কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়
উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল মানেই মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপদজনক। প্রয়োজনের তাগিদে বর্তমান সময়ে মানুষ তার জীবনকে অনেকটা যান্ত্রিক করে দিয়েছে। দৈহিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কোলেস্টেরল কমানো ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান রাখতে হবে।
এটি এক ধরনের চর্বি জাতীয় পদার্থ। এটি শরীরের কোষ গঠন এবং হরমোন তৈরিতে
সাহায্য করে কিন্তু মাত্রা অতিরিক্ত হয়ে গেলে অনেক ক্ষতিকর হয়ে
দাঁড়ায়।
সূচিপত্র:-
- এর প্রকারভেদ
- কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
- কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে যে ক্ষতি হয়
- অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্য অভ্যাস
- এর বৃদ্ধির কারণ
- এটা থেকে মুক্তির উপায়
- লেখকের মন্তব্য
কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায় :-
কোলেস্টেরল শরীরে উৎপাদিত একটি চর্বি জাতীয় পদার্থ। এই উপাদানটি প্রতিটি
মানুষেরই আছে বা জীবনের জন্য এটি দরকার। এই মমের মত উপাদান যা লিভার থেকে
উৎপন্ন হয়। শরীর সুস্থ রাখার জন্য এর বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব রয়েছে। কোষের
ঝিলে গঠনে এর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে , ভিটামিন ডি এবং হরমোন তৈরিতে এর
বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। শরীরে অতিরিক্ত কোলেস্টরেল দেখা দেওয়ার আগ থেকে আমরা
যদি কোলেস্টরেল কমানোর ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করে থাকি। তাহলে সেটা আমাদের
জীবনের জন্য অনেক সুফল বয়ে নিয়ে আসবে। কিন্তু রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তখনও সমস্যা শুরু হয়। আমাদেরকে মনে রাখতে হবে
কোলেস্টেরল খারাপ জিনিস না কিন্তু রক্তে এই চর্বির মাত্রা বেড়ে গেলেই তখনই
বিপদজনক হয়ে ওঠে।
কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়ে প্রতিদিনের খাবারের প্রতি আমাদেরকে
যথেষ্ট সচেতন হতে হবে । সজাগ সচেতন ভাবে দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য তালিকা
প্রস্তুত করতে হবে তবেই অতিরিক্ত কোলেস্টেরল মুক্ত জীবনযাপন করা যাবে। এমন
ধরনের প্রোটিন খেতে হবে যেটাতে চর্বি নেই শাকসবজি ফল আর আঁশ জাতীয় খাবার
কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়ে সাহায্য করে, হৃদরোগের জন্য জলপাই তেল
খাবার তালিকায় রাখা যেতে পারে। ভালো কোলেস্টেরল এইচডি। এই কোলেস্টেরল
রক্তনালী থেকে অতিরিক্ত চর্বি সংগ্রহ করে লিভারে পাঠায়, যারফলে হৃদরোগের
ঝুঁকি কমে যায় ।
ওটস ,বাদাম, মসুর ডাল দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার প্রতিনিয়ত আমাদের
খেতে হবে । কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়ে শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা
বৃদ্ধি করতে পারলে খারাপ কোলেস্টেরল ধমনীতে প্লাক তৈরি করতে পারে না, এতে
হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায় । এদিকে ভালো কোলেস্টেরল রক্ত থেকে খারাপ
কোলেস্টেরলকে বের করতে সাহায্য করে। কোলেস্টরেল কমানোর জন্য ঘরোয়া উপায়ে
যেসব সবজিতে ভিটামিন সি ও বিটা ক্যারোটিন রয়েছে সেগুলো বেশি খেতে হবে, ননী
যুক্ত দুগ্ধ জাত খাবার পরিমাণে কম খেতে হবে , জলপাইয়ের তেলে আছে
আনসেচুরেটেড অ্যাসিড ও ভিটামিন ই। জলপাই তেলের এই উপাদানটি খারাপ কলেস্টরেল
কমাতে এবং ভালো কোলেস্টরেল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কোলেস্টরেল কমানোর জন্য যে
খাবারগুলি আমাদের হাতের কাছে থাকে। আসুন আমরা জেনে নেই তার উপকারের গুনাগুন ,
