গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, গর্ভাবস্থায় শরীরের পানির
চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা
জরুরি। পানি শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি গর্ভের শিশুর
কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দিতেও ভূমিকা রাখে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তখন গাঢ় হলুদ
প্রস্রাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা বা প্রস্রাব কম হওয়ার মতো
লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
সূচিপত্র
- গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত
- গর্ভাবস্থায় পানি পান করা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করা উচিত
- গর্ভাবস্থায় পানির চাহিদা কখন বাড়ে
- পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কী সমস্যা হয়
- পানিশূন্যতার লক্ষণ কী কী
- সারাদিন কীভাবে পানি পান করবেন
- পানি সমৃদ্ধ খাবার কী কী
- কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
- লেখকের মন্তব্য
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে
শরীরের পানির চাহিদা সাধারণ সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন প্রায় ৮
থেকে ১২ গ্লাস বা প্রায় ২.৩ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, তবে সবার ক্ষেত্রে পানির
চাহিদা এক রকম হয় না। শরীরের ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যের
অবস্থার ওপর এটি কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
গরম আবহাওয়া, বেশি ঘাম, ব্যায়াম বা বমি হলে শরীর থেকে বেশি পানি বের হয়ে
যায়। এমন পরিস্থিতিতে আরও বেশি পানি পান করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই নিজের
শরীরের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। গর্ভাবস্থায় পানি শরীরের
গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্ত চলাচল বজায় রাখতে
সহায়তা করে। গর্ভের শিশুর কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছাতেও পানি ভূমিকা রাখে।
অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা শিশুর স্বাভাবিক
বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান করলে ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে।
পানিশূন্যতা হলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং অন্যান্য
সমস্যার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে
তোলা ভালো। শুধু কতটুকু পানি পান করবেন তা জানাই যথেষ্ট নয়।
সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার পানি পান করা ভালো। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক
গ্লাস পানি পান করা যেতে পারে। বাইরে গেলে সঙ্গে পানির বোতল রাখলে নিয়মিত পানি
পান করা সহজ হয়। শুধু পানি খেতে ভালো না লাগলে পানিতে লেবু, শসা বা পুদিনা যোগ
করা যেতে পারে। গর্ভবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, কিছু খাবার
থেকেও শরীরে তরল পৌঁছে যায়। যেমন স্যুপ, দুধ, ফলের রস এবং তরমুজ বা কমলার মতো
পানিসমৃদ্ধ ফল। এগুলোও দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। শরীরে পানি কমে
গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
যেমন গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, মুখ বা গলা শুকিয়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া। স্বাভাবিক অবস্থায় প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ বা
প্রায় স্বচ্ছ থাকে। যদি বমির কারণে পানি পান করা কঠিন হয়, অথবা পানিশূন্যতার
লক্ষণ স্পষ্ট দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থায়
কোনো সমস্যা মনে হলে দেরি না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা ভালো।
সবশেষে বলা যায়, প্রতিদিন প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা
গর্ভাবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। সঠিক পরিমাণে পানি পান করলে শরীরের
স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় থাকে এবং মা ও গর্ভের শিশুর জন্য উপকারী পরিবেশ তৈরি
হয়।
গর্ভাবস্থায় পানি পান করা কেন গুরুত্বপূর্ণ
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করা মা ও গর্ভের শিশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই
সময়ে শরীরের বিভিন্ন কাজ স্বাভাবিক রাখতে পানির প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিদিন
পর্যাপ্ত পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। গর্ভাবস্থায় শরীরের রক্তের
পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এই বাড়তি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পানি গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখে। শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে এই প্রক্রিয়া ঠিকভাবে চলতে সাহায্য করে।
পানি অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের পরিমাণ বজায় রাখতেও সহায়তা করে। এই তরল গর্ভের শিশুর
স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুরক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই শরীরে পানির ঘাটতি না হওয়া
জরুরি। এছাড়া পানি গর্ভের শিশুর কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছে দিতে সাহায্য
করে। একই সঙ্গে শরীরের বর্জ্য পদার্থ অপসারণেও ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন
পর্যাপ্ত পানি পান করা একটি ভালো অভ্যাস। পর্যাপ্ত পানি পান করলে পানিশূন্যতার
ঝুঁকি কমে।
ডিহাইড্রেশন হলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই), কোষ্ঠকাঠিন্য এবং
প্রি-টার্ম লেবারের মতো সমস্যার আশঙ্কা বাড়তে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করলে
পায়ে ফোলা এবং অতিরিক্ত গরম লাগার সমস্যাও কিছুটা কমতে সাহায্য করে। তাই
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন নিয়মিত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের প্রয়োজন
অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করলে মা সুস্থ থাকতে পারেন এবং গর্ভের শিশুর
স্বাভাবিক বিকাশেও সহায়তা পাওয়া যায়।
প্রতিদিন কত গ্লাস পানি পান করা উচিত
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। সাধারণভাবে একজন গর্ভবতী
নারীর প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১২ গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এটি
প্রায় ২.৩ থেকে ৩ লিটার পানির সমান। তবে সবার জন্য একই পরিমাণ প্রযোজ্য নাও হতে
পারে। গর্ভবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, পানির চাহিদা ব্যক্তিভেদে
কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। শরীরের ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যের
অবস্থার ওপর এটি নির্ভর করে।
তাই প্রয়োজন অনুযায়ী পানির পরিমাণ কম বা বেশি হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় শরীর
থেকে বেশি পানি বের হয়ে যায়। একইভাবে বেশি ঘাম, ব্যায়াম বা বমি হলেও শরীরে
পানির চাহিদা বেড়ে যায়। এমন অবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শুধু পানিই
নয়, কিছু খাবার থেকেও শরীরে তরল পৌঁছায়। স্যুপ, দুধ, ফলের রস এবং তরমুজ বা
কমলার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল থেকেও কিছু তরল পাওয়া যায়।
এগুলো দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণে সহায়তা করে। প্রতিদিন একসঙ্গে বেশি পানি পান
করার পরিবর্তে সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার পানি পান করা ভালো। এতে শরীরে
পানির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পানি পান করলে
গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণে সহায়তা পাওয়া যায়।
গর্ভাবস্থায় পানির চাহিদা কখন বাড়ে
গর্ভাবস্থায় সব সময় একই পরিমাণ পানি প্রয়োজন হয় না। কিছু পরিস্থিতিতে শরীরের
পানির চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। তাই এমন সময়ে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। গরম
আবহাওয়ায় শরীর থেকে বেশি ঘাম বের হয়। এতে শরীরের পানির পরিমাণ কমে যেতে
পারে। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত , তাই গরমের সময়
স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পানি পান করা উচিত। শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করলেও
পানির চাহিদা বাড়ে।
এ সময় শরীর থেকে বেশি তরল বের হয়ে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরের
পানির ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়। গর্ভাবস্থায় অনেকের মর্নিং সিকনেসের
কারণে বমি হতে পারে। এমন অবস্থায় শরীর থেকে পানি বের হয়ে যায়। তাই অল্প অল্প
করে বারবার পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। শরীরের ওজন এবং স্বাস্থ্যের
অবস্থার কারণেও পানির প্রয়োজন কম বা বেশি হতে পারে।
তাই প্রতিদিন একই পরিমাণের ওপর নির্ভর না করে শরীরের চাহিদার দিকেও খেয়াল রাখা
উচিত। পানির প্রয়োজন বাড়লে সারাদিন নিয়মিত পানি পান করা ভালো। বাইরে গেলে
সঙ্গে পানির বোতল রাখা যেতে পারে। এতে সময়মতো পানি পান করা সহজ হয় এবং শরীরে
পানির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা কমে।
পর্যাপ্ত পানি পান না করলে কী সমস্যা হয়
গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত পানি পান না করলে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। এই
অবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। তাই প্রতিদিন শরীরের চাহিদা
অনুযায়ী পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পানি কম পান করলে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট
ইনফেকশন (ইউটিআই) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এটি গর্ভাবস্থায় অস্বস্তির একটি কারণ হতে পারে। তাই নিয়মিত পানি পান করার
অভ্যাস বজায় রাখা উচিত। পর্যাপ্ত পানি না পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা
দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, শরীরে পানির ঘাটতি
থাকলে এই সমস্যা বাড়তে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন।
পানিশূন্যতার কারণে প্রি-টার্ম লেবারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই গর্ভাবস্থায়
পানি পানকে অবহেলা করা উচিত নয়।
শরীরে পর্যাপ্ত পানি থাকলে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া
শরীরে পানি কম থাকলে পায়ে ফোলা এবং অতিরিক্ত গরম লাগার সমস্যাও বাড়তে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করলে এসব সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। শরীরে পানির ঘাটতি হলে
কিছু লক্ষণও দেখা দিতে পারে। যেমন গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, মুখ বা গলা শুকিয়ে
যাওয়া, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া।
এসব লক্ষণ দেখা দিলে পানি পান করার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। গর্ভাবস্থায়
প্রতিদিন নিয়মিত পানি পান করলে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকে। তাই শরীরের
প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত পানি পান করা মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতার জন্য
গুরুত্বপূর্ণ।
পানিশূন্যতার লক্ষণ কী কী
গর্ভাবস্থায় শরীরে পর্যাপ্ত পানি না থাকলে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে। তাই এর
লক্ষণগুলো আগে থেকেই জানা জরুরি। লক্ষণগুলো দ্রুত বুঝতে পারলে সময়মতো ব্যবস্থা
নেওয়া সহজ হয়। পানিশূন্যতার একটি সাধারণ লক্ষণ হলো গাঢ় হলুদ প্রস্রাব।
স্বাভাবিক অবস্থায় প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ থাকে।
তাই প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হলে এটি শরীরে পানির ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। মুখ বা গলা
শুকিয়ে যাওয়াও পানিশূন্যতার একটি লক্ষণ। এমন অনুভূতি হলে নিয়মিত পানি পান করার
দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করলে শরীরে পানির
ভারসাম্য বজায় রাখতে সুবিধা হয়। শরীরে পানি কমে গেলে মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা
দেখা দিতে পারে। অনেক সময় ক্লান্তিও অনুভূত হতে পারে।
এসব পরিবর্তন দেখা দিলে পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। প্রস্রাবের পরিমাণ কমে
যাওয়াও পানিশূন্যতার আরেকটি লক্ষণ। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা
উচিত, যদি স্বাভাবিকের তুলনায় কম প্রস্রাব হয়, তাহলে এটি শরীরে পানির ঘাটতির
ইঙ্গিত দিতে পারে। তাই প্রতিদিন পানি পান করার অভ্যাস বজায় রাখা উচিত।
গর্ভাবস্থায় এসব লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করা ঠিক নয়। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী
সারাদিন কীভাবে পানি পান করবেন
গর্ভাবস্থায় একবারে অনেক পানি পান করার পরিবর্তে সারাদিন অল্প অল্প করে কয়েকবার
পানি পান করা ভালো। এতে শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখা সহজ হয়। গর্ভাবস্থায়
প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত, নিয়মিত পানি পান করলে দৈনিক চাহিদাও পূরণ
করা সহজ হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস করা যেতে পারে।
এরপর দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প পরিমাণ করে পানি পান করুন।
এতে একসঙ্গে বেশি পানি পান করার প্রয়োজন হয় না। বাইরে গেলে সঙ্গে একটি পানির
বোতল রাখুন। এতে প্রয়োজন হলে সহজেই পানি পান করা যায়। নিয়মিত পানি পান করার
অভ্যাস বজায় রাখতেও এটি সহায়ক। শুধু সাধারণ পানি পান করতে ভালো না লাগলে পানিতে
লেবু, শসা বা পুদিনা পাতা যোগ করা যেতে পারে। এতে পানির স্বাদ কিছুটা পরিবর্তন
হয় এবং পানি পান করা সহজ মনে হতে পারে।
শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে কিছু খাবারও সহায়তা করে। স্যুপ, দুধ, ফলের রস এবং
তরমুজ বা কমলার মতো পানিসমৃদ্ধ ফল থেকেও কিছু তরল পাওয়া যায়। এগুলো দৈনন্দিন
তরল গ্রহণের অংশ হতে পারে। সারাদিন পানি পান করার সময় খুব বেশি মিষ্টি বা
কৃত্রিম পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। পাশাপাশি প্রস্রাবের রঙের দিকেও খেয়াল রাখা
ভালো। হালকা হলুদ বা প্রায় স্বচ্ছ প্রস্রাব সাধারণভাবে পর্যাপ্ত পানি পান করার
একটি লক্ষণ হিসেবে ধরা হয়।
পানি সমৃদ্ধ খাবার কী কী
গর্ভাবস্থায় শুধু পানি পান করেই শরীরের সব তরলের চাহিদা পূরণ হয় না। কিছু খাবার
থেকেও শরীর অতিরিক্ত তরল পায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এসব খাবার রাখা
উপকারী হতে পারে। স্যুপ শরীরে তরল সরবরাহের একটি ভালো উৎস। প্রতিদিনের খাবারের
সঙ্গে স্যুপ রাখা হলে দৈনিক তরল গ্রহণে সহায়তা পাওয়া যায়। একইভাবে দুধও শরীরে
তরল পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। ফলের রস থেকেও কিছু পরিমাণ তরল পাওয়া যায়।
এটি প্রতিদিনের তরল গ্রহণের অংশ হতে পারে। তবে পানি পান করার অভ্যাসও নিয়মিত
বজায় রাখা উচিত। পানিসমৃদ্ধ কিছু ফলও শরীরের তরলের চাহিদা পূরণে সহায়ক। তরমুজে
প্রচুর পানি থাকে। তাই এটি তরল গ্রহণের একটি ভালো উৎস হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
কমলাতেও পর্যাপ্ত পানি থাকে এবং এটি দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে
পারে।
শরীরে পর্যাপ্ত তরল বজায় রাখতে পানি এবং পানিসমৃদ্ধ খাবার একসঙ্গে গ্রহণ করা
ভালো। এতে দৈনিক তরলের চাহিদা পূরণ করা সহজ হয়। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত
পানি পান করার পাশাপাশি স্যুপ, দুধ, ফলের রস, তরমুজ ও কমলার মতো পানিসমৃদ্ধ
খাবারও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। এগুলো শরীরের তরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে
সহায়তা করে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
গর্ভাবস্থায় কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সময়মতো চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। যদি
মর্নিং সিকনেসের কারণে বারবার বমি হয় এবং পানি পান করা কঠিন হয়ে পড়ে, তাহলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ এতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে
পারে।
পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলেও চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। যেমন গাঢ়
হলুদ প্রস্রাব, মাথা ঘোরা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ শরীরে পর্যাপ্ত
পানি না থাকার ইঙ্গিত দিতে পারে। যদি প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন বা শরীরে
পানির পরিমাণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
একইভাবে পায়ে ফোলা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।
গর্ভাবস্থায় শরীরের ওজন, শারীরিক পরিশ্রম, আবহাওয়া এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার
কারণে পানির চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নিজের প্রয়োজন সম্পর্কে নিশ্চিত না
হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় কোনো সমস্যা অবহেলা করা উচিত
নয়। প্রয়োজন হলে সময়মতো চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এতে মা ও গর্ভের শিশুর
জন্য উপযুক্ত পরামর্শ পাওয়া সহজ হয়।
লেখকের মন্তব্য
গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস। এই সময়ে
শরীরের পানির চাহিদা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে। তাই প্রতিদিন প্রয়োজন
অনুযায়ী পানি পান করা উচিত। গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করা উচিত,
শরীরের ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার কারণে এই চাহিদা
ব্যক্তি ভেদে কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
পানি শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এটি অ্যামনিওটিক ফ্লুইডের
পরিমাণ বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি গর্ভের শিশুর কাছে প্রয়োজনীয় পুষ্টি
পৌঁছাতে এবং শরীরের বর্জ্য অপসারণে সহায়তা করে। তাই প্রতিদিন নিয়মিত পানি পান
করার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি। সারাদিন অল্প অল্প করে পানি পান করা ভালো।
শুধু পানির ওপর নির্ভর না হয়ে স্যুপ, দুধ, ফলের রস এবং তরমুজ বা কমলার মতো
পানিসমৃদ্ধ খাবার থেকেও কিছু তরল পাওয়া যায়। প্রস্রাবের রঙের দিকে খেয়াল
রাখুন। যদি গাঢ় হলুদ প্রস্রাব, মাথা ঘোরা বা শরীরে পানিশূন্যতার লক্ষণ দেখা
দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি পান
করলে গর্ভাবস্থায় শরীরের স্বাভাবিক পানির ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। তাই
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমান পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

.webp)
.webp)
রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url