উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক

 

উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বর্তমান সময় বিশ্বের জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা বলা যেতে পারে। এ রোগের শুরুতে কোন স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না, তাই দীর্ঘদিন যাবত, এই রোগ শরীরে বাসা বেঁধে থাকলেও অনেকে অনুভব করতে পারে না।

উচ্চ-রক্তচাপ-কত-হলে-বিপদজনকরক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এতে হৃদপিণ্ডকে বেশি পরিশ্রম করতে হয় না, রক্তনালীর উপর চাপও বাড়ে না। যার ফলে আমাদের শরীর সুস্থ থাকে এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।

সূচিপত্র

রক্তচাপ যদি ২ মিনিটের ব্যবধানে দুইবার মাপার পর সিস্টোলিক ১৮০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি এবং ডায়েস্টোলিক ১২০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি পাওয়া যায় তাহলে এটি বিপদজনক অবস্থা হিসাবে ধরে নেওয়া হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বা নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বা নিজের ইচ্ছামত রক্তচাপের ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন বা বন্ধ করা যাবে না।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ সাধারনত ১২০/ ৮০ মিলিমিটার পারদের  নিচে থাকে। রক্তচাপ ১৪০ / ৯০ মিলিমিটার বা তার বেশি হলে সেটিকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর স্বাভাবিক ও উচ্চ রক্তচাপের মাঝামাঝি অবস্থাকে প্রাক- উচ্চ রক্তচাপ বলা হয়। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে রক্তচাপের মূল্যায়নে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে। কিছু  ক্ষেত্রে ৬০ বছরের বেশি ব্যক্তিদের ১৫০/ ৯০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি রক্তচাপকে উচ্চ রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সবার প্রতিদিন বা বারবার রক্তচাপ মাপার প্রয়োজন হয় না। কিন্তু মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, শ্বাসকষ্ট বা এ ধরনের কোন উপসর্গ দেখা দিলে রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ সাধারনত ১২০/৮০ মিলিমিটার পারদের নিচে থাকে। এখানে উপরের সংখ্যাকে সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং নিচেরটাকে ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ বলা হয়। এই দুটির মান স্বাভাবিক সীমার মধ্যে থাকলে তাকে স্বাভাবিক রক্তচাপ বলা হয়।

রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো একক কারণ চিহ্নিত করা না গেলেও, জীবন যাপনের কিছু অভ্যাসের কারণে  রক্তচাপ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। যেমন অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, তেল চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া, কায়িক পরিশ্রম না করা ইত্যাদি। উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে শরীরের অনেক ধরনের জটিলতা ও ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এই রোগের কারণে হৃদপিন্ডের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। হার্ট অ্যাটাক, হৃদ যন্ত্রের অকার্যকারিতা, স্ট্রোক, কিডনির ক্ষতি এবং চোখের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।

অনেক সময় কোন লক্ষণ প্রকাশ না পেলেও, ভিতরে ভিতরে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে। মাথাব্যথা, বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট,  দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, ঘাড় ব্যথা, কথা বলতে সমস্যা হওয়া এবং হাত পা অবশ হয়ে যাওয়া। এসব লক্ষণ উচ্চ রক্তচাপের জরুরি অবস্থা ইঙ্গিত করে। এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে চাইলে আপনাকে জীবনযাপনের পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে।

খাবারের লবণ কমাতে হবে, নিয়মিতভাবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় শাকসবজি এবং ফলমূল রাখতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করা উচিত। অনেকে আছেন, রক্তচাপ স্বাভাবিক দেখলে ঔষধ বন্ধ করে দেন যা পরবর্তীতে বিপজ্জনক হতে পারে। নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী ঔষধ সেবন বা বন্ধ করা যাবে না।

স্বাভাবিক রক্তচাপ কত হওয়া উচিত

একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০ mmHg এর নিচে থাকে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই মাত্রা প্রযোজ্য হয় না। বয়স লিঙ্গ জীবন যাপনের ধরন এবং আগে থেকে থাকা কোন শারীরিক সমস্যার কারণে স্বাভাবিক রক্তচাপের মান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট রক্তচাপের রিডিং দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বরং দীর্ঘ সময় ধরে রক্তচাপ স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রয়েছে কিনা সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপের মাত্রা সাধারণত কয়েক শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। ১২০ / ৮০ mmHg এর নিচে থাকলে তা স্বাভাবিক রক্তচাপ হিসেবে ধরা হয়।

যদি সিস্টোলিক ১২০ থেকে ১২৯ এর মধ্যে থাকে এবং ডায়াস্টোলিক ৮০ mmHg এর নিচে থাকে তাহলে সেটিকে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি বা উচ্চমাত্রার রক্তচাপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর ১৪০/৯০ mmHg বা তার বেশি হলে সেটি উচ্চ রক্তচাপের পর্যায়ে পড়ে। বয়স ভেদেও স্বাভাবিক রক্তচাপের বর মান কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে গড়চাপ প্রায় ১১০/৬৮ mmHg এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ১১৯/৭০ mmHg  দেখা যায়। উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, ৪০ থেকে ৫৯ বছর বয়সের নারীদের গড় চাপ প্রায় ১২২/৭৪ mmHg. আর পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ১২৪/৭৭ mmHg হতে পারে।

