OrdinaryITPostAd

ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে


ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এটা আমাদের জানা দরকার ।  ডায়াবেটিস রোগীর প্রতিদিনের চলাফেরায়  ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হবে । ডায়াবেটিস বর্তমান সময়ে গোটা পৃথিবীতে মহামারী আকার ধারণ করেছে । আমাদেরকে সজাগ এবং সচেতন হতে হবে ।   

ডায়াবেটিস-রোগী-প্রতিদিন-কেমন-চলাফেরা-করবে

দীর্ঘ সময় বসে থাকলে যেমন সমস্যা তৈরি হয় ঠিক তেমনি অতিরিক্ত পরিশ্রম করলেও ঝুঁকি বাড়ে। তাই  প্রতিদিনের চলাফেরায় ভারসাম্য রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সূচিপত্র:-

ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে

পৃথিবীর সব জায়গাতেই এ রোগটি এখন খুব পরিচিত হয়ে উঠেছে। এই রোগের কারণে আমাদের শরীরে রক্তের শর্করা বেড়ে যাওয়ার ফলে  অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।  প্রতিদিন সচেতন ভাবে চলাফেরা না করলে অনেক সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এটা একটা বড় বিষয়,শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভরশীল হলে এই রোগের সমস্যা হ্রাস পাবে না , ডায়াবেটিস রোগীর প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এটা ভেবে ওষুধ এবং নিয়ম অনুযায়ী  চলাফেরায় অনেকটা সুস্থ থাকা যাবে । বিশ, ত্রিশ  মিনিট প্রতিদিন সকালে হাঁটার  অভ্যাস করতে হবে ।

হাঁটার অভ্যাসে   রক্তের  শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।খাবারের প্রতি আমাদেরকে সচেতন হতে হবে , কি খাচ্ছি,  কি পরিমান খাচ্ছি সেটার পুষ্টি উপাদান কেমন,  সেটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এটা বুঝে রাত দিনের সকল খাবার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে হবে । নাস্তা হিসেবে আমাদেরকে লাল আটার রুটি, অল্প পরিমাণের প্রোটিন , সবজি ডাল খেতে হবে। চিনি বা মিষ্টি জাতীয় বা ফাস্টফুড এবং প্যাকেট জাত  খাবার থেকে দূরে থাকতে হবে।

নাস্তার পাশাপাশি ডাক্তারের গাইড অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে হবে।  সকালের নাস্তা খাওয়ার পর আপনি পুনরায় বিছানায় শুয়ে পড়বেন বা বসে থাকবেন তাহলে আপনি সুস্থ হতে পারবেন না । শরীরের শক্তি সামর্থ্য অনুযায়ী কাজকর্ম করতে হবে । স্বাভাবিক চলাফেরা বজায় রাখতে হবে  । আবার একটানা দীর্ঘ সময় কাজ করবেন তা হয় না ,  সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী করবেন তবে আপনি সুস্থ থাকবেন। আমাদের দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী কর্মহীন জীবনে দুপুরে খাবারের পর হালকা একটু আরাম না নিলে ভালো লাগেনা।  

আপনি যদি সে ধরনের সময় পান অবশ্যই আরাম নেবেন। আর , আরাম নেওয়ার সুযোগ  না থাকলে আরাম নেবেন না । কাজের মধ্যে থাকা এবং আরাম নেওয়া এই দুইয়ের মাঝে থাকতে থাকতে বিকেল বা সন্ধ্যা হয়ে যাবে। ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে সেটা বুঝে তখন, বিকেলে বা  সন্ধ্যার সময় হালকা নাস্তা করে নেবেন। হাতের কাছে যা পাবেন তাই খাবেন তা হবে না  , নাস্তা অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী হতে হবে । 

