হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকের মাথা ঘোরা,
মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, বমি ভাব বা অস্বস্তি হতে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপ সব সময়
স্পষ্ট লক্ষণ প্রকাশ করে না। তাই অস্বাভাবিক কিছু অনুভব করলে রক্তচাপ মাপা জরুরি।
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে শান্ত থাকতে হবে এবং বিশ্রাম নিতে হবে। নিজে থেকে
কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
সূচিপত্র
- হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়
- রক্তচাপ হঠাৎ বাড়ার লক্ষণ
- রক্তচাপ হঠাৎ বাড়ার কারণ
- তাৎক্ষণিকভাবে কী করবেন
- কী করা উচিত নয়
- বিশ্রামের গুরুত্ব
- রক্তচাপ মাপার নিয়ম
- জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন
- কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
- লেখকের মন্তব্
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে প্রথমে অস্থির হওয়া উচিত নয়। শান্ত থাকতে হবে এবং
বিশ্রাম নিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে।
আবার কারও কারও মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, বমি ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিতে
পারে। এমন পরিস্থিতিতে রক্তচাপ মেপে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিকবার রক্তচাপ মাপা
হয়। সিস্টোলিক বা ওপরের রক্তচাপ ১৪০ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক বা নিচের
রক্তচাপ ৯০ বা তার বেশি পাওয়া গেলে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে
হঠাৎ একটি রিডিং বেশি হলেই নিজের সিদ্ধান্তে কোনো ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। রক্তচাপ
হঠাৎ বেড়ে গেলে বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
কেউ কেউ মাথায় পানি বা বরফ দিয়ে সাময়িক আরাম পেতে পারেন। তবে এতে রক্তচাপ কমে
যায় না। তেঁতুলের শরবত খেলেও রক্তচাপ কমে—এমন ধারণা সঠিক নয় বলে দেওয়া তথ্যে
উল্লেখ করা হয়েছে। তাই এসবের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হঠাৎ রক্তচাপ বাড়ার সময় কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বুক
ধড়ফড়, বমি ভাব বা অস্বস্তি এর মধ্যে রয়েছে। তবে অনেকের কোনো লক্ষণ নাও থাকতে
পারে।
এ কারণে শুধু উপসর্গের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপ করা
দরকার। উচ্চ রক্তচাপের পেছনে বিভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে। অধিকাংশ রোগীর
ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায় না। কিছু ক্ষেত্রে কিডনির অসুখ,
থাইরয়েডের সমস্যা, জন্মগত রোগ বা গর্ভকালীন অবস্থার সঙ্গে রক্তচাপ বৃদ্ধির
সম্পর্ক থাকতে পারে। স্থূলতা, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং কম শারীরিক পরিশ্রমও ঝুঁকি
বাড়াতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে
তাৎক্ষণিকভাবে শান্ত থাকা এবং বিশ্রাম নেওয়া দরকার।
লবণাক্ত খাবার এড়িয়ে চলার কথাও দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। তবে নিজের সিদ্ধান্তে
রক্তচাপ কমানোর ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। আগে থেকে চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ থাকলে তা
নির্ধারিত নিয়মে সেবন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিছু কাজ এ সময় এড়িয়ে চলতে হবে।
রক্তচাপ দ্রুত কমানোর আশায় নিজের ইচ্ছায় ওষুধ গ্রহণ করা ঠিক নয়। একইভাবে
সাময়িক আরাম পাওয়ার কোনো পদ্ধতিকে চিকিৎসার বিকল্প মনে করা উচিত নয়।
রক্তচাপ বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত রক্তচাপ
মাপার অভ্যাসও দরকার। যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাদের নির্দিষ্ট সময় পর
পর রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ
অনুযায়ী আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করা প্রয়োজন। জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন উচ্চ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন কমানো, খাবারে অতিরিক্ত লবণ
বাদ দেওয়া এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা গুরুত্বপূর্ণ।
ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুমের
