OrdinaryITPostAd

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়


আপনি যদি সুস্থ সুন্দর থাকতে চান তাহলে ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ধারণা বিউটি পার্লারে না গেলে ত্বক সুন্দর করা যায় না, কিন্তু আপনি চাইলে নিজ বাসাতেই কিছু উপকরণ ব্যবহার করে ফেসিয়াল করতে পারেন।


ঘরোয়া-পদ্ধতিতে-ফেসিয়াল-করার-উপায়


নিজ বাসাতে ফেসিয়াল করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুলভাবে ফেসিয়াল করলে ত্বকে ক্ষতি হতে পারে, সেই কারণে ধাপে ধাপে ফেসিয়াল করার পদ্ধতি আপনাকে জানতে হবে।

সূচিপত্র:-

 asdঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়:-

ত্বকের যত্ন নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনার সুস্থ উজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক বাহ্যিক সুন্দর বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও  বৃদ্ধি করে। অনেকের ধারণা, সুন্দর এবং ভালো ত্বক পেতে হলে, নিয়মিত বিউটি পার্লারে যেতে হবে। কিন্তু আপনি ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করেও সুন্দর এবং উজ্জ্বল স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতে পারেন। ঘরে বসে ফেসিয়াল করার বড় সুবিধা হচ্ছে, এটি সাশ্রয়ী, প্রাকৃতিক উপাদান ভিত্তিক এবং নিরাপদ। ঘরে ফেসিয়াল বলতে আমরা সাধারণত বুঝি, এটি এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ঘরের  সহজলভ্য উপাদান ব্যবহার করে, ত্বকের পরিচর্যা করা যায়।

ইহা ত্বকের ময়লা দূর করে এবং ত্বকে সতেজোতাও ফিরিয়ে নিয়ে আসে। আপনি ফেসিয়াল করতে চাইলে কিছু বিষয় আগে জানতে হবে। নিজ ত্বকের ধরন বুঝতে হবে এবং সেই অনুপাতে উপাদান নির্বাচন করে ফেসিয়াল করতে হবে। শুষ্ক, তৈলাক্ত বা সংবেদনশীল ত্বকের জন্য আলাদা যত্ন নিতে হবে। ফেসিয়াল করতে হলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করতে হবে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়, প্রথমে আপনাকে ক্লিনজিং করতে হবে, অর্থাৎ মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। ত্বকের ময়লা দূর করার জন্য কাঁচা দুধ বা মাইন্ড ফেসওয়াশ ব্যবহার করে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। তারপরে স্ক্রাব করতে হবে।

যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করে। আপনি ঘরোয়া স্ক্রাব হিসাবে চিনি ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। তারপর স্টিম নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। গরম পানির ভাব মুখে নিলে ত্বকের  রন্ধ্র খুলে যাবে এবং ভেতরের ময়লা সহজে বেরিয়ে আসবে। এরপর ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন। আপনি প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করতে পারেন। যেমন মধু, হলুদ, দই, অ্যালোভেরা  ইত্যাদি। এ ধরনের ফেসপ্যাক ব্যবহার করলে ত্বকের ভেতর পর্যন্ত পুষ্টি পৌঁছায় এবং বাহ্যিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে।


আপনার ত্বকের  ধরণ অনুযায়ী আপনাকে ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে।  তৈলাক্ত ত্বকের জন্য  মাটি বা লেবু ব্যবহার করতে হবে এবং শুষ্ক ত্বকের জন্য দই ও মধু ব্যবহার করতে হবে। সংবেদনশীল ত্বকের জন্য হালকা ও নিরাপদ উপাদান ব্যবহার করা উচিত। ফেসিয়াল করার সময় কিছু ভুল এড়িয়ে চলতে হবে, যেমন অতিরিক্ত বেশি সময় ফেসপ্যাক রাখা এবং ত্বকের জন্য মানানসই নয় এমন উপাদান ব্যবহার করা করা থেকে দূরে থাকতে হবে। তাই আপনাকে সবসময় সতর্কতার সহিত ফেসিয়াল ব্যবহার উচিত। ফেসিয়ালের পর ত্বকের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভালো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও আদ্র থাকে।