রাতের  খাবার হাল্কা খাবেন। ঘুমানোর দুঘন্টা আগে খাবেন। প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী আপনার শরীরে কি পরিমান ঘুম পাচ্ছে সে অনুযায়ী এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঘুমাবেন  । ডায়াবেটিস এমন একটি সমস্যা যে সমস্যা থেকে নিজেকে পুরোপুরি মুক্ত করা যাবে না, তবে নিয়ম অনুযায়ী  পুষ্টিকর খাবার এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলাফেরা করলে অনেক সুস্থতা নিয়ে জীবন কাটানো যায়।
মনে রাখবেন ডাক্তার আপনার শরীরের মধ্যে কি হচ্ছে বা কোন খাবার খেয়ে কি ঘটছে সেটা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন না।

আপনি নিজে খাচ্ছেন আপনি নিজেই বুঝার চেষ্টা করুন খাওয়ার পর  শরীর এবং মনে  কেমন অনুভূতি তৈরি হচ্ছে। যদি ভালো অনুভূতি তৈরি হয় তাহলে পরিমাণ মতো খেতে থাকুন আর যদি খারাপ অনুভূতি তৈরি হয় তাহলে পরিহার করুন।

যেসব কারণে ডায়াবেটিস রোগীর চলাফেরায় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন :-

এ ধরনের রোগীর জন্য প্রতিদিনের চলাফেরায় বিশেষ গুরুত্ব রাখা জরুরি । এই রোগটি খুব জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী। আপনি যদি সচেতন না হোন তাহলে এ রোগটি আপনার শরীরে অমৃত্যু  পর্যন্ত থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। রুটিন অনুযায়ী হাটা এবং হালকা ব্যায়াম ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এ রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঔষধ এবং পুষ্টিকর খাবারের প্রতি নির্ভরশীল হলেই সুস্থতা আসবে না । রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখার জন্য স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করুন । এতে আপনার শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ভালো থাকবে।

শুধুমাত্র ব্যায়াম করলেই হবে না । ব্যয়ামের পাশাপাশি বসা ওঠা হাটা কাজের ফাঁকে নড়াচড়া সবই এর অংশ। চলাফেরা করার সময় শরীরের সংকেত বুঝতে হবে মাথা ঘোরা অতিরিক্ত ঘাম বা দুর্বল লাগলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্রাম নিতে হবে। এসব নিয়ম মেনে চললে আপনি অনেক জটিলতা থেকে মুক্তি পাবেন এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারবেন।

ঘুম থেকে ওঠার পর চলাফেরার গুরুত্ব : -  

ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এটা আমাদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে । ঘুম থেকে ওঠার পর দিনের শুরুটা আমাদেরকে খুব গুরুত্ব দিয়ে শুরু করতে হবে । ঘুম থেকে উঠে তাড়াহুড়ো করে কোন কাজ করা ঠিক না  । ঘুম থেকেও ওঠার পর কিছু সময় বিছানায় বসে থেকে শরীরকে প্রস্তুত করতে হবে  ।

 কিছুক্ষণ হেঁটে নিয়ে শরীরকে সক্রিয় করে তুলতে হবে । সকালে ব্যায়াম বা হাটার পূর্বে হালকা কিছু খাবার খেয়ে নিন । যিনারা  ইনসুলিন বা ভারী কোন ঔষধ সেবন করেন তিনারা ব্যায়াম করা বা খালি পেটে না হাঁটায় ভালো । হালকা এবং স্বাভাবিক চলাফেরা দিয়েই সকালে যাত্রা শুরু করা উচিত এতে রক্তের শর্করা তুলনামূলকভাবে সারাদিন কম থাকে ।

খাবারের আগে ও পরে যে ধরনের চলাফেরার করতে হবে :-

খাবারের আগে খুব বেশি পরিশ্রম করা ঠিক নয় । কারণে এতে  রক্তের শর্করা হঠাৎ কমে যেতে পারে। খাবারের পরে একটানা বসে থাকা ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ক্ষতিকর  । এতে রক্তের শর্করা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে । দশ বা পনের মিনিট পরে হালকা হাটা রক্তের  গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে। খাওয়ার শেষে শুয়ে পড়া বা ভারী  কাজ করা একদমই উচিত নয়। খাবারের পর  পনের  থেকে বিশ মিনিট ধরে ধীরে হাটা হলে হজম ভালো হয়। তখন শরীর খাবারের  গ্লুকোজ সহজে ব্যবহার করতে পারে। 
ডায়াবেটিস-রোগী-প্রতিদিন-কেমন-চলাফেরা-করবে


