তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল, তৈলাক্ত ত্বক সাধারণ হলেও ক্ষেত্র বিশেষে অনেকের কাছে বিরক্তি কর হয়ে দাঁড়ায়। গরম এবং আদ্র আবহাওয়ায় ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে যায় এর ফলে অনেকের মুখে ব্রণ ব্ল্যাকহেড ও নিস্তেজ ভাব দেখা দেয়।
এ ধরনের ত্বকের জন্য সঠিক ফেসপ্যাক নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভুল উপাদান ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। অতএব নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।
সূচিপত্র:-
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসপ্যাক ভালো
- তৈলাক্ত ত্বক কি
- তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যার কারণ
- ভালো ফেসপ্যাক তৈরির উপায়
- ফেসপ্যাক ব্যবহারের নিয়ম
- ফেসপ্যাক ব্যবহারে সর্তকতা
- লেখকের মন্তব্য
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল:-
তৈলাক্ত ত্বকের মুখে অতিরিক্ত তেল তৈরি হয়। ত্বকের সেবাসিয়াস গ্রন্থি বেশি
সক্রিয় হলে এই সমস্যা দেখা দেয়। যার ফলে মুখে ব্রণ, ব্ল্যাকহেড, ধুলাবালি জমে
থাকা এবং অতিরিক্ত চকচকে ভাব দেখা দেয়। আবহাওয়া এবং হরমোনের পরিবর্তন,
সঠিকভাবে ত্বকের যত্ন না নেওয়া এবং প্রসাধনী ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন না
হওয়া তৈলাক্ত ত্বকের অন্যতম কারণ। সুস্থ ত্বক চাইলে নিয়মিত যত্ন নিতে হবে।
ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি
চাইলে খুব সহজেই ঘরে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ত্বকের
যত্ন নিতে পারেন। প্রথমে আপনার মুখের ধুলোবালি তৈলাক্ত ভাব ধুয়ে নিতে হবে।
হালকা গরম পানির ভাব নিয়ে ত্বক পরিষ্কার করা যায়। ফেসিয়ালের এই ধাপ
গুলো গুরুত্বপূর্ণ। আপনার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য, কোন ফেসপ্যাকটি উপযুক্ত তা
নির্ণয় করতে হবে।
মুলতানি মাটি, লেবুর রস, গোলাপ জল মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে লাগালে
ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করতে সাহায্য করে। টমেটো এবং মধু মিশ্রিত
ফেসপ্যাক ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ রাখে। ব্রণের সমস্যা দূর করার জন্য নিম
পাতা এবং হলুদ মিশ্রিত ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে পারেন। প্রাকৃতিক সব উপাদান আপনার
ত্বকের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। আপনার ত্বকের জন্য কোনটি উপযুক্ত সেটা
নির্ণয় করে নিতে হবে। ফেসপ্যাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিয়ম মেনে চলতে
হবে।
ফেসপ্যাক লাগানোর পর ১৫ হতে ২০ মিনিট ত্বকে লাগিয়ে রাখার পর ঠান্ডা পানি দিয়ে
ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে এক দুইবার ব্যবহার করতে পারেন। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে
আপনার ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। ঘরোয়া ফেসপ্যাক
ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যে উপাদান ব্যবহার করলে
আপনার এলার্জি দেখা দিবে সেটা ব্যবহার করা যাবে না। ফেসপ্যাক বেশি সময় ধরে
ত্বকে রাখলে, ত্বকে জ্বালাপোড়া ভাব তৈরি হতে পারে। তাই সঠিক উপাদান এবং
পরিমাণের মাত্রা ঠিক রেখে ব্যবহার করুন।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য কোন ফেসপ্যাক ভালো:-
তৈলাক্ত ত্বক একটি সাধারন সমস্যা। অনেকের ক্ষেত্রে এই সাধারণ সমস্যাটি অনেক