আপনি যখন বাইরে বের হবেন তখন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত। যাতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্নি থেকে  ত্বক সুরক্ষিত থাকে। আপনি যদি নিয়মিত ফেসিয়াল করেন, তাহলে আপনার ত্বক থাকবে পরিস্কার, উজ্জ্বল এবং প্রাণবন্ত। অল্প সময়ে ও কম খরচের মধ্যে নিজের ত্বকের যত্ন নেওয়া  এটি একটি কার্যকর সহজ উপায়। আপনি চাইলে আজ থেকে শুরু করতে পারেন, ঘরোয়া ফেসিয়াল এবং নিজের ত্বককে  দিন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের ছোঁয়া। 

ঘরোয়া ফেসিয়াল কি এবং কেন প্রয়োজন:-

ঘরোয়া ফেসিয়াল হচ্ছে প্রাকৃতিক ত্বক পরিচর্যা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আপনি ঘরে বসেই সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ফেসিয়াল করতে পারবেন। পার্লার বা সেলুনে না গিয়ে অনেকেই এখন ঘরোয়া ফেসিয়াল পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন। এটি যেমন নিরাপদ, সাশ্রয়ী  তেমনি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হীন। সাধারণত ফল, দই,, মধু, হলুদ, বেসন অ্যালোভেরা ইত্যাদি। এগুলো প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে আপনি ফেসিয়াল করতে পারেন। এ ফেসিয়াল ত্বকের ভিতর থেকে পুষ্টি  যোগায় এবং এটি অনেক উপকারী। এ  ফেসিয়ালের  উদ্দেশ্য হচ্ছে ত্বককে পরিষ্কার করা, ময়েশ্চারাইজ করা এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়,প্রতিদিনের ধুলোবালি রোদ, দূষণ এবং মানসিক চাপে ধীরে ধীরে আপনার ত্বককে ক্লান্ত  ও নিস্তেজ করে দেয় । এই অবস্থায় আপনি যদি নিয়মিত ফেসিয়াল করেন, তাহলে পুনরায়  আপনার  ত্বক জীবিত হয়ে উঠে। ঘরোয়া ফেসিয়াল আপনার ত্বকের গভীরে জমে থাকা ময়লা দূর করে এবং নতুন কোষ গঠনের সহায়তা করে। অনেক দিক থেকে ঘরোয়া ফেসিয়ালের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ইহা আপনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে বজায় রাখতে সাহায্য করে। বাজারের কসমেটিকস পণ্যে রাসায়নিক উপাদান থাকে।

যা আপনার ত্বকের ক্ষতি করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু ঘরোয়া ফেসিয়ালে ব্যবহৃত উপাদান  গুলোতে কোন ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকে না। যার ফলে ত্বকের কোনো ক্ষতিও হয় না। এ ধরনের ফেসিয়াল ব্যবহারের কারণে ত্বক সুস্থ থাকে। যেমন হলুদ ত্বককে উজ্জ্বল করে, দই ত্বকে ময়েশ্চারাইস করে, আর মধু ত্বককে নরম করে। ইহা ব্যবহারের ফলে অর্থনৈতিক ভাবেও লাভবান হওয়া যায়। বিউটি পার্লারে ফেসিয়াল করানো অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হতে পারে। কিন্তু আপনি চাইলে ঘরে বসে এ ধরনের যত্ন নিতে পারেন। এতে আপনার সময় এবং অর্থ বাঁচবে।

সুবিধামতো ত্বকের যত্ন নিতে পারবেন। ঘরোয়া ফেসিয়াল আপনাকে মানসিক প্রশান্তিও দেবে। যখন আপনি নিজের ত্বকের যত্ন নিবেন তখন আপনার মনের  উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। নিজের প্রতি যত্ন নেওয়ার এই ছোট অভ্যাস আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে এবং মনকে সতেজ রাখবে। এটি শুধু সৌন্দর্যের চর্চায় নয় বরং একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বলা যেতে পারে পারে। ঘরোয়া ফেসিয়াল আপনার ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে সহায়তা করবে। যেমন ব্রণ, কালো দাগ, শুষ্কতা বা  অতিরিক্ত তৈলাক্ততা। 