অন্যদিকে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে গড় রক্তচাপ তুলনামূলক কিছুটা বেশি দেখা যায়। এ বয়সে নারীদের উপর রক্তচাপ প্রায় ১৩৯/৬৮ mmHg এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রায় ১৩৩/৬৯ mmHg হতে পারে। মনে রাখতে হবে এগুলো গড় বা নির্দেশনামূলক মান কোন ব্যক্তির রক্তচাপ এই মানের সামান্য কম বা বেশি হলেই যে তিনি অসুস্থ এমনটি নয়। রক্তচাপের সঠিক মূল্যায়নের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

রক্তচাপ কেন বেড়ে যায়

উচ্চ রক্তচাপের পেছনে সুনির্দিষ্ট ভাবে একক কোনো কারণকে দায়ী করা যাবে না। এই সমস্যা একদিনে তৈরি হয় না। সাধারণত দৈনন্দিন জীবন যাপনের কিছু অনিয়ম এবং শারীরিক অবস্থার কারণে ধীরে ধীরে এ সমস্যা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস, পারিবারিকভাবে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস এবং  অতিরিক্ত ওজন বা স্থলতা এ রোগের ঝুঁকে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার, বেশি তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার, ধূমপান, মদ্যপান, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং শরীরে পটাশিয়ামের স্বল্পতা রক্তচাপের অন্যতম কারণ হিসাবে ধরে নেওয়া যেতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অনিয়মিত জীবনযাপনও উচ্চ রক্তচাপে ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। অনেক মানুষের ক্ষেত্রে জীবন যাপনের এই অভ্যাস গুলোই উচ্চ রক্তচাপের প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়। তবে কিছু ক্ষেত্রে অন্য শারীরিক সমস্যার কারণেও এই রোগ দেখা দিতে পারে। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার, জন্মগত রক্তনালীর ত্রুটি এবং অ্যামফিটামিন বা কোকেনের মত কিছু মাদকের ব্যবহার  উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। 

উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা ও ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এটি শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে এবং প্রাণঘাতী জটিলতার ঝুঁকিও অনেক বেড়ে যায়। প্রথমেই রক্তনালী ও হৃদপিন্ডের উপর এর প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, হৃদপিন্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনী গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, হার্ড ফেইলিওর, অ্যাথেরোস্কলেরোসিস এবং অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজমের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে হৃদ পেশি পুরু হয়ে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়। 
উচ্চ-রক্তচাপ-কত-হলে-বিপদজনক
মস্তিষ্কের ক্ষেত্রেও উচ্চ রক্তচাপ গুরুতর ক্ষতিকর কারণ হতে পারে। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্ট্রোক, ভাস্কুলার, ডিমেনশিয়া এবং ধীরে ধীরে স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির অবনতি ঘটতে পারে। আবার রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়া বা রক্তনালী ফেটে গেলে মস্তিষ্কের টিস্যুর স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ক্রমাগত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির ক্ষুদ্র রক্তনালী গুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যার ফলে দীর্ঘ মেয়াদী কিডনি রোগ এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে থাকে এবং গুরুতর অবস্থায় ডায়ালাইসিস বা কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ চোখের রেটিনার সূক্ষ্ম রক্তনালীরও ক্ষতি করতে পারে। এতে দৃষ্টি ঝাপসা দেখা, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া এবং চিকিৎসা না হলে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস বা অন্ধের মত জটিলতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে হাত পায়ের ধমনী সংকুচিত হয়ে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ ( PAD ) হতে পারে। যার কারণে রক্ত প্রবাহ কমে যায়। হাঁটার সময় ব্যথা অনুভূত হয় এবং গুরুত্বর ক্ষেত্রে টিস্যুর ক্ষতি হয়ে অঙ্গ ছেদের প্রয়োজনও হতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, রক্তচাপ হঠাৎ যদি ১৮০ / ১২০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হয়ে যায় তাহলে এটিকে উচ্চ রক্তচাপ জনিত সংকট হিসেবে ধরা হয়। এই সময় তীব্র মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও বিভ্রান্তির মত উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটি একটি জরুরী চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং দ্রুত চিকিৎসা না নিলে অঙ্গ-প্রতঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি বা মৃত্যুর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ ধীরে ধীরে ধমনী গুলোকে শক্ত ও সংকুচিত করে। 

ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলোতে অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হয়। অনেক সময় কোন লক্ষণ প্রকাশের আগেই এই ক্ষতি নিরবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। অনিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকলতা, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস, যৌন অক্ষমতা এবং মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। তাই জটিলতা এড়াতে নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী।

