OrdinaryITPostAd

সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড

সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড  অর্থই হচ্ছে আপনার দুই নয়নের সামনে ভেসে ওঠা সবুজের পাহাড় স্বচ্ছ নদীর পানি পাথরে ভরা এক মনোরম পরিবেশ। জাফলং গেলে আপনি বুঝতে পারবেন প্রকৃতি তার নিজস্ব রূপে কত সুন্দর করে নিজেকে সাজাতে পারে। 
সিলেটের-জাফলং-ভ্রমণ-গাইড

আপনার কর্মময় ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ জীবনের  ক্লান্তি দূর করার জন্য জাফলং হয়ে উঠতে পারে আপনার প্রিয় জায়গা। এখানে আসলে আপনি প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে নিজেকে আবার নতুন ভাবে তৈরি করতে পারবেন। এখানে ভ্রমণের ফলে আপনার প্রাণশক্তিতে আসবে প্রাণবন্ত গতিশীলতা ।



সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড:-

জাফলং বাংলাদেশের প্রকৃতির রূপসীর কন্যার মধ্যে একটি। সিলেট জেলায় যে কয়েকটি দর্শনীয় স্থান আছে জাফলংকে আমরা সবচেয়ে পছন্দের স্থান হিসেবে ধরতে পারি। জাফলং সিলেট জেলার গোয়াইন ঘাট  উপজেলায় অবস্থিত। জাফলং ভারতের মেঘালয় সীমান্তে খাসিয়া ও জৈন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে প্রকৃতির নিজস্ব রূপে নিজেকে সাজিয়ে নিয়ে আছে। ডাউকি নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা উঁচু উঁচু পাহাড়ের সাদা মেঘের খেলা। এগুলো দৃশ্যের কারণে জাফলং মানুষের কাছে একটি প্রিয় স্থান বা পর্যটকদের কাছে একটি প্রিয় স্থান।

বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন আবহাওয়ার কারণে জাফলং নিজেকে বিভিন্ন ভাবে প্রকৃতির রূপে সাজিয়ে নিতে পারে। তার এই প্রাকৃতিক রূপ পরিবর্তনের জন্য জাফলং পর্যটকের কাছে অতি প্রিয় একটি স্থান। প্রকৃতির আবহাওয়ার পরিবর্তনের  সঙ্গে সঙ্গে নিজের রূপের পরিবর্তন করে পর্যটকদেরকে  ভ্রমণের জন্য সারা বছরে হাতছানি দিয়ে ডাকে।  সিলেট অঞ্চলের এই পর্যটন কেন্দ্রকে শুধু ভ্রমণ স্পট হিসেবেই ধরা হয় না, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সংযোগে সৃষ্টি কারী হিসাবেও ধরা যেতে পারে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা ঝর্ণধারা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। 

মানসিক প্রশান্তির জন্য মানুষ ভ্রমন করে। ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করার জন্য এবং নিজেকে নতুন করে তৈরি করার জন্য মানুষ ভ্রমণ করে। প্রকৃতির নীরবতা মানুষের মাঝে তৈরি করে এক নতুন জগৎ। দেশের যেকোনো স্থান থেকে জাফলং যেতে চাইলে সর্বপ্রথম আপনাকে সিলেট শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার তিনটি পথ আছে। আপনি ইচ্ছা করলে আকাশ পথ, রেল পথ বা সড়ক পথে যেতে পারেন। এই তিনটি পথেই আপনার জন্য মোহনীয় কন্যাকে দর্শনে  নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। শুধু চাই আপনার ইচ্ছা শক্তি। 

সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড এর অর্থ শুধু ঘুরে বেড়ানো তা নয় এটি মানসিক শান্তির এক অসাধারণ সুযোগ। সিলেটের জাফলং গাইড এর উদ্দেশ্য হচ্ছে জাফলং সম্পর্কে একটি সঠিক পরিপূর্ণ ধারণা দেওয়া । ভ্রমণকারীরা যেন পরিকল্পনা করতে পারেন অতি সহজে এবং সুন্দর ও নিরাপদ ভ্রমণ উপভোগ করতে পারেন। আপনি যখন কোন জায়গায় যাবেন সে জায়গার তথ্য যদি আগাম নেওয়া থাকে তাহলে আপনার যাত্রা আরামদায়ক হবে, যেমন কোন সময় গেলে ভালো হয় , সেখানে কিভাবে যাওয়া যায়, সেখানে যাওয়ার পর কি ধরনের খাবার খাওয়া যায়, কিভাবে রাত্রি যাপন করা যায়। কোন কোন বিষয় মাথায় রাখতে হয় এসব বিষয় আগাম জানা থাকলে আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও আরো আনন্দময় হয়ে উঠবে ।

