট রোগী করোনারি
ধমনীর রোগে মৃত্যুবরণ করে। এ রোগের ফলে ক্ষুদ্র রক্তনালীর ক্ষতি হয় যার ফলে
চোখ, বৃক্ক ও স্নায়ুর ক্ষতি হয়। এ রোগের কারণে চোখের রেটিনার রক্ত প্রবাহ
ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি নামক একটি রোগ হয়। এর ফলে
দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমনকি অন্ধত্ব হতে পারে ডায়াবেটিস রোগের কারণে
গ্লুকোমা, ছানি ও চোখের অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের
বছরে একবার চোখের ডাক্তার দেখানো উচিত। কিডনির ক্ষতি হলে ডায়াবেটিক
নেফ্রোপ্যাথি নামক একটি রোগ হয়।
এর ফলে বৃক্কপিন্ড কাঠিন্য প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন নির্গত হওয়া এবং কিডনি রোগ
হয়, তখন কিডনি প্রতিস্থাপন করা প্রয়োজন হয়। এ রোগের কারণে শরীরের স্নায়ু
ক্ষতিগ্রস্ত হলে ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ হয়। ইহা ডায়াবেটিসের
সবচেয়ে জটিল একটি পরিস্থিতি। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়, এই
জটিল পরিস্থিতির ফলে অসারতা, ঝিনঝিনি, কার্যক্রমে ব্যাঘাত ও ব্যথার অনুভূতি
পরিবর্তন হয় যার ফলে ত্বকের ক্ষতি হয়। এ রোগের কারণে পায়ে ক্ষত হয় যার
চিকিৎসা অনেক কঠিন হয় এবং অনেক সময় পা কেটে ফেলারও প্রয়োজন হতে পারে।
সময় মত খাবার খাওয়ার গুরুত্ব
নির্দিষ্ট সময় খাবার খাওয়ার অভ্যাস রক্তের সরকারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে
সাহায্য করে। হঠাৎ রক্তের সরকারের মাত্রা বেড়ে যাওয়া ও কমে যাওয়ার ঝুঁকি
কমায়। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা বা অসময়ে খাওয়া রক্তের শর্করার মাত্রা বড়
ধরনের উঠানামা হতে পারে। এতে দুর্বলতা, মাথা ঘোরা অতিরিক্ত ক্ষুধা, ক্লান্তি,
মনোযোগের ঘাটতি দেখা যেতে পারে। দীর্ঘ সময় ক্ষুধার্ত থাকার কারণে একসঙ্গে
বেশি পরিমাণ খাবার খেয়ে ফেলেন এতে রক্তগুলোর মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়।
এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যেসব রোগী ইনসুলিন গ্রহণ
করে তাদের ক্ষেত্রে সময় মতন খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরী। তাছাড়া
হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় বা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়, তাই আপনি সুস্থ থাকতে চাইলে সময় মতন খাবার
খাওয়ার খাদ্য অভ্যাস গড়ে তুলুন।
পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ
ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকায় ক্যালোরি সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দৈনিক মোট ক্যালোরির প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ
কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থেকে গ্রহণ করা উচিত। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি
কার্যকর উপায়, এছাড়া ২০ থেকে ২৫ শতাংশ ক্যালরি প্রোটিন জাতীয় খাবার থেকে
গ্রহণ করা দরকার এবং অবশিষ্ট ক্যালরি স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাট থেকে গ্রহণ
করতে হবে। সারাদিনের খাবার এমনভাবে ভাগ করে নিতে হবে যাতে সকালের নাস্তা থেকে
মোট ক্যালরির ৩০ শতাংশ পাওয়া যায়।
বাকি ক্যালোরি আসবে দিনের বিভিন্ন সময়ে। এই খাবারগুলো দুই বা তিনবারে গ্রহণ
করা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। খাবার নির্বাচন করার সময় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স
(GI) বিবেচনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যে খাবারগুলোতে গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স
কম সেগুলো খেলে ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এর ফলে রক্তের
শর্করার উঠানামা কম হয় এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। এজন্য কম
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত শস্য, শাকসবজি, ডাল ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার
খাদ্য তালিকায় রাখা দরকার এবং পরিমাণ মতো খাওয়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের
সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
আঁশযুক্ত ও গোটা শস্যজাত খাবার খাওয়ার উপকারিতা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খাদ্যআঁশ বা ফাইবার সমৃদ্ধ খাবারের গুরুত্ব অত্যন্ত
বেশি। বর্তমানে পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকায়
পর্যাপ্ত পরিমাণে আঁশ যুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে খাদ্য আঁশ ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে
সাহায্য করে। যা রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করে। এছাড়া এটি কোলেস্টরেল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে এবং
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে।
খাদ্য আঁশ দুই ধরনের হয়। দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয়। দ্রবণীয় আঁশ রক্তে
