ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া সমাধান ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, সকল ডাইবেটিস
রোগীর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামক একটি হরমোন উৎপাদিত
হয়। ডায়াবেটিস হলে এই হরমোন কম উৎপাদিত হয় বা উৎপাদিত হয় না এইজন্য এ রোগটিকে
আমরা ইনসুলিন হরমোনের ঘাটতি বা উৎপাদিত না হওয়ার সমস্যাও বলতে পারি ।
সাদামাটা ভাবে আমরা বলতে পারি, যে রোগ মানবদেহে ইনসুলিন নামের হরমোন তৈরিতে
বাধা সৃষ্টি করে , রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়িয়ে দেয় তাকে
ডায়াবেটিস বলে। একসময় আমাদের দেশে এটা বহুমূত্র রোগ হিসেবে পরিচিত ছিল ।
সূচিপত্র
- ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রশমিত করার উপায়
- ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ
- টাইপ -১ ডায়াবেটিস
- টাইপ -১ ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ
- টাইপ -১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
- টাইপ -১ ডায়াবেটিসের প্রতিকার
- টাইপ -২ ডায়াবেটিস
- টাইপ -২ ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ
- টাইপ -২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
- টাইপ -২ ডায়াবেটিসের প্রতিকার
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণ
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের লক্ষণ
- গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রতিকার
- লেখকের মন্তব্য
ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়
ডায়াবেটিস হচ্ছে শরীরের এমন জটিল অবস্থা যখন আমাদের শরীর নিজ থেকে ইনসুলিন
নামক হরমোন তৈরি করতে পারে না বা উৎপাদিত হরমোন কার্যকর ভাবে ব্যবহৃত হতে পারে না
তখন রক্তের শর্করা বেড়ে যায় তখন শরীরে অনেক সমস্যা দেখা দেয় আর এই
পরিস্থিতিটাকে আমরা ডায়াবেটিস বলি। অধিকাংশই খাবার আমাদের শরীরে
পরিপাকের মাধ্যমে গ্লুকোজে পরিণত হয় যা আমাদের শরীরের শক্তি যোগায়।
প্যানক্রিয়াস নামক একটি গ্রন্থী থেকে ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরি হয়।
ইনসুলিন গ্লুকোজ কে কোষের ভিতর প্রবেশ করতে সাহায্য করে। যখন আমাদের শরীরে যথেষ্ট
পরিমাণ ইনসুলিন তৈরি হয় না কিংবা শরীর ইনসুলিন ব্যবহার করতে পারে না তখন ঐ
রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায় । আমরা যেসব খাদ্য গ্রহণ করি
তার শর্করা জাতীয় অংশ পরিপাকের মাধ্যমে সিংহভাগ গ্লুকোজ হিসাবে রক্তে
প্রবেশ করে আর দেহকোষ গুলো প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের জন্য গ্লুকোজ গ্রহণ
করে।
অধিকাংশ দেহকোষই গ্লুকোজ গ্রহণে ইনসুলিন নামক এক প্রকার হরমোনের উপর
নির্ভরশীল । ডায়াবেটিস হলো ইনসুলিনের সমস্যা জনিত রোগ। ঘনঘন প্রস্রাব হবে
প্রস্রাবের সাথে সুগার যাবে শরীর শুকিয়ে যাবে। ইনসুলিন কম বা অকার্যকর হওয়ার
জন্য কোষে গ্লুকোজের ঘাটতি এবং রক্তে গ্লুকোজের বাড়তি হয়। এই সামগ্রিক অবস্থাই
হচ্ছে ডায়াবেটিস ম্যালাইটাস। এটাকে বহুমূত্র রোগ বলে বা মধুমেহ বলে ।
মধু মানে মিষ্টি আর মেহ মানে প্রস্রাব । প্রসবের সঙ্গে মিষ্টি নেমে গেলে শরীর
শুকিয়ে যায় এত কিছু আবিষ্কৃত হওয়ার আগে এটাকে মধুমেহ হিসেবে বা বহুমূত্র রোগ
হিসাবে চিহ্নিত করা হতো।
ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। শুধু বয়স্ক নয়
