OrdinaryITPostAd

পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময়

 

পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় জানা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটা আমাদের দেশের মধ্যে নয়। এটাকে আমাদের দেখতে হলে পুরোপুরি আবহাওয়া নির্ভরশীল হতে হয়। সেজন্য আবহাওয়া যখন মেঘমুক্ত আকাশ এবং আপনার দৃষ্টি সীমানা যখন কুয়াশা মুক্ত থাকবে তখন সেখানে যেতে হবে।  

পঞ্চগড়-থেকে-কাঞ্চনজঙ্ঘা-দেখার-উপযুক্ত-সময়

বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম সাদা ,মলিন, প্রাণ ভোলানো মন ভোলানো দৃষ্টিনন্দন অনন্য এক সৌন্দর্যের রূপ উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝিতে সেখানে যেতে হবে। এ সময় আকাশ মেঘমুক্ত থাকে আবার কুয়াসাও পড়া শুরু হয় না ।   

সূচিপত্র:-

    পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময়:-

    নয়নাভিরাম দৃশ্য মানুষের শান্তি প্রশান্তির জন্য প্রকৃত প্রেমীদের কাছে বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড় অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখানকার তেঁতুলিয়ায় আসলে শীতের সকালে মেঘমুক্ত আকাশে তুষারে আবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখা যায়। আপনি যদি এসব মনোরম দৃশ্য উপলব্ধি করতে চান তাহলে আপনাকে সঠিক সময় এখানে আসতে হবে। সাধারণত অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠে। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পুরো বিষয়টি নির্ভর করে আবহাওয়ার উপর। 

    আবহাওয়া যদি পরিষ্কার থেকে থাকে তাহলে আপনি এটাকে দেখতে পাবেন। এজন্য আবহাওয়ার পূর্বভাস জেনে আপনাকে সেখানে যেতে হবে।কুয়াশা মুক্ত আকাশ, পরিষ্কার শীতের সকাল, সঠিক সময়ে ভিউ পয়েন্ট  উপস্থিত থাকা, এই তিনটার সমন্বয় একত্রিত করে আপনি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ পেতে পারেন। প্রথম দিন দেখতে না পেলে হতাশ হবেন না, দ্বিতীয় দিন চেষ্টা করুন, আবহাওয়া যদি ভালো থেকে থাকে পরপর কয়েকটা দিন এভাবে চেষ্টা করুন তাহলে অবশ্যই আপনি এটাকে দেখতে পাবেন। 

    আপনি যদি সেখানে যান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কয়েকটা দিন হাতে সময় নিয়ে যেতে হবে, কেননা এটা দেখার ক্ষেত্রে যেহেতু প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হতে হয় আমাদেরকে। তাই প্রকৃতি  কখন কোন রূপ ধারণ করে সেটা কারো নিয়ন্ত্রণে না। অতএব আপনার যাত্রা যেন বিফল না হয় সেজন্য আপনাকে হাতে কয়েকটা দিন সময় নিয়ে সেখানে যাওয়া সচেতনতার কাজ হবে।কাঞ্চনজঙ্ঘা মাউন্ট এভারেস্টের পূর্ব দক্ষিণ পূর্ব দিকে অবস্থিত । এর পাঁচটি মূল শৃঙ্গের মধ্যে তিনটি নেপালে এবং ভারতের উত্তর সিক্কিম জেলায় অবস্থিত।

     অপর দুটি নেপালের তাপ্লেজুং  জেলায় অবস্থিত।  পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের জেলা । প্রকৃতি প্রেমীদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় জায়গা। তেঁতুলিয়া ও বাংলা বান্ধার অঞ্চল থেকে তুষার ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতের চূড়া দেখা যায়। এটিকে দেখতে হলে আপনাকে বাংলাদেশের ভিতর থেকেই দেখতে হবে। আপনি যদি সঠিক সময় নির্ধারিত করতে  পারেন, তবেই  আপনি বাংলাদেশের সীমানার মধ্য থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ করতে পারবেন। বাংলাদেশের সীমানা থেকে আপনি যদি কাঞ্চনজঙ্ঘার সেই মোহনীয় দৃশ্য  উপভোগ করতে চান তাহলে অক্টোবর থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি আপনাকে যেতে হবে।