দিকেও নজর দেওয়া দরকার। সবশেষে, রক্তচাপ বেশি থাকলে বা নিয়ন্ত্রণে না এলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে ওষুধ শুরু করা ঠিক নয়। হঠাৎ রক্তচাপ
বেড়ে গেলে শান্ত থাকা, বিশ্রাম নেওয়া, রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয়
চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়াই মূল করণীয়।
রক্তচাপ হঠাৎ বাড়ার লক্ষণ
উচ্চ রক্তচাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অনেক সময় এর কোনো স্পষ্ট লক্ষণ
থাকে না। একজন ব্যক্তির রক্তচাপ বেশি থাকতে পারে, কিন্তু তিনি তা বুঝতে নাও
পারেন। এ কারণে উচ্চ রক্তচাপ শনাক্ত করার জন্য নিয়মিত রক্তচাপ মাপা
গুরুত্বপূর্ণ। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তচাপ বেড়ে গেলে বিভিন্ন ধরনের
অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। মাথা ঘোরা এর মধ্যে একটি। কারও মাথাব্যথাও হতে
পারে।
আবার বুক ধড়ফড় করা বা বমি ভাব দেখা দিতে পারে। শরীরে অস্বস্তি অনুভূত হওয়াও
সম্ভব। এসব লক্ষণ দেখা দিলেই যে শুধু উচ্চ রক্তচাপ হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত
নেওয়া ঠিক নয়। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, কারণ উচ্চ রক্তচাপ অনেক
ক্ষেত্রেই কোনো উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হলে
রক্তচাপ মেপে দেখা দরকার। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে বিভিন্ন
জটিলতা তৈরি হতে পারে।
হৃদ্রোগ, স্ট্রোক বা কিডনির সমস্যা দেখা দিলে সেই সমস্যাগুলোর লক্ষণ প্রকাশ
পেতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে শুধু দৃশ্যমান উপসর্গের জন্য অপেক্ষা
করা উচিত নয়। রক্তচাপের অবস্থা বোঝার জন্য সঠিকভাবে পরিমাপ করা জরুরি।
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ক্ষেত্রে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিকবার রক্তচাপ মাপার
কথা বলা হয়েছে। এতে রক্তচাপের অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া
যায়।
তাই মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড়, বমি ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে বিষয়টি
উপেক্ষা করা উচিত নয়। আবার কোনো লক্ষণ না থাকলেও নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
দরকার। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় নীরবে থাকতে পারে। এ কারণে সচেতনতা ও নিয়মিত
পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ হঠাৎ বাড়ার কারণ
উচ্চ রক্তচাপের সব ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ রোগীর উচ্চ রক্তচাপের সুনির্দিষ্ট কারণ থাকে
না। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রোগ বা শারীরিক অবস্থার কারণে
রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। কিডনির অসুখ উচ্চ রক্তচাপের একটি কারণ হতে পারে।
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কিছু সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে। থাইরয়েড
গ্রন্থির রোগ এর একটি উদাহরণ। কিছু জন্মগত রোগের কারণেও রক্তচাপ বাড়তে পারে।
আবার গর্ভকালীন অবস্থায় কিছু নারীর রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। জীবনযাত্রার
কিছু অভ্যাসও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত ওজন বা
স্থূলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যারা নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করেন না, তাদেরও ঝুঁকি বেশি হতে পারে। ধূমপান
এবং অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাসও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। মানসিক
চাপও রক্তচাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়,
একইভাবে পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নিয়মিত সাত ঘণ্টার
কম ঘুমের সঙ্গে রক্তচাপ বৃদ্ধির সম্পর্কের কথা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা
হয়েছে।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনও রক্তচাপের ওপর
প্রভাব ফেলতে পারে। বয়স বৃদ্ধি এবং পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস থাকলেও
ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই রক্তচাপ বৃদ্ধির পেছনে শুধু একটি কারণকে দায়ী করা সব
