মানব জীবনের জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম রোজার মাধ্যমে একজন মানুষ তার
আত্মা ও মনকে পরিশুদ্ধ করতে পারে রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ভয়-ভীতি বা
তাকওয়া অর্জন করা রোজার প্রয়োজনীয়তা মানব জীবনের জন্য অপরিহার্য
এটি মানুষের আত্মিক, নৈতিক, নফসের খাহেশীক, আশা-আকাঙ্ক্ষা, লোভ লালসা, সকল ধরনের
দৈহিক মানসিক, দৃষ্টিক ,দর্শন, অবলোকনের মাধ্যমে স্নিগ্ধময় গভীর এবং সুন্দর একটি
প্রভাব বিস্তার করে মানুষের ইহকাল এবং পরকালের মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসে, এজন্য রোজার
প্রয়োজনীয়তা মানব জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ ।
আমাদেরকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে জীবনের ক্ষেত্রে নৈতিক আত্মিক প্রশিক্ষণের
প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এগুলো প্রশিক্ষণের জন্য রোজা হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ
মাধ্যম । আল্লাহতালা রোজাকে ফরজ করেছেন এবং ঘোষণা করেছেন ’’তোমাদের উপর সিয়াম
ফরজ করা হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা
তাকওয়া ও পরহেজগারী অর্জন করতে পার ’’ (সূরা বাকারা: রুকু ২৩) ।
মহানবী সাঃ এর ক্ষেত্রেও আমরা দেখি তিনি আত্মা শুদ্ধতা ও মানবতার শিক্ষার
ক্ষেত্রে অন্য পথ হিসাবে গ্রহণ করেছিলেন এই রোজাকে, তাই মানব জীবনের জন্য
রোজার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
মানুষের নৈতিকতা, সমাজ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য, মানবিক শান্তির সঙ্গে রোজা গভীরভাবে
সম্পর্কিত, আপনার আত্মার যদি উন্নয়ন করতে চান তাহলে অবশ্যই রোজা রাখুন।
সূর্যাস্ত পর্যন্ত আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য খাবার, পানি, মনের খয়েশী থেকে
,আশা-আকাঙ্ক্ষা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন।
আল্লাহর প্রতি গভীর ভালোবাসা জাগ্রত হওয়ার কারণে মানুষ এ সব কিছু থেকে নিজেকে
বিরত রাখেন এবং রোজার মাধ্যমে সে তার ভুল ত্রুটি বুঝতে পারেন এবং আত্মার সমালোচনা
ও তওবার মাধ্যমে সে তার চরিত্রকে শুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
রোজাদার রোজার মাধ্যমে নিজেকে ,নিজের আত্মাকে পবিত্র করে এবং সৎভাবে যাপন
করা করতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। নৈতিক চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রেও রোজার
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই আমরা বলতে পারি মানব জীবনের জন্য রোজার
প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
রোজা মানুষকে ধৈর্য ধারণ করতে শেখায়। সংযমী হতে শেখায়, আত্মা নিয়ন্ত্রণ করতে
শেখায়। ক্ষুধা তৃষ্ণা থেকে নিজেকে বিরত থাকা খুব একটা সহজ কাজ না। কিন্তু
রোজাদারদের মাধ্যমে মানুষ এই শিক্ষা গুলো গ্রহণ করে থাকে। রোজা অন্যায় কাজ হতে
বিরত রাখতে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করে। আপনি যদি আল্লাহকে ভালবেসে রোজা থাকেন তাহলে
অবশ্যই নিজেকে অন্যায় ও পাপ কাজ হতে বিরত রাখবেন।
রোজার মাধ্যমে মানুষ তার নৈতিকতার দিকেও উন্নতি করে থাকে। রোজা তার নিজস্ব
সৌন্দর্য দ্বারা প্রতিটি পরিবারকে একই অনুভূতিতে আবৃত করে নেই।
সামাজিক জীবনে রোজার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমাজে বিভিন্ন
শ্রেণীর লোক রয়েছেন, রোজা তার নিজস্ব সৌন্দর্য এবং নিজস্ব মাধুর্য সবাইকে