গ্লুকোজের শোষণ ধীরে ধীরে করে যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি
পায় না। অপরদিকে অদ্রবণীয় আঁশ হজম তন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক
রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আঁশ যুক্ত খাবারের অন্যতম সুবিধা হচ্ছে এগুলো দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। যার
ফলে ক্ষুধা কম লাগে। অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়।
এজন্য শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয় যা টাইপ - ২ ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আঁশযুক্ত খাবার ধীরে
হজম হয় বলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উঠানামাও কম হয়। লাল চাল, ভুসিযুক্ত
আটা, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মটর শুটি, বাদাম এবং খোসা সহ ফল, খাদ্য
আঁশের ভালো উৎস। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়, এছাড়া
গাজর, আলু অন্যান্য সবজিতেও পর্যাপ্ত আশঁ পাওয়া যায়। এএগুলো
খাবার সঠিক সময়ে পরিমাণ মত খেলে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণ করা
সম্ভব।
অতিরিক্ত লবণ চর্বি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে লবনের নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ। অনেক মানুষ
খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য রান্না করা খাবারের উপর অতিরিক্ত লবণ ছিটিয়ে
খেয়ে থাকেন। গবেষণায় দেখা গেছে এই অভ্যাস স্বাস্থ্যকরের জন্য
ক্ষতিকর হতে পারে এবং টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকে বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত
লবণ শুধু রক্ত চাপ বাড়ায় না, এটি হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক লবণ গ্রহণের
একটি নির্দিষ্ট সীমা অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়।
তাই ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার
অভ্যাস পরিহার করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন পাঁচ গ্রামের কম লবণ
(প্রায় এক চা চামচ) গ্রহণ করা উচিত। ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য তালিকায়
পরিমিত পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বি বা ফ্যাট থাকা প্রয়োজন। সঠিক ধরনের
ফ্যাট শরীরে শক্তি যোগায়, হৃদ যন্ত্রের সুরক্ষা দেয় এবং রক্তে শর্করার
মাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে সহায়তা করে। তবে সব ধরনের চর্বি সমান উপকার নয়।
তাই কোন ধরনের ফ্যাট খাওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরী। বিশেষজ্ঞদের
মতে দৈনিক খাদ্যে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ সীমিত রাখা উচিত।
অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট এবং ট্রান্স ফ্যাট গ্রহণ করলে
হৃদরোগ, উচ্চ কোলেস্টরেল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
তাই ভাঁজাপোড়া ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া ভালো।
অপরদিকে মনোআনস্যাচুরেটেড (Monounsaturated) এবং পলিআনস্যাচুরেটেড
(polyunsaturated) ফ্যাট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
এসব ফ্যাট হৃদরোগে ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে, এবং শরীরের বিভিন্ন
গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের ভালো উৎসর মধ্যে
রয়েছে অলিভ অয়েল, কাঠবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ এবং আভোকোডা।
এছাড়া স্যামন ও সার্ডিনের মত চর্বিযুক্ত মাছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি
এসিড থাকে। যা হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে শুধু শর্করা নয়, খাদ্যের ফ্যাটের ধরন ও পরিমাণের প্রতিও
গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ফাস্টফুড কোমল পানীয় অতিরিক্ত চিনি বর্জন করা
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরী।
বর্তমানে অনেক মানুষ নিয়মিত ফাস্টফুড খেতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বার্গার,
পিজ্জা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, কোমল পানীয় সহ বিভিন্ন ধরনের ফাস্টফুড খেতে
সুস্বাদু হলেও এগুলোর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের
১০টি কার্যকর উপায়, এসব খাবারে সাধারণত অতিরিক্ত ক্যালোরি, লবণ, চিনি এবং
অস্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। যা শরীরের জন্য নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে
পারে।
নিয়মিত ফাস্টফুড খাওয়ার ফলে শরীরের ওজন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। অতিরিক্ত
ওজন টাইপ টু ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। বর্তমানে
ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই তৃষ্ণা মেটাতে বা দ্রুত সতেজতা পেতে কোমল
পানীয় পান করে থাকেন, যেমন মিষ্টি যুক্ত ল্যাটে এবং বিভিন্ন ধরনের এনার্জি