সময় সম্ভব নয়। শারীরিক অবস্থা, জীবনযাত্রা এবং কিছু রোগের সঙ্গে সম্পর্কিত
হতে পারে। আপনাকে ঝুঁকির বিষয়গুলো সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে এবং নিয়মিত
রক্তচাপ পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।
তাৎক্ষণিকভাবে কী করবেন
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে প্রথম কাজ হলো শান্ত থাকা। অস্থির হয়ে গেলে
পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তাই কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়া
উচিত। এরপর রক্তচাপ মেপে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া দরকার।
সুস্থ কোনো ব্যক্তির হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে তাকে বিশ্রাম নিতে বলা
হয়েছে। আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে অস্থির না হয়ে
বিশ্রাম নেওয়া উচিত। কেউ কেউ মাথায় পানি বা বরফ দিয়ে সাময়িক আরাম পেতে
পারেন।
তবে এতে রক্তচাপ কমে না। একইভাবে তেঁতুলের শরবত খাওয়াকে রক্তচাপ কমানোর
কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সাময়িক স্বস্তি এবং রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণ এক বিষয় নয়। দেওয়া দ্বিতীয় তথ্যসূত্রে গভীর শ্বাস নেওয়া বা
ধ্যানের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার
এড়িয়ে চলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পরও রক্তচাপ বেশি থাকলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া
উচিত। নিজের সিদ্ধান্তে রক্তচাপ কমানোর কোনো ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না। আগে
থেকে উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা চললে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন
করতে হবে। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, ওষুধের মাত্রা নিজে থেকে
পরিবর্তন করা উচিত নয়।
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে অবহেলা করাও ঠিক নয়। বিশ্রাম নেওয়ার
পর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে
হবে। দ্রুত কিছু করে রক্তচাপ কমানোর চেষ্টা করার পরিবর্তে নিরাপদ ও
নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
কী করা উচিত নয়
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে কিছু ভুল কাজ এড়িয়ে চলা জরুরি। প্রথমত, অস্থির
হয়ে নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ খাওয়া উচিত নয়। রক্তচাপ দ্রুত কমানোর জন্য
কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে সমস্যা হতে পারে। তাই ওষুধের বিষয়ে চিকিৎসকের
নির্দেশনা অনুসরণ করা দরকার। মাথায় পানি বা বরফ দিলে কেউ সাময়িক আরাম
পেতে পারেন। কিন্তু এটিকে রক্তচাপ কমানোর চিকিৎসা মনে করা ঠিক নয়।
একইভাবে তেঁতুলের শরবত খেলেই রক্তচাপ কমে যাবে—এমন ধারণার ওপর নির্ভর করা
উচিত নয়। অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবারও এ সময় এড়িয়ে চলার কথা দেওয়া
তথ্যে বলা হয়েছে। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, দৈনন্দিন
খাদ্যতালিকায়ও সোডিয়াম কমানোর দিকে নজর দেওয়া দরকার। প্রক্রিয়াজাত
খাবারে লবণের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে।
তাই খাবার নির্বাচন করার সময় সচেতন থাকা গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ বেড়ে
গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে আগে থেকে চলমান ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন
করা উচিত নয়। কোনো দিন ওষুধ খেতে ভুলে গেলে কীভাবে তা গ্রহণ করতে হবে,
সে ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের দেওয়া নিয়ম অনুসরণ করা ভালো। শুধু লক্ষণ না
থাকায় রক্তচাপকে অবহেলা করাও উচিত নয়। উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো
উপসর্গ ছাড়াই থাকতে পারে।
তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা প্রয়োজন। হঠাৎ রক্তচাপ বাড়লে ঘরোয়া
কোনো পদ্ধতিকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বিশ্রাম নেওয়া যেতে
পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। কিন্তু রক্তচাপ বেশি থাকলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যান্ত জরুরী। নিজের সিদ্ধান্তে দ্রুত
