উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাটার উপকারিতা, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক কার্যকলাপ রক্তচাপ কমাতে এবং
হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে সহায়তা করে। হাঁটা সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম।
শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী সাইকেল চালানো, সাঁতার ও যোগব্যায়ামও করতে পারেন।
নিয়মিত হাঁটা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এটি হৃদ্যন্ত্র সুস্থ রাখতে,
ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে ব্যায়াম ধীরে শুরু
করে পর্যায়ক্রমে তীব্রতা বাড়ানো উচিত।
সূচিপত্র
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যায়। একই সঙ্গে
হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতাও উন্নত হতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম সিস্টোলিক ও
ডায়াস্টোলিক—উভয় ধরনের রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য
ব্যায়াম দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। হাঁটা সবচেয়ে সহজ
ব্যায়ামগুলোর একটি। প্রতিদিন ৩০ মিনিট হাঁটা হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী। শুরুতে
ধীরগতিতে হাঁটা ভালো। পরে শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো
যায়।
দ্রুত হাঁটাও রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি
হাঁটা ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক চাপ কমাতেও ভূমিকা রাখে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা
শুধু হাঁটতেই পারবেন এমন নয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাটের
উপকারিতা, সাইকেল চালানোও একটি কার্যকর ব্যায়াম। এটি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা
বাড়াতে সাহায্য করে। সাঁতার শরীরের ওপর তুলনামূলক কম চাপ সৃষ্টি করে এবং পেশির
কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
যোগব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে শিথিল রাখতে সহায়ক। বিভিন্ন স্ট্রেচিং
ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামও মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে।
অ্যারোবিক ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করতে পারে। হালকা ওজন নিয়ে
ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়তে পারে। তবে উচ্চ রক্তচাপের
রোগীর ব্যায়াম হঠাৎ বেশি তীব্র হওয়া উচিত নয়। কম তীব্রতার ব্যায়াম দিয়ে শুরু
করা ভালো।
পরে ধীরে ধীরে সময় ও মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। ব্যায়ামের সময় কিছু সতর্কতা
মেনে চলা জরুরি। ব্যায়ামের আগে ও পরে রক্তচাপ পরীক্ষা করা যেতে পারে। সঠিক পোশাক
ও জুতা পরা উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে
ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। কিছু অবস্থায় ব্যায়াম থেকে বিরত থাকতে হতে
পারে। রক্তচাপ ১৮০/১১০ mmHg বা তার বেশি হলে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন থাকলেও সতর্ক থাকতে হবে। নতুন কোনো রক্তচাপের ওষুধ শুরু
করার পর হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে সাময়িকভাবে ব্যায়াম বন্ধ
রাখতে হতে পারে। ব্যায়ামের সময় বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা
অচেতন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করা উচিত। এরপর
চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বিশেষ
সতর্কতা দরকার।
জ্বর, সংক্রমণ, হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলেও ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত হাঁটা ও উপযুক্ত ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যায়ামের ধরন ও তীব্রতা ব্যক্তির বয়স, ওজন এবং শারীরিক
সক্ষমতার সঙ্গে মিলিয়ে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চ রক্তচাপে ব্যায়ামের গুরুত্ব
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়ামের গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ
রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করতে পারে। এটি শুধু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেই ভূমিকা রাখে না।
হৃদ্যন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক হতে পারে। তাই উচ্চ
রক্তচাপের রোগীদের দৈনন্দিন জীবনে উপযুক্ত ব্যায়াম রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত
ব্যায়াম সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক—দুই ধরনের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে
পারে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা, দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,
নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে রক্তচাপ ৫ থেকে ৭ mmHg পর্যন্ত কমতে পারে।
একই সঙ্গে ব্যায়াম হৃদ্যন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে
সহায়তা করে। এতে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। উচ্চ
রক্তচাপের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজনের সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম ওজন কমাতে এবং
স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকলে ক্যালরি খরচ হয়।
ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হতে পারে।
ব্যায়াম ইনসুলিনের প্রতি শরীরের সংবেদনশীলতা উন্নত করতেও সহায়ক। এতে রক্তে
শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য হতে পারে। মানসিক চাপও উচ্চ রক্তচাপের
সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপ মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য
করে। যোগব্যায়াম ও অন্যান্য উপযুক্ত ব্যায়াম শরীর ও মনকে শিথিল রাখতে সহায়ক
হতে পারে। হাঁটাও সহজ ও কার্যকর একটি ব্যায়াম।
তবে ব্যায়াম শুরু করার সময় নিজের শারীরিক সক্ষমতার দিকে নজর রাখা দরকার। বয়স,
ওজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের তীব্রতা নির্ধারণ করা উচিত। শুরুতেই বেশি চাপ
নেওয়া ঠিক নয়। কম তীব্রতার ব্যায়াম দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ানো
ভালো। নিয়মিত ও উপযুক্ত ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি
হৃদ্যন্ত্র, ওজন এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। তবে ব্যায়াম
শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
যেসব ব্যায়াম করা যায়
উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করতে
পারেন। তবে সবার জন্য একই ধরনের ব্যায়াম উপযুক্ত নাও হতে পারে। রোগীর বয়স, ওজন,
উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ব্যায়ামের মাত্রা নির্ধারণ করা উচিত।
হাঁটা একটি সহজ ও নিরাপদ ব্যায়াম। শুরুতে ধীরগতিতে হাঁটা যায়। পরে ধীরে ধীরে
গতি বাড়ানো যেতে পারে।
প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী। দ্রুত হাঁটাও
রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। সাইকেল
চালানোও ভালো ব্যায়াম হতে পারে। এটি একটি কার্ডিওভাসকুলার ব্যায়াম। সাইকেল
চালালে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়তে পারে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা, ফুসফুসের কার্যকারিতার উন্নতিতেও এটি সহায়ক।
প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট সাইকেল চালানোর কথা দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা
হয়েছে।
সাঁতারও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য একটি উপযুক্ত ব্যায়াম। এতে শরীরের ওপর
তুলনামূলক কম চাপ পড়ে। একই সঙ্গে পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে। সপ্তাহে দুই থেকে তিন
দিন প্রায় ৩০ মিনিট সাঁতার কাটা যেতে পারে। যোগব্যায়ামও করা যায়। এটি শরীরকে
শিথিল রাখতে এবং মনোযোগ বাড়াতে সহায়তা করে।
স্ট্রেচিং ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
হতে পারে। প্রতিদিন সকালে ২০ থেকে ৩০ মিনিট যোগব্যায়াম করার কথা উল্লেখ করা
হয়েছে। তবে ঝুঁকে পড়া বা অতিরিক্ত চাপ দিতে হয় এমন কিছু যোগব্যায়ামের
ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। অ্যারোবিক ব্যায়ামও করা যেতে পারে।
এটি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। জগিং, নাচ বা জাম্পিং জ্যাকস
এর উদাহরণ। তবে দ্রুত হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন উচ্চ তীব্রতার ব্যায়ামের
ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। হালকা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে মাংসপেশির শক্তি
বাড়তে পারে। এটি শরীরের ফিটনেস উন্নত করতেও সহায়ক। তবে ভারী ওজন তোলা এড়িয়ে
চলা উচিত। ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
হাঁটার উপকারিতা
হাঁটা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য সহজ একটি শারীরিক কার্যকলাপ। নিয়মিত হাঁটার
অভ্যাস রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। এর জন্য বিশেষ কোনো জটিল
ব্যায়ামের প্রয়োজন হয় না। নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী হাঁটা শুরু করা
যায়। হাঁটা হৃদ্যন্ত্র সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। নিয়মিত হাঁটলে
রক্ত সঞ্চালনের উন্নতি হতে পারে।
এর ফলে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে সাহায্য হয়। দ্রুত হাঁটা
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য