সিলেটের জাফলং ভ্রমণের আরেকটি বিশেষ দিক আছে সেটা হচ্ছে চা বাগানের সৌন্দর্য। সবুজে ঘেরা চা বাগানের দিকে তাকালে আপনার চোখ জুড়িয়ে যাবে। চা বাগানের সারি সারি গাছের দিকে আপনার দৃষ্টি পড়লে আপনার মনে হবে  এ যেন কোন শিল্পীর আঁকা ছবি, সূর্যের আলো যখন চা বাগানের উপর পড়ে তখন এক মনোরম দৃশ্য তৈরি হয়। আপনার মনে হবে প্রকৃতি যেন নিজের হাতে তাকে সাজানোর জন্য চিত্রকর্ম একেঁছেন। অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি জাফলংয়ের আরেকটি সৌন্দর্যের অংশ, ডাউকি নদী। এ নদীর পানির স্বচ্ছতার কারণে নিচের পাথরগুলো স্পষ্ট ভাবে দেখা যায়।

নৌকায় চড়ে যখন এই নদীতে ঘুরবেন তখন একটি অসাধারণ ভালোলাগা আপনার ভেতরে তৈরি হবে। পাহাড়ের গায়ে চারদিকে সবুজ গাছপালা। মাঝখানে নীলাভা স্বচ্ছ পানির এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। এই মনোরম দৃশ্য প্রতিটি পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয়। এ ভ্রমণের মাধ্যমে আপনি শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করবেন তা কিন্তু না এর মাধ্যমে নতুন সংস্কৃতি ও নতুন পরিবেশে পরিচিতি হওয়ার এক অপার সুযোগ করে দেয়। এই এলাকায় স্থানীয় লোকজনের জীবন যাপন পদ্ধতি এবং তাদের সরলতার মধ্যে অতিথি পরায়ণতা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

এখানকার  স্থানীয় খাবারের স্বাদে এক ধরনের  ভিন্নতা পাবেন। খাবারের ভিন্ন স্বাদ আপনার ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করবে। ভালো পরিকল্পনা ছাড়া যেমনটি কোন কাজের  সফলতা আসে না ঠিক তেমনটি সুন্দর  ভ্রমণের জন্য অবশ্যই আপনাকে পরিকল্পনা করতে হবে। কতদিনের জন্য আপনি ভ্রমণে যেতে আগ্রহী । সেই অনুপাতে বাজেট নির্ধারণ করা করা, যাতায়াত ব্যাপারে ধারণা নেওয়া। এসব ব্যাপারে আগাম সতর্কতা নিলে ভ্রমণের সময় অতিরিক্ত ঝামেলা  এড়ানো যায়। নতুন ভাবে জীবনকে উপভোগ করার জন্য অবশ্য ভ্রমণের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকৃত সুখ অর্থ বিত্ত প্রভাব  প্রতিপত্তির মধ্যে নেই। বড় কোন জিনিসের মধ্যে নেই। প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে পাহাড়-পর্বতের বাতাসে, নদীর জল রাশির শব্দে, এবং পাখির ডাকে। প্রকৃতির এই সাধারণ জিনিস গুলোই আমাদের মনে এক অন্যরকম অনুভূতি তৈরি করে। এটি একটি অনুভূতির গল্প মাত্র। সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড টি তথ্যভিত্তিক নয়। আমার  লেখা আপনাদেরকে অনুপ্রাণিত করবে প্রকৃতির কাছে যেতে। নতুন জায়গায় যেতে। সেখানকার প্রকৃত রূপ সাজ গন্ধ সম্পর্কে ধারণা দিতে এবং আপনার জীবনের জন্য নতুন আনন্দ খুঁজে পেতে। আপনি যদি সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী  ভ্রমণ করেন তাহলে ভ্রমণের স্মৃতি আপনার মনে দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়ে থাকবে।