ডায়াবেটিসে শিকার হচ্ছে শিশুরাও। সচেতন নিয়ন্ত্রিত জীবনযাত্রার মাধ্যমে এ রোগে
আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করা যায় এবং এই রোগে যদি আমরা
আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে অনেক
সুস্থভাবে দিন অতিবাহিত করতে পারি। সচেতন খাদ্য অভ্যাস, শারীরিক
পরিশ্রম,নিয়মিত চেকআপ এ বিষয়গুলোর প্রতি আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।
নিয়ম তান্ত্রিক জীবন যাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস আক্রান্ত একজন
লোক স্বাভাবিক সুস্থতা নিয়ে দীর্ঘ আয়ু লাভ করতে পারেন। যেহেতু ডায়াবেটিস
শরীরের সমস্ত অংশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে সেজন্য আমাদেরকে গ্লুকোজের
লেভেল কোলেস্টরেল এবং রক্তচাপের দিকে খুব গুরুত্বের সহিত খেয়াল রাখতে হবে ।
কয়েক ধরনের ডায়াবেটিস আছে এর মধ্যে সাধারণত তিন ধরনের ডায়াবেটিসের সঙ্গে আমরা
বেশি পরিচিত । টাইপ - 1 টাইপ - 2 এবং গর্ভকালীন
ডায়াবেটিস।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, আমরা সুস্থ
থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক নিয়ম নীতি মেনে চলার চেষ্টা করব। স্বাভাবিকভাবে চলতে
চলতে যদি এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে যায়। তাহলে আমাদেরকে খাদ্যাভ্যাস
নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে ,নিয়মিত শরীর চর্চা করতে হবে ,ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে
,পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে, ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলতে হবে , ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে চলাফেরা করতে হবে। ব্লাড সুগার যেন বেড়ে না যায় সেদিকে
খেয়াল রাখতে হবে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর
অভ্যাসে, অনেক নিয়ম আছে যেমন ভাত, রুটি, মিষ্টি আলু এমন অনেক খাদ্য দ্রব্য আছে
বা ফল আছে সেগুলো খাওয়া নিষেধ।
ডায়াবেটিস রোগীর পেট ভরে খাওয়া যাবে না এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা, শর্করাযুক্ত
খাবারগুলো এড়িয়ে চলুন সবুজ শাক-সবজি শসা এগুলো খাওয়ার অভ্যাস করুন সুস্থ
থাকুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর
অভ্যাসের, ক্ষেত্রে কি খাচ্ছি , কতটুক পরিমাণ খাচ্ছি সেদিকে খেয়াল রাখতে
হবে। টিভি বা কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন না , কম্পিউটারে বসে যখন কাজ
করবেন মাঝে মাঝে উঠে পায়চারি করে শরীরটাকে স্বাভাবিক করার পর পুনরায় বসুন। মেইন
কথা ডায়াবেটিস হয়েছে বলে হতাশ হবেন না, আপনি যদি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
খাওয়া ঘুম চলাফেরা প্রাত্যহিক জীবনের সকল কার্যক্রম ডাক্তারের পরামর্শ
অনুযায়ী করে থাকেন তাহলে এ রোগটি নিয়েও দীর্ঘায়ু লাভ করা সম্ভব হয়।
মানসিকভাবে অসুস্থ হলেন তো হেরে গেলেন, মনোবল ফিরিয়ে এনে চাঙ্গা হওয়ার চেষ্টা
করুন। দেখবেন অনেকটা সফলতা আপনার হাতে পৌঁছে গিয়েছে , ডায়াবেটিস নিয়ে
কিছু টিপস নিম্নে আলোচনা করা হলো । টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস তখনই হয় যখন অগ্নাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী কোষগুলো
ধ্বংস হয়ে যায় । এমত অবস্থায় শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না তখন