সময়, একটি বিব্রত কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। এই ত্বকে অতিরিক্ত তেল
নিঃসরণের কারণে, মুখে ব্রণ, ব্ল্যাকহেড এবং নিস্তেজ ভাব দেখা যায়। তাই এ ধরনের
ত্বকের জন্য সঠিক ফেসপ্যাক ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ত্বকের জন্য
ভালো ফেসপ্যাক বেছে নেওয়ার আগে কিছু বিষয় জানা দরকার।
যেমন কোন ধরনের উপাদান ব্যবহার করা উচিত, কতবার ব্যবহার করতে হবে এবং এটার সঠিক
প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। আপনি তৈলাক্ত ত্বকের জন্য যে ফেসপ্যাক নির্বাচন
করবেন, তা যেন ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এ ক্ষেত্রে
মুলতানি মাটি ব্যবহার করা যায়। এটি ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের গভীর থেকে তেল ও
ময়লা পরিষ্কার করে এবং ত্বককে সতেজ করে তুলে।
এর সঙ্গে গোলাপ জল ব্যবহার করলে আরো ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রাকৃতিক উপাদান
দিয়ে তৈরি ফেসপ্যাক ত্বকের জন্য খুব সুন্দর উপকারি। যেমন:- লেবু মধুর মিশ্রণ,
লেবুতে প্রাকৃতিক অ্যাসিড থাকে যা আপনার ত্বকের তেল কমাতে সাহায্য করবে, আর মধু
ত্বকে নরম রাখে। এ ধরনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হয়।
আপনার ত্বকের ব্রণ কমানোর জন্য ফেসপ্যাক বেছে নেওয়া উচিত।
নিমপাতা বা নিমের পেস্ট ত্বকের জন্য খুব উপকারী। ইহা
অ্য়ান্টিব্যাকটেরিয়াল, ফলে ব্রণ কমাতে সাহায্য করে এবং ত্বককে জীবাণুমুক্ত রাখে।
সপ্তাহে একবার দুবার ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ফেসপ্যাক ব্যবহারে আপনাকে
সঠিক নিয়ম জানতে হবে। অনেকেই ভাবে ত্বকে বেশি সময় ফেসপ্যাক রাখলে ভালো ফল
পাওয়া যায়। কিন্তু এ ধারণা ভুল। ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখলেই যথেষ্ট, তারপর ঠান্ডা
পানি দিয়ে আপনার ত্বক ধুয়ে ফেলতে হবে।
বেশি সময় রাখলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। এতে ত্বকে তেল উৎপাদন বেড়ে যেতে
পারে। ফেসপ্যাক ব্যবহারের পর ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। ফেসপ্যাক ব্যবহার
করার পর একটি হালকা মশ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে আপনার ত্বকের ভারসাম্য
বজায় থাকবে এবং ত্বকে তেল উৎপাদন কম হবে। অনেকে মনে করে তৈলাক্ত ত্বকে
ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই।
কিন্তু এটি ভুল ধারণা, কিছুদিন পরপর ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে এবং এই নিয়মটা
ধরে রেখে সপ্তাহে একবার দুবার ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কেননা
একবার ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে তেমন ফল আসে না। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া
ফেসিয়াল, আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সপ্তাহে এক হতে দুবার ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে
পারেন।
ধৈর্য ধরে নিয়ম মেনে চললে ভালো ফল আশা করা যায়। আপনার তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ভালো
ফেসপ্যাক নির্বাচন করা মানে বাজারের দামি পণ্য নয়। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি
করা ফেসপ্যাক ত্বকের জন্য বেশি উপকারী। যদি আপনি নিয়মিত সঠিকভাবে ফেসপ্যাক
ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ রাখা
সম্ভব হবে।
তৈলাক্ত ত্বক কি ?