কিভাবে জাফলং যেতে হবে:-

দেশের যেকোনো স্থান থেকে জাফলং যেতে চাইলে সর্বপ্রথম আপনাকে সিলেট শহরে পৌঁছাতে হবে। ঢাকা থেকে সিলেট যাওয়ার তিনটি পথ আছে। আপনি ইচ্ছা করলে আকাশ পথ, রেল পথ বা সড়ক পথে যেতে পারেন। এই তিনটি পথেই আপনার জন্য মোহনীয় কন্যাকে দর্শনে  নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় আছে। শুধু চাই আপনার ইচ্ছা শক্তি। ঢাকার মহাখালী, সায়দাবাদ, গাবতলী, ফকিরাপুল এসব বাস টার্মিনালে আপনি সিলেটগামী বাস পাবেন। বাসের নাম এবং ভাড়া এগুলো পরিবর্তনশীল এই জন্য আমি উল্লেখ করলাম না।  আপনারা ভ্রমণের আগে এসব যাচাই করে নেবেন।

ঢাকা থেকে সিলেটে দূরত্ব প্রায় ২৫০ কিলোমিটারের মতন। কতক্ষণ সময় লাগে  সেটা আমি উল্লেখ করলাম না। কেননা রাস্তায় জ্যাম থাকলে আমার উল্লেখিত সময়ের সঙ্গে আপনার ভ্রমণের সময় মিলবে না। আপনি ট্রেনে  ঢাকা থেকে সিলেট যেতে পারেন। কমলাপুর কিংবা  বিমানবন্দর স্টেশন পাওয়া যাবে  সিলেটগামী অনেক ট্রেন। যেমন জয়ন্তিকা, উপবন, পারাবত যে কোন ট্রেনে আপনি যেতে পারেন। আপনি চাইলে ঢাকাতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে  আকাশ পথে  সিলেট পৌঁছাতে পারেন। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিলেটগামী বিমান পাবেন ।


জাফলং ভ্রমণের উপযুক্ত সময়:-

প্রকৃতির সৌন্দর্যের উন্নত লীলাভূমি জাফলং। ভারত সীমান্তের খাসিয়া ও জৈন্তিকা পাহাড়ের পাদদেশে জাফলং অবস্থিত। এ পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের জন্য উপযুক্ত সময় অবশ্যই আপনাকে জানতে হবে। তাছাড়া ভুল সময় গেলে কিছুটা অস্বস্তি এবং দেখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে। এ পর্যটন কেন্দ্র বছরের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ ধারণ করে। এই পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণের জন্য বর্ষাকাল সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এ সময় পাহাড়ি অঞ্চলে  প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়, ঝর্ণাগুলো প্রাণ ফিরে পায়।

চারপাশে সবুজ গাছপালা গুলো আরো গারো সবুজ রূপ ধারণ করে, শীতকালেও আপনি জাফলং যেতে পারেন। এ সময় আবহাওয়া ঠান্ডা থাকে এবং আকাশ পরিস্কার থাকে।  দূরের পাহাড় ও সীমান্তবর্তী এলাকার দৃশ্যগুলো খুব সুন্দর ভাবে দেখা যায়। আরামদায়ক আবহাওয়া এবং চিন্তামুক্তভাবে ঘুরতে চাইলে আপনাকে শীতকালে আসতে হবে। জাফলং বছরের যে কোন সময় আপনি ভ্রমন করতে পারেন। কোন সময় ভ্রমণ করলে আপনাকে ভালো লাগবে সে সময়টা আপনাকে নির্বাচিত করতে হবে।

সিলেটের-জাফলং-ভ্রমণ-গাইড (3)


কি ধরনের খরচের সম্ভাবনা:-

সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী আগাম ভ্রমণের পরিকল্পনা করলে সর্বপ্রথম আপনাকে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। ভ্রমণের খরচ বলতে আমরা সাধারণত বুঝি যাতায়াত থাকা-খাওয়া ঘোরাঘুর ব্যক্তিগত কