উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হচ্ছে সচেতন জীবন যাপন স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল একটা স্বাস্থ্য পদ্ধতি এ পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ওষুধের উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল না হয়ে আপনাকে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল করে তোলা ।
আমাদের শরীরে প্রতিদিন একটা স্বাভাবিক রক্তের চাপ আছে। এই স্বাভাবিক চাপটা যদি অতিরিক্ত আকারে দেখা দেয় তখন আমরা এটাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরে নি। এই রোগটিকে আমরা নীরব ঘাতক রোগ বলতে পারি। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় নিয়ে নিম্নে কিছু ধারনা দেওয়া হলো।
সূচিপত্র:-
- উচ্চ রক্তচাপ কি
- উচ্চ রক্তচাপ কি কারনে হয়
- প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর পদ্ধতি
- লবণ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা
- শাক-সবজি ও ফলমূলের প্রয়োজনীয়তা
-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তেঁতুলের ভূমিকা
-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লেবুর প্রয়োজনীয়তা
-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রসুনের গুরুত্ব
- এই রোগ নিরাময়ের জন্য নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা
-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানসিক চাপমুক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা
-
এই রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধূমপান ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা
- যেগুলো খাবার এড়িয়ে চলতে হবে
- উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে পানিপানের গুরুত্ব
- নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা
- লেখকের মন্তব্য
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায়:-
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় নিয়ে আমাদের মাঝে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত
জরুরি। এ রোগটি এখন শুধুমাত্র যে বয়স্কদের মাঝে দেখা দেয় তা কিন্তু না।
বর্তমানে তরুণদের মাঝেও ব্যাপক আকারে এটি দেখা দিচ্ছে । প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে
মানুষের কর্মের গতি যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি মানুষের
ব্যস্ততাও বেড়ে গিয়েছে। মানুষ নিজের শরীরের প্রতি যে পরিমাণ
যত্নশীল হওয়া দরকার। কর্মব্যস্ততার কারণে মানুষ সেটুকুও করতে পারে না ।
অনেকে বুঝতে পারে না, তার শরীরে রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছে।
এই সমস্যাটিকে আমরা যদি দীর্ঘদিন যাবত নিয়ন্ত্রণ না করি তাহলে আমাদের কিডনিতে
সমস্যা দেখা দিতে পারে, স্ট্রোক হতে পারে এবং চোখের সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাসে স্বাভাবিক চলাফেরায় শরীরের কোন ক্ষতি হয় না। এমন ধরনের
চলাফেরাকে প্রাকৃতিক উপায় বলা যেতে পারে । যেমন মানসিক অস্থিরতা দূর করা।
হাটা এবং ব্যায়াম করা। ধূমপান ত্যাগ করা। স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস মেনে চলা ।এই
নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার শরীর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকবে, হাট কিডনি ভালো
থাকবে এবং শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ খুব ভালো থাকবে।
প্রাত্যহিক জীবনে চলার ক্ষেত্রেও নিজেকে স্বাচ্ছন্দ বোধ মনে হবে। অবশ্যই
আপনার প্রাত্যহিক জীবনে খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। ফাস্টফুড
প্রক্রিয়াজাত খাবার গুলো একেবারে খাওয়া যাবে না যতদূর সম্ভব এগুলোকে এড়িয়ে
যেতে হবে। ক্ষুধা লাগলে এই খাবারের বিকল্প অন্য কিছু খেতে হবে। শাকসবজি, বাদাম,
আঁশযুক্ত খাবার, ফলমূল আমাদের খাদ্য তালিকায় রাখতে হবে এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ
খাবার খেতে হবে । ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণ সচেতন হতে হবে
এবং অতিরিক্ত তেল,ও চর্ব জাতীয় খাবার পুরোদমে এড়িয়ে চলতে হবে।
অবশ্যই আপনাকে প্রাপ্তহিক জীবনে খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। অতিরিক্ত
লবণ খাওয়া যাবে না। পটাশিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে যেমন ডাল, লাউ, পালং শাক
ইত্যাদি। পানি পান করার ক্ষেত্রে আপনাকে যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব দিতে হবে।
শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বা হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখার জন্য আপনাকে
পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমাদের যে
প্রাকৃতিক খাবার গুলো রয়েছে সেগুলো নিয়মিতভাবে খেতে হবে যেমন রসুন টক দই
করলা লেবু পানি ইত্যাদি।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর ব্যাপারে আপনাকে অবহেলা বা অলসতা করলে হবে না।
নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। নিয়মিতভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে
আপনি শুধু একটি রোগ ব্যাপারে উপকৃত হবেন তা কিন্তু না। আপনার মধ্যে লুকায়িত অন্য
কোন রোগ থাকলে সেগুলো ধরতে পারবেন এবং সে অনুপাতে চিকিৎসা করতে পারবেন ।এসব
ক্ষেত্রে পরিবারের সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আবার অবসর সময়ে সবাই একত্রিত হয়ে
রোগব্যাধি নিয়ে আলোচনা করতে হবে । তাহলে এগুলো সমস্যা নিয়ে সবার মধ্যে সচেতনতা
বৃদ্ধি হবে।
পরিবারের মধ্যে এ ধরনের গঠনমূলক কিছু তৈরি করা মানে পুরো পরিবারকে
নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করা। সঠিক খাদ্য অভ্যাস নিয়ম তান্ত্রিক চলাফেরা এগুলো
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমাদের মধ্যে যেগুলো ছোট
ছোট ভুল ত্রুটি পরিপূর্ণ হয়ে আছে, তা একদিনে সংশোধন করা সম্ভব নয়। ধীরে ধীরে
এগুলো ছোট ছোট ভুল ত্রুটি সংশোধন করব এবং একসময় বড় ধরনের সফলতা দেখতে পাবো। এখন
থেকে আমরা নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাব সচেতন ভাবে চলাফেরা করবো সুস্থ
সুন্দর জীবন উপভোগ করব।
উচ্চ রক্তচাপ কি:-
উচ্চ রক্তচাপ এটি একটি রোগ। যখন কোন ব্যক্তির রক্তের চাপ সবসময় স্বাভাবিকের
চেয়ে বেশি থাকে। তখন সেটাকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে ধরে নেওয়া হয়। একজন সুস্থ
লোকের রক্তের চাপ ১২০/৮০ মিলিমিটার মার্কারি। আপনার শরীরে বারবার যদি ১৪০/৯০
মিলিমিটার মার্কারি আসে তাহলে আপনাকে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। নিরব
ঘাতক হিসেবে এই রোগটিকে চিহ্নিত করা যেতে পারে।
দীর্ঘদিন এই রোগটি আপনার শরীরে নীরবভাবে অবস্থান করে। কিন্তু কোন লক্ষণ
পাওয়া যায় না। অতি ধীর গতিতে আপনার শরীরের কিডনি ,হৃদযন্ত্র এবং
মস্তিষ্কে উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। সেজন্য নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা আপনার
শরীরের জন্য মঙ্গল। এই রোগের কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষণ নেই। একমাত্র রক্ত পরীক্ষার
মাধ্যমেই আমাদেরকে এই রোগ নির্ণয় করতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ কি কারনে হয়:-
উচ্চ রক্তচাপ একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা , খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে লবণ
গ্রহণ করা, অতিরিক্ত মদ পান করা, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি করা ,অনিয়ন্ত্রিত জীবন
যাপন এবং ফাস্ট ফুড ও প্যাকেট জাতীয় খাবার খাওয়া। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেলও চর্ব
জাতীয় খাবার খাওয়া । শারীরিকপরিশ্রম না করলেও উচ্চ রক্তচাপ আপনার শরীরের বাসা
বাঁধতে পারে। আপনার শরীরের অতিরিক্ত ওজনও উচ্চ রক্তচাপের জন্য দায়ী। পর্যাপ্ত