সুস্থ থাকার জন্য ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হয়। আপনি মনে রাখবেন ডাক্তার আপনার শরীরের ভেতরে কোন খাবার খেয়ে কি হচ্ছে
তা সম্পূর্ণরূপে অনুভব বা অনুমান করতে পারবেন না।
এই অনুভব অনুমানের পুরো ক্ষমতাটা আপনার হাতে, যে খাবারটি খেয়ে আপনি সুস্থ
অনুভব করছেন শরীর উন্নতির দিকে যাচ্ছে তাহলে আপনাকে সে খাবারটাই খেতে হবে ।
এখানে ডাক্তার তেমন কিছু বুঝতে পারবেন না , এই অনুমানটা আপনাকে করতে হবে মনে
রাখবেন , সবার শরীরের শরীর চক্র এক সুতোয় গাঁথা না । কাউরো শরীরে এই
উপাদান বেশি আবার কাউরো শরীরে ওই উপাদান বেশি । যার ফলে একই ধরনের পরামর্শ সবার
ক্ষেত্রে অনেক সময় আশা অনুরূপ ফল নিয়ে আসে না।
ডাক্তার পরীক্ষার মাধ্যমে বলতে পারবেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে আমাদের সব সময়
পরীক্ষা করা সম্ভব হয় না ,ডাক্তারের পরামর্শ তো লাগবেই কিন্তু পুরোটা
ডাক্তারের পরামর্শের উপর ছেড়ে দিলে কখনো আপনি সুস্থ হবেন না। আমি বলতে চাই
ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং কোন ধরনের খাবার খেয়ে আপনি সুস্থ থাকছেন এবং কোন
জীবনযাপন পদ্ধতি আপনার জীবনের জন্য ফলপ্রসু হচ্ছে সেটা আপনি নির্ণয়
করুন। যেখানে বিন্দু পরিমাণ বা শস্য দানা পরিমাণ এলোমেলো হওয়া যাবে
না।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, যে নিয়ম
অনুযায়ী জীবন যাপন করে আপনি সুস্থ থাকছেন সে নিয়ম পালন করার
চেষ্টা করুন । সেটি খুব সূক্ষ্মভাবে অনুমান করুন শুধুমাত্র ডাক্তারের ঔষধের উপর
আপনি নির্ভরশীল হলে কোনদিনও সুস্থ হতে পারবেন না। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
ঘরোয়া উপায়ের ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদেরকে সচেতন হতে হবে ।
নিয়মিত ইনসুলিন গ্রহণ করতে হবে, রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে হবে, সুষম
খাদ্যভ্যাস তালিকা অনুযায়ী খেতে হবে, হালকা এবং মাঝারি ব্যায়াম করতে হবে,
ব্যায়াম করার আগে রক্তের শর্করা পরীক্ষা করতে হবে ব্যায়াম করার সময় যেন
রক্তের শর্করা কমে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে, দুশ্চিন্তা
রক্তের শর্করা বাড়িয়ে দিতে পারে । তাই পর্যাপ্ত ঘুম এবং দুশ্চিন্তা মুক্ত
থাকতে হবে , শিক্ষা সচেতন জীবন যাপন করতে হবে পরিশেষে বলা যায়, ডায়াবেটিস
নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস, এ রোগ পুরোপুরি সারানো
না গেলেও উপর উল্লেখিত নিয়ম অনুযায়ী চললে অনেকটা সুস্থ থাকা যাবে।
ঘরোয়া পদ্ধতিতে প্রশমিত করার উপায়
ডায়াবেটিস এখন বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি মানব রোগ। দিন দিন এই রোগে
আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শহর গ্রাম উভয় জায়গাতেই মানুষ
সমানভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমাদের সচেতনতার অভাব , খাদ্যাভ্যাসে অনিয়ম
,পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ ও বংশগত কারণে সাধারণত ডায়াবেটিস হয়ে থাকে ।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে যে বিষয়টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে
সেটা হল প্রতিদিনের প্রতিক্ষণের খাদ্যকে।
আমরা যদি খাদ্য ব্যাপারে সচেতন হয় তাহলে শারীরিক অনেক জটিল সমস্যা থেকে নিজেকে
রক্ষা করতে পারবো। যেগুলো খাবারে প্রচুর পরিমাণ শর্করা আছে সেগুলো এড়িয়ে যেতে
হবে। শর্করা উপাদান যেগুলোতে কম সেগুলো খেতে হবে । আটার রুটি, শাকসবজি