ওমেগা ৩ কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায়ে যথেষ্ট পরিমাণ ভূমিকা পালন করে
,কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী এই খাবারটা আমরা খাই না,
সামুদ্রিক মাছে ওমেগা ৩ আছে।
সিম জাতীয় খাদ্য জলপাই ইত্যাদির মধ্যে ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায়। কোলেস্টরেল
কমানোর ঘরোয়া উপায়ের মধ্যে রসুন পেঁয়াজটাকেও আমরা রাখতে পারি।
প্যাকেট জাত খাবার খাবেন না , ভাজাপোড়া খাবার খাবেন না, প্রচুর পরিমাণে
শাক-সবজি খাবেন ফলমূল খাবেন আপনি ভালো থাকবেন। কোলেস্টেরল কমানো ঘরোয়া
উপায়ে খাদ্য তালিকার মধ্যে আপনি ইচ্ছা করলে আরো কিছু খাবার রাখতে পারেন
যেমনটি আমলকি, জিরে, ধনে, মৌরি, মধু, গ্রিন টি । আমরা অলস জীবন যাপন না করে
দেহকে সুস্থ রাখার জন্য প্রতিদিন নিয়মিত ভাবে ব্যায়াম করতে পারি ।
দৈহিক ক্যালরি ক্ষয় করার জন্য পরিশ্রম করতে পারি। এই ক্যালোরি ক্ষয়
করার মাধ্যমে আমরা দেহকে অনেকটা কোলেস্টেরল মুক্ত করতে পারি।
এর প্রকারভেদ:-
কোলেস্টরেল রক্তনালীর দেওয়ালের জমে এক ধরনের প্ল্যাক তৈরি করে এতে
রক্তনালী শুরু হয়ে যায়
তখন হার্টে রক্ত ও অক্সিজেনের প্রবাহ কমে যায়। এতে হার্ট অ্যাটাকের
সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কোলেস্টরেল আমাদের শরীরের জন্য যেমন দরকার তেমন আবার
ক্ষতিকর। কোলেস্টেরল সম্পর্কে জানতে হলে কোলেস্টরলের বিভিন্ন ধরন সম্পর্কে
আগে আমাদেরকে জানতে হবে কোলেস্টোরে সাধারণত তিন ধরনের হয়ে থাকে (১)
ট্রাই গ্লিসারাইড ( ২) LDL (৩) HDL
- LDL :- এটাকে খারাপ কোলেস্টেরল হিসেবে ধরা হয় উচ্চমাত্রার এই কোলেস্টেরল আপনার ধমনীতে প্ল্যাক তৈরি করতে পারে যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় ।
- HDL :- এটা ভালো কোলেস্টেরল হিসেবে পরিচিত । রক্ত থেকে এই কোলেস্টেরল LDL কোলেস্টেরলকে বের করে দেয়। HDL কোলেস্টেরলটা আপনার জন্য ভালো।
- ট্রাই গ্লিসারাইড :- এই কোলেস্টেরলটা হচ্ছে রক্তের অন্য ধরনের আরেকটা চর্বি জাতীয় পদার্থ। এর উচ্চমাত্রা হৃদরোগের ঝুঁকির জন্য অনেকটা দায়ী হতে পারে ।
কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় :-
অতিরিক্ত কোলেস্টরেল আমাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর। সচেতনতার অভাবে আমরা
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করি এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাস হয়ে ওঠে
আমাদের জীবনসঙ্গী। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য অভ্যাসের কারণে আমাদের শরীরে
কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত কোলেস্টেরল আমাদের
শরীরে মরণ ব্যাধিকে বাসা বাঁধতে সহায়তা করে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্য
অভ্যাসের কারণে আমাদের শরীরে যে অসুখগুলো দেখা দেয় তার
মধ্যে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়াটাই বড় সমস্যা ।
আমাদের শরীরে কোলেস্টেরলের প্রয়োজন নেই তা কিন্তু না। অবশ্যই প্রয়োজন
আছে, কিন্তু সেটার পরিমাপ অনুযায়ী।
ভালো খারাপ দুই ধরনের কোলেস্টরলের মধ্যে, ভালো কোলেস্টেরল আমাদের শরীরের
জন্য প্রয়োজন। কিন্তু ভালো কোলেস্টেরলের চেয়ে
খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেড়ে গেলেই তখন সেটা আমাদের
শরীরের জন্য বা আমাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই খারাপ
কোলেস্টেরল অতিরিক্ত হয়ে গেলে তখন আমাদের শরীরে নানান ধরনের সমস্যা দেখা
দেয়। খারাপ কোলেস্টেরলকে আপনি একটি নালার সঙ্গে অথবা আবর্জনায় পরিপূর্ণ
একটি পথের সঙ্গে তুলনা করতে পারেন। নালার মাধ্যমে যেমনটি বাসা
বাড়ির বাসনপত্র ধোয়ার পানি এবং পয়ঃনিষ্কাশন নদীতে অথবা খালে গিয়ে
পড়ে।