শাকসবজি ফলমূল না খাওয়া। রাতে পর্যন্ত ঘুম না হওয়া। বয়স ৬০ থেকে ৬৫ উর্ধে
থাকা। উচ্চ রক্তচাপ সাধারণ সমস্যা হলেও এটিকে এড়িয়ে চলে যাবে না
প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর পদ্ধতি:-
উচ্চ রক্তচাপ একটি জটিল কিন্তু সাধারণ রোগ। তবে এই রোগ ব্যাপারে অবশ্যই আপনাকে
গুরুত্ব দিতে হবে। এই রোগ দীর্ঘদিন আপনার শরীরের অবস্থান করলে
আপনার হৃদযন্ত্রে, চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ রোগ দীর্ঘদিন আপনার
শরীরে নিরব আকারে অবস্থান করতে পারে, যার কারণে এই রোগ টিকে আমরা এক ধরনের
ঘাতক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারি। যদি আপনি প্রকৃতির নিয়ম নীতি মেনে চলতে
পারেন তাহলে আপনি স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করতে পারবেন। প্রতিদিন আপনাকে ৩০
থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত হাঁটতে হবে। প্রাত্যহিক জীবনে খাবারের ক্ষেত্রে খুব
সচেতন হতে হবে। অতিরিক্ত মসলা এবং তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে নিয়মিত ভাবে সাইকেলিং করতে পারেন,
দৌড়াতে পারেন, ব্যায়াম করতে পারেন, সাঁতার কাটতে পারেন, এগুলো প্রাকৃতিক
নিয়ম নীতি মেনে চললে আপনি অনেক ভালো থাকতে পারবেন। প্রকৃতি থেকে উৎপন্ন কিছু
খাবার আছে আপনি যদি নিয়মিত সে খাবারগুলো খান তাহলে আপনি অবশ্যই ভালো থাকবেন।
মনে ভুলে গেলে হবে না, সুস্থতার জন্য অবশ্যই আপনাকে নিয়মিত সময় ধরে
নিরবচ্ছিন্ন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুম দিতে হবে। শরীর সুস্থতার ক্ষেত্রে আপনার
শরীরের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণের ঘুম অবশ্যই দরকার।
লবণ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা:-
মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যকে স্বাস্থ্যোপযোগী করে তুলতে লবণের
ব্যবহার অপরিহার্য কিন্তু লবণকে আমাদের পরিমিত ব্যবহার করতে হবে ।
অতিরিক্ত লবণের ব্যবহারের ফলে উচ্চ রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। তাই রোগটি নীরব ঘাতক
রোগ হিসাবে আমাদের কাছে পরিচিত এবং আমাদের শরীরের অনেক ক্ষতি করতে পারে। কিডনির
সমস্যা হতে পারে, হৃদপিন্ডের সমস্যা হতে পারে, চোখের সমস্যা স্ট্রোকের ক্ষেত্রে
বিশেষ ভূমিকা রাখে।
আমাদের শরীরের জন্য কতটুকু লবণ দরকার সেটা আমাদেরকে জানতে হবে এবং
সে অনুপাতে ব্যবহার করতে হবে। পরিবারের সদস্যদেরকে লবণ কম
খাওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে তুলুন। লবণ কম খেলে অনেক শারীরিক জটিল
সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন। তাহলে আজ থেকে স্লোগান তুলুন প্রত্যেকে
লবণ কম খাওয়ার অভ্যাস করুন। সুস্থ সুন্দর জীবন গড়ুন। লবণ খাওয়ার সতর্কতা
অবশ্যই আপনাকে মেনে চলতে হবে তবে আপনি সুস্থতার আলো দেখতে পাবেন, তাছাড়া
নয়।
শাকসবজি ও ফলমূলের প্রয়োজনীয়তা:-
শাকসবজি ও ফলমূলের পুষ্টি উপাদান ছাড়া মানুষের শরীরে সুস্থ করা যায় না তাই এই
খাবারগুলো শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন সরবরাহ করে থাকে আয় করে থাকে আপনার
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় এবং ওজন শক্তি ভালো হবে অনেক সময় নানান রোগের
রোগী থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায় অনেক ধরনের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে বিশেষ
ভূমিকা এগুলোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার শরীরের জীবাণু
ধ্বংস করবেএবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে তাই আপনাদের পরিবারকে
সুস্থ সুন্দর করে রাখার জন্য বেশি বেশি শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে
তুলুন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তেঁতুলের ভূমিকা:-
তেঁতুলের যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম আছে। এই পটাশিয়াম রক্ত নিয়ন্ত্রণ করতে
যথেষ্ট পরিমাণ সহায়তা করে । এই পটাশিয়াম আপনার শরীরের সোডিয়ামের প্রভাব