এগুলো সমস্যার জন্য আপনি আলাদাভাবে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করতে পারেন। এতে আপনার ত্বক ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠবে এবং এগুলোতে কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে না। ইহা একটি সহজ কার্যকর এবং নিরাপদ পদ্ধতি যা আপনার ত্বককে সুন্দর সুস্থ রাখতে বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ ভূমিকা রাখে। আপনি নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে, আপনার ত্বক শুধু  বাহ্যিকভাবে  সুন্দর দেখাবে না বরং ভেতর থেকে সুস্থ ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। আপনি চাইলে আপনার ত্বকের সুস্থতার জন্য ঘরোয়া ফেসিয়াল ব্যবহার করতে পারেন। 

ফেসিয়াল ধাপ সমূহের গাইড:-

ফেসিয়াল হচ্ছে ত্বকের পরিচর্যা কারী একটি প্রাকৃতিক পদ্ধতি। ইহা ধাপে ধাপে অনুসরণ করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। অনেকের ধারণা ফেসিয়াল মানে শুধু ফেসপ্যাক লাগানো। কিন্তু বাস্তবে ইহা কয়েকটি ধাপের সমন্বয়ে গঠিত একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া। এর প্রধান ধাপ হল ক্লিনজিং বা ত্বক পরিষ্কার করা। সারা দিনের ধুলোবালি ঘাম এবং তেল ত্বকের উপরে জমে থাকে, এগুলো ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয়, তাই প্রথমে একটি ভালো ক্লিনজার বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

স্ক্রাবিংয়ের মাধ্যমে আপনি ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে পারবেন। এতে আপনার ত্বক মসৃণ হয় এবং নতুন কোষ তৈরির প্রক্রিয়া চালু হয়। আপনি ঘরে বসে মধু, বেসন ও টকদই মিশিয়ে স্ক্র্যাপ তৈরি করতে পারেন। হালকা হাতে গোলাকার ভাবে ম্যাসাজ করে স্ক্রাব ব্যবহার করতে হয়, যাতে ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

স্টিমিং বা ভাপ নেওয়া:-এই ধাপে গরম পানির ভাপ মুখে নিতে হয় যা ত্বকের লোমকূপ খুলে দেয়। এর ফলে ত্বকের ভেতরে জমে থাকা ময়লা সহজে বের হয়ে আসে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়, স্টিম নেওয়ার সময় আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে খুব বেশি গরম ভাপে ত্বক পুড়ে না যায়।
ব্ল্যাকহেড বা হোয়াইটহেডস দূর করা:-স্টিম নেওয়ার পর ত্বকের লোমকূপ খোলা থাকে। তখন সহজেই আপনি ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার করতে পারবেন। তবে এটি আপনাকে খুব সতর্কতার সহিত দূর করতে হবে, কারণ ভুলভাল চাপ দিলে ত্বকে দাগ পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
ফেস ম্যাসাজ:- এটি ফেসিয়ালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ম্যাসাজ করলে আপনার ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়বে এবং ত্বককে প্রাণবন্ত করে তুলবে।
ফেসপ্যাক বা মাস্ক ব্যবহার করা:- আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী আপনাকে ফেসপ্যাক নির্বাচন করতে হবে। শুষ্ক ত্বকের জন্য দই ও মধু, তৈলাক্ত ত্বকের জন্য মুলতানি মাটি, আর সংবেদনশীল ত্বকের জন্য অ্যালোভেরা খুবই উপকারী। ফেসপ্যাক ত্বকের গভীরে পুষ্টি যোগায় এবং আপনার ত্বককে উজ্জ্বল করে তোলে।
টোনিং ও মোশ্চারাইজিং:- ফেসপ্যাক ধোয়ার পর ত্বকের লোমকূপ বন্ধ করতে টোনার ব্যবহার করা হয়। প্রাকৃতিক টোনার হিসাবে আপনি গোলাপ জল ব্যবহার করতে পারেন। এরপর একটি ভাল মশ্চারাইজার ব্যবহার করে, ত্বককে নরম ও আর্দ্র রাখতে হবে। এটি ত্বকের আদ্রতাকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। সবকিছু মিলিয়ে ফেসিয়ালের প্রত্যেকটি ধাপ আপনার ত্বকের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার ত্বকের সুস্থতার জন্য এই ধাপগুলো আপনি অনুসরণ করতে পারেন। তবে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে আরও উজ্জ্বল ও সতেজ এবং সুস্থ। ঘরে বসে সহজ উপায়ে এই যত্ন নেওয়া সম্ভব যা সময় ও খরচ উভয়কে সাশ্রয় করে। অতএব সুন্দর ও প্রাণবন্ত ত্বকের জন্য নিয়মিত ফেসিয়াল করার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত ।