একই অনুভূতিতে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে।
গরিব ধনী সবাইকে রোজা একই অনুভূতিতে যুক্ত করে। একজন ধনী ব্যক্তি রোজা থাকা
অবস্থায় যখন ক্ষুধার জ্বালা বুঝতে পারেন বা অনুভব করেন তখন সে গরীবের
ক্ষুধার জ্বালা বুঝতে পারেন। সে গরিবের দুঃখ বুঝতে পারেন কষ্ট বুঝতে পারেন।
রোজার মাধ্যমে একটি মানুষের মধ্যে সহানুভূতির সৃষ্টি
হয়। ইচ্ছাশক্তি বৃদ্ধিতেও ও আত্ম সংযমের ক্ষেত্রে রোজা কে আমরা এক অসাধারণ
মাধ্যম হিসেবে ধরে নিতে পারি। রোজার মাধ্যমে আমরা শিক্ষা নিতে পারি কিভাবে নিজের
ইচ্ছা শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
রোজাদার ব্যক্তি শিখে যে, ইচ্ছা করলে সবকিছুই করা যায় না।
প্রাত্যহিক জীবনের ক্ষেত্রে এ ধরনের শিক্ষার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা মানব
জীবনের জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে। তাই মানব জীবনের জন্য রোজার
প্রয়োজনীয়তা রয়েছে
যেমন প্রয়োজন ছাড়া ব্যয় করা, জীবনের খারাপ অভ্যাসগুলো ত্যাগ করা, নিয়ম
অনুযায়ী সময় মতন সঠিক কাজ করা ইত্যাদি। নিজের ইচ্ছা শক্তিকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ
করতে হয় এটা যখন একজন রোজাদার শিখে যায় । সে তখন প্রাত্যহিক জীবনে সকল ধরনের
কাজের মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়।সময়ানুবর্তিতা এবং শৃঙ্খলা ব্যাপারে আমরা রোজা
থেকে শিক্ষা নিতে পারি। নামাজ, সেহরি, ইফতার নির্দিষ্ট সময় হয়।
এ তিনটি কাজ করার মাধ্যমে সময়ের মূল্যায়ন করার এক অসাধারণ কলা কৌশল আমাদের মাঝে
সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সকল কিছু সুশৃংখলভাবে
সম্পন্ন করতে পারি। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে সফলতার কথা ভাবতে হলে অবশ্যই সময়ের
মূল্যায়ন করতে হবে। সময়ের মূল্যায়ন ছাড়া জীবনের সফলতা কখনোই সম্ভব নয়।
রোজা শুধু ধর্মীয় ইবাদত নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ মানব জীবন পরিচালনা ব্যবস্থা,
যার মাধ্যমে ইহকাল এবং পরকালের সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। মানুষকে কৃতজ্ঞতা
শিখানোর ক্ষেত্রে রোজার ভূমিকা অসাধারণ। আমরা রমজান মাসে ইফতারের সময় যখন খাবার
পানি গ্রহণ করি এগুলো আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এইটা বোঝার জন্য রোজার
প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রোজার মাধ্যমে এই নিয়ামতের গুনাগুন এবং প্রয়োজনীয়তা
আমাদের মনে প্রাণে ফুটে উঠে।
সারাটা দিন ক্ষুধা তৃষ্ণার জ্বালা সহ্য করে ইফতারের সময় যখন আমরা আল্লাহর
এই নিয়ামত ভক্ষণ করে মানসিক এবং দৈহিক সুস্থতা পায়। তখন আলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা
উপলব্ধি করি। এ কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা আমাদের বাস্তব ও সামাজিক জীবনের ক্ষেত্রে
অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানব জীবনের জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা
অপরিহার্য।
রোজা মানুষকে যেমন নৈতিকভাবে শিক্ষা দেয়, তেমনি আত্মিক ভাবে উন্নয়ন করায়।
সামাজিক দায়িত্বশীলতা সৃষ্টি করে এবং মানসিক সুস্থতা এনে দেয়। ধৈর্যশীল হওয়ার
জন্য এবং কৃতজ্ঞতা শিক্ষার জন্য রোজা একটু উত্তম ব্যবস্থা। রোজা কে শুধু ধর্মীয়
বিধান না বলে এটিকে মানুষের জীবন গঠনের এক মহা মাধ্যম বলতে পারি। রোজার
প্রকৃত শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন, ব্যক্তিগত জীবন,