আঁশযুক্ত খাবার বেশি করে খেতে হবে , যেমন ডাটাশাক, লাউ , ঝিঙ্গে ,পটল ,করলা এ
সবজিগুলো রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে।
স্রেফ শুয়ে থেকে সময় কাটানো যাবে না। হাঁটাচলা করতে হবে, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০
মিনিট পর্যন্ত হাঁটাচলা করতে হবে । স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম,
আপনার ডায়াবেটিকসকে ঘরোয়াভাবে প্রশমিত রাখতে সাহায্য করবে। ডায়াবেটিসকে আপনি
প্রশমিত রাখতে চাইলে মেথি করলা নিয়ম অনুযায়ী খেতে পারেন। পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক
সুস্থতাও ডায়াবেটিস প্রশমিত করতে অনেক সহায়তা করে।
ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ
ডায়াবেটিস কয়েক ধরনের আছে। প্রতিটি ডায়াবেটিসের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে আমরা এখানে আলোচনা করব তিন ধরনের ডায়াবেটিস নিয়ে
- টাইপ -১
- টাইপ -২
- এবং গর্ভকালীন ডায়বেটিস।
টাইপ - ১ ডায়াবেটিস
দীর্ঘ জীবন বা আজীবন টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিস মানুষের শরীরে অবস্থান করে । সাধারণত
ধরে নেওয়া হয় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে এই রোগটি হয়ে থাকে
। মানুষের শরীরে বিশেষ একটি অগ্ন্যাশয় নামের গ্রন্থি আছে। এই গ্রন্থির মাধ্যমে
ইনসুলিন নামক হরমোন তৈরি হয়। ইনসুলিন খুব গুরুত্বপূর্ণ হরমোন । কিন্তু এই
গ্রন্থি থেকে যখন ইনসুলিন হরমোন নিঃসৃত হয় না বা অল্প পরিমাণের হয় তখন টাইপ
ওয়ান ডায়াবেটিস নামে চিহ্নিত করা হয় ।
অগ্ন্যাশয় যখন ইনসুলিন হরমোন তৈরি করতে পারেনা তখন রক্তের শর্করা শরীরের কোষে নিজ
থেকে প্রবেশ করতে পারে না । এ অবস্থায় তখন রক্তের শর্করা বেড়ে যায় এবং
মানবদেহের ক্ষতি হয় । যে কোন বয়সে হতে পারেে এ রোগ। এ রোগের মূল কারণে জানা
যায়নি, তবে ধারণা করা হয় এটি অটোইমিউন রোগ। শরীরে নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা
ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষ গুলোকে ধ্বংস করে দেয়।
টাইপ - ১ ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ
টাইপ -১ ডায়াবেটিস হওয়ার সঠিক কারণ এখন স্পষ্ট নয় । শরীরের ইমিউন সিস্টেম
মৌলিকভাবে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে । সাধারণত এই ভাইরাস ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের
বিটা কোষগুলিকে ধ্বংস করে দেয় এটি অটোইমিউন প্রক্রিয়ায় অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন
তৈরি করতে বাধা দেয় এই কারনে টাইপ -১ ডায়াবেটিস হতে পারে । অন্যান্য পরিবেশগত
কারণে বা উপাদানে এবং জেনেটিক্স কারণে টাইপ - ১ ডায়াবেটিস হতে পারে। কিছু ওষুধ
ইনসুলিন উৎপাদন কমাতে পারে অথবা কোষের ক্ষতি করতে পারে, এটিও আমাদের মনে রাখতে
হবে ডায়াবেটিস নিরাময়ের চেষ্টার ক্ষেত্রে ।
টাইপ - ১ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
অতিরিক্ত পিপাসা লাগা ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া অতিরিক্ত ক্ষুধা,
দুর্বলতা, হাত-পায়ে অসরতা, ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগা, বমি বমি ভাব ,ঝাপসা
দৃষ্টি। এ রোগ সম্পূর্ণভাবে নিরাময় না হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে অনেক সুস্থ
থাকা , যায় ইনসুলিন গ্রহণ করা, সুষম খাদ্য গ্রহণ করা এবং রক্তের শর্করা পরীক্ষা