ঘরোয়া-পদ্ধতিতে-ফেসিয়াল-করার-উপায়


প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ফেসিয়াল করার উপায়:-

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়, প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা ফেসিয়াল বেশ জনপ্রিয় একটি স্কিন কেয়ার পদ্ধতি। এতে কোন রাসায়নিক  উপাদান ব্যবহার না করে, আপনি ঘরে বসে ত্বকের যত্ন নিতে পারেন। আপনি নিয়মিত ফেসিয়াল করলে আপনার ত্বক থাকবে উজ্জ্বল কমল। এ পদ্ধতি নিরাপদ এবং সাশ্রয়ী। প্রাকৃতিক ফেসিয়াল করতে হলে প্রথমে আপনাকে প্রাকৃতিক ক্লিনজার দিয়ে ত্বক ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে। তারপরে সামান্য কাঁচা দুধ বা মধু নিয়ে মুখে ভালো ভাবে ম্যাসেজ করতে হবে।

এরপর ৫-৭ মিনিট রাখার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বকের ময়লা দূর হবে এবং ত্বক নরম হবে। এর পরে স্ক্রাবিং করতে হবে, স্ক্রাবিং ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং নতুন কোষ গঠনের সাহায্য করে। প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসাবে চিনি,  চালের গুড়া, কফি ব্যবহার করা যায়। পেস্ট তৈরি করুন এই পেস্টটি  লাগিয়ে হালকা হাতে তিন থেকে পাঁচ মিনিট ঘষুন।  এরপরে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন, এতে ত্বক পরিষ্কার,  মসৃণ ও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে । স্টিম বা ভাব নেওয়ার মাধ্যমে ত্বকের  রন্ধ্র খুলে যাবে, ফলে ভিতরে জমে থাকা ময়লা সহজে বের হয়ে আসে।

একটি পাত্রে গরম জল নিয়ে মুখের উপরে পাঁচ সাত মিনিট ভাব নিন চাইলে এতে লেবুর রস বা নিমপাতা যোগ করতে পারেন। এটা ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী এরপরে ফেসপ্যাক ব্যবহার করতে হবে, আপনি প্রাকৃতিক ফেসপ্যাক হিসাবে বেসন, হলুদ, টক দই এবং মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এই ফেসপ্যাক ১০-১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখুন তারপরে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাক আপনার ত্বকের দাগ দূর করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে। সবশেষে  মশ্চারাইজিং খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ফেসিয়াল করার পর আপনার ত্বককে আদ্র রাখতে হবে, এই জন্য অ্যালোভেরা জেল নারিকেল তেল বা গোলাপ জল ব্যবহার করা যেতে পারে। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়, এগুলো আপনার পক্ষে কোমল রাখবে এবং প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে। প্রাকৃতিক ফেসিয়াল করার কিছু বাড়তি টিপস রয়েছে, আপনার ত্বক নির্বাচন করার পর এগুলো ব্যবহার করতে হবে।

যেমন আপনার ত্বক যদি  তৈলাক্ত হয় তাহলে লেবু ও মধু ভালো আর শুষ্ক ত্বকের জন্য দুধ ও অ্যালোভেরা উপকারী। আপনি সপ্তাহে এক হতে দুই বার ফেসিয়াল করতে পারেন, অতিরিক্ত করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। এগুলো উপাদান ব্যবহার করার আগে আপনি টেস্ট করে নিন, যাতে আপনার কোন এলার্জি দেখা না দেয়।

ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল করার নিয়ম:-

আপনাকে আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল করতে হবে। সব ত্বকের জন্য একই পদ্ধতি কার্যকর নয়। আপনি যদি ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেন তাহলে আপনার ত্বক সুস্থ ও উজ্জ্বল থাকবে। ত্বক পাঁচ প্রকার যেমন, স্বাভাবিক ত্বক, তৈলাক্ত ত্বক, শুষ্ক ত্বক এবং  সংবেদনশীল ত্বক।  ভিন্ন ভিন্ন ত্বকের জন্য ভিন্ন ভিন্ন ফেসিয়াল করতে হয়। স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ফেসিয়াল করা অন্যান্য ত্বকের চেয়ে তুলনামূলক সহজ। এ ধরনের ত্বকে তেল ও আদ্রতার ভারসাম্য থাকে তাই হালকা ক্লিনজার দুধ ও মধু ব্যবহার করলেই হয়।

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ করায় আপনার মূল লক্ষ্য। প্রথমে আপনাকে লেবু বা নিমপাতা দিয়ে তৈরি প্রাকৃতিক ক্লিনজার ব্যবহার করতে হবে। স্ক্রাব হিসেবে চালের গুড়া বা কফি ভালো কাজ করে। ফেস হিসাবে আপনি মুলতানি মাটি, গোলাপজল ও লেবুর রস ব্যবহার করতে পারেন। এতে ত্বকের তেল  এবং ব্রনের প্রবণত কমে। এ ধরনের ত্বকে স্টিম নিলে বেশ উপকার হয়। যদি শুষ্ক হয় তাহলে বেশি আদ্রতা যোগ করতে হবে বা মধু ব্যবহার করতে হবে।

 এই ত্বকে স্ক্রাব খুব হালকা হওয়া দরকার, যেমন ওটস ও দুধের মিশ্রণ ফেসপ্যাক হিসেবে কলা মধু ও দই ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও মসৃণ হয়। ফেসিয়ালের শেষে অবশ্যই আপনার ত্বকে ভালো মোশ্চারাইজার লাগাইতে হবে। মিশ্র ত্বকের ফেসিয়াল করার জন্য, একটু আলাদা কৌশল করতে হয়। ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়, টি জোন অংশে তেল বেশি থাকে এবং গাল  শুষ্ক থাকে। তাই ক্লিনজিংয়ের জন্য মৃদু উপাদান যেমন অ্যালোভেরা বা মধু ব্যবহার করা ভালো। স্কাবিং হালকা হওয়া উচিত। আপনি ফেসপ্যাক ব্যবহারের সময় টি জোনে মুলতানি মাটি এবং গালে মশ্চারাইজিং প্যাক লাগালে ভালো ফল পাবেন।
সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হয়। যে কোন উপাদান ব্যবহারের আগে টেস্ট করা অত্যন্ত জরুরি। ক্লিনজিংয়ের জন্য শসার রস এবং অ্যালোভেরা ব্যবহার করা নিরাপদ। স্কাবিং কম করতে হবে বা একবারে না করাই ভালো। ফেসপ্যাক হিসাবে দই, শসা ও গোলাপজল ব্যবহার করলে আপনার ত্বক ঠান্ডা ও আরামদায়ক হবে।

ফেসিয়াল করার সময় যে সব ভুল এড়িয়ে চলবেন:-

ফেসিয়াল ত্বকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  যা আপনার ত্বককে পরিষ্কার উজ্জ্বল ও সতেজ রাখতে সাহায্য করবে। তবে ফেসিয়াল করার সঠিক নিয়ম মেনে চলতে হবে, তাছাড়া উপকারের বদলে ক্ষতিও হতে পারে। এজন্য ফেসিয়াল করার সময় কিছু সাধারণ ভুল এড়িয়ে চলতে হবে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়াল করতে হবে। আপনি যদি অন্যের দেখে একই পদ্ধতি অনুসরণ করেন, যা আপনার ত্বকের জন্য উপযুক্ত নয়, তাহলে আপনার ক্ষতি হতে পারে। প্রতিটি ত্বকের আলাদা চাহিদা রয়েছে, তাই আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসিয়ালের জন্য উপযুক্ত উপাদান নির্বাচন করতে হবে।

অতিরিক্ত স্ক্যাবিং করা ত্বকের জন্য খুব ভালো না। স্ক্রাব ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ঠিকই, কিন্তু বেশি জোরে বা বেশি সময় ধরে করলে ত্বকের ক্ষতি হয়। লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। তাই সপ্তাহে এক থেকে দুইবার হালকা  স্ক্যাব করাই যথেষ্ট।