হাঁটা একটি কার্যকর ব্যায়াম হিসেবে বিবেচিত হয়। ওজন নিয়ন্ত্রণেও হাঁটার
উপকারিতা রয়েছে। নিয়মিত হাঁটা অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে
সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ ব্যবস্থাপনায় ওজন নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।
তাই দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার অভ্যাস রাখা উপকারী হতে পারে। হাঁটা শুধু শারীরিক
স্বাস্থ্যের জন্য নয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা, এটি
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। নিয়মিত হাঁটা মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা
কমাতে সাহায্য করতে পারে। ঘুমের মান উন্নত করতেও এর ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া হাঁটা
হাড় ও পেশি শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়মিত হাঁটা
ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর হতে পারে।
এটি হজমশক্তি ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
বাড়ানো এবং জীবনমান উন্নত করার ক্ষেত্রেও হাঁটার উপকারিতা রয়েছে। প্রতিদিন
প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটা যেতে পারে। তবে শুরুতেই দ্রুত হাঁটার প্রয়োজন নেই। প্রথমে
ধীরগতিতে শুরু করা ভালো। এরপর নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো
যায়। এভাবে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সামগ্রিক
স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
কতক্ষণ ব্যায়াম করা উচিত
উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য ব্যায়ামের সময় নির্ভর করে ব্যায়ামের ধরনের ওপর। সব
ব্যায়াম একই সময় ধরে করতে হয় না। নিজের বয়স, ওজন, উচ্চতা ও শারীরিক সক্ষমতা
বিবেচনা করা জরুরি। শুরুতেই দীর্ঘ সময় বা বেশি তীব্রতায় ব্যায়াম করা ঠিক নয়।
অল্প সময় দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো যেতে পারে। হাঁটা সবচেয়ে সহজ
ব্যায়ামগুলোর একটি। প্রতিদিন প্রায় ৩০ মিনিট হাঁটা যেতে পারে। প্রথম দিকে
ধীরগতিতে হাঁটা ভালো।
শরীর অভ্যস্ত হলে ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়ানো যায়। এতে শরীরের ওপর হঠাৎ
অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। সাইকেল চালানোর জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় রাখা
যেতে পারে। এটি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। সাঁতারের ক্ষেত্রে
সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন ব্যায়াম করা যায়। প্রতিবার প্রায় ৩০ মিনিট সাঁতার
কাটার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পেশির কার্যক্ষমতা বাড়ে এবং শরীরের ওপর
তুলনামূলক কম চাপ পড়ে।
যোগব্যায়ামের জন্য প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট সময় রাখা যেতে পারে। সকালে
যোগব্যায়াম করা যায়। স্ট্রেচিং ও শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়ামও এর অংশ হতে পারে।
এগুলো শরীর ও মন ভালো রাখতে সহায়তা করে। অ্যারোবিক ব্যায়ামের জন্য প্রতিদিন ২০
থেকে ৩০ মিনিট সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হালকা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে ১৫
থেকে ২০ মিনিট করা যেতে পারে।
তবে ভারী ওজন তোলা বা দ্রুত হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন উচ্চ তীব্রতার ব্যায়াম
এড়িয়ে চলা উচিত। ব্যায়ামের সময় নির্ধারণে তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়। কম
তীব্রতার কার্যকলাপ দিয়ে শুরু করা উচিত। এরপর শরীরের সক্ষমতা বুঝে ধীরে ধীরে
মাত্রা বাড়ানো যায়। কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্যায়াম কিভাবে শুরু করবেন
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ব্যায়াম শুরু করার সময় সতর্ক থাকা দরকার। শুরুতেই কঠিন
বা বেশি তীব্র ব্যায়াম করা উচিত নয়। প্রথমে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বুঝতে হবে।
বয়স, ওজন, উচ্চতা ও বর্তমান শারীরিক অবস্থার ওপর ব্যায়ামের মাত্রা নির্ভর করে।
তাই ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। প্রথম দিকে কম
তীব্রতার ব্যায়াম বেছে নেওয়া উচিত। হাঁটা দিয়ে শুরু করা সহজ হতে পারে। প্রথমে
ধীরগতিতে হাঁটতে হবে।
শরীর অভ্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গতি বাড়ানো যায়। এভাবে ধীরে এগোলে
হৃদ্স্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। সাইকেল চালানো, সাঁতার ও
যোগব্যায়ামও করা যেতে পারে। তবে প্রতিটি ব্যায়াম নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী করতে
হবে। যোগব্যায়ামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া বা শরীরে বেশি চাপ পড়ে এমন