করা। সঠিকভাবে চিকিৎসা না নিলে এই রোগ কিডনি, হার্ট ,চোখ, এমনকি স্নায়বিক
সমস্যাও দেখা দিতে পারে অতএব সচেতনভাবে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন সুস্থ
থাকুন।
টাইপ - ১ ডায়াবেটিসের প্রতিকার
টাইপ - ১ ডায়াবেটিস মানবদেহে কি কারণে হয় তার সঠিক কারণে এখনো স্পষ্ট নয় ।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাধারণত ক্ষতিকারক ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার
বিরুদ্ধে লড়াই করে সম্ভবত এই ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া গুলো ভুল করে অগ্ন্যাশয়ের
ইনসুলিন উৎপাদনকারী বিটা কোষগুলোকে আক্রমণ করে , এটি আটোইমিউন প্রক্রিয়া
অগ্ন্যাশয়কে ইনসুলিন তৈরিতে বাধা দেয়, এটি জেনেটিক্স এবং পরিবেশগত কারণও হতে
পারে।
এটি শিশু ও কিশোরদের মধ্যে বেশি দেখা যায়, এ রোগ কে প্রতিরোধ করার জন্য
সুনির্দিষ্ট কোন উপায় নেই । যেহেতু এই রোগ শিশুদের হয়ে থাকে তাহলে শিশুর মায়ের
খাবারের প্রতি আমাদের যত্নশীল হতে হবে । তাই আমরা ধরে নিতে পারি শিশুর মাকে
পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে হবে , স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন মেনে চলতে হবে , পরিষ্কার
পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে মেইন কথা পরিপূর্ণ সুস্থতার মধ্যে জীবন যাপন করলে এ
রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। এসব নিয়ম-নীতি মানার পরেও যদি সমস্যা দেখা
দেয় তাহলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন
পরিচালনা করতে হবে।
টাইপ - ২ ডায়াবেটিস
টাইপ টু ডায়াবেটিস বাংলাদেশ মহামারী আকার ধারণ করেছে শিশু ও তরুণদের তুলনায়
মধ্যবয়সী এবং বয়স্করা এ রোগে আক্রান্ত হয় । যিনারা এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন
উনাদের মধ্যে বেশিরভাগই অজ্ঞ অসচেতন অলস প্রকৃতির । ইনসুলিন হরমোন সমস্যার কারণে
টাইপ টু ডায়াবেটিসটি হয়ে থাকে। ইনসুলিন সুগারের মান নিয়ন্ত্রণ করে এটা
রক্তনালী ,স্নায়ুতন্ত্র, চোখ, হৃৎপিণ্ড , লিভার , কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে ।
টাইপ - ২ ডায়াবেটিস হওয়ার কারণ
শিশু কিশোরদের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্করা টাইপ টু ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেশি হয় এর
মূল কারণ অজ্ঞতা অসচেতনতা অলসতা। টাইপ টু ডায়াবেটিস হলে সাধারণত শরীরে ইনসুলিন
ঠিকমতো কাজ করে না বা পর্যাপ্ত ইনসুলিন উৎপাদন হয়। শারীরিক পরিশ্রম না করা ,
দীর্ঘ সময় বসে টিভি দেখা এবং কম্পিউটারের বসে কাজ করা, শারীরিক ব্যায়ামের
অভাবে শরীরের কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে যাকে ইনসুলিন
রেজিস্ট্যান্স বলা হয়। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, ধীরে ধীরে
ডায়াবেটিসের সৃষ্টি হয়।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের ক্ষেত্রে
খাদ্য তালিকায় অতিরিক্ত চিনি এবং কম ফাইবার যুক্ত খাবার রাখা বা অতিরিক্ত
মানসিক চাপে থাকলে এ রোগ হয় , তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ করলে অতিরিক্ত ওজন বেড়ে
গেলে এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এগুলো কারণে টাইপ টু ডায়াবেটিস আমাদের শরীরে
বাসা বাঁধে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়ে আমরা যদি সচেতন হয় তাহলে