তৈলাক্ত ত্বকের ধরন হচ্ছে, এই ত্বকে সেবাসিয়াস গ্রন্থি থেকে অতিরিক্ত তেল
বা সেবাস উৎপন্ন হয়। এই সেবাস আপনার ত্বককে স্বাভাবিকভাবে সে মশ্চারাইজড ও
সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু এটি যখন বেশি উৎপন্ন হয় তখন ত্বক অতিরিক্ত
উজ্জ্বল ও আঠালো দেখা দেয়। কপাল, নাক, থুতনি এই এলাকাটি মুখের টিজন হিসেবে
পরিচিতি। অতিরিক্ত সেবাস উৎপন্ন হওয়ার ফলে, টিজন এলাকায় বেশি তেলাক্ত ভাব
দেখা দেয়।
এ ত্বকের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো টিজন এলাকায় সবসময় এক ধরনের চকচকে তৈলাক্ত ভাব
থাকে। সেজন্য ত্বকে খুব সহজে ধুলোবালি আটকে যায়। এতে ত্বকের রন্ধ্র গুলো বন্ধ
হয়ে যায়। এর ফলে ময়লা ব্যাকটেরিয়া জমে গিয়ে ব্রণের সৃষ্টি হয়। সাধারণত
কিশোর কিশোরীদের বয়সের পরিবর্তনের সময় এই সমস্যা দেখা দেয়, আবার যে কোন বয়সেই
দেখা দিতে পারে। ত্বক তৈলাক্ত হওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে।
জিনগত প্রভাব একটি কারণ, যদি আপনার পরিবারের মধ্যে কারো তৈলাক্ত ত্বক হয়, তাহলে
পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এ সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া হরমোন পরিবর্তন,
আবহাওয়া, খাদ্য অভ্যাস ও ভুল স্কিন কেয়ার এ পদ্ধতিও ত্বককে তৈলাক্ত করে
তুলতে পারে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া ত্বকে তেল বেশি উৎপন্ন হয়। অনেকের ধারণা
তৈলাক্ত ত্বক শুধু সমস্যা তৈরি করে, কিন্তু বাস্তবে এর অনেক উপকারিতা
রয়েছে।
এই ত্বকে সাধারণত দেরিতে বয়সের ছাপ পড়ে এবং সহজেই ভাজ পড়ে না। কারণ তেলের
উপস্থিতি আপনার ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে আদ্র রাখে, এর ফলে শুষ্ক ত্বকের
তুলনায়, তৈলাক্ত ত্বক দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। আপনার
যদি ত্বক তৈলাক্ত হয়, তাহলে আপনাকে প্রতিদিন এক দুইবার ফেসওয়াশ দিয়ে
পরিষ্কার করতে হবে। তবে খুব বেশি মুখ ধোয়া উচিত না, এতে ত্বকের তেল উৎপন্ন আরো
বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া আপনি অয়েল ফ্রী ও নন কমেডোজেনিক পণ্য ব্যবহার
করতে পারেন, যা আপনার ত্বকের রন্ধ্র বন্ধ করবে না।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল, এছাড়া আপনার ত্বক সুস্থ রাখতে হলে, আপনাকে
সুষম খাদ্য খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুমের দরকার আছে, নিয়মিত ফল মূল শাকসবজি বেশি
করে খেতে হবে। শাকসবজি খেলে ত্বক ভালো থাকে। আপনার সঠিক যত্ন ও সচেতনতার মাধ্যমে
ত্বককে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে পারেন। নিজের ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পদ্ধতিতে যত্ন
নেওয়ায় হলো সুন্দর ত্বকের মূল মন্ত্র।
তৈলাক্ত ত্বকের সমস্যার কারণ:-
১.বেশি বেশি মুখ ধোয়া:-
অনেকে মনে করে বেশি বেশি মুখ ধোয়া অভ্যাসটি ভালো। কিন্তু এই অভ্যাস ত্বকের তেল
উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। অনেকে মনে করে মুখে তৈলাক্ত ভাব বেশি
হলে মুখ ধুয়ে নিলেই সমস্যা কমে যাবে, কিন্তু এটা তার জন্য ক্ষতি হতে পারে।
অনেকেই তা বুঝতে পারেনা, বলতে গেলে সবার ত্বকে প্রাকৃতিক একটা তেলের স্তর থাকে।
যেটাকে আমরা সিবাম বলে থাকি। এই সিবাম আমাদের ত্বককে আদ্র কোমল এবং সুরক্ষিত
রাখে ।
আমরা যখন দিনে অনেকবার ফেসওয়াশ বা অতিরিক্ত ক্ষার যুক্ত সাবান দিয়ে মুখ ধুই,
তখনই আমাদের ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। তখন আমাদের ত্বক শুষ্ক