ত্বক পরিষ্কার না করে সরাসরি ফেসপ্যাক ব্যবহার করা ভুল। ফেসিয়ালের প্রথম ধাপ হচ্ছে ক্লিনজিং। যদি আপনার ত্বকের উপর ময়লা থাকে তাহলে প্যাক সঠিকভাবে কাজ করতে পারবে না। তাই সর্বপ্রথম মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিতে হবে। 

অনেকের ধারণা স্টিম বেশি নিলে ত্বক আরো পরিষ্কার হবে। কিন্তু এটি ভুল ধারণা, বেশি সময় স্টিম নিলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যেতে পারে এবং সংবেদনশীল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত পাঁচ থেকে সাত মিনিট স্টিম  নেওয়াই যথেষ্ট। কোন উপাদান ব্যবহার করতে হলে, আপনাকে প্যাচ টেস্ট করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে প্রাকৃতিক উপাদানেও ত্বকের এলার্জি তৈরি হতে পারে। তাই আগে হাতে বা অন্য কোন জায়গায় অল্প করে লাগিয়ে পরীক্ষা করে নেওয়া উচিত।

ফেসিয়ালের পরে ময়শ্চারাইজিং ব্যবহার না করাও একটি ভুল। ফেসিয়ালের পর আপনার ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই মশ্চারাইজার ব্যবহার করে ত্বকের আদ্রতা বজায় রাখা জরুরি।

ঘরোয়া-পদ্ধতিতে-ফেসিয়াল-করার-উপায়


ফেসিয়ালের পর কিভাবে যত্ন নিতে হয়:-

ফেসিয়ালের পর ত্বক সংবেদনশীল ও কোমল হয়ে যায়। এই জন্য সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। অনেকে ফেসিয়াল করার পর ত্বকের প্রতি অবহেলা করেন, যার কারণে ফেসিয়ালের উপকারিতা পুরোপুরি পাওয়া যায় না। সঠিকভাবে যত্ন নিলে আপনার ত্বক দীর্ঘ সময় উজ্জ্বল ও সুস্থ থাকবে। ফেসিয়ালের পর আপনার  ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। ফেসিয়ালের পর কমপক্ষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা মুখে কোন ভারি মেকআপ না করাই ভালো। এর ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এবং ব্রণ বা অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ত্বককে ভালোভাবে হাইড্রেট রাখতে হবে। ফেসিয়ালের পর দ্রুত আদ্রতা হারাতে পারে, তাই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে এবং ব্যবহার করতে হবে মশ্চারাইজার। যা আপনার ত্বকের কোমলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং শুষ্কতা প্রতিরোধ করে।

রোদ থেকে ত্বককে রক্ষা করতে হবে। ফেসিয়ালের পর ত্বক সূর্যের আলোতে বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই বাইরে যাওয়ার আগে আপনাকে সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। সম্ভব হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করতে হবে। এতে ত্বকের ক্ষতি  কম হয় এবং টান বা কালচে ভাব পরে না। এছাড়া ফেসিয়াল করার পর ত্বকে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েশন এড়িয়ে চলা।

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায় ফেসিয়ালের পর দুই থেকে তিন দিন স্ক্রাব ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ এতে আপনার ত্বক আরো সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে এবং লালচে ভাব বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করা এবং পর্যাপ্ত ঘুম,  ত্বকের যত্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলমূল ও পানি  বেশি পরিমাণ গ্রহণ করলে এবং নিয়মিত দুধ খেলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।   


লেখকের মন্তব্য:-

ঘরোয়া পদ্ধতিতে ফেসিয়াল করার উপায়, আমাদের চারপাশে অনেক সহজলভ্য প্রাকৃতিক উপাদান দিয়েই ত্বকের কার্যকর যত্ন নেওয়া সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে রাসায়নিক পণ্যের তুলনায় ঘরোয়া উপাদান বেশি নিরাপদ এবং উপকারী। একবার ফেসিয়াল করে স্থায়ী ফল পাওয়া যায় না। আপনি যদি ১৫ দিন পর পর ফেসিয়াল করেন, তাহলে আপনার ত্বক ধীরে ধীরে উন্নত হবে। সচেতন ভাবে সঠিক নিয়ম মেনে চললে, ঘরে বসেই পাওয়া যায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সেরা ফলাফল। 




এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