কমিয়ে রক্তনালীকে প্রসারণ করতে সাহায্য সাহায্য করে এবং এতে রক্ত
চাপ হ্রাস পায়। তেঁতুলে পলিফেনল নামক উপাদান আছে। এই উপাদান
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে্ তেঁতুলের দ্রবণীয় ফাইবার রক্তের
খালাপ কোলেস্টেরল এল ডি এল কমাতে সাহায্য করে এটি হৃদরোগ ও উচ্চ
রক্তচাপের সঙ্গে যুক্ত ।
উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে তেঁতুলকে গ্রহণ করবেন না ।তেতুল পানি
সাধারণত নিরাপদ কিন্তু আপনি যখন চরমভাবে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যাবেন তখন
তেতুলকে চিকিৎসা হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য যিনারা
ওষুধ খেয়েছেন তিনারা তেঁতুল পানি সাবধানের সহিত খেতে পারেন সামান্য
পরিমাণে ।এটা মানব জীবনের জন্য কতটুকু উপকার তাও এখনো ক্লিনিক্যাল ভাবে
পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে মাঝে
মাঝে আপনি তেতুল পানি খেতে পারেন।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে লেবুর প্রয়োজনীয়তা:-
উচ্চ রক্তচাপ একটি সাধারন কিন্তু গুরুতর সমস্যা। প্রাত্যহিক জীবনে আমাদের
অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করা এবং অতিরিক্ত মসলা তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া,
নিয়মিত ব্যায়াম না করা, পর্যাপ্ত পরিমাণ না ঘুমানো, মানসিক চাপ ও স্থূলতা,
এসব মিলিয়ে আমাদের শরীরে উচ্চ রক্তচাপ তৈরি হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী
ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক কিছু খাবার আমাদের এই রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যিনারা খাবারে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম গ্রহণ
করেন না, তারা সহজে নানা রকমের হৃদরোগে আক্রান্ত হন।
লেবুর রসে যথেষ্ট পরিমাণ পটাশিয়াম রয়েছে যা হাইপারটেনশন কমাতে সাহায্য করে।
রক্ত পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে লেবুর রস যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রাখে। লেবুর রস
শরীরের ওজন কমাতেও বিশেষ ভূমিকা রাখে। শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে
বিশেষভাবে কাজ করে। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে লেবুর গুরুত্ব
অপরিসীম। প্রাত্যহিক জীবনে আপনি লেবু স্বাভাবিকভাবে খেতে থাকবেন। কিন্তু
যখনই আপনার শরীরে রোগ দেখা দেবে তখনই আপনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায় হিসেবে লেবুর অসাস অসাধারণ কার্যকর
ভূমিকা রয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রসুনের গুরুত্ব:-
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক রোগ। আমরা অনেকে বুঝতে পারি না এই
ঘাতক রোগটি আমাদের শরীরে কখন থেকে বাসা বাধতে শুরু করেছে। এই রোগের
ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষণ নেই, তারপরও প্রাথমিক ভাবে আমরা কিছু লক্ষণকে
ধরে নিতে পারি। যেমন হঠাৎ মাথা ঘোরা, ঘাড় ব্যথা করা, মাথা ধরা, বুক ধরফর করা।
এগুলো সমস্যাকে আমরা অনেক সময় এড়িয়ে যাই। কিন্তু ছোট ছোট সতর্কতা বড়
সমস্যার আগাম সর্তকতা হিসাবে ধরে নিতে পারি। এই রোগটিকে নির্ণয় করার জন্য
একমাত্র রক্ত পরীক্ষাটাই সবথেকে ভালো হবে। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত
হতে পারবেন এই রোগটি আপনার শরীরের বাসা বেধেছে কিনা।
রসুনে অ্যালিসিন নামের একটি উপাদান রয়েছে। এই উপাদানের কারণে রক্ত
স্বাভাবিক ভাবে চলাচল করতে পারে এবং চাপও কমে আসে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে
নিয়মিত রসুন খেলে উচ্চ রক্তচাপের ক্ষেত্রে হালকা ওষুধের মতন কাজ করে । অন্য
আরেকটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে যিনাদের মধ্যে নিয়মিত
রসুন সেবন ছিল উনাদের সিস্টোলিক এবং ডায়াস্টোলিক দুটোর মানই ধীরে
ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। অতএব উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক
উপায় হিসেবে রসুনকে আমরা কাছে রাখতে পারি।
এই রোগ নিরাময়ের জন্য নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা:-
উচ্চ রক্তচাপ সাধারণ একটি রোগ হলেও এটিকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। এই
সমস্যার মাধ্যমে আপনার শরীরে বড় বড় রোগ বাসা বাঁধতে পারে এবং অনেক জটিলতা
তৈরি করতে পার। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া
বিঘ্ন ঘটতে পারে পাশাপাশি কিডনি এবং স্ট্রোক ও চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক খাবার এবং নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম এই রোগ
নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রাখতে পারে। নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম
এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। আমরা যখন হাঁটি বা ব্যায়াম করি তখন
যন্ত্রের পেশী সচল হয় এবং রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
এতে রক্তের চাপ কমে। প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট হাঁটলে উচ্চ রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী ভূমিকা রাখে। আপনি যদি শরীরের অতিরিক্ত ওজন
কমাতে চান তাহলে স্বাস্থ্যকর খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত নিয়মিত হাঁটা ও
ব্যায়াম এবং আপনার শরীরের স্থূলতার দিকে গুরুত্ব সহকারে খেয়াল রাখতে
হবে । আপনার শরীরের স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। আপনি যদি নিয়মিত
হাঁটা, দৌড়ানো ব্যায়াম করতে থাকেন তাহলে আপনার শরীরের চর্বি কমে ওজন
নিয়ন্ত্রণে আসবে। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কাজ করবে।
নিয়মিত হেঁটে আপনি নিজের মানসিক চাপ কমাতে পারেন। হাঁটার ফলে আমাদের
শরীরে এন্ডোরফিন নামক একটি হরমোন তৈরি হয় এই হরমোন মানুষের মনকে
দুশ্চিন্তা করে এবং মনকে প্রফুল্ল রাখতে সহযোগিতা করে। পুরো শরীরকে সুস্থ সবল
রাখতে চাইলে হাঁটার বিকল্প নেই। কর্মব্যস্ত জীবনের মধ্যে
নিজের সুস্থতার জন্য একটু সময় বের করে নিয়মিতভাবে হাঁটা এবং ব্যায়ামের
অভ্যাসটি গড়ে তুলতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপাযয়ের ক্ষেত্রে
নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়ামের অভ্যাসটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানসিক চাপমুক্ত থাকার প্রয়োজনীয়তা:-
উচ্চ রক্তচাপ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। কোন লক্ষণছাড়া এ
রোগটি আপনার শরীরে দীর্ঘদিন যাবত অবস্থান করে করে এবং আপনার শরীরের বিভিন্ন
অঙ্গ প্রতঙ্গের ক্ষতি করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই আপনাকে
মানসিক চাপমুক্ত থাকতে হবে। কারণ মানসিক চিন্তা রক্তের চাপ বাড়িয়ে দেয়
। মানসিক চাপের ফলে পিটুইটারি গ্রন্থী অতিরিক্ত হরমোন উৎপাদন করে যা
স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দুশ্চিন্তার কারণে আমাদের শরীরে স্ট্রেস
হরমোন নিঃসৃত হয় । স্ট্রেস হরমোন গুলোর মধ্যে অ্যাড্রিনালিন নামের এই হরমোনটি
আমাদের হার্টবিট বাড়িয়ে দেয় রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং শক্তি সরবরাহ
বৃদ্ধি করে।
নর এপিনেফ্রিন এই হরমোনটিও হার্টবিট বাড়িয়ে দেয় সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ বাড়ায়,
এ হরমোন গুলো নিঃসৃত হওয়ার ফলে হৃদযন্ত্র এবং পরিপাকতন্ত্রের উপর প্রভাব পড়ে,
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যৌন ক্ষমতা কমে যায়, শরীরের স্থুলতা
সমস্যা তৈরি হয়। এছাড়া মাথাব্যথা, অনিদ্রা, শরীর ব্যথা, মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানো,
স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, বুক ব্যথার মতন উপসর্গ
দেখা দেয়, তাই আপনাকে উচ্চ রক্তচাপ কমানোর প্রাকৃতিক উপায়ের ক্ষেত্রে মানসিক
চাপমুক্ত থাকা অত্যন্ত জরুরী।