ভঙ্গিতে সতর্ক থাকা দরকার। ভারী ওজন তোলা এবং উচ্চ তীব্রতার ব্যায়াম থেকেও দূরে
থাকা উচিত।
ব্যায়ামের আগে ও পরে রক্তচাপ পরীক্ষা করা যেতে পারে। ব্যায়ামের সময় আরামদায়ক
পোশাক ও উপযুক্ত জুতা পরা দরকার। পর্যাপ্ত পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যায়ামের মাত্রা একবারে বাড়ানো ঠিক নয়। শরীরের সঙ্গে মানিয়ে ধীরে ধীরে সময়
ও তীব্রতা বাড়াতে হবে। ব্যায়াম করার সময় শরীরের অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা
জরুরি। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা অচেতন হওয়ার মতো সমস্যা দেখা
দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা, এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ
নিতে হবে। নিয়ম মেনে ধীরে ব্যায়াম শুরু করলে শরীর নতুন কার্যকলাপের সঙ্গে
মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পায়। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীর ক্ষেত্রে নিজের সক্ষমতা
বুঝে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে ব্যায়াম শুরু করা উচিত।
ব্যায়ামের সময় সতর্কতা
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ব্যায়াম করার সময় সতর্ক থাকা জরুরি। ব্যায়াম
স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে নিজের শারীরিক অবস্থা না বুঝে বেশি পরিশ্রম করা
ঠিক নয়। রোগীর বয়স, ওজন, উচ্চতা ও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের তীব্রতা ঠিক
করা উচিত। প্রয়োজনে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ব্যায়ামের আগে ও পরে রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত।
এতে রক্তচাপের পরিবর্তন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। ব্যায়ামের জন্য আরামদায়ক
ও স্বাস্থ্যসম্মত পোশাক ও জুতা ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
শরীরের ওপর একবারে বেশি চাপ না দেওয়াই ভালো। ব্যায়ামের মাত্রা ধীরে ধীরে
বাড়াতে হবে। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের দ্রুত হৃদ্স্পন্দন বাড়ায় এমন
কার্যকলাপের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। দৌড়ানো, ভারী ওজন তোলা,
প্রতিযোগিতামূলক মাঠের খেলা এবং উচ্চ তীব্রতার ব্যায়াম এড়িয়ে চলার কথা বলা
হয়েছে।
কিছু যোগব্যায়ামেও সতর্কতা দরকার। বিশেষ করে যেসব ভঙ্গিতে বেশি ঝুঁকতে বা
শরীরে চাপ দিতে হয়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার উপকারিতা,
ব্যায়ামের সময় শরীরের প্রতিক্রিয়ার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। কোনো অস্বস্তি
হলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত মাথা ঘোরা দেখা
দিলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে। অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি
তৈরি হলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
নতুন কোনো রক্তচাপের ওষুধ শুরু করার পর কিছু মানুষের রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে
পারে। ওষুধের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিলে সাময়িকভাবে ব্যায়াম থেকে বিরত থাকা
উচিত। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। জ্বর,
সংক্রমণ, হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া দরকার। তাই উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ব্যায়ামের উপকার পাওয়ার
পাশাপাশি নিরাপত্তার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
কখন ব্যায়াম করা যাবে না
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ব্যায়াম উপকারী। তবে কিছু অবস্থায় ব্যায়াম করা
ঠিক নয়। শরীরের অবস্থা ভালো না থাকলে ব্যায়াম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে
পারে। এমন পরিস্থিতিতে জোর করে শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত নয়। রক্তচাপ খুব বেশি
থাকলে ব্যায়াম করা যাবে না। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তচাপ ১৮০/১১০ mmHg বা
তার বেশি হলে ব্যায়াম থেকে বিরত থাকা উচিত।
এ অবস্থায় আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে
অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া থাকলেও ব্যায়াম করা ঠিক নয়। এ ধরনের
সমস্যায় হৃদ্যন্ত্রের অবস্থার দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। তাই নিজের সিদ্ধান্তে
ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা নেওয়া উচিত। নতুন কোনো রক্তচাপের
ওষুধ শুরু করার পরও সতর্ক থাকতে হবে।
কিছু ওষুধের কারণে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যেতে পারে। নতুন ওষুধ গ্রহণের পর এমন
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সাময়িকভাবে ব্যায়াম বন্ধ রাখতে হবে। ব্যায়াম