ড্রিংক পান করেন। এগুলো খুব সহজেই দোকান, সুপার শপ, অফিস কিংবা
বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে পাওয়া যায়।
তবে স্বাদ ও সাময়িক শক্তি দিলেও নিয়মিত এসব পানীয় পান করা স্বাস্থ্যের
জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানি গ্রহণের
ফলে টাইপ টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। চিনি খেলে ওজন
বাড়বে, ওজন বাড়লে টাইপ টু ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে অতএব
প্রয়োজন অনুপাতে যেটুকু দরকার সেটুকু চিনি খাওয়াই ভালো।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে উপকারী পানীয়
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবার নয়, সঠিক পানীয় নির্বাচন করা
গুরুত্বপূর্ণ। কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে
সহায়তা করতে পারে এবং শরীরকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে। ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকর উপায়, চিনি ছাড়া চা বিশেষ করে গ্রিন টি, আদা
চা ও ভেষজ চা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ, যা সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য
করে। একইভাবে ব্ল্যাক কফিও পরিমিত পরিমাণে পান করা যেতে পারে।
তবে কফিতে অতিরিক্ত চিনি বা ক্রিম যোগ করা উচিত নয়। লেবু পানি শরীরকে সতেজ
রাখে এবং ভিটামিন সি সরবরাহ করে। এছাড়া ডাবের পানি শরীরের পানি শূন্যতা
দূর করতে এবং প্রয়োজনীয় খনিজের চাহিদা পূরণের সহায়তা করে। করলা, আমলা,
পালং শাক ও বিভিন্ন সবজির জুস পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এসব পানীয়তে ভিটামিন,
খনিজ, ফাইবার থাকে যা স্বাস্থ্যকর খাদ্যভাসের অংশ হিসাবে গ্রহণ করা যেতে
পারে।
তবে ফল বা সবজির জুস তৈরির সময় অতিরিক্ত চিনে ব্যবহার করা উচিত নয়।
ছাতুর শরবতও একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়। এতে প্রোটিন ও ফাইবার
থাকে যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পরিমিত পরিমাণে
সাবুদানার শরবতও খাদ্য তালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে,
কোন পানীয় ডায়াবেটিসের চিকিৎসার বিকল্প নয়। সুষম খাদ্য, নিয়মিত
ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব
আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আপনাকে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে
হবে। একটানা দীর্ঘ সময় বসে থাকা যাবে না। এতে শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রমের
বিঘ্ন ঘটে বা ধীর হয়ে যায়। যার ফলে শরীরের চর্বিভাঙ্গার প্রক্রিয়া কমে
যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে লিপোপ্রোটিন লাইপেজ
নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইমের কার্যকারিতা হ্রাস পায়। এই এনজাইম রক্তের
চর্বি বা ফ্যাটি ভাঙতে সাহায্য করে। আপনি যখন দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন, তখন
আপনার শরীর থেকে কম শক্তি ক্ষয় হবে।
এতে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি জমে। যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়। ইনসুলিনের
কার্যকারিতা কমে যায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা
দেয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য দীর্ঘ সময় বসে থাকা আরো
ক্ষতিকর। ধূমপানের ক্ষতির প্রভাব শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের উপর
পড়তে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো বেশি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে সিগারেটের নিকোটিন রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর
ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়। এছাড়া ধূমপান করার ফলে টাইপ টু
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুর বিভিন্ন
জটিল দেখা দেয়। এসব সমস্যা কোন লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে শরীরে তৈরি হতে
পারে। সেজন্য ডায়াবেটিস রোগীর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা
গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি তিন মাসে HbA1c পরীক্ষার মাধ্যমে গত কয়েক মাসের
রক্তের শর্করার গড় মাত্রা নির্ণয় করা প্রয়োজন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে
ডায়াবেটিস কতটা নিয়ন্ত্রণে আছে তা বোঝা যায়। টাইপ -২ ডায়াবেটিস ধরা
পড়লে, সাধারণত প্রতি তিন মাস পর এই পরীক্ষা করা দরকার। রক্তে শর্করার
নিয়ন্ত্রণে এলে ৬ মাস পরপর পরীক্ষা করা যেতে পারে। বছরে একবার পায়ের
পরীক্ষা করা উচিত।
পায়ের পরীক্ষা
ডায়াবেটিস হলে পায়ে রক্ত চলাচল কমে যেতে পারে এবং অনুভূতি শক্তি হ্রাস
পাওয়া সম্ভাবনা আছে। এর ফলে পায়ে আঘাত, ক্ষত বা সংক্রমণ হলে তা সহজে বোঝা
যায় না এবং সেরে উঠতেও সময় লাগে। তাই নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে পায়ে কোন
ক্ষত, আলসা,র সংক্রমণ বা অবশভাব আছে কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরী।