অতি সহজে এই রোগ আমাদেরকে আক্রমণ করতে পারবে না।
টাইপ - ২ ডায়াবেটিসের লক্ষণ
অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া , ওজন কমে যাওয়া , অতিরিক্ত ক্ষুধা,
একটু পরিশ্রমেই ক্লান্তি চলে আসা , দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া , ক্ষত সহজে
না শুকানো . অনুভব শক্তি কমে যাওয়া , এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের
পরামর্শ নিতে হবে ।
টাইপ - ২ ডায়াবেটিসের প্রতিকার
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ,
প্রাত্যহিক খাবার তালিকায় শাকসবজি, ডাল, আঁশযুক্ত খাবার ,লাল চাল , আটার রুটি
নিয়ম অনুযায়ী খেতে হবে , অতিরিক্ত চিনি ফাস্টফুড পরিহার করতে হবে , অল্প অল্প
করে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এই জিনিসটি আমাদের মাথায়
রাখতে হবে। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত ব্যায়াম করতে হবে , শরীরের ইনসুলিনের
কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে যোগ ব্যায়াম। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া উপায়ে
প্রতিকারের জন্য এই কাজটি আমাদেরকে প্রতিদিন করতে হবে।
ব্যায়াম ওজন নিয়ন্ত্রণ সহায়তা করে এটাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বা
গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার । তাহলে আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ব্যাপারটা মাথায় রেখে সে
অনুপাতে এগিয়ে যেতে হবে , সঠিক খাদ্যভ্যাস , নিয়মিত ব্যায়াম, শরীরের ওজন
স্বাভাবিক রাখলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় ,
ডায়াবেটিস ২ এর ক্ষেত্রে আমরা যদি সঠিক খাদ্য , সঠিক জীবন যাপন চিকিৎসকের
পরামর্শ নিয়ে চলি তাহলে অনেক সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায়।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
আমরা সাধারণত ধরেনি রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গেলেই ডায়াবেটিস হয়েছে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলতে আমরা বুঝি গর্ভকালীন অবস্থায় যে মায়ের শরীরে
অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হয় যার কারণে ইনসুলিন ঠিকমত কাজ করতে পারে না ,তখনই রক্তে
শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন তাকে আমরা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলে থাকি।
শরীরে এ সমস্যা দেখা দিলে সঠিক নিয়ম মেনে না চললে গর্ভকালীন ডাইবেটিসে
আক্রান্ত মা এবং অনাগত শিশুর উভয়ের জন্য মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণ
গর্ভকালীন অবস্থায় মায়ের শরীরে অতিরিক্ত হরমোন তৈরি হওয়ার কারণে ইনসুলিন
হরমোন ঠিক মতন কাজ করে না। তখন রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় তখন শরীরে
ডাইবেটিস দেখা দেয়।যে কারণগুলি গর্ভকালীন ডায়বেটিস হওয়ার জন্য দায়ী সেগুলি
হচ্ছে শরীরের অতিরিক্ত ওজন , বংশগত সমস্যা, পূর্বে অতিরিক্ত ওজনের বাচ্চা জন্ম
দেওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এ ছাড়া বেশি বয়সেও গর্ভধারণ
করলে এ ধরনের রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় । এই রোগের বিশেষ কোনো লক্ষণ থাকে না,
বেশিরভাগ সময় গর্ভকালীন চেকআপ করার সময় এই রোগ ধরা পড়ে, কিন্তু কারো কারো
ক্ষেত্রে রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের লক্ষণ
