উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবার নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও বজায় রাখা দরকার। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ, চর্বি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ-রক্তচাপের-রোগীর-কী-কী-খাওয়া-উচিত-নয়
কাঁচা লবণ এবং বেশি লবণ দিয়ে রান্না করা খাবার এড়িয়ে চলা উচিত সঠিক খাবার নির্বাচন এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সূচিপত্র

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কী কী খাওয়া উচিত নয়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের খাবার নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর করলেই যথেষ্ট নয়। খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর রাখা দরকার। কিছু খাবারে লবণ, সোডিয়াম, চর্বি বা চিনি বেশি থাকে। তাই এসব খাবার সীমিত করা বা এড়িয়ে চলা উচিত। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে। 

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর প্রথমেই অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বন্ধ করা উচিত। কাঁচা লবণ একেবারেই না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রান্নায়ও লবণের পরিমাণ কম রাখতে হবে। কারণ অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য ভালো নয়। শুধু খাবারের সঙ্গে আলাদা লবণ খেলেই সমস্যা হয় না। বিভিন্ন সংরক্ষিত ও প্যাকেটজাত খাবারেও লবণ থাকতে পারে। তাই খাবার বেছে নেওয়ার সময় এ বিষয়টি মনে রাখা দরকার। আচারও এড়িয়ে চলা উচিত। 

আচার দীর্ঘ সময় সংরক্ষণের জন্য সাধারণত লবণ ব্যবহার করা হয়। একই কারণে টিনজাত খাবারেও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। টিনজাত স্যুপ, ঝোল ও অন্যান্য সংরক্ষিত খাবার নিয়মিত না খাওয়াই ভালো। প্যাকেটজাত খাবারও খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াজাত মাংসও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য ভালো পছন্দ নয়। এসব খাবারে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তাই ডেলি মাংসসহ বিভিন্ন ধরনের প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলা উচিত। 

একই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারও সীমিত রাখতে হবে। গরু ও খাসির মাংস, মাখন, কেক এবং পেস্ট্রির মতো খাবারে চর্বি বেশি থাকতে পারে। মুরগির চামড়াতেও চর্বির পরিমাণ বেশি। তাই এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার থেকেও দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত চিনি ও চিনিযুক্ত খাবারও এড়িয়ে চলা দরকার। 

বেশি চিনি খাওয়া ওজন বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। অতিরিক্ত ওজনের মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বেশি দেখা যায়। তাই চিনি বেশি রয়েছে এমন খাবার সীমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, কফি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কফি খাওয়ার বিষয়ে সচেতন থাকা দরকার। অ্যালকোহলও রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একসঙ্গে বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করলে রক্তচাপ সাময়িকভাবে বাড়তে পারে।

এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর খাদ্যাভ্যাসে আরও কিছু পরিবর্তন জরুরি। ভাতের পরিমাণ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত চর্বি, প্যাকেটজাত খাবার এবং বেশি লবণযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। ধূমপান ও মদ্যপানও ত্যাগ করা উচিত। 

তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য শুধু একটি খাবার বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। প্রতিদিনের পুরো খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত লবণ, আচার, টিনজাত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত মাংস এড়িয়ে চলা দরকার। চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবারও সীমিত রাখতে হবে। কফি ও অ্যালকোহলের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি। স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের দৈনন্দিন অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।

লবণ কেন কম খাবেন

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর খাবারে লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের জন্য ভালো নয়। তাই প্রতিদিনের খাবারে কতটা লবণ খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা দরকার। শুধু পাতে আলাদা করে লবণ খাওয়া বন্ধ করলেই হবে না। রান্নার সময়ও লবণের পরিমাণ কম রাখতে হবে। কাঁচা লবণ একেবারেই না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনেকেই খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য পাতে অতিরিক্ত লবণ নেন। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই অভ্যাস বাদ দেওয়া উচিত। 

রান্না করা খাবারেও বেশি লবণ ব্যবহার করা ঠিক নয়। তাই শুরু থেকেই কম লবণ দিয়ে খাবার তৈরির অভ্যাস করা ভালো। লবণ শুধু ঘরের রান্নায় থাকে না। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, অনেক প্যাকেটজাত ও সংরক্ষিত খাবারেও সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। তাই এসব খাবার খাওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। আচার দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য লবণ ব্যবহার করা হয়। 