করার সময় বুকব্যথা হলে আর ব্যায়াম চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। শ্বাসকষ্ট,
অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলেও সঙ্গে সঙ্গে
থামতে হবে।
এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বিশেষ
সতর্কতা প্রয়োজন। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যায়াম করা ঠিক নয়।
একইভাবে জ্বর বা সংক্রমণ থাকলেও ব্যায়াম থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। হৃদ্রোগ
বা কিডনির সমস্যা থাকলে ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা
প্রয়োজন। নিজের শারীরিক অবস্থা না বুঝে ব্যায়াম করলে সমস্যা হতে পারে। তাই
কখন ব্যায়াম করা যাবে এবং কখন বিরতি নিতে হবে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
ব্যায়ামের সময় সমস্যা হলে করণীয়
উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ব্যায়াম উপকারী। তবে কিছু অবস্থায় ব্যায়াম করা
ঠিক নয়। শরীরের অবস্থা ভালো না থাকলে ব্যায়াম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হতে
পারে। এমন পরিস্থিতিতে জোর করে শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত নয়। রক্তচাপ খুব বেশি
থাকলে ব্যায়াম করা যাবে না। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তচাপ ১৮০/১১০ mmHg বা
তার বেশি হলে ব্যায়াম থেকে বিরত থাকা উচিত।
এ অবস্থায় আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে
অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন বা অ্যারিদমিয়া থাকলেও ব্যায়াম করা ঠিক নয়। এ ধরনের
সমস্যায় হৃদ্যন্ত্রের অবস্থার দিকে বিশেষ নজর দিতে হয়। তাই নিজের সিদ্ধান্তে
ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা নেওয়া উচিত। নতুন কোনো রক্তচাপের
ওষুধ শুরু করার পরও সতর্ক থাকতে হবে। কিছু ওষুধের কারণে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যেতে
পারে। নতুন ওষুধ গ্রহণের পর এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সাময়িকভাবে
ব্যায়াম বন্ধ রাখতে হবে। ব্যায়াম করার সময় বুকব্যথা হলে আর ব্যায়াম চালিয়ে
যাওয়া উচিত নয়।
শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা অচেতন হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলেও
সঙ্গে সঙ্গে থামতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। গর্ভাবস্থায়
উচ্চ রক্তচাপ থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া
ব্যায়াম করা ঠিক নয়। একইভাবে জ্বর বা সংক্রমণ থাকলেও ব্যায়াম থেকে বিরত
থাকতে হতে পারে। হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে ব্যায়াম শুরু করার আগে
চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। নিজের শারীরিক অবস্থা না বুঝে ব্যায়াম করলে
সমস্যা হতে পারে। তাই কখন ব্যায়াম করা যাবে এবং কখন বিরতি নিতে হবে, সে বিষয়ে
সতর্ক থাকা জরুরি।
লেখকের মন্তব্য
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে
পারে। হাঁটা সহজ ও নিরাপদ ব্যায়ামগুলোর একটি। এর পাশাপাশি সাইকেল চালানো,
সাঁতার ও যোগব্যায়ামও করা যেতে পারে। এসব শারীরিক কার্যকলাপ রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যায়াম ও হাঁটার
উপকারিতা, একই সঙ্গে হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যায়াম করার ক্ষেত্রে নিজের শারীরিক সক্ষমতা বুঝতে হবে।
সবার জন্য একই ধরনের বা একই মাত্রার ব্যায়াম উপযুক্ত নয়। বয়স, ওজন, উচ্চতা ও
সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যায়ামের তীব্রতা নির্ধারণ করা উচিত। শুরুতেই কঠিন ব্যায়াম
না করে ধীরে শুরু করা ভালো। এরপর শরীরের সঙ্গে মানিয়ে ব্যায়ামের মাত্রা
বাড়ানো যেতে পারে। ব্যায়ামের সময় সতর্ক থাকাও জরুরি। ব্যায়ামের আগে ও পরে
রক্তচাপ পরীক্ষা করা যেতে পারে। সঠিক পোশাক ও জুতা ব্যবহার করতে হবে। পর্যাপ্ত
পানি পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
কোনো অস্বস্তি দেখা দিলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। রক্তচাপ খুব বেশি থাকলে বা
অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা থাকলে ব্যায়ামের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা
দরকার। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত মাথা ঘোরা বা অচেতন হওয়ার মতো সমস্যা
দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই ভালো
হয়। নিয়মিত ও উপযুক্ত ব্যায়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে
পারে। তবে নিরাপদভাবে ব্যায়াম করাই গুরুত্বপূর্ণ। নিজের শারীরিক অবস্থা বুঝে
এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

.webp)
.webp)
রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url