হয়ে ওঠে। ত্বকের এই শুষ্কতা দূর করার জন্য ত্বক নিজেই বেশি তেল উৎপাদন করে।
প্রায় দেখা যায়, যারা ব্রণ ও অতিরিক্ত তেলের সমস্যায় ভোগেন এবং ঘন ঘন বা
বেশি বেশি মুখ ধৌত করেন, এতে আরো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
এতে প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, যার ফলে বাইরের ধুলোবালি ব্যাকটেরিয়া
সহজেই ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। এতে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডের মতন সমস্যা দেখা দিতে
পারে। বারবার মুখ ধোয়ার ফলে আপনার ত্বকের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে
পারে। সবার ত্বকে একটি নির্দিষ্ট পিএইচ লেভেল আছে। অতিরিক্ত মুখ ধোয়ার ফলে
পিএইচের লেভেল নষ্ট হয়ে যায়। তখন ত্বক তেল উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। সঠিক নিয়ম
হলো বাহির থেকে আসার পর হালকা ক্লিনজার দিয়ে দিনে এক থেকে তিনবার
মুখ ধৌত করতে পারেন।
২.আদ্রতার অভাব:-
অতিরিক্ত জলীয় বাষ্প আমাদের ত্বকে একটি প্রভাব ফেলে। যাদের ত্বক আগে থেকে
কিছুটা তৈলাক্ত তাদের সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। গরম ও আর্দ্রতায়
আমাদের শরীরের ঘামগ্রন্থী ও তেল গ্রন্থি অনেক বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে
আমাদের ত্বকে অতিরিক্ত তেল জমে যায়। অনেকের ধারণা গরমের কারণে ত্বকে
তৈলাক্ত ভাব তৈরি হয়। কিন্তু বাতাসের আদ্রতা এর বড় কারণ। ঘামের লবণ
লোমকূপে আটকে থেকে ব্রণ ও অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।
প্রথমে আপনাকে ফেইসাল ক্লিনজার দিয়ে আপনার টি জোন পরিষ্কার করে নিতে হবে,
এরপর স্ক্রাব করে নিন। বাসায় লেবু চিনি মিশিয়ে স্ক্রাব করে নিতে পারেন।
হালকা করে জলপাইয়ের তেল ব্যবহার করতে পারেন। এই তেলে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ও ভিটামিন ই , যা আপনার ত্বককে সুন্দর করে তুলবে। এরপর ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন।
ফেসপ্যাক হিসেবে কলা এবং পেঁপের শ্বাসের মাক্স ব্যবহার করুন। ১০-১৫
মিনিট রাখার পর ধুয়ে ফেলুন।
৩.ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করা:-
অনেকের ধারণা ময়েশ্চারাইজার তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহারের দরকার নেই। এ ধারণাটা
পুরোপুরি সঠিক নয়। আদ্র ত্বকে তেল উৎপাদন বেশি হয় যার ফলে ত্বকে ব্রণ
ব্ল্যাকহেড সমস্যা দেখা দিতে পারে আপনি নিয়মিত ফেসওয়াশ ব্যবহার করলে ত্বকের আদ্রতা দ্রুত কমে যাবে। আপনার ত্বকের শুষ্কতা ও অস্বস্তিকর অনুভব দূর
করার জন্য ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে হবে। এতে আপনার ত্বক
নরম ও কোমল থাকবে।
৪.ভারী প্রসাধনী ব্যবহার করা:-
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল, অনেকে ত্বক সুন্দর ও আকর্ষণীয় করার
জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করে, যেমন এক্সফোলিয়েন্টেশন এই উপাদান
ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জল ও মসৃণ হয়, ত্বকের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়ায়। এটি
ব্যবহার করলে মুখের হারানো জেলা ফিরে আসে, ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার করে।
এক্সফোলিয়েটর দুই ধরনের ১.কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর ২. ফিজিক্যাল
এক্সফোলিয়েটর । কোনটি কি ধরনের কাজ করে নিম্নে আলোচনা করা হলো।
ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর:-