ঘন ঘন পিপাসা , মুখ শুকিয়ে যাওয়া , ক্লান্তি বোধ করা ,ঘনঘন প্রস্রাবের ভাব
তৈরি হওয়া, ঝাপসা দৃষ্টি , ক্ষুধা বৃদ্ধি । অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়
না । তাই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে , নিয়মিত রক্তের পরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগ
সনাক্ত করা হয় , ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ঘরোয়া উপায় ও স্বাস্থ্যকর
অভ্যাস, প্রথমে খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে । পরিমিত শর্করা , আঁশযুক্ত খাবার
, শাকসবজি , প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত ।
মিষ্টি জাতীয় ফাস্টফুড এড়িয়ে যেতে হবে । পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শে গর্ভ
অবস্থায় উপযোগী যোগব্যায়াম করতে হবে , এতে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের সহায়তা
করে, গর্ভকালীন ডায়বেটিস সাধারণত মুখে খাওয়ার ওষুধের পরিবর্তে ইনসুলিন
ব্যবহার করা নিরাপদ । গর্ভকালীন ডায়বেটিস একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সমস্যা,
সময় মতো সঠিক চিকিৎসা ও সচেতন জীবন যাপনের মাধ্যমে মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত
করা সম্ভব।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রতিকার
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস একটি জটিল সমস্যা ।এই সমস্যার কারণে মা ও শিশু দুজনের
জীবন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে। নিজের সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, খাদ্য
তালিকায় পরিমিত কার্বোহাইডেট খাবার রাখতে হবে , চর্বিযুক্ত মিষ্টি জাতীয়
ফাস্ট ফুড খাবার এড়িয়ে যেতে হবে , নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করতে হবে । রক্তে
শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে । গর্ভ কালীন ডায়াবেটিস ভ্রুনের উপর
প্রভাব ফেলছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশ ঠিকমতো
হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করার জন্য আল্ট্রাসাউন্ড বা অন্যান্য পরীক্ষা করা
যেতে পারে।
লেখকের মন্তব্য
ডায়াবেটিস রোগটি এখন অপরিচিত কোনো রোগ নয়, বর্তমান সময়ে এটি পরিচিত একটি
রোগ। আমাদের অসচেতনতার কারণে দিন দিন এর সংখ্যা বেড়েই চলেছে অথচ একটু সচেতন
হলেই কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত না হওয়া বা আক্রান্ত হলেও এর জটিলতা সহজে রুখে
দেওয়া যায় । সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে জীবন যাত্রার পরিবর্তন যেমন সুষম খাবার
, শাকসবজি আঁশযুক্ত খাদ্য গ্রহণ , পর্যাপ্ত পানি পান করা , হাঁটা বা হালকা
ব্যায়াম করা এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবে ধরে নিতে হবে ।
এগুলো কোনোটিই জটিল নয় আবার ব্যয়বহুলও নয়। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
হলো ধারাবাহিকতা। একদিন দুদিন মেনে ছেড়ে দিলে হবে না । দীর্ঘদিন পর্যন্ত আমরা
যদি এসব নিয়ম মেনে চলি তাহলে আমরা ধীরে ধীরে সুস্থতার দিকে এগিয়ে যাব। এক
কথায় আমরা বলতে পারি প্রাত্যহিক জীবনে সকল ক্ষেত্রে নিয়ম তান্ত্রিক ভাবে
চলাফেরা করলে আমরা সুস্থ ভাবে জীবন যাপন করতে পারি।

রবিন ব্লগারের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url