এ রোগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ধূমপান ত্যাগের প্রয়োজনীয়তা:-
উচ্চ রক্তচাপ এটি একটি সাধারণ কিন্তু মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। এই
রোগটি সুপ্ত আকারে আপনার শরীরে লুকায়িত থাকে। এ রোগটি বোঝার তেমন কোন
উপায় নেই ।এ রোগটি দীর্ঘদিন আপনার শরীরে থাকতে থাকতে আপনার হৃদ যন্ত্র,
কিডনি ,চক্ষুতে তার ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। আপনাকে স্বাস্থ্যকর
খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপমুক্ত, অতিরিক্ত লবণ না খাওয়া
এসবের পাশাপাশি অবশ্যই আপনাকে ধুমপান ত্যাগী হতে হবে।
ধূমপানের ফলে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায় হৃদযন্ত্রের যথেষ্ট পরিমাণে চাপ
সৃষ্টি করে। সিগারেটের নিকোটিন রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং
হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক করে তোলে । ধূমপান করার ফলে আপনার শরীরের রক্তনালীর
দেওয়াল শক্ত হয়ে যায় এর কারণে সমস্যা বেড়ে যায় এসব সমস্যার কারণে হার্ট
অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধূমপান করার কারণে
ধূমপানকারীর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি সৃষ্টি করে।
সিগারেটের ধোঁয়ায় থাকা কার্বন-মনোক্সাইড রক্তের অক্সিজেন কমিয়ে দেয় যার
কারণে অধিক পরিশ্রম করতে হয় এতে রক্তচাপ আরো বেড়ে যায়। ধূমপান ত্যাগ করার
ফলে আপনি নিজেই এর সুস্থতা উপলব্ধি করতে পারবেন ।মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে এটা
ত্যাগ করার ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। হৃদ যন্ত্রের উপর চাপ কমে
যায়্ কিছুদিনের মধ্যে রক্তনালী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ধূমপান ট্যাগ
করলে হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমে যায় , ধূমপান ত্যাগ করলে আমরা অনেক জটিল
সমস্যা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারব।
যেগুলো খাবার এড়িয়ে চলতে হবে:-
শুধুমাত্র ওষুধ খেলে বা ব্যায়াম করলে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় না ।
এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে খাদ্য অভ্যাসের প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে হবে। যে
খাবারগুলো খেলে দ্রুত রক্তচাপ বেড়ে যায় সে খাবার গুলো পরিহার করতে হবে।
অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়া যাবেনা। চিপস ফাস্টফুড কোমল পানীয় তেল,
চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না। রান্নার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার করা
যাবে না। মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।
আমরা জানি মিষ্টি জাতীয় খাবার বেশি খেলে আমাদের শরীরের অতিরিক্ত ওজন
বেড়ে যায়। নিয়মিত সঠিক সময় আমরা খাবার খাব। অতিরিক্ত খাবার পরিহার করব এবং
নিজের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখবো ফলমূল শাকসবজি পর্যাপ্ত পরিমাণ খাব ছোট মাছ ডাল
নিয়মিত খাওয়া এবং বিশুদ্ধ পানি পান করব। শুধুমাত্র ওষুধ এবং ব্যায়াম
সঠিক নিয়মে ঘুম এগুলোর মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না । আপনির
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবশ্যই নিয়ম অনুযায়ী সচেতন খাদ্য তালিকা
তৈরি করতে হবে। তবে আপনি সুস্থ থাকবেন।
উচ্চ রক্তচাপ কমানোর ক্ষেত্রে পানি পানের গুরুত্ব:-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পানি পানের গুরুত্ব রয়েছে । শরীরের
কার্যকলাপ বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা দরকার। বেশিরভাগ
ক্ষেত্রে দেখা যায়। আমরা সুস্থতার জন্য ওষুধ খাই খাবারে নিয়ম নীতি মেনে চলি
হাঁটা ও ব্যায়াম করি। কিন্তু পানি খাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা অবহেলা করি।
কিন্তু এটা মোটেও ঠিক না। পানি এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যা আমাদের