এটা আমাদের কম বেশি সবার পরিচিত। ইহা স্ক্রাবিং ফিজিক্যাল এক্স
ফোলিয়েশনের ফর্ম । ইহার ছোট ছোট দানার মাধ্যমে ম্যাসেজ করে ত্বকের উপরিভাগ ডেট
সেলসের লেয়ার আর ব্ল্যাকহেডস সহজে ক্লিন করা যায়। ফিজিক্যাল
এক্সফোলিয়েশনের মাধ্যমে ফিজিক্যাল এক্সপলিউশনের আরেকটি প্রসেস। এটা হচ্ছে
মাইক্রোডার্মাব্রেশন। এটা বেশ স্ট্রং ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর।
এটা ত্বকের উপরের লেয়ার থেকে ডেট সেলের পরত তুলে দেয় । দীর্ঘদিন যারা স্কিন কেয়ার করে না, তাদের ক্ষেত্রে ডেড স্ক্রিন সেলসের স্তর জমে রাফ
হয়ে যায়, এ অবস্থায় নরমাল স্ক্রাবিংয়ে ভালোমতো পরিষ্কার হয় না,
শুধুমাত্র তারা মাইক্রোডার্মাব্রেশন করতে পারেন। নিয়মিত ত্বক ক্লিয়ার
করলে মাইক্রোডার্মাব্রেশনের কোন প্রয়োজন নেই। বিভিন্ন ধরনের ব্রাশ
স্পঞ্জ এগুলো ফিজিক্যাল এক্সফোলিয়েটর।
কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটর:-
ধরতে গেলে কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েটরের কাজ একই ধরনের। স্কিন থেকে মরা কোষ বের
করা আনে। কিন্তু ইহার কাজ ধীরগতিতে। এটা সাধারণ স্কিন লেয়ারের সাথে ডেড সেলের
বন্ডিং লুজ করে দেয়, যার ফলে হালকা ম্যাসেজের বা মুখ ধোয়ার সময় এটা ক্লিন হয়ে
যায়। ভিটামিন সি, ল্যাকটিক অ্যাসিড, হাইড্রক্সি অ্যাসিড এগুলো কেমিক্যাল
এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করে। কেমিক্যাল উপাদান থাকার ফলে এক্সফোলিয়েশনের
পাশাপাশি স্কিনে আরো উপকার হয়, যেমন ব্রণ ও পিগমেন্টেশন রিমুভ করতে হেল্প
করে।
যেমন স্যালিসাইলিকঅ্যাসিড একপ্রকার বিটা হাইড্রক্সি অ্যাসিড। এই উপাদানটি
ত্বকের ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে ত্বকের গভীরে গিয়ে ত্বক পরিষ্কার করে এবং সেবাম
ক্ষরণকে নিয়ন্ত্রণ করে, যেগুলো সমস্যার জন্য ব্রণ দেখা দেয় সেগুলো আর থাকবে না।
এক্সফোলিয়েশন এবং স্কিন প্রবলেমের সমস্যার সমাধান দুটোই একসঙ্গে হয়ে যায়।
কিন্তু স্কাবিংয়ের মতন আপনি তাৎক্ষণিক রেজাল্ট পাবেন না।
ভালো ফেসপ্যাক তৈরির উপায়:-
ফেসপ্যাক ত্বকের যত্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। আপনার ত্বক উজ্জ্বল করার
জন্য নিয়মিতভাবে ভালো মানের ফেস প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। তৈলাক্ত ত্বকের
জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল। বাজারের কেনা ফেসপ্যাকের চেয়ে, ঘরোয়াভাবে তৈরি
ফেসপ্যাক আপনার ত্বকের জন্য ভালো হবে। নিজের ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসপ্যাক
তৈরি করে ব্যবহার করতে হবে। ঘরোয়া ভাবে ফেসপ্যাক তৈরি করার ধাপগুলো নিম্নে
দেওয়া হলো:-
১. অ্যালোভেরার জেল মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট ত্বকে রাখুন, তারপরে
ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি ত্বকের জন্য খুবই উপকারী।
২. মসুর ডালের গুড়া শসার রসের সঙ্গে মিশিয়ে নিন এতে একটি প্যাক
তৈরি হবে। আপনি নিয়মিত এ প্যাকটি ব্যবহার করে, ত্বকের মরা চামড়া ও
ব্ল্যাকহেড দূর করতে পারেন।
৩. লেবুর রস, বাদাম, গুড়া দুধ, মধু মিশিয়ে আপনার ত্বকে লাগাতে পারেন। এতে
ত্বকের পোড়া ভাব দূর হবে।
৪. আপনি যদি ত্বকের রং উজ্জ্বল করতে চান, তাহলে হলুদ বাটা, চন্দনের গুড়া,
একসঙ্গে লাগাতে পারেন।
৫. ত্বকের ব্রণ দূর করতে নিম পাতা ও চন্দন প্যাক তৈরি করে ত্বকে লাগাতে পারেন।
৬. একটি পাকা কলা মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। তারপর কিছু সময়
ধরে মুখে লাগিয়ে রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন, এতে আপনার ত্বক উজ্জ্বল