কখন দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে

রক্তচাপের কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরী। রক্তচাপ যদি ১৮০ / ১২০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি হয় এবং এর সঙ্গে তীব্র মাথাব্যথা, বুক ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, বিভ্রান্তি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, শরীরের কোন অংশ দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়ার মত উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যেতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, এটি উচ্চ রক্তচাপ জনিত জরুরি অবস্থা হতে পারে।
উচ্চ-রক্তচাপ-কত-হলে-বিপদজনক
যদি কয়েক দিন ধরে বারবার রক্তচাপ ১৬০ / ১০০ মিলিমিটার পারদ বা তার বেশি থাকে অথবা মাথা ঘোরা, বারবার মাথাব্যথা, কিংবা বুক ধড়ফড় করার মতন সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একইভাবে গর্ভবস্থায়, কিডনির রোগ, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে রক্তচাপ বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। রক্তচাপ সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য প্রতিবার অন্তত দুবার মাপা এবং  প্রয়োজনে ভিন্ন দিনে আবার পরীক্ষা করা উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবন করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত কিছু অভ্যাস অনুসরণ করলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা যায়, এমনকি ভবিষ্যতের জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

অতিরিক্ত ওজন হৃদ যন্ত্রের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। যার ফলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, তাই স্বাস্থ্য কর ওজন ধরে রাখার চেষ্টা করুন, অল্প কিছু ওজন কমলেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

নিয়মিত ব্যায়াম ও হাঁটার অভ্যাস করুন

প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা অন্যান্য ব্যায়াম করলে হৃদযন্ত্র আরও ভালো কাজ করতে পারে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্ত প্রবাহ উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস অনুসরণ করুন

প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধ জাত খাবার পাশাপাশি বিট, তরমুজ, ওটস, লবনের বাদাম, বীজ, সাইট্রাস জাতীয় ফল এবং ওমেগা থ্রি সমৃদ্ধ মাছ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন। এসব খাবারের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রক্তনালির কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

লবণ ও সোডিয়াম কম গ্রহণ করুন

খাবারে অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং কম সোডিয়ামযুক্ত খাবার বেছে নিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করুন, কারণ এগুলোতে সাধারণত সোডিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে।

অ্যালকোহল পরিহাল করুন

অ্যালকোহল রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে তাই অ্যালকোহল পরিত্যাগ করা উচিত।

ধূমপান ত্যাগ করুন

ধূমপান রক্তচাপের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ গুলোর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই সুস্থ থাকার জন্য ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরী।

মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

অতিরিক্ত মানসিক চাপ রক্তচাপ বৃদ্ধির একটি কারণ হতে পারে। ধ্যান, যোগব্যায়াম, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং মন শান্ত রাখার অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

সতর্কতা

এসব উপায় উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহায়ক হলেও, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দেওয়া ওষুধের বিকল্প নয়। নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী রক্তচাপের ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। এছাড়া  খাদ্য তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার আগে ডাক্তার অথবা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া নিরাপদ।

ডাক্তারের পরামর্শ

উচ্চ রক্তচাপকে অনেকেই প্রথমে ছোট বা সাময়িক সমস্যা মনে করে তেমন গুরুত্ব দেন না, কিন্তু এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদী রোগ, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সঠিক জীবন যাপনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। যদি আপনার শরীরে একবার উচ্চ রক্তচাপ ধরা পড়ে, তাহলে আপনাকে নিয়মিতভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখলে, রক্তচাপের সঙ্গে আপনার শরীরে অন্য কোন রোগ আছে কিনা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বুঝে ডাক্তার চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন।

নিয়মিত ফলো-আপের মাধ্যমে রক্তচাপের পরিবর্তন ও পর্যবেক্ষন করা প্রয়োজন। এতে রোগীর শরীরের পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি বা ওষুধের পরিবর্তন করতে পারেন। কারণ সবার জন্য একই ধরনের চিকিৎসা বা একই মাত্রার ওষুধ উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই অন্যের পরামর্শ বা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ঔষধ ব্যবহার না করায় উচিত।

লেখকের মন্তব্য

উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব প্রাণঘাতী রোগ। আমরা যদি প্রাত্যহিক জীবনে স্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস, সঠিক জীবন যাপন পদ্ধতিতে চলাফেরা করি তাহলে অনেকটাই এই রোগের জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ কত হলে বিপদজনক, বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায়, অসুস্থ হওয়ার পরে বা রোগটি শরীরে বাসা বাঁধার পরে আমরা সচেতন হই। কিছুদিন বা জীবনের কিছু সময় অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে না।

দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনের ফলে আমাদের এই রোগের জটিলতায় পড়তে হয়। অতএব অসুস্থ হওয়ার আগে যদি সুস্থতার মূল্যায়ন করি, তাহলে উচ্চ রক্তচাপের জটিলতা থেকে নিজেকে রক্ষা করা সহজ হয়। উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং এর ঝুঁকি বা জটিলতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রোগ সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

ছোট ছোট  স্বাস্থ্যকর অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিতে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতি গুরুত্ব দিন, সচেতন থাকুন এবং প্রয়োজন হলে দেরি না করে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। আপনি সুস্থ থাকতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস, সঠিক জীবন যাপন এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url