 ডায়াবেটিস রোগীর হাঁটা চলার উপকারিতা:-

ডায়াবেটিসের রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে সে ব্যাপারে অবশ্যই আমাদেরকে জানতে হবে । সাইকেল চালানো , দ্রুত হাঁটা ,সাঁতার কাটার মত ব্যায়াম পেশী দ্বারা গ্লুকোজ গ্রহণ বৃদ্ধি করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । নিয়মিত হাটা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে । প্রতিদিন ৪৫ মিনিট হালকা থেকে মাঝারি গতিতে হাঁটলে ডায়াবেটিস জনিত অনেক জটিলতা কমে যায়। ৪৫ মিনিট বলুন আর ৩০ মিনিট বলুন এই হাঁটার সময় টা আপনার শরীরের উপর নির্ভর করবে।

এই সময় ধরে হাটতে গিয়ে যদি আপনি অন্য সমস্যার সম্মুখীন হন বা শরীরে অন্য কোন সমস্যা তৈরি হয় । তাহলে হাঁটা যাবে না তখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। হাঁটার জন্য তেমন কিছুর প্রয়োজন হয় না । যে কোন বয়সের মানুষ জন খুব সহজেই হাটাতে পারে । ইচ্ছে করলেই এই ব্যায়ামটিকে নিজের জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারে। 

খোলা বাতাসে হাঁটলে মানসিক চাপও কমে । হাঁটলে ঘুমও ভালো হয় এবং এন্ডোরফিন নামক এক ধরনের হরমোন নিঃসৃত হয় বলে মানসিক চাপ কমে। এই হরমোন নিঃসৃত হওয়ার ফলে মুহূর্তগুলো মধুময় মনে হয় এবং ভালোলাগার অনুভূতি তৈরি হয় । তাই ডায়াবেটিস রোগীর দৈনন্দিন চলাফেরায় হাঁটার কোন বিকল্প নেই।

ডায়াবেটিস রোগীকে কতক্ষণ হাঁটতে হবে :-

ডায়াবেটিস রোগ সবসময় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় । ডায়াবেটিসের রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এটা সম্পর্কে আমাদেরকে ভালো ধারণা রাখতে হবে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে না রাখলে হার্ট কিডনি চোখ এবং স্নায়ুসহ দেহের একাধিক অঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী খাবারের  ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটা  অভ্যাসটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নিয়মিত হাঁটলে এই রোগীর উপকার হয় দুই ধরনের। প্রথম উপকার হয় শরীরের ক্যালরি ক্ষয় হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে । দ্বিতীয়ত শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইলে  সারা দিনে কমপক্ষে ৪৫ মিনিট হাঁটতে হবে অথবা ৬০০০ ধাপ হাঁটতে হবে আরো ভালো হয় ১০ হাজার কদম হাঁটলে।

কিন্তু মনে রাখবেন, যেমন তেমনভাবে হাঁটলে উপকার পাবেন না , ঘাম ঝরিয়ে হাঁটতে হবে তবে উপকার মিলবে। আপনি একবারে ৪৫ মিনিট না হেঁটে , এই ৪৫ মিনিট কে তিন ভাগে ভাগ করতে পারেন । প্রতি তিন বেলা   খাবারের পর ১৫ মিনিট করে হাঁটতে পারেন।  এতে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয় । খাবারটা ভালোভাবে হজম হয় ।এই রোগে আক্রান্ত রোগীর মধ্যে যাদের বয়স কম উনারা জিমে গিয়ে শরীর চর্চা করতে পারেন।  এতে ফলাফল ভালো হবে ।