এ কারণে উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের আচার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিনজাত খাবারেও লবণ থাকতে পারে। বিভিন্ন টিনজাত খাবার, স্যুপ, ঝোল ও স্টকে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত মাংসেও সোডিয়াম বেশি থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শুধু লবণের পাত্র থেকে নেওয়া লবণ কমানো যথেষ্ট নয়। 

খাবারের উৎসের দিকেও নজর দিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য কম লবণযুক্ত খাবার নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাবারে অতিরিক্ত লবণ যোগ না করা উচিত। আচার, টিনজাত খাবার ও বেশি সোডিয়ামযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারও এড়িয়ে চলা ভালো। এভাবে খাদ্যাভ্যাসে লবণের পরিমাণ কমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা যায়।

আচার ও টিনজাত খাবারের ক্ষতি

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে আচার ও টিনজাত খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। এসব খাবার দীর্ঘ সময় ভালো রাখার জন্য অনেক ক্ষেত্রে লবণ ব্যবহার করা হয়। ফলে খাবারে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার ভালো পছন্দ নয়। আচার অনেকের পছন্দের খাবার। সাধারণ খাবারের সঙ্গে অল্প পরিমাণে আচার খাওয়ার অভ্যাসও অনেকের রয়েছে। 

কিন্তু আচার সংরক্ষণের জন্য লবণ ব্যবহার করা হয়। তাই নিয়মিত আচার খেলে খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাদ্যতালিকা থেকে আচার বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। টিনজাত খাবারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা দরকার। অনেক টিনজাত খাবার লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়। এতে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। 

উচ্চ রক্তচাপের রোগে কি কি খাওয়া উচিত নয়, টিনজাত স্যুপ, ঝোল এবং স্টকের মতো খাবারও উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য ভালো নাও হতে পারে। তাই এসব খাবার বেছে নেওয়ার আগে সচেতন হওয়া দরকার। প্যাকেটজাত খাবারও এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ সংরক্ষিত ও প্রক্রিয়াজাত খাবারের মাধ্যমে অজান্তেই বেশিলবণগ্রহণ হতে পারে। 

অনেক সময় খাবারে আলাদা করে লবণ যোগ না করলেও এসব খাবার থেকে সোডিয়াম শরীরে প্রবেশ করে।তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে শুধু কাঁচা লবণ বাদ দিলেই যথেষ্ট নয়। আচার, টিনজাত খাবার এবং বেশি লবণযুক্ত সংরক্ষিত খাবারের দিকেও নজর রাখতে হবে। এসব খাবারের পরিবর্তে সহজ ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

প্রক্রিয়াজাত মাংস কেন এড়াবেন

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর খাবারে প্রক্রিয়াজাত মাংস না রাখাই ভালো। দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার নিয়মিত খাওয়া উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য উপযুক্ত নয়। মাংস প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ করার সময় বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে। এর মধ্যে লবণও থাকে। 

ফলে সাধারণ তাজা খাবারের তুলনায় কিছু প্রক্রিয়াজাত মাংসে সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ এড়িয়ে চলা দরকার। ডেলি মাংসের মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্যাকেটজাত ও সংরক্ষিত খাবারও এড়িয়ে চলার পরামর্শ রয়েছে। তাই খাবার নির্বাচনের সময় শুধু স্বাদের দিকে নজর দিলে হবে না। 

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, খাবারটি কীভাবে তৈরি বা সংরক্ষণ করা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের চর্বিযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। গরু ও খাসির মাংসের মতো চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত রাখা উচিত। মুরগির চামড়াতেও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই মাংস নির্বাচন করার সময় প্রক্রিয়াজাত ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। 

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রক্রিয়াজাত মাংস, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস এবং বেশি সোডিয়ামযুক্ত খাবার নিয়মিত না খাওয়াই ভালো। সঠিক খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

চর্বিযুক্ত খাবার কেন ক্ষতিকর

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিনের খাবারে বেশি চর্বি থাকা ভালো নয়। তাই কোন খাবারে চর্বির পরিমাণ বেশি, সেটি বুঝে খাদ্যতালিকা তৈরি করা দরকার। গরু ও খাসির মাংস চর্বিযুক্ত খাবারের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব খাবার নিয়মিত বেশি পরিমাণে না খাওয়াই ভালো। 