    এই সময় আকাশ মোটামুটি পরিষ্কার থাকে । বাতাসে ধূলি কনা ও আদ্রতা কম থাকে। এ ধরনের মৌসুমে দূরের বস্তু দেখতে তেমন কোন সমস্যা হয় না । দিনের বেলায় সবসময় এটাকে দেখা যায় না। ঠিক ভোরবেলায় সূর্য উদয়ের আগে এবং সূর্যোদয়ের পরে কিছু সময় সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যায় । সূর্যের প্রথম আলো যখন পাহাড়ের গায়ে পড়ে তখন সাদা বরফ সোনালী অপরূপ সৌন্দর্য ধারণ করে, সেই সময় মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি হয়। ইচ্ছে করলে সব সময় এ দৃশ্য আপনি দেখতে পাবেন না । 

    এটার মূল কারণ হচ্ছে ভৌগলিক দূরত্ব ও আবহাওয়ার কারণে। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দূরত্ব অনেক দূরে। এর সাথে বিস্তৃত সমতল ভূমি ও বায়ুমণ্ডলের স্তর রয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বেশি থাকলে দৃশ্য অস্পষ্ট হয়ে যায়। শীতের সময় ঘন কুয়াশার কারণে আবার মেঘলা দিনেও মেঘের আড়ালে থেকে যায়।বাংলাদেশ থেকে যদি আপনি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চান তাহলে আপনাকে পুরোপুরি আবহাওয়ার উপর নির্ভরশীল হতে হবে । আপনি যদি এমন দৃশ্য দেখতে চান তাহলে তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলার সংলগ্ন এলাকায় যেতে পারেন।

     খোলা মাঠ নদীর পাড় কিম্বা উঁচু জায়গা থেকে দিগন্তের দিকে তাকালে দূর আকাশে মিলবে সাদা মুকুট পরা কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দাঁড়িয়ে আছে। সূর্যোদয়ের সময় লালচে আলো ধীরে ধীরে সেই সাদা রংয়ের মুকুটকে সোনালী রঙ্গে রাঙ্গিয়ে দেই। আপনি যখন কাঞ্চনজঙ্ঘা ভ্রমণ নিয়ে ভাববেন বা সেখানে যাবেন তখন আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। এটি দেখার কোন গ্যারান্টি নেই বা নিশ্চয়তা নেই । প্রকৃতিকে কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনা।

    সে তার ইচ্ছা মতন চলে। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় আপনাকে বাস্তব চিন্তা করতে হবে। প্রথম দিনে আপনি এটাকে দেখতে পাবেন তার নিশ্চয়তা নেই বা হতাশ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। অপেক্ষা এবং চেষ্টা করলে অবশ্যই দেখা পাবেন। অনেকের বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে প্রথম দিনে দেখা না পেলেও দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনে এটার দেখা মিলেছে। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময়। 

    এটা কে শুধু একটি প্রকৃতির ঘটনা হিসেবে দেখবেন না। এটি একটি চরম ঘন আবেগের চরম মুহূর্ত। নিজ দেশের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে সাদা তুষার দ্বারা আবৃত শৃঙ্গ দেখা মানে জীবনের এখন নতুন অধ্যায় শুরু হওয়া। এই দৃশ্য মানুষকে বড় স্বপ্ন দেখাতে শেখায়। প্রকৃতির বিশাল সৌন্দর্যের সামনে আমরা দাঁড়িয়ে অনুভব করতে পারি। জীবন কত সুন্দর এবং পৃথিবী কত বৈচিত্র ময়।  একে বিশ্বের তৃতীয় পর্বত শৃঙ্গ নেপালের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ এবং ভারতের উচ্চতম পর্বত শৃঙ্গ বলে। 

    এর উচ্চতা ৮৫৮৬মিটার। এটি ভারতের সিকিম রাজ্যের সঙ্গে নেপালের পূর্ব অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত। পাঁচটি পর্বত চূড়ার কারণে তুষারের পাঁচটি ঐশ্বর্য বলা হয়। সিকিম এবং দার্জিলিংয়ের স্থানীয় লোকেরা একে পবিত্র মনে করে পূজা করেন। এটিকে আপনি যখন দূর থেকে দেখবেন তখন আপনার মনে হবে এর বরফে ঢাকা চূড়াগুলো আকাশ ছুঁয়ে আছে এমন নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে আপনি মুগ্ধ হবেন । এই নামের অর্থ পাঁচটি ধনভাণ্ডার।পাঁচটি প্রধান চূড়ার উপস্থিতিতে এর নামকরণ করা হয়েছে।

    সেখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠীরা বিশ্বাস করেন এই  পাঁচটি চূড়া স্বর্ণ-রৌপ, রত্ন, শস্য ও পবিত্র জ্ঞানের প্রতীক। উনারা এটিকে শুধু পাহাড় মনে করেন না। এটি একটি পবিত্র ধর্মীয় স্থান । এর প্রাকৃতিক রূপ সবাইকে আকৃষ্ট করে । সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন রূপ ধারণ করে । এই পরিবর্তনশীল সৌন্দর্য কাঞ্চনজঙ্ঘাকে মানুষের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলে। পর্যটকদের কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা অত্যন্ত জনপ্রিয়। ভারতের টাইগার হিল থেকে সূর্যদয়ের সময় এই শৃঙ্গের দৃশ্য অত্যন্ত মনমুগ্ধকর যা পর্যটকদের কে খুব আকর্ষণীয় করে তোলে। সিকিমের বিভিন্ন ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। 

    কেন পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়:-

    আমাদের দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড় প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি। শীতের আগমনের সময় আকাশ সাধারণত খুব পরিষ্কার থাকে। সে সময় দূরে অবস্থিত তুষারে ঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া চোখে পড়ে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এত দূরের পর্বত বাংলাদেশ থেকে কিভাবে দেখা সম্ভব। এর পেছনে রয়েছে ভৌগোলিক অবস্থান ও আবহাওয়ার কারণ। বাংলাদেশের উত্তর প্রান্তের এই জেলা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সিকিমের কাছে অবস্থিত।

     ভৌগোলিক দূরত্ব কম হওয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা আমাদের উত্তরের জেলা থেকে দৃশ্যমান হয়। বাংলাদেশ থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্যন্ত কোন পাহাড় নেই সেজন্য আমাদের দৃষ্টি দিগন্ত বরাবর পৌঁছে যেতে পারে।বিস্তৃত সমতল ভূমি ও খোলা মাঠ, দিগন্ত দেখার এক মনোরম পরিবেশ তৈরি হয়। তাই পরিষ্কার দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘার সাদা তুষার দ্বারা আবৃত পর্বত শৃঙ্গ চোখে পড়ে। বর্ষার শেষে বাতাসের আদ্রতা কমে যায় । শীতকালে বাতাসের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়, সে সময় আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং কাঞ্চনজঙ্গা দেখার সুযোগ হয়ে ওঠে।

    এই সময় সূর্যোদয়ের আলো তুষারের উপর পরে তখন পাহাড় অপরূপ সৌন্দর্য ও মনোমুগ্ধকর রূপ ধারণ করে। এই জেলার প্রান্তিক অবস্থান, ফাঁকা সমতল ভূমি, শীতের আগমনে সময় পরিষ্কার আকাশ, কাঞ্চনজঙ্ঘার উচ্চতা এগুলো কারণে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ হয়। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় আপনাকে বেছে নিয়ে ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।
    পঞ্চগড়-থেকে-কাঞ্চনজঙ্ঘা-দেখার-উপযুক্ত-সময়


    কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার স্থান তেঁতুলিয়া:-

    তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের সর্বশেষ  জনপদ। এই জনপদ  প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। প্রকৃত প্রেমীদের কাছে এই জনপদ স্বপ্নের মতন । এখানকার বিস্তৃত সবুজ সমতল ভূমি, খোলা নীল আকাশ, অনন্য প্রকৃতির সৌন্দর্য, এখান থেকে পরিষ্কার শীতের সকাল, দিগন্তের শেষে  নীল আকাশের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর তৃতীয়তম পর্বত শৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা । ঠিক যেন দেখে মনে হয় তুষারের শুভ্র শাড়িতে  প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপে নিজেকে সাজিয়েছে। 