রক্তচাপ না কমানোর চেষ্টা না করাটাই নিরাপদ। দ্রুত ডাক্তারের কাছে
যাওয়াটাই ভালো।
বিশ্রামের গুরুত্ব
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে বিশ্রাম নেওয়ার কথা দেওয়া তথ্যে বিশেষভাবে
উল্লেখ করা হয়েছে। এমন অবস্থায় অস্থির না হয়ে কিছু সময় শান্ত থাকা
দরকার। শরীরকে বিশ্রাম দেওয়া পরিস্থিতি সামলানোর প্রথম পদক্ষেপগুলোর
একটি হতে পারে। সুস্থ ব্যক্তির হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলেও বিশ্রাম
নেওয়া উচিত। আবার আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকলে হঠাৎ রক্তচাপ
বাড়ার সময়ও শান্ত থাকতে হবে। দ্রুত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা নিজের
ইচ্ছায় ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।
মানসিক চাপ রক্তচাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই চাপ কমানোর
চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, দেওয়া
তথ্যে গভীর শ্বাস নেওয়া, ধ্যান করা এবং শান্তভাবে সময় কাটানোর কথা
বলা হয়েছে। নিজের পছন্দের কাজে কিছু সময় দেওয়াও মানসিক চাপ কমাতে
সহায়ক হতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম
ঘুম রক্তচাপ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
তাই প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস রাখা দরকার। ঘুমের পরিবেশ
শান্ত ও আরামদায়ক রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্রাম নেওয়াকে
চিকিৎসার বিকল্প মনে করা উচিত নয়। বিশ্রামের পরও রক্তচাপ বেশি থাকলে
চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
মাথায় পানি বা বরফ দিয়ে সাময়িক আরাম পাওয়া গেলেও এতে রক্তচাপ কমে
না। তাই হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে শান্ত থাকা ও বিশ্রাম নেওয়া
গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরিস্থিতি
স্বাভাবিক না হলে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত।
রক্তচাপ মাপার নিয়ম
উচ্চ রক্তচাপ অনেক সময় কোনো স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই থাকতে পারে। তাই
রক্তচাপের অবস্থা জানার জন্য নিয়মিত পরিমাপ করা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু
মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরার মতো লক্ষণের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়।
প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কয়েক দিনের ব্যবধানে একাধিকবার
রক্তচাপ মাপার কথা দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে। সিস্টোলিক বা ওপরের
রক্তচাপ ১৪০ বা তার বেশি এবং ডায়াস্টোলিক বা নিচের রক্তচাপ ৯০ বা
তার বেশি পাওয়া গেলে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়।
রক্তচাপের রিডিং দুটি সংখ্যা দিয়ে প্রকাশ করা হয়। ওপরের সংখ্যাটি
সিস্টোলিক চাপ। এটি হৃদ্স্পন্দনের সময় ধমনীর চাপ নির্দেশ করে।
নিচের সংখ্যাটি ডায়াস্টোলিক চাপ। হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়,
এটি হৃদ্স্পন্দনের মধ্যবর্তী সময়ে ধমনীর চাপকে বোঝায়। যাদের উচ্চ
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তাদের প্রতি ছয় মাস অন্তর রক্তচাপ
পরিমাপ করার কথা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
আর যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই, তাদের এক থেকে দেড় মাস অন্তর
অথবা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা করা উচিত। উচ্চ রক্তচাপ না
থাকলেও নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা দরকার। ১৮ বছর বা তার বেশি
বয়সীদের এক থেকে দুই বছর পরপর রক্তচাপ পরিমাপ করার কথা উল্লেখ করা
হয়েছে। নিয়মিত রক্তচাপ মাপলে পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
তবে একটি মাত্র রিডিং দেখে নিজে থেকে ওষুধ শুরু করা ঠিক নয়। রক্তচাপ
বারবার বেশি পাওয়া গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার কিছু অভ্যাস
পরিবর্তন করা গুরুত্বপূর্ণ। ওজন বেশি থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করতে
হবে। অতিরিক্ত ওজন উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। খাবারে
অতিরিক্ত লবণ কমাতে হবে। বিশেষ করে পাতে আলাদা করে লবণ খাওয়ার
অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত। খাবারের প্যাকেটের লেবেল দেখে কম
সোডিয়ামযুক্ত খাবার বেছে নেওয়ার কথাও দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে।
প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াও উপকারী অভ্যাস। খাদ্যতালিকায়
ফল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার রাখা
যেতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার পাশাপাশি কী পরিমাণে
এবং কখন খাওয়া হচ্ছে, সেদিকেও নজর রাখা দরকার। নিয়মিত শারীরিক
পরিশ্রম গুরুত্বপূর্ণ। দিনে অন্তত ৩০ মিনিট জোরে হাঁটার কথা
উল্লেখ করা হয়েছে।
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন এভাবে হাঁটার অভ্যাস রাখা যেতে পারে। হঠাৎ
রক্তচাপ বেড়ে গেলে করণীয়, হাঁটা, সাইকেল চালানো এবং অন্যান্য
উপযুক্ত শারীরিক কার্যকলাপও করা যায়। ধূমপান ছেড়ে দেওয়া উচিত।
অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণও এড়িয়ে চলতে হবে। কিছু মানুষের
ক্ষেত্রে ক্যাফেইন সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
তাই এর প্রভাবের দিকেও নজর রাখা দরকার। মানসিক চাপ কমানো এবং
পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন নিয়মিত ঘুমের সময় বজায়
রাখা ভালো। সব মিলিয়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিয়মিত শারীরিক
পরিশ্রম, কম লবণ, ধূমপান থেকে দূরে থাকা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, তা
জানা গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ বেশি থাকলে শুধু ঘরোয়া পদ্ধতির ওপর
নির্ভর করা উচিত নয়। বিশ্রাম নেওয়ার পরও রক্তচাপ বেশি থাকলে
চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে। হঠাৎ মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বুক
ধড়ফড়, বমি ভাব বা অস্বস্তি দেখা দিলে রক্তচাপ মেপে দেখা
উচিত।
রক্তচাপ বেশি পাওয়া গেলে পরিস্থিতি উপেক্ষা করা ঠিক নয়। বিশেষ
করে রক্তচাপ বারবার বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন।
যাদের আগে থেকেই উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, তাদের নিয়মিত চিকিৎসকের
নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না এলে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। ওষুধ
লাগবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত চিকিৎসক নেবেন।
নিজে থেকে রক্তচাপ কমানোর ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। আগে থেকে
ওষুধ চললেও নিজের সিদ্ধান্তে তার মাত্রা বাড়ানো বা কমানো ঠিক
নয়। ওষুধ নিয়মিত নির্দিষ্ট সময়ে গ্রহণ করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ
দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক এবং কিডনির
সমস্যার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
গুরুত্বপূর্ণ।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে নির্দিষ্ট সময় পর পরীক্ষা করা উচিত।
নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আরও ঘন ঘন
পরীক্ষা করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হঠাৎ রক্তচাপ
বেড়ে গেলে অস্থির না হয়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রয়োজনীয়
চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া। ঘরোয়া কোনো পদ্ধতিকে চিকিৎসার বিকল্প
মনে করা উচিত নয়।
লেখকের মন্তব্য
হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে অনেকেই ভয় পেয়ে যান। আবার কেউ দ্রুত
রক্তচাপ কমানোর জন্য নিজের ইচ্ছায় বিভিন্ন পদ্ধতি অনুসরণ
করেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতিতে শান্ত থাকা এবং সঠিকভাবে
ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে বিশ্রাম নিতে হবে। এরপর
রক্তচাপ মেপে বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া উচিত।
দৈনন্দিন জীবনযাত্রার দিকেও নজর রাখা দরকার। অতিরিক্ত লবণ
কমানো, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম করা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং
ধূমপান থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক চাপ কমানো এবং
পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাসও বজায় রাখা উচিত।

.webp)
রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url