মাখনেও চর্বি থাকে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের মাখন খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা উচিত। মুরগির মাংসের তুলনায় মুরগির চামড়ায় চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। তাই মুরগির চামড়া এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে কেক ও পেস্ট্রির মতো খাবারেও চর্বি থাকতে পারে। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়া স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ নয়।
উচ্চ-রক্তচাপের-রোগীর-কী-কী-খাওয়া-উচিত-নয়
অতিরিক্ত কোলেস্টেরলযুক্ত খাবারও না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তাই খাবার নির্বাচনের সময় শুধু মিষ্টি বা লবণের দিকে নজর দিলে হবে না। খাবারে থাকা চর্বির দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করা উচিত। 

গরু ও খাসির মাংস, মাখন, মুরগির চামড়া, কেক এবং পেস্ট্রির মতো খাবার সীমিত রাখা ভালো। খাবারের ধরন সম্পর্কে সচেতন হলে অস্বাস্থ্যকর খাবার কমানো সহজ হয়। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত চর্বি ও কোলেস্টেরলযুক্ত খাবার এড়িয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত।

চিনি ও মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রভাব

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। বেশি চিনি শুধু একটি স্বাস্থ্যসমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। দেওয়া তথ্যে অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার সঙ্গে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এটি রক্তচাপের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। চিনি বেশি রয়েছে এমন খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত নয়। মিষ্টিজাতীয় খাবারও সীমিত রাখা দরকার। 

অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে শরীরের ওজন বেড়ে যেতে পারে। আবার অতিরিক্ত ওজনের মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ বেশি দেখা যায় বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। কেক ও পেস্ট্রির মতো খাবারেও সতর্কতা দরকার। এসব খাবারে চিনি থাকার পাশাপাশি চর্বিও থাকতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, তাই নিয়মিত এ ধরনের খাবার খাওয়া ভালো নয়। 

উচ্চ রক্তচাপের রোগীর খাদ্যতালিকায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ যতটা সম্ভব কম রাখা উচিত। চিনি মেশানো খাবারের পাশাপাশি মিষ্টি পানীয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা দরকার। প্রতিদিনের খাবার নির্বাচনের সময় অতিরিক্ত চিনি আছে এমন খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। শুধু খাবারের স্বাদের জন্য বেশি চিনি গ্রহণ করা ঠিক নয়। 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারের প্রতিটি অংশ গুরুত্বপূর্ণ। লবণ ও চর্বির পাশাপাশি চিনির পরিমাণও বিবেচনা করতে হবে। তাই অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টিজাতীয় খাবার, কেক ও পেস্ট্রির মতো খাবার সীমিত রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন করলে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস আরও নিয়ন্ত্রিত রাখা সহজ হয়।

কফি ও ক্যাফেইনে সতর্কতা

উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কফি ও ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা দরকার। দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, কফি সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত কফি পান করেন এমন ব্যক্তিদের এ বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। কফি অনেক মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। কেউ সকালে কফি পান করেন। আবার কেউ দিনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কফি খান। 

কিন্তু উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এই অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া দরকার। কারণ ক্যাফেইন রক্তচাপের ওপর সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাবারের পাশাপাশি পানীয় নির্বাচনও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু অতিরিক্ত লবণ বা চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চললেই হবে না। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, নিয়মিত কী ধরনের পানীয় গ্রহণ করা হচ্ছে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। 

দেওয়া তথ্যে কফি বা ক্যাফেইনে আসক্ত ব্যক্তিদের এই পানীয় এড়িয়ে চলার কথা বলা হয়েছে। তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কফি গ্রহণের বিষয়ে সতর্ক থাকা ভালো। বিশেষ করে নিজের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা দরকার। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে শুধু খাবারের পরিবর্তন নয়।

পানীয়ের ক্ষেত্রেও সঠিক নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের কফি ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়ের বিষয়ে সচেতন থাকা উচিত। নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে অপ্রয়োজনীয় বা অনুপযুক্ত পানীয় কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা ভালো।