টাইপ - ১ ডায়াবেটিস রোগীর সকালে হাঁটা ভালো । সময় না পেলে তিন বেলা খাবারের এক ঘন্টা থেকে দেড় ঘন্টা পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটুন বিকালেও হাঁটুন ভালো থাকুন। ইনসুলিন নিয়ে হাঁটার সময় হাইপোগ্লাইসেমিয়া যেন না হয়  সেদিকে খেয়াল রাখুন এই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত কার্যকর শর্করা গ্রহণ করুন।  দীর্ঘ পথ হাঁটতে চাইলে সঙ্গে  সহজপাচ্য শর্করা জাতীয় খাবার রাখুন ।

অফিস এবং ঘরে দীর্ঘ সময় কাটানোর পর কিভাবে চলাফেরা করবেন :-

ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদেরকে জানতে হবে ।চলমান সময়ে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা আমাদের জীবনের বড় একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংক, আইটি, ডেস্ক জব বলতে গেলে সব ধরনের অফিস আদালতের কাজ চেয়ারে বসেই করতে হয়।

যার ফলে ক্রমশ বেড়ে চলেছে জীবনের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী রোগের সম্পৃক্ততা । যার মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস।  দীর্ঘ সময় বসে থাকার কারণে রক্তে সরকারের মাত্রায় শুধু বাড়ায় না । এর সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, হৃদপিন্ডের জটিলতা তৈরি করে এবং মেটাবলিজমেরও  সমস্যা তৈরি করে । মন চাইলে কর্মক্ষেত্রে বদলানো যাবে না বা বদলানো খুব একটা সহজ কথা নয় । 

তাই আমাদেরকে চলাফেরার পরিবর্তন নিয়ে আসতে হবে  । ৪০ থেকে ৫০ মিনিট পর পর একটু হেঁটে আসা যায় সে ধরনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।  সম্ভব হলে হালকা  স্ট্রেচিং করতে হবে । ছোট ছোট কাজগুলো নিজে করার অভ্যাস করতে হবে। এতে রক্তের শর্করা কমাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে । লিফটের বদলে সম্ভব হলে সিঁড়ি ব্যবহার করা যেতে পারে ।  এভাবে নিয়মিত চলাফেরা করলে ডাইবেটিসজনিত অনেক জটিল সমস্যা কমে যায় ।

বড় কাজ ও পরিশ্রমের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস রোগীর সর্তকতা :-
সুস্থ সবল মানুষের মতো ডায়াবেটিস রোগীরা ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে যেকোনো ধরনের ভারী কাজ বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে পারবেন না। অনেক সতর্কতার সহিত  ডায়াবেটিস রোগীদেরকে পারিবারিক জীবনে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হবে। হঠাৎ ভারী কাজ বা অতিরিক্ত পরিশ্রম করলে রক্তের শর্করা কমে যেতে পারে।

যিনারা ইনসুলিন নেন শক্তিশালী ওষুধ বা পাওয়ারফুল ওষুধ সেবন করেন তাদের জন্য হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণ হতে পারে । বিশেষ করে  ডায়াবেটিস রোগীর এ ধরনের কাজ মৃত্যুর ঝুঁকি হতে পারে। শরীরের সিগন্যাল ব্যাপারে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। ক্লান্তি, মাথা ঝিমুনি অতিরিক্ত ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে আপনাকে বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস রোগীর চলাফেরা কেমন হওয়া উচিত :-

নিরাপদ বসার জায়গা বেছে নিন যেখানে আপনি  নিরাপদ এবং আরামদায়ক বোধ মনে করেন সে ধরনের জায়গাতে হালকা হাটাহাটি করুন । এ অবস্থায় নারীদের চলাফেরার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন হয়। এই সময় বেশি পরিশ্রম একদম উচিত না । তবে সম্পূর্ণ বিশ্রামেও থাকা ঠিক না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন কিছু সময় ধরে হাঁটা গর্ভকালীন ডাইবেটিস নিয়ন্ত্রণের সাহায্য করে প্রতিদিন হাঁটা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে বিশেষভাবে কার্যকর । শরীরের কোন সমস্যা দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। 
 