শরীরের ষাট শতাংশ পানি দ্বারা গঠিত।
অতএব পর্যন্ত পরিমাণ পানি না খেলে আমরা কখনো সুস্থ হতে পারব না। শরীরে পানির
ঘাটতি হলে রক্ত চলাচল ধীর হয়ে পড়ে, তখন রক্তচাপ বেড়ে যায় । পর্যাপ্ত পরিমাণ
পানি পান করলে রক্ত পাতলা হয় । যার কারণে রক্ত স্বাভাবিক ভাবে
চলতে পারে। তখন হৃদপিন্ডের উপর চাপ কম পড়ে। কম পানি খেলে কিডনি
ভালো ভাবে কাজ করবে না । পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খেলে কিডনি অতিরিক্ত লবন ও
বজ্র পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে।
গরমে বা কাজের সময় আমাদের শরীর থেকে ঘাম বের হয় । এতে শরীরে খনিজ
পদার্থ ও পানি বের হয় । সে পানি পূরণের জন্য আমাদেরকে পর্যাপ্ত পানি পান করতে
হবে। পানি পান করলে শরীর ভালো থাকে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে । দিনে আট থেকে দশ
গ্লাস পানি পান করা আমাদের উচিত। আর আপনার শরীরে যদি তেমন জটিল রোগ থেকে থাকে
তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পান করার পরিমাপটা জেনে নেবেন।
নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা:-
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক রোগ হিসেবে পরিচিত। এটির লক্ষণ আমরা অতি সহজে
বুঝতে পারি না। এটি দীর্ঘদিন আপনার শরীরে অবস্থান করার কারণে, যখন বড় ধরনের
ক্ষতির সম্মুখীন হন তখন বুঝতে পারা যায়, তাছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা এ
রোগটির লক্ষণ নির্ণয় করতে পারি না। এজন্য আপনি যদি সুস্থ থাকতে চান
তাহলে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা অত্যান্ত জরুরী। আপনি যদি নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা
করেন তাহলে আপনার শরীর সম্পর্কে সঠিক একটা ধারণা পাবেন এবং সে অনুপাতে
সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বলুন অথবা পারিবারিক জীবনে বলুন, আমরা প্রায়
ব্যক্তি মনে করি অসুস্থ না হলে রক্ত চাপ মাপার কোন দরকার নেই। বাস্তবে ধারণাটা
পুরোপুরি ভুল। উচ্চ রক্তচাপ প্রথম দিকে আমরা এর কোন লক্ষণ বুঝতে পারি না।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরতে পারলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ। নিয়মিত পরীক্ষা
করলে আমরা নিজের প্রতি সচেতন এবং দায়িত্বশীল হতে পারি। আগে থেকে
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে পারি।
ধরুন আপনার পরিবারের কারো উচ্চ রক্তচাপ আছে। তাহলে আপনাকে নিয়মিতভাবে
রক্ত পরীক্ষা করা উচিত। তাই নিজের ও পরিবারের সুস্থতার জন্য নিয়মিত রক্ত
পরীক্ষা করার অভ্যাস গড়ে তুলবো। সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করব। উচ্চ রক্তচাপ
কমানোর প্রাকৃতিক উপায়ের ক্ষেত্রে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা কে গুরুত্বের সহিত নিতে
হবে।
লেখকের মন্তব্য:-
উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক সমস্যা। এই রোগকে অতি সহজে নির্ণয় করা যায় না।
এই রোগ ধীরে ধীরে মানুষকে বড় ধরনের বিপদের দিকে নিয়ে যায়। আমার লেখার মূল
উদ্দেশ্য মানুষকে সঠিক পথ দেখানো। ওষুধের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উপায় যেন উনি
নিজেকে সুস্থ রাখতে পারেন। আমাদের প্রায় লোকের ভেতরে একটা ভুল ধারণা আছে।
সেটা হচ্ছে, অসুখ মানে ওষুধের উপর নির্ভরশীলতা। কিন্তু প্রকৃতি আমাদেরকে এমন
কিছু জিনিস দিয়েছেন সেগুলো জিনিস নিয়মিত সেবন করলে এবং প্রাত্যহিক জীবনে
ব্যবহার করলে। আপনার শরীর নিজ থেকেই সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাবে। সবশেষে
আমি পাঠকদের কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, আপনারা আমার লেখাগুলো পড়ছেন বলে আমি নতুন
ভাবে লিখতে অনুপ্রাণিত হচ্ছি। প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলুন ,আপনারা সুস্থ
থাকুন।


.webp)
.webp)

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url