ঠিক তেমনি খারাপ কোলেস্টেরলের মাধ্যমে আপনার শরীরে নানা ধরনের রোগ বাসা
বাঁধতে পারে বা বাঁধে। তাহলে আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে খারাপ
কোলেস্টেরলের মাত্রা যেন বেড়ে না যায় । কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে
চোখের নিচে হলুদাভ দেখা দিতে পারে। রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে
গেলে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন হতে পারে। এতে স্ট্রোক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ,
স্ট্রোক, ধমনী সংক্রান্ত নানান ধরনের রোগের কারণ হতে পারে। এজন্য
কোলেস্টরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরী ।
সাধারণত আমরা ধরেনি জন্ডিস হলে চোখের নিচে হলুদ ভাব হয় তা কিন্তু না।
কোলেস্টেরলের বেশি মাত্রা থাকলেও চোখে হলুদ ভাব দেখা দেয়।
এটার কারণে কোন কিছু দেখতে সমস্যা হয় না , কিন্তু এটা
বেশিদিন থাকলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে
হালকা কাজ করলেই শরীর ক্লান্ত হয়ে যায় । এর মূল কারণ হচ্ছে
রক্তনালিতে কোলেস্টেরল জমে গিয়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় , রক্ত
সঠিকভাবে চলাচল করতে না , শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন
পৌঁছায় না, ফলে শরীরে দুর্বলতা দেখা দেয়। অনেক সময় বুকে
অস্বস্তি এবং হালকা ব্যথাও দেখা দিতে পারে। এ ধরনের সমস্যা
হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়। শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে
গেলে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে না। যার ফলে মাথাব্যথা, মাথা
ঘোরা, চোখে অন্ধকার দেখার মতন সমস্যাও দেখা দেয়।
কোলেস্টরলের মাত্রা বেড়ে গেলে পায়ে ঝিনঝিন অনুভূতি দেখা দেয়।
রক্তনালীতে চর্বি জমে যাওয়ার কারণে, হাত পায়ে রক্ত সঞ্চালন কমে
যায়। কিছু কিছু মানুষের ত্বকের নিচে হলুদ দাগ দেখা
দেয়। বিশেষ করে চোখের পাতার আশেপাশে। রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা বেড়ে
গেলে ওজন বৃদ্ধি ও পেটে মেদ জমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পেটের মেদ শুধু
দৃষ্টিকটু নয় বরং এটি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও
বাড়িয়ে দেয় । সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো শরীরে কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে
যেসব লক্ষণ দেখা দেয় শুরুতে অনেক ছোট ছোট লক্ষণগুলো আমরা তেমন গুরুত্ব
দেই না। এই লক্ষণগুলোর প্রতি গুরুত্ব দিয়ে আমরা যদি সচেতন হয় । তাহলে
অতি সহজে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সম্ভব। নিয়মতান্ত্রিক জীবন
যাপন কোলেস্টেরল মুক্ত খাদ্যভ্যাস এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করতে পারি।
কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে যে ক্ষতি হয় :-
শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়
রক্তনালী ব্লক হওয়া, রক্তনালি ব্লক হওয়ার ফলে হৃদরোগ মস্তিষ্কের
স্ট্রোপ হতে পারে। শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে
গেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায়। কোলেস্টেরল নিজে কোন রোগ নয়
এটি রক্তে থাকা চর্বি জাতীয় উপাদান । কোলেস্টেরল সীমিত আকারে
আমাদের শরীরে প্রয়োজন। কিন্তু এই কোলেস্টেরল যখন অতিরিক্ত হয়ে যায়
তখনই আমাদের শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দেয়। কোলেস্টেরল বৃদ্ধির
কারণে ধীরে ধীরে এর প্রভাবে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে সমস্যার
সৃষ্টি হয় ।
কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যায় না ।