    প্রকৃতির এই রূপ সৌন্দর্য দেখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ছুটে আসে তেঁতুলিয়াতে, এইজন্য তেতুলিয়া বিশেষভাবে বাংলাদেশের মানুষের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। তেঁতুলিয়া একটি উপজেলার নাম। ইহা পঞ্চগড় জেলার অন্তর্ভুক্ত।  তেঁতুলিয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিউ পয়েন্ট হচ্ছে মহানন্দা নদীর  তীরে অবস্থিত  ডাক বাংলো সংলগ্ন এলাকা। আপনি যদি সূর্যোদয়ের সময় এই ভিউ পয়েন্টে দাঁড়ান।

    তাহলে দেখতে পাবেন সূর্যোদয়ের সোনালী আলো পর্বতের চূড়ায় লেগে পর্বতকে শোনালি আভায় সাজিয়েছে। নিরব প্রকৃতির নীল আকাশ ভরা আলো এই মনোমুগ্ধকর এক অসাধারণ অনন্য পরিবেশ তৈরি হয় ।  এ দৃশ্য ভোলার নয়।  আপনি যদি একবার এ দৃশ্যকে দেখতে পান তাহলে বারবার সেখানে যেতে আগ্রহী হবেন। এখানকার আরেকটি আকর্ষণ হচ্ছে  শান্ত নিরিবিলি ও আকর্ষণীয় পরিবেশ শহরের কোলাহলমুক্ত থেকে দূরে, প্রকৃতির মাঝে দাঁড়িয়ে।

    দাঁড়িয়ে থাকা পর্বত দেখার এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি হয় । এখনকার   স্থানীয়ভাবে চা বাগানের দৃশ্য আপনাকে ভালো লাগবে। ভ্রমণপিপাসুরা এখন শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উদ্দেশ্যে তেঁতুলে আয় জান্নাত তেতুলিয়ায় আসেন না উনারা ব্যক্তিগত জীবনে কর্মময় জীবনে সাংসারিক জীবনে একঘেয়েমি দূর করার জন্য নিরিবিলি শান্ত মনোরম পরিবেশ খুঁজতে থাকেন। তাদের মাসে উনাদের মানসিক চাহিদা পূরণ করতে  এ পরিবেশ অনেকটা সক্ষম ।  আপনি চাইলে ঘুরে আসতে পারেন সেই বাংলাদেশের সর্বশেষ জনপদ তেঁতুলিয়া থেকে। 

    সারাটা দিনের মধ্যে কাঞ্চনজঙ্ঘা কোন সময় পরিষ্কার দেখা যায়:-

    বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়া উপজেলার নির্দিষ্ট ভিউ পয়েন্ট থেকে বরফে ঢাকা  পর্বত চূড়া দেখা যায়। পুরো দিনের মধ্যে সব সময় আপনি এই দৃশ্য দেখতে পাবেন না। আপনি যদি এটাকে দেখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে প্রকৃতির নিয়ম মেনে চলতে হবে। সাধারণত ভোরবেলায় সূর্য ওঠার আগে এবং সূর্য ওঠার পর কিছুক্ষণ সময় পর্যন্ত দেখা যায়। এ সময়  বাতাস ঠান্ডা থাকে। আর্দ্রতা কম থাকে এবং বাতাসে ধোঁয়া ধূলিকণা কম থাকে। ফলে  দূরের পর্বতচূড়া পরিষ্কার ভাবে চোখে পড়ে।

     সূর্যের প্রথম আলো যখন তুষারে আবৃত পাহাড়ের চূড়ায় পড়ে তখন সাদা চুড়া সোনালী আভায় ঝলমল হয়ে ওঠে এই মুহূর্তে কাঞ্চনজঙ্ঘার সবচেয়ে নয়নাভিরাম দৃশ্য যা পর্যটককে আকর্ষণ করে। আবহাওয়া যদি ভালো থাকে তাহলে সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে দেখার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে তাহলে পাহাড়ের রেখা স্পষ্টভাবে দেখতে পাবেন। সূর্য উপরে উঠার কারণে প্রকৃতির তাপমাত্রা বাড়তে থাকে।

    সে সময় বায়ুমন্ডলে ধূলিকণা ও জলীয় বাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। যার কারণে  দূরের দৃশ্য ধীরে ধীরে ঝাপসা হতে থাকে। সেজন্য দুপুরের দিকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা দৃষ্টি সীমানার বাইরে চলে যায়। আপনি বিকেলে দেখার চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু ভোরের মতন পরিষ্কার দেখা যাবে না।  দিনের বেলায় বাতাসে ধোঁয়া জমে থাকার পরিমাণ অনেক বেশি। সূর্যাস্তের সময় আলো কমে যাওয়ার কারণে দূরের বস্তু অস্পষ্ট হয়ে যায়।