সুস্থ সুন্দর ও সফল হয়ে ওঠে।
রোজা মানুষের মনকে পরিশুদ্ধ করে সামাজিকভাবে আলো ছড়ায়। এই আলো প্রতিটি মানুষের
জীবনের ইহকাল এবং পরকালের জন্য কল্যাণ বয়ে নিয়ে আসে। এজন্য রোজা মানব
জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত ও ইহকাল এবংপরকালের সফলতার জন্য মহৎ পথ। তাই
মানব জীবনের জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য ।
রোজা কাকে বলে
আরবি ভাষায় রোজাকে সওম বা সিয়াম বলে। যার অর্থ শান্ত থাকা, চুপ থাকা, ধীরস্থির
থাকা, মনের আশা আকাঙ্ক্ষা নফসের খাহেশ ও আগ্রহ থেকে নিজেকে সংযমী করা। ইচ্ছা
আকাঙ্ক্ষার লোভ লালসা থেকে নিজের দেহ মনকে এবং দৃষ্টিকে দূরে রাখা। আমাদের নফসের
খাহেশ এবং মানুষের লোভ লালসার জিনিস হচ্ছে খাদ্য পানি ও নারী। এগুলো
থেকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দৈহিক আত্মিক সকল দিক থেকে সংযত ও সুসংহত বজায়
রাখার নামই হচ্ছে রোজা ।
আমাদের জীবনের জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা
আমাদের ইহকালের জীবন শুধু ভোগ বিলাস আনন্দ উৎসব এবং প্রাত্যহিক কাজের মধ্যে
সীমাবদ্ধ নয়। রোজা হচ্ছে মানুষের নৈতিকতা, আত্মিক সংযম উন্নয়নের একটি পথ।
আল্লাহ তায়ালা রোজাকে ফরজ করেছেন আমাদের ইহকাল ও পরকালের মঙ্গলের জন্য তাকওয়া
বা আল্লাহর ভীতি অর্জন করতে করতে পারেন। হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর বাণীতে রোজার
গুরুত্ব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আমাদের জীবনের জন্য রোজার
প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোজার মাধ্যমে আমরা আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে পারি। রমজান মাসে প্রতিদিন
সুভসাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খাবার পানি থেকে বিরত থাকা শুধুমাত্র শারীরিক
কষ্ট তা কিন্তু না । এটা একটি আত্মিক উন্নয়নের সাধনা । রোজা থাকা অবস্থায় মানুষ
খুব সূক্ষ্মভাবে উপলব্ধি করতে পারেন । তাই মানব জীবনের জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা
দরকার।
সে আল্লাহর বান্দা এবং সবকিছুই আল্লাহর দান।এই অনুভব করা শক্তি মানুষকে বিনয়ী
নম্র কৃতজ্ঞ করে তোলে। রোজা মানুষকে নিজের ভুল ত্রুটি সংশোধন করতে শেখায় এবং
নতুন জীবন পরিচালনা করার সুযোগ করে দেয়। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে
রোজা মানুষের জীবনের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘ সময় না খাওয়ার ফলে আমাদের শরীর বিশ্রাম পায় এবং হজম প্রক্রিয়া
স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এর ফলে শরীর মন উভয়ই সুস্থতার দিকে এগিয়ে
যায় এবং এর ফলে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করা যায় ও মানসিক শান্তি ফিরে
আসে ।
রোজার মাধ্যমে নৈতিক চরিত্র গঠন করা
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে রোজা একটি স্তম্ভ। রোজা থাকা অবস্থায় ক্ষুধা
তৃষ্ণার জ্বালা সহ্য করার মাধ্যমে আমাদের আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক চরিত্র গঠনের বিশেষ
এক শিক্ষা বা কলাকৌশল আমাদের মাঝে গড়ে ওঠে। মানুষের ভিতরে যে দূর্বলতা
গুলো আছে রোজার মাধ্যমে সেগুলো চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করতে শিখায়। এটি
একটি নৈতিকতা শিক্ষার উত্তম সময় । রোজার উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া বা
আল্লাহর ভীতি অর্জন করা। একজন রোজাদার সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল
ধরনের পানাহার ভোগবিলাস নাফসানী চাহিদা থেকে নিজেকে বিরত রাখে।
তখন তার ভেতরে আত্ম সংযমী চর্চার এক অসাধারণ কলাকৌশল তার মধ্যে তৈরি হয় ।
এই আত্ম সংযমকে নৈতিক চরিত্রের ভিত্তি হিসেবে ধরা যেতে পারে। যে ব্যক্তি এত দীর্ঘ
সময় ক্ষুধা পিপাসা সহ্য করতে পারে সে সহজেই নিজের লোভ, লালসা, রাগ প্রভৃতিকে
নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয় । যার ফলে একজন মানুষ এর মধ্যে ধৈর্য সহনশীলতা ও আত্ম
নিয়ন্ত্রণের গুণাবলী সৃষ্টি হয়। সত্যবাদিতা ও সততা শিক্ষার ক্ষেত্রে রোজার
ভূমিকা অসাধারণ।
মাই আমরা সবাই রোজাকে ধর্মীয় ইবাদত হিসাবে গ্রহণ করি এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর
করে ব্যাক্তির আন্তরিকতার উপর কোন রোজাদার ব্যক্তি চাইলে সে রোজা থাকো অবস্থায়
আড়ালে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে প্রকৃত রোজাদার তা করবে না কারণ সে জানে সবকিছু
দেখার ক্ষমতা রাখেন। এ ধরনের অনুভূতি মানুষকে সকল ধরনের পাপাচার থেকে দূরে
রাখে। প্রাত্যহিক জীবনে চলার ক্ষেত্রে এ ধরনের নৈতিকতা ও সততা একজন মানুষকে আদর্শ
মানুষ হিসাবে গড়ে তোলে।
সহমর্মিতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়ানোর ক্ষেত্রে রোজার যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা
রয়েছে। রোজাদার গরিব দুঃখী মানুষের কষ্ট বুঝতে পারে এজন্য তার মনে দান সদকা
যাকাত ও সাহায্যের মনোভাব জাগ্রত হয়। রোজা মানুষকে গীবত পরনিন্দা ঝগড়া
বিবাদ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। তাই মানব জীবনের জন্য রোজা
প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
সামাজিকভাবে রোজার প্রয়োজনীয়তা
রোজা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের মধ্যে একটি ইবাদত। শুধুমাত্র নিজের
আত্মশুদ্ধির জন্য নয় পারিবারিক ও সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রয়েছে। রোজা পালনের মাধ্যমে রমজান মাসে মুসলিমদের মধ্যে যে ভ্রাতৃত্ব
সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হয় এর ফলে সমাজকে আরো মানবিক নৈতিক করে
তোলে। এই জন্য সামাজিকভাবে রোজার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন
লোক রোজা থাকা অবস্থায় যেমন ক্ষুধাও তৃষ্ণার জ্বালা বুঝতে পারে।
তখন তিনি দারিদ্র্য ও মানুষের কষ্ট অনুভব করতে পারেন। রোজার সামাজিক শৃঙ্খলা
প্রতিষ্ঠা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রোজার সময় মানুষ ঝগড়া, বিবাদ, গীবত ও
পরনিন্দা থেকে নিজেকে বিরত রাখে। এই সংযম ব্যক্তিগত জীবনের নয়। পারিবারিক ও
সামাজিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। রোজা আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববো ও ঐক্যের
সৃষ্টি করে ।
রমজান মাসে ইফতারের সময় এবং তারাবির সময় শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই একত্রিত হয়ে
একই কাতারে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে নামাজ আদায় করি। এসব চলাফেরার মাধ্যমে
আমাদের মধ্যে সামাজিক সম্পর্ক ও সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই মানব জীবনের
জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনে রোজার গুরুত্ব
ইসলামের দৃষ্টিতে রোজার গুরুত্ব অপরিসীম। শুধুমাত্র পানাহার থেকে বিরত
থাকা নয়। রোজার মাধ্যমে আত্মসুদ্ধি আত্ম সংযম এবং আল্লাহর ভীতি অর্জন করতে
হয় । পবিত্র রোজা পালনের মাধ্যমে মানুষ নিজের জীবন নতুন ভাবে গড়ে তোলার