অ্যালকোহল কেন এড়িয়ে চলবেন

উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অ্যালকোহল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, একসঙ্গে বেশি অ্যালকোহল গ্রহণ করলে রক্তচাপ সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অ্যালকোহলের বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। অ্যালকোহল শুধু রক্তচাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এমন নয়। 

এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ওষুধের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য অ্যালকোহল গ্রহণ ভালো অভ্যাস নয়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অংশ হিসেবে মদ্যপান ত্যাগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, একই সঙ্গে ধূমপানও বাদ দিতে বলা হয়েছে। 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি এসব অভ্যাস পরিবর্তন করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মানুষ শুধু খাবারের দিকে নজর দেন। কিন্তু কী ধরনের পানীয় গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত লবণ, চর্বি ও চিনিযুক্ত খাবারের পাশাপাশি অ্যালকোহলও এড়িয়ে চলা উচিত। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর দৈনন্দিন অভ্যাস যতটা সম্ভব স্বাস্থ্যকর হওয়া দরকার। 

অ্যালকোহল গ্রহণের পরিবর্তে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার নির্বাচন এবং ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে দূরে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই উচ্চ রক্তচাপ থাকলে অ্যালকোহলকে দৈনন্দিন জীবন থেকে বাদ দেওয়ার পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। একই সঙ্গে ধূমপান থেকেও দূরে থাকা দরকার। এভাবে খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাসে সচেতন পরিবর্তন আনা যায়।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব অনেক। শুধু একটি বা দুটি খাবার বাদ দিলেই পুরো খাদ্যাভ্যাস স্বাস্থ্যকর হয়ে যায় না। প্রতিদিন কী খাওয়া হচ্ছে এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলা হচ্ছে, দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। দেওয়া তথ্যে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর শাকসবজি রাখার কথা বলা হয়েছে। পালংশাক, ফুলকপি, শসা, লাউ, মটরশুঁটি, কলমি শাক, বাঁধাকপি, টমেটো, কুমড়া ও বেগুনের মতো সবজি খাওয়া যেতে পারে। 

শাকসবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পটাশিয়ামযুক্ত খাবারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কলা, ডাবের পানি ও টমেটো এর উদাহরণ। প্রতিদিন এক কাপ দুধও খাওয়া যেতে পারে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীর কি কি খাওয়া উচিত নয়, তৈলাক্ত মাছের পরিবর্তে ছোট মাছ বেছে নেওয়ার পরামর্শ রয়েছে। ফলের মধ্যেও বিভিন্ন বিকল্প দেওয়া হয়েছে। 

আমলকি, নাশপাতি, পেঁপে, বেদানা ও পেয়ারার মধ্যে যেকোনো এক ধরনের ফল প্রতিদিন খাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে নিয়মিত ব্যায়াম এবং সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে কাঁচা লবণ, অতিরিক্ত চর্বি, প্যাকেটজাত খাবার এবং বেশি চিনি এড়িয়ে চলা উচিত। 
উচ্চ-রক্তচাপের-রোগীর-কী-কী-খাওয়া-উচিত-নয়
ভাতের পরিমাণও কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ করাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস মানে শুধু কম খাওয়া নয়। সঠিক খাবার নির্বাচন করাই মূল বিষয়। প্রতিদিন শাকসবজি, উপযুক্ত ফল এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়া উচিত। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অভ্যাস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করা দরকার।

লেখকের মন্তব্য

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিনের খাবার নির্বাচনের গুরুত্ব অনেক। শুধু ওষুধ গ্রহণ করলেই সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কী খাওয়া হচ্ছে এবং কোন খাবার এড়িয়ে চলা হচ্ছে, সেদিকেও সচেতন থাকা দরকার। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দৈনন্দিন জীবনযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অতিরিক্ত লবণ উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য ভালো নয়। তাই কাঁচা লবণ বাদ দেওয়া উচিত। 

রান্নাতেও লবণের পরিমাণ কম রাখতে হবে। খাবারের পরিমাণ ও ধরন দুটির দিকেই নজর রাখা দরকার। সবশেষে বলা যায়, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতন খাদ্য নির্বাচন জরুরি। অস্বাস্থ্যকর খাবার কমিয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। নিয়মিত সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও পরিকল্পিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখা সহজ হয়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url