আমরা যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি তখন ডাক্তারের কাছে যায় । তারপরে বুঝতে পারি
শরীরে কোলেস্টেরলের অতিরিক্ত মাত্রা এবং কোলেস্টেরল নীরবে আমাদের দেহে
কেমন ক্ষতি করেছে। কিন্তু আমরা যদি দৈনন্দিন জীবনে নিয়ম তান্ত্রিক
ভাবে চলাফেরা করি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খায় ,পর্যাপ্ত পরিমাণের
ব্যায়াম করি তাহলে অনেক সুস্থ থাকতে পারি। অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
বৃদ্ধির ফলে কিডনির স্বাভাবিক কার্য ক্ষমতাতেও বাধাগ্রস্ত করে।
কিডনিতে সুক্ষ সুক্ষ রক্তনালী থাকে । কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে সে সুক্ষ
রক্তনালী গুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় । তখন কিডনির রক্ত পরিশোধনের কার্যক্ষমতা
কমে যায়। ফলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমতে শুরু করে । একইভাবে লিভার
কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । অতিরিক্ত
কোলেস্টেরল ফ্যাটি লিভার রোগের সূচনা করে। কোলেস্টেরলের বৃদ্ধির
সাথে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে উচ্চ রক্তচাপেরও। ধমনী শক্ত ও সংকুচিত হয়ে গেলে
রক্ত প্রবাহ চাপ বাড়ে। যার ফলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়।
নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা , সুষম খাদ্য অভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা
কোলেস্টেরল জনিত ক্ষতি থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি।
অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন ও খাদ্য অভ্যাস:-
আমাদেরকে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করতে হবে । প্রতিদিনের খাবারের প্রতি আমাদেরকে
যথেষ্ট সজাগ বা সচেতন হতে হবে । স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আমাদেরকে প্রাথমিক
জীবনের খাদ্য তালিকা তৈরি করতে হবে এবং সেই অনুপাতে খাবার গ্রহণ করতে হবে ।
অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন এবং খাদ্যভ্যাসের কারণে বর্তমান সময়ে আমাদের
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। অসচেতনতার কারণে
অস্বাস্থ্যকর খাবার আমরা প্রতিদিন খাচ্ছি। এতে আমাদের বিপাকক্রিয়া ব্যাহত
হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে জটিল রোগের জন্ম দিচ্ছে। নির্দিষ্ট রুটিন মেনে না
চলাটাকে আমরা জীবন যাপনের অনিয়ম হিসেবে ধরে নিতে পারি।
নিয়মিত ঘুম না পারা, আমাদের শরীরে যেটুকু বিশ্রাম দরকার সেটুকু বিশ্রাম না
নেওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি, এ ধরনের অনিয়ম সাধারণত রক্তের কোলেস্টের
মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আমাদেরকে আমাদের দৈনন্দিন চলাফেরায় যথেষ্ট পরিমাণ
খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের শরীরের পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরি খরচ করতে হবে । তা
না হলে অতিরিক্ত চর্বি বেধে যাবে । তখন কোলেস্টেরলের মাত্র বেড়ে যাবে। বিশেষ
করে যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন না। টিভি কম্পিউটারের সামনে বসে সময় কাটান।
মেইন কথা অলস ভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরো বেশি। অপরদিকে
অস্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে আমরা ধরে নেব।
অতিরিক্ত তেল ,ভাজাপোড়া খাবার, ফাস্টফুড প্রক্রিয়াজ খাদ্য গ্রহণ করার ফলে
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়।
এর বৃদ্ধির কারণ:-
দীর্ঘ সময় ধরে মানব শরীরে বসবাসকারী কিছু সমস্যা একসময় মৃত্যুর
কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার মধ্যে কোলেস্টেরল। অতিরিক্ত মাত্রার