সুযোগ পায়। রোজা ব্যক্তিগত পারিবারিক জীবনের জন্য অতি প্রয়োজন। রোজা মানুষকে
আত্ম সংযম ও আল্লাহর ভয় শেখায় । সারাটা দিন ক্ষুধা পিপাসা সহ্য করার
মাধ্যমে আল্লাহর ভয় ও ইচ্ছা শক্তিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায় । রোজা
মানুষকে অন্যায় কাজ হতে নিজেকে দূরে রাখতে শেখায়।
রমজান মাস হচ্ছে নিজের ভুল ত্রুটি সংশোধন করে নিজেকে সৎ মানুষ হিসাবে করে তোলায়
একটি উত্তম পথ ।একটি পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে ইফতারি খায় নামাজ আদায়
করে , এদের পরিবারের প্রত্যেকের সদস্যের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, পরিবারের ছোট
সদস্যরা বড়দের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ,মূল্যবোধ শেখে থেকে ,রোজার
মাধ্যমে রোজা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা
রাখে নিয়মিত সময় খাওয়া কম খাওয়া এবং খারাপ অন্যায় অভ্যাস এতে শরীর সুস্থ
থাকে মন ভালো থাকে।
কোরআন ও হাদিসের আলোকে রোজার তাৎপর্য
রোজা মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা রাখে।
নিয়মিত সময়ে খাওয়া কম, খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করার মাধ্যমে শরীরকে সুস্থ
রাখা । আল্লাহতালা মুসলমানদের উপর রোজা ফরজ করেছেন । মানুষ যেন আত্মশুদ্ধি অর্জন
করতে পারেন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন। রোজার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকওয়া
বা আল্লাহর ভীতি অর্জন করা । শুধুমাত্র খাবার পিপাসা থেকে বিরত থাকার নাম রোজা
না। এটি মানুষের অন্তরকে পবিত্র করার একটি মহৎ কৌশল। একজন রোজাদার সারাদিন না
খেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ধৈর্য ধারণ করে।
তখন তার আত্মসংযম বৃদ্ধি হয়। রোজার মাধ্যমে একটি মানুষ তার মনকে লোভ লালসা
হিংসা-অহংকার মিথ্যা ইত্যাদি থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারে। যার ফলে একজন
রোজাদার ব্যক্তি সৎও নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হয়ে ওঠে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)
বলেছেন তোমাদের মধ্যে যদি কেউ রোজা রাখে এবং সে যেন অশ্লীল কথা না বলে, ঝগড়া
বিবাদ না করে । এই হাদিস থেকে বোঝা যায় রোজা মানুষকে খারাপ কাজ হতে র ক্ষা করে
ধৈর্যশীল হতে শেখায় এবং নৈতিকতার উন্নতি করে।
লেখকের মন্তব্য
রোজা হচ্ছে মানব জীবনকে সংশোধন করার একটি পরিপূর্ণ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা। রোজা শুধু
একটি মানুষকে আত্মশুদ্ধি, আত্ম সংযম, নৈতিকতা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয় না।
ব্যক্তিগত ,সামাজিক ও পারিবারিক ক্ষেত্রেও এর অনেক বড় ধরনের গুরুত্বপূর্ণ একটা
ভূমিকা রয়েছে। রোজার চেতনা যেখানে বিদ্যমান থাকে, সেখানে অন্যায় অবিচার নৈতিক
অবক্ষয় কমে আসে। রোজার মাধ্যমে পরিবারে খুব সুন্দর বন্ধনের সৃষ্টি হয়।
ইফতার ও সেহরিতে একত্রিত হয়ে খাওয়া যেখানে পারস্পরিক সম্পর্ককে দৃঢ় করে। সংযম,
শৃঙ্খলা, এবং আল্লাহর ভীতি এগুলো ব্যাপারে ছোটরা বড়দের কাছ থেকে শিখতে পারে। এতে
আমাদের পরিবারে শান্তিময় একটা পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ইহকাল এবং পরকালের
কল্যাণের ক্ষেত্রে রোজার ভূমিকার যথেষ্ট পরিমাণ গুরুত্ব রয়েছে। তাই
মানব জীবনের জন্য রোজার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।
রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url