চোখের পরীক্ষা
ডায়াবেটিস চোখের রক্তনালির ক্ষতি করে যা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সৃষ্টি হয়।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থায় রোগ সনাক্ত করা সম্ভব হয়।
চোখে ঝাপসা দেখলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও কিডনি পরীক্ষা
ডায়াবেটিসের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি ও হৃদরোগের ঝুঁকিয়ে বেড়ে যায়।
এগুলো সমস্যা শুরুতে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। নিজেকে সুস্থ রাখতে চাইলে
বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা
উচিত। এতে সমস্যা ধরা পড়লে দ্রুত চিকিৎসা করা যায় এবং জটিলতা ও ঝুঁকি
কমানো সম্ভব হয়।
আপনি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলা
অন্তত জরুরী। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা,
শারীরিক ব্যায়াম, সঠিক খাদ্য অভ্যাস এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ঔষধ গ্রহণের
মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। ইচ্ছা অনুযায়ী ওষুধ পরিবর্তন,
বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। আপনার শরীরে নতুন কোন
উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
ডায়াবেটিস প্রতিরোধে করণীয়
ডায়াবেটিস বিশ্বব্যাপী একটি বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। এ রোগে আক্রান্ত হলে
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ডায়বেটিস
নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদরোগ, কিডনির সমস্যা, স্নায়ুর ক্ষতি এবং চোখের
জটিলতা দেখা দিতে পারে। এতে সুস্থ জীবন যাপনের কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে টাইপ
টু ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেক অংশ কমে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি
কার্যকর উপায়,
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখ
অতিরিক্ত ওজন বিশেষ করে পেটের চারপাশে চর্বি জমা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি
বাড়ায়। কারণ এটি শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতাকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে।
তাই সুষম খাদ্য ও নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
জরুরি।
সুষম খাদ্য অভ্যাস গড়ে তোলা
প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, ডাল, গোটা শস্য এবং স্বাস্থ্যকর
প্রোটিন রাখা দরকার। অতিরিক্ত মিষ্টি, কোমল পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও
তেল চর্বিযুক্ত খাবার কম খাওয়ার চেষ্টা করা উচিত। নিয়মিত ও পরিমিত খাবার
রক্তের শর্করা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম করুন
ব্যায়াম শরীরকে ইনসুলিনের প্রতি আরো কার্যকর ভাবে সাড়া দিতে সাহায্য করে।
প্রতিদিন হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা বা অন্যান্য কোন শারীরিক
কার্যক্রমের অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী। দৈনন্দিন জীবনে ছোট ছোট কাজ বা
পরিশ্রমও স্বাস্থ্যের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত ঘুমানো
নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ঘুমের ঘাটতি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে তাই
প্রতিদিন পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি।
মানসিক চাপ কমানো
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং রক্তে সরকারের
মাত্রা বাড়াতে পারে। ধ্যান, গভীর শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা পছন্দের
কাজে সময় কাটানো মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
পরিবারে ডায়বেটিসের ইতিহাস থাকলে বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ থাকলে
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে সমস্যা শনাক্ত করা
গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
লেখকের মন্তব্য
ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা। এটিকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ
না করলে অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। তবে সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য
পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা
সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং সঠিক জীবন
যাপন ও নির্ধারিত চিকিৎসা অনুসরণ করলে, জটিলতার ঝুঁকি কমানো যায় এবং সুস্থ
জীবন যাপন করা যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ১০টি কার্যকরী উপায়, চিকিৎসা
বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন নতুন
সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে এতে ভবিষ্যতে রোগীদের জীবনমান আরো উন্নত করতে সহায়তা
করবে।
রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url