হাঁটার সময় যে ধরনের জুতো ব্যবহার করা উচিত :-

পায়ের মাধ্যমে আমাদেরকে হাঁটতে হয় । ডায়াবেটিসের রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে এ ভাবনা মাথায় রেখে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। স্বাভাবিকভাবে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে গিয়ে আমাদেরকে হাঁটতে হয়  । অনেক সময়  হাঁটতে গিয়ে দুর্ঘটনা বসত পায়ে আঘাত লেগে ক্ষতের সৃষ্টি হয়। কিন্তু ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এই ক্ষত খুব বিপদজনক । 

এ ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য পায়ের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীকে নিরাপদ জায়গায় হাঁটতে হবে। হাটার সময় সঠিক জুতো ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক । আপনার পায়ের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য সঠিক জুতো নির্ণয় করতে যদি ভুল করেন । তাহলে হাঁটার সময় আপনার পায়ে ফোঁসকা দেখা দিতে পারে।

পরবর্তী সময়ে এই ফোসকা বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করতে পারে। এ ধরনের সমস্যা যেন না হয় সেদিকে আমাদেরকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে । সঠিক মাপের নরম এবং আরামদায়ক জুতো হতে হবে। সঠিক জুতো  ব্যবহারের মাধ্যমে আপনার শরীরের পা দুটো  থাকবে নিরাপদ। হাঁটা হয়ে উঠবে আরামদায়ক।  

চলাফেরার সময় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে করণীয় :-

হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলতে আমরা সাধারণত বুঝি  রক্তে  শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া। এটাকে  অনেকে বা সংক্ষিপ্ত আকারে হাইপো বলে। বিশেষ করে যে রোগীদেরকে ইনসুলিন এবং সালফোনিল ইউরিয়া গোত্রের ওষুধ সেবন করতে হয় । উনারায় হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকিতে থাকেন।  ডায়াবেটিস রোগীরা কম বেশি সবাই এই রোগের এই নামের সাথে পরিচিত ।

এটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সাধারণত , সময় ও সঠিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ না করা, আপনি হয়তো ব্যস্ততার কারণে খাবার গ্রহণ দেরিতে করছেন, অতিরিক্ত ইনসুলিন এবং ওষুধ  সেবন করছেন।  হঠাৎ অতিরিক্ত ব্যায়াম বা পরিশ্রম করছেন , যাদের লিভার ও কিডনি রোগ আছে তবুও ওনারা এলকোহল পান করছেন তাহলে তো তাদের ঝুঁকি বেড়ে যাবে । 
ডায়াবেটিস-রোগী-প্রতিদিন-কেমন-চলাফেরা-করবে



এ সমস্যার লক্ষণ  মাথা ঘোড়া,  ক্ষুধা লাগা  , অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া ,বুক ধরফর করা  , ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া , এগুলো সমস্যা দেখা দিলে খুব দ্রুত হাতের কাছে থাকা যেকোনো ধরনের শর্করা ১৫ গ্রাম পরিমাণ খেয়ে নিতে হবে। হতে পারে সেটা এক গ্লাস চিনির  শরবত একটি মিষ্টি চকলেট  , খেজুর চলাফের সময় রাখা নিরাপদ নিয়ম মেনে চললে এ ধরনের সমস্যা থেকে অনেকটা নিজেকে রক্ষা করা যায় ।

ডায়াবেটিস রোগীর চলাফেরায় যেসব ভুল এড়ানো জরুরী :-

ডায়াবেটিস রোগী প্রতিদিন কেমন চলাফেরা করবে সে ব্যাপারে আমাদেরকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। ভুল চলাফেরায় শরীর ও মানসিক সুস্থতার ঝুঁকি হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীরা নিজের অজান্তে অনেক কিছু ভুল করে থাকেন। হঠাৎ অতিরিক্ত পরিশ্রম করা। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা। দীর্ঘ সময় একটানা বসে থাকা ।  শরীরের সংকেত উপেক্ষা করা এবং পর্যাপ্ত পরিমান বিশ্রাম না নেওয়া । 