হবে।
৭. আপনার ত্বকের রোদে পোড়া দাগ দূর করতে, এক কাপ টক দইয়ের সঙ্গে তিন টেবিল
চামচ লেবুর রস এবং এক কাপ টমেটো পিউরি মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে ত্বকে লাগিয়ে
রাখুন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন।
৮. ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর করার জন্য চন্দন গুড়া, টক দই, মুলতানি মাটি এবং
কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে একটি ফেসপ্যাক তৈরি করুন। নিয়মিত এই প্যাক
ব্যবহার করলে ত্বকের তলাক্ত ভাব দূর হয়ে যাবে।
৯. ত্বকের দাগ কমানো ও উজ্জ্বলতা বাড়ানোর জন্য চালের গুড়া ও দুধ মিশিয়ে
পেস্ট তৈরি করে মুখে ১০-১৫ মিনিট লাগিয়ে রাখুন, তারপরে ধুয়ে ফেলুন।
ফেসপ্যাক ব্যবহারের নিয়ম:-
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল। ফেসপ্যাক সঠিক উপায়ে ব্যবহার করলে
আপনার ত্বক পরিষ্কার উজ্জ্বল ও সতেজ হয়ে উঠবে। ভুল পদ্ধতিতে ফেসপ্যাক
ব্যবহার করলে আশানুরূপ ফল পাবেন না। সুন্দর ত্বক পেতে হলে অবশ্য সঠিক নিয়ম
মেনে চলতে হবে। সারাদিনের ধূলিকণা ত্বকে পড়ে ত্বক অপরিষ্কার হয়ে যায়। ত্বক
পরিষ্কার করার জন্য অনেকে অনেক ধরনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন। ত্বক পরিষ্কারের
ক্ষেত্রে ফেসপ্যাকের গুরুত্ব অপরিসীম।
আপনি নিয়মিতভাবে ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের আদ্রতা বজায় থাকে এবং
উজ্জ্বলতা বাড়ে। নির্দিষ্ট সময় ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের জন্য ভালো
হয়। ত্বকের রক্ত চলাচলের নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ফেসপ্যাক
ব্যবহারের সঠিক সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। রাতে ঘুমানোর আগে ফেসপ্যাক ব্যবহার
করা ত্বকের জন্য ভালো। এই সময় ত্বকের বিশ্রাম নেওয়ার সময় এবং নতুন
কোষ তৈরি করে।
রাতে ফেসপ্যাক ব্যবহারের ফলে ফেসপ্যাকের উপাদান গুলো ত্বকে শোষিত হয়। ইহা
ত্বকের আদ্রতা কে বজায় রাখে এবং ত্বককে করে সতেজ ও উজ্জ্বল। ত্বকের নতুন কোষ
তৈরির উপযুক্ত সময় হচ্ছে রাত। রাতে ত্বক সতেজ থাকে এবং বার্ধক্যের লক্ষণ
কমাতে সাহায্য করে। অনেকে বাহিরে চলাফেরা করার সময় মেকআপ নেন এতে ত্বকের উপর
প্রলেপ পড়ে থাকে অর্থাৎ ত্বকটা ঢেকে থাকে।
রাতে মুখ পরিষ্কার করার পর ত্বককে নিষ্প্রাণ এবং শুষ্ক মনে হতে পারে। আপনি
যদি রাতে ফেসপ্যাক ব্যবহার করেন তাহলে ত্বক আদ্র থাকবে এবং মসৃণ ও সতেজ
দেখাবে। রাতে ঘুমের হরমোন বৃদ্ধি হয়ে কোষ মেরামত এবং কোলাজেন উৎপাদনের
সাহায্য করে। ফেসপ্যাক এই প্রক্রিয়াকে আরও সঠিক ভাবে সাহায্য করে যার ফলে
ত্বক আরো উজ্জ্বল হয়। রাতে ঘুমানোর আগে ভিটামিন সি মিশ্রিত ফেসপ্যাক
ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ কমে এবং উজ্জলতা বৃদ্ধি করে। সারাদিনের মুখে জমে
থাকা ধুলাবালি রাতে মুখ ধোয়ার সময় শুধুমাত্র ফেসওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে
পরিষ্কার হয় না।
তাই আপনার ত্বককে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে চাইলে ফেসপ্যাক ব্যবহার করা দরকার।
ফেসপ্যাক ত্বকের একটি প্রতিরক্ষামূলক প্রলেপ তৈরি করে। কর্মব্যস্ততার
ফলে আমাদের চেহারায় সারাদিনের ক্লান্তি ফুটে উঠে, রাতে ফেসপ্যাক ব্যবহার
করলে, ত্বক সতেজ হয় এবং ক্লান্তির ছাপ কমে যায়। রাতে ঘুমানোর আগে ত্বকের
যত্ন নেওয়া একটি ভালো অভ্যাস। নিয়মিত ত্বকের ধারণা অনুযায়ী ফেসপ্যাক