    সেজন্য ভোরের সময় সবচেয়ে উপযুক্ত। কাঞ্চনজঙ্ঘা আমাদের দেশের মধ্যে নয়। আমাদের দেশ থেকে তাকে দেখতে হলে পুরোটাই দূর দৃষ্টির মাধ্যমে তাকে দেখতে হবে। সেহেতু আমাদের দৃষ্টি সীমানা কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য পরিষ্কার আবহাওয়া থাকতে হবে। আকাশে মেঘ বা কুয়াশা থাকলেও আপনি ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পাবেন না। অনেক পর্যটক রাতে তেঁতুলিয়ায় পৌঁছে ভোরবেলায় নির্দিষ্ট সময়ে দাঁড়িয়ে থাকেন বা অপেক্ষা করেন। 

    প্রকৃতির এই ক্ষণস্থায়ী সৌন্দর্য বা রূপ বদলের কৌশল আমাদেরকে মনে করিয়ে দেয়, সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সঠিক জায়গায় অপেক্ষা করলে জীবনের সুন্দর দৃশ্য গুলো দেখা মেলে। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় আপনি যখন পঞ্চগড় উপস্থিত থাকবেন অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে হবে।
    পঞ্চগড়-থেকে-কাঞ্চনজঙ্ঘা-দেখার-উপযুক্ত-সময়


    সব সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না:-

    বাংলাদেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেতুলিয়া উপজেলা থেকে সাদা তুষারে আবৃত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। অনেকে অনেক সময় বা অনেক কারণে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য ঢাকা এই পর্বত কে দেখতে পান না। তখন  আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে কেন সব সময় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় না।কাঞ্চনজঙ্ঘা আমাদের দেশে অবস্থিত নয়। আমাদের দেশের সীমানা থেকে এটির অবস্থান অনেক দূরে। এটি আমাদের দেশ থেকে দেখতে হলে পুরোপুরি পরিষ্কার আবহাওয়ার  উপর নির্ভরশীল হতে হয়।


    আমাদের দেশের সীমানা থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা সীমানা পর্যন্ত বিশাল সমতল ভূমি ও বায়ুমণ্ডলের অনেক স্তর রয়েছে। আকাশে যদি মেঘ বেশি থাকে তাহলে পর্বত আমাদের দৃষ্টির আড়াল হয়ে যায়। আবার কুয়াশা বেশি থাকলেও দূরের বস্তু ঝাপসা হয়ে যায়।বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকলেও সমস্যা দেখা দেয়। বর্ষাকালে বাতাসে আদ্রতা বেশি থাকলে এবং গরমকালে বাতাসে ধোঁয়া বা ধূলিকণা বেশি থাকলেও দৃশ্য ঝাপসা হয়ে যায়। তাই শীতকালে পরিষ্কার আবহাওয়াতে  এটাকে দেখা সম্ভব হয়। 

    কাঞ্চনজঙ্ঘা পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বত হলেও পঞ্চগড় থেকে এটার দূরত্ব অনেক বেশি। দূরের বস্তু দেখতে হলে  আকাশ পুরোপুরি পরিষ্কার থাকতে হবে। সামান্য পরিমাণ মেঘ বা কুয়াশাও সে দৃশ্যকে আড়াল করতে পারে। আপনি যদি পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চান তাহলে আপনাকে ধৈর্য ধরতে হবে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে সেই দৃশ্য অবশ্যই চোখে পড়বে। প্রকৃতিতে কারো হাত নেই, প্রকৃতি তার ইচ্ছামত চলবে। অতএব প্রকৃতির ইচ্ছা অনুযায়ী আমাদেরকে চলতে হবে। মেঘ, ধূলিকণা, ধোঁয়া, আর্দ্রতা, দূরত্ব এসব মিলিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘাকে আমরা সবসময় দেখতে পাই না। 

    পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথ এবং ভ্রমণ খরচ:-

    পঞ্চগড় বাংলাদেশের সর্বশেষ উত্তরের জেলা। এখানে যাওয়ার জন্য কয়েক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনি বিমানে যেতে চাইলে ঢাকা টু সৈয়দপুরযেতে হবে। কেননা পঞ্চগড় জেলায় কোন বিমানবন্দর নেই। সৈয়দপুর কিন্তু নীলফামারী জেলার মধ্যে।  সৈয়দপুর থেকে বাসযোগে আবার পঞ্চগড়ে যেতে হবে। আপনি ইচ্ছা করলে যেতে পারেন। সৈয়দপুর এবং পঞ্চগড়ের মাঝে একটি ছোট  ভ্রমণ প্যাকেজ  কমপ্লিট হয়ে যাবে। আপনার অভিরুচি, মন যদি চায় আপনি গেলেন, সৈয়দপুর থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব ১৫০ কিলোমিটার, বাসযোগে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় লাগে।

    আপনি রেলপথেও যেতে পারেন। রেলপথের ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের  দূরত্ব ৫২৬ কিলোমিটার। ভাড়াটা যেকোনো সময় পরিবর্তন হয় যার কারণে নির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না কিন্তু আমি মোটামুটি আপনাকে একটা ধারণা দিচ্ছি বর্তমান ভাড়া অনুযায়ী। শোভন চেয়ার ৭৪০,  এসি চেয়ার (  স্নিগ্ধা  ) টাকা ১৪২১ টাকা , এসি কেবিন ২৫৯৮ টাকা.।আপনি সড়কপথেও যেতে পারেন। সড়ক পথের দূরত্ব ৪৪৪ কিলোমিটার। বিভিন্ন কোম্পানির বাসের বিভিন্ন ধরনের টিকিট মূল্য। মোটামুটি একটা ধারণা দিচ্ছি , ঢাকা টু পঞ্চগড় ১৯০০ টাকার মতন এবং সাধারণ নরমাল ভাড়া গুলো ৯০০ , ১০০০ , ১১০০ টাকা ।

    পরিবর্তনশীল যার কারণে আমি সুনির্দিষ্ট ভাবে বললাম না , মোটামুটি একটা ধারণা দিলাম, আপনি যাওয়ার আগে অবশ্যই স্টেশন বলুন, বাস টার্মিনাল বলুন সঠিক তথ্যটি সেখান থেকে সংগ্রহ করে নিবেন। আবাসিক হোটেলের কিছু তথ্য আপনাদেরকে দেওয়া হলো ৩০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত। ৮০০ থেকে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত। এগুলো ভাড়া পরিবর্তনশীল। এটা তুলে ধরা হলো শুধুমাত্র আপনাকে একটা ধারণা দেওয়ার জন্য। সেখানে অনেক ধরনের হোটেল আছে। সেখানে গিয়ে আপনি আপনার মন মতন খুঁজে নিন। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় হলে আপনাকে সে ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হতে হবে।

    লেখকের মন্তব্য:-

    বাংলাদেশের সীমানা থেকে আপনি যদি কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে পঞ্চগড়ে  যেতে হবে। সঠিক সময়ে নির্ধারণের মাধ্যমে আপনি এই সৌন্দর্য টাকে উপভোগ করতে পারবেন। এটাকে দেখতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্যশীল হতে হবে।  বাংলাদেশের সীমানা থেকে এটাকে দেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল হতে হবে। আবহাওয়া যদি স্বচ্ছ পরিষ্কার না থাকে তাহলে আপনি দেখতে পাবেন না।

    অবশ্যই আপনাকে সময় হাতে নিয়ে যেতে হবে। পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার উপযুক্ত সময় আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না ধৈর্য ধরে ধৈর্য ধরুন প্রকৃতির উপর ভরসা থাকুন হাস্যজ্জল মনোভাব নিয়ে মানুষের সঙ্গে চলাফেরা করুন অবশ্যই আপনার মনের আশা প্রকৃতি পূরণ করবে। মানুষ মানুষকে হয়রানি করে কিন্তু প্রকৃতি আমাদেরকে হয়রানি করবে না।

    অন্য কোন লেখনীর মাধ্যমে আবার দেখা হবে ভালো থাকুন।

    ’’ আল্লাহ্ হাফেজ’’

    এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

    পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
    এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
    মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

    অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

    comment url

    এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

    এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

    এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