কোলেস্টেরল এর অন্যতম কারণ। আমাদের শিক্ষার অভাব, আমাদের জ্ঞানের অভাব,
আমাদের সচেতনতার অভাব, কোন খাদ্যে কি পরিমান কি ধরনের উপাদান রয়েছে । এটা না
জানার ক্ষেত্রেও আমাদের জ্ঞানের ঘাটতি রয়েছে। সকল অজ্ঞতাকে জীবনের সঙ্গী করে
ব্যস্ত জীবনে দৈনন্দিন চলার পথে খেয়াল ছাড়া হয়ে যায়। আমরা
প্রাত্যহিক জীবনে নিজের শরীরটাকে সুস্থ রাখার জন্য কতটুকু পরিমাণ খাচ্ছি। যে
খাবারগুলো খাচ্ছি সেগুলোর গুণগতমান কেমন এ ব্যাপারে আমাদের কোন গুরুত্ব নেই।
পরিশ্রম না করা, স্বাস্থ্য সচেতন ভাবে খাদ্য অভ্যাস তৈরি না করা,
অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার খাওয়া. ফাস্ট ফুড বা প্যাকেটজাত
খাবার খাওয়া ,পর্যাপ্ত পরিমাণের ফল শাকসবজি বা আঁশযুক্ত খাবার
না খাওয়া।
খাসির মাংস, হাঁসের মাংস, বড় মাছের মাথা এগুলোতে প্রচুর পরিমাণ কোলেস্টরেল
থাকে এগুলো আমাদেরকে খেতে হবে পরিমাণ মত। তবে আমরা এর বৃদ্ধি থেকে নিজেকে
রক্ষা করতে পারবো।ধূমপান হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। রক্তনালি শক্ত করে এবং ধমনী শক্ত
করে দেয়। এই বদ অভ্যাসটি আমাদের জীবনের জন্য অনেক ক্ষতি বয়ে আনে ।
ধর্মীয় জ্ঞান এবং সচেতনতার অভাবে যিনারা এই ধূমপান সেবন করেন তাদের পরিণতি
খুব খারাপ হয়।। গবেষণায় দেখা গেছে ধূমপানের কারণে খারাপ কোলেস্টেরল
বৃদ্ধি করে এবং ভালো কোলেস্টেরল হ্রাস করে। কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া
উপায়ে এই বদ অভ্যাসটিকে আমরা পরিহার করতে পারি যা আমাদের জীবনের জন্য
মঙ্গল বয়ে নিয়ে আসবে।
মানব শরীরের কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য কারণ গুলোর মধ্যে
পরিশ্রম না করাকেও আমরা ধরে নিতে পারি। বর্তমান সময়ে আমাদেরকে
প্রয়োজনের তাগিদে কর্মস্থলে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকতে হয়। যার কারণে হাঁটা চলা
বা ব্যায়াম করা হয় না। শরীর চর্চা না করলে অতিরিক্ত চর্বি শরীরে জমতে
থাকবে। কিছুদিন পর তা রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দিবে।
প্রাত্যহিক জীবনে আমরা খাবারের প্রতি অসচেতন হয়ে মূর্খ অজ্ঞ অশিক্ষিত
বর্বরের মতো অধিক পরিমাণের ক্যালরিযুক্ত খাবার খেয়ে নিচ্ছি। এতে শরীরে
অতিরিক্ত ক্যালরি জমা হচ্ছে। এই অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে মেদ সৃষ্টি
করছে। বিশেষ করে পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ জমা হওয়াটাও জীবনের
জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ।
এটা থেকে মুক্তির উপায়:-
অতিরিক্ত কোলেস্টেরলকে আমরা মানব দেহের নীরব ঘাতক হিসেবে ধরে নিতে পারি। এই
সমস্যা এমন একটা সমস্যা যা শুরুতে বোঝা যায় না , এমনকি দীর্ঘদিন পর্যন্ত
শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলেও বোঝা যায় না। কিন্তু মনে রাখবেন সবার
শরীরের গঠন যেমন এক রকমের নয় ঠিক তেমনি সবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও
একরকম নয়। উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল দীর্ঘদিন শরীরে থাকার ফলে
একসময় যখন অসুস্থ হয়ে পড়ি, তখন ডাক্তারের কাছে গিয়ে বুজতে পারি এর
উপস্থিতি। এই উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরল শরীরের অঙ্গ প্রতঙ্গের
উপর এর প্রভাব পড়েছে। তখন আমরা একটি বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে
যায়।
এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা ব্যাকুল হয়ে উঠি। কিন্তু এ
ধরনের পরিস্থিতিতে কারো কিছু করার তেমন কোন উপায় থাকে না । প্রাত্যহিক জীবনে
আমরা যদি নিয়ম নীতি মেনে চলি তাহলে অনেকটা এ পরিস্থিতি থেকে নিজেকে রক্ষা
করতে পারি। অতিরিক্ত কোলেস্টরেল থেকে মুক্তির সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল
খাদ্যভাস নিয়ন্ত্রিত করা। এটা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে স্বাস্থ্য
সচেতনভাবে জীবন যাপন করতে হবে। দৈনন্দিন খাবারের প্রতি আমাদেরকে বিশেষ
গুরুত্ব দিতে হবে । প্রাত্যহিক জীবনে পরিমাণ মতো শাকসবজি ফলমূল খেতে
হবে এবং অতিরিক্ত কোলেস্টেরল আছে সে ধরনের খাবার খাওয়া যাবে না।
পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম পারতে হবে। নিয়ম তান্ত্রিক ঘুমটাও আপনার জীবনে
কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করবে।
মানসিক চাপও মানবদেহে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা
রাখে। অতিরিক্ত স্ট্রেস থাকলে শরীরে এমন কিছু হরমোন নিঃসৃত হয় তা
কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । আমরা যদি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করি
তাহলে রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাবো এবং ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারব। প্রতিটি লোক জীবন জীবিকার জন্য কাজ করে থাকে ,
তাই বলে প্রতিটি কাজেই দেহের পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালরি ক্ষয় হয় না , শরীরের
ক্যালরি ক্ষয় করার জন্য বা শরীর থেকে ঘাম ঝরানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করার
অভ্যাস করে তুলতে হবে ,কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট হাটাহাটি করতে হবে ,হালকা
দৌড়ানোর অভ্যাস করতে হবে জগিং করতে হবে সাইকেলিং করতে হবে সাঁতার কাটতে
হবে।
ওপরের অভ্যাসগুলো শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে না বরং রক্তে খারাপ
কোলেস্টরেল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বৃদ্ধির করবে। শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণের
দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে । অতিরিক্ত শারীরিক ওজন স্থুলতা
কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে
দেয়। ব্যস্ততার কারণে আমরা বাহিরে যেতে না পারলেও বর্তমান সময়ে ঘরে
ব্যায়াম করার মতন অনেক উপকরণ বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আমরা একটু সজাগ হয়ে
কোলেস্টরেল কমানোর ঘরোয়া উপায়ে নিজের আবাস স্থানে ব্যায়াম করতে পারি এবং
সুস্থ থাকতে পারি ।
লেখকের মন্তব্য:-
আশা করি কোলেস্টেরল কমানোর ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে আপনারা বুঝতে পেরেছেন।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে খাবার গুলো খাই এগুলোই মানুষের প্রাণ রক্ষা করে
আবার এগুলোর সঠিক ব্যবহার না করলে অনেক সময় আত্মঘাতী হয়ে যায় , যা
আমাদের অনেক রোগবালইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। আমরা যদি নিয়ম নীতি মেনে চলি
সুশৃঙ্খলভাবে ,সকল কিছুতে একটি সুস্থতা আসবে, সুন্দর সুস্থ জীবনের জন্য
নিয়মের বিকল্প কিছুই নেই।
মাছ ,মাংস ,দুধ, ডিম এগুলো খাবার ছাড়া মানুষের জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা
যায় না বা মানুষের সুস্থতা কল্পনা করা যায় না কিন্তু এগুলো আমাদেরকে
পরিমিত খেতে হবে এবং শাকসবজি ফলমূল নিয়ম অনুযায়ী পরিমান মত খেতে হবে।
তাহলে আশা করি সুস্থ জীবন নিয়ে আমরা দিনরাত্রি অতিবাহিত করতে পারব। মনে
রাখতে হবে, উচ্চ মাত্রার কোলেস্টেরল থেকে মুক্তির উপায় কিন্তু একদিনের কাজ
নয়। এটি দীর্ঘদিনের সচেতনমূলক ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সঠিক খাদ্যভ্যাস
নিয়মিত ব্যায়াম কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। সকল কিছুতেই
নিয়ন্ত্রান্ত্রিক চলাফেরায় সুস্থ এবং দীর্ঘ জীবন লাভ করা যায়।


.webp)


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url