এ ধরনের চলাফেরা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা তৈরি করে । খাবারের ক্ষেত্রেও আমরা নিজের অজান্তে অনেক কিছু ভুল করে থাকি । যেগুলো খাবার খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো এড়িয়ে চলা আমাদের দরকার।  ডায়াবেটিস রোগীর জন্য নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রথম অবস্থায় ডায়াবেটিস কে, অনেকে গুরুত্ব সহকারে নেন না। ডায়াবেটিস হলে জীবন যাপন এবং খাদ্যভ্যাসে পরিবর্তন আনা অপরিহার্য ।

রাতের বেলা চলাফেরা ও ঘুমের সঠিক অভ্যাস :-

এ ধরনের রোগীদের চলাফেরা ও ঘুমের অভ্যাস সঠিক না হলে রক্তে  শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে যায়  । রাতে এ ধরনের রোগীদের ভারী কাজ না করায় উত্তম ।  খাবারের পরে সরাসরি শুয়ে না পড়াই ভালো । খাবারের শেষে হালকা হাঁটতে পারেন। ভালো  ঘুম  হবে । ঘুমানোর আগে মোবাইল টিভি কম্পিউটার ব্যবহার না করাই ভালো । নিয়ম করে প্রতিদিন   নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী ।  

মানসিক চাপ ও চলাফেরা সম্পর্ক :-

মানসিক চাপ আমাদের সকলকে প্রভাবিত করে এটি আমাদের জীবনের একটি অনিবার্য অংশ। এটি আমাদের আর্থিক পারিবারিক সামাজিক আরো অনেক ব্যাপারে হতে পারে । মানসিক চাপ বাদ দিয়ে মানুষের জীবনের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না । চাপ আমাদের সকলের মধ্যে বিরাজ করে । কারো বেশি কারো কম। তবে যারা ডায়াবেটিস রোগী তাদের জন্য  চাপ আরো জটিল করে তুলতে পারে । 

মানসিক চাপের কারণে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায় যা ব্লাড সুগার বাড়াতে পারে প্রতিদিন হাঁটা হালকা ব্যায়াম খোলা বাতাসে কিছুক্ষণ সময় কাটানো মনকে শান্ত করে । নামাজ মেডিটেশন বা শ্বাস প্রশ্বাসের  ব্যায়াম মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে । এজন্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মানসিক সুস্থতা ও  চলাফেরার মধ্যে  গভীর সম্পর্ক রয়েছে।

বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীদের চলাফেরার নিয়ম :-

বৃদ্ধ বয়স্ক ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন । বয়সের কারণে শক্তি কমে যায়  , হার দূর্বল হয় এবং ভারসাম্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে। হাটার সময় লাঠি ও সাপোর্ট নিয়ে হাঁটতে হবে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে  একা হাটা ভালো  না , হাঁটার ক্ষেত্রে পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিয়ে  হাঁটায় উত্তম । নিয়ম নীতি মেনে চললেও বয়স্ক রোগেরাও  স্বাভাবিক ভাবে জীবন যাপন করতে পারে।

লেখকের মন্তব্য :-

ডায়াবেটিস একটি দীর্ঘমেয়াদী রোগ । শুধুমাত্র ওষুধের উপর নির্ভরশীল হলেই সুস্থ থাকা যাবে না, প্রতিদিনের নিয়মিত খাদ্য বিশ্রাম সকল কিছুর সমন্বয়ে সুস্থ থাকা যাবে । এ লেখায় ডায়াবেটিস রোগীদের কেমন চলাফেরা করা উচিত । সে ব্যাপারে কিছু ধারণা দেওয়া হয়েছে । মনে রাখবেন । প্রত্যেকের শরীর এক রকমের না। তাই এখানে দেওয়া গাইডলাইন গুলো সাধারণ গাইডলাইন হিসেবে বিবেচনা করবেন। শরীরের সিগন্যাল  , নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে স্বাভাবিক মানসম্মত জীবন যাপন করা সম্ভব।  











এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