ব্যবহার করলে ত্বকের ক্লান্তি ভাব দূর হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল দেখায়।
ফেসপ্যাক ব্যবহারে সর্তকতা:-
আমরা ত্বকের রুক্ষতা, তৈলাক্ত ভাব দূর করা এবং উজ্জল ও মসৃণ করার জন্য
নিয়মিত ভাবে ফেসপ্যাক ব্যবহার করে থাকি। এটি ব্যবহারের সঠিক নিয়ম আছে, সঠিক
নিয়মে এটি ব্যবহার না করলে ত্বকে ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
১. ত্বকের ধরন অনুযায়ী আপনাকে ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। একটি ফেসপ্যাক
অপরের জন্য ভালো হলেও, আপনার জন্য সেটা ভালো নাও হতে পারে। এলার্জি এবং
ত্বক জ্বালাপোড়ার মতন সমস্যা দেখা দিতে পারে। নতুন উপাদান ব্যবহারের আগে
প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে।
২. মুখে ধুলাবালি, ঘাম, মেকআপ থাকলে ফেসপ্যাক ভালো মতন কাজ করে না। ধুলোবালি
ময়লার কারণে ত্বকের লোমকূপ বন্ধ থাকতে পারে। এ অবস্থায় ফেসপ্যাক
ব্যবহার করলে মুখে ব্রণ ও জ্বালাপোড়া দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা
রয়েছে। ফেসপ্যাক ব্যবহার করার আগে আপনার ত্বককে হালকা ফেসওয়াশ দিয়ে
ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে হবে, এরপর শুকনো কাপড় দিয়ে ত্বক মুছে
ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।
৩. অনেকে মনে করেন ফেসপ্যাক বেশি সময় ধরে মুখে লাগিয়ে রাখলে ত্বকের উপকার
বেশি হবে। এটা ভুল ধারণা, সাধারণত ১০-১৫ মিনিট পর্যন্ত লাগিয়ে রাখতে পারেন।
এরপর মুখ ধুয়ে নিতে হবে।
৪. ঘরোয়া ফেসপ্যাক তৈরি করার ক্ষেত্রেও আপনাকে সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
প্রাকৃতিক উপাদান হলেও অতিরিক্ত সব উপাদান ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়। আপনার
ত্বকের ধরন বুঝে পরিমাণ মতো ব্যবহার করতে হবে।
৫. দুই তিনটি উপাদান দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করুন। মুখে লাগানোর আগে
ত্বকের কথাও লাগিয়ে দেখুন সেটাতে সমস্যা হচ্ছে কিনা।
৬. প্রতিদিন ফেসপ্যাক ব্যবহার করা ঠিক না, অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে ত্বকের
প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ফেসপ্যাক ধুয়ে নেওয়ার পর ত্বকের আদ্রতা ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার
করতে হবে।
লেখকের মন্তব্য:-
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল। তৈলাক্ত ত্বক একটু বিরক্তিকর সমস্যা।
গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াতে অতিরিক্ত তেল ত্বকে জমে। এই বিরক্তি কর সমস্যা
সমাধানের জন্য অনেকে বাজারের দামি প্রসাধনী ব্যবহার করে থাকে। কিন্তু আমি মনে
করি ঘরোয়া ফেসিয়াল স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ। প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিয়মিত
ত্বক পরিষ্কার করলে ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরে আসে।
ঘরোয়া ফেসিয়াল তৈলাক্ত ত্বকের জন্য শুধু সৌন্দর্য চর্চা নয়, ইহা
ত্বকের সুস্থতা ধরে রাখার একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। আপনি যদি আপনার
ত্বককে প্রাকৃতিক সঠিক উপাদান দ্বারা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচর্য করেন, তাহলে
আপনার ত্বককে দীর্ঘদিন সতেজ ও প্রাণবন্ত রাখা যাবে। বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে
ত্বকের স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জ্ঞানীর কাজ।


.webp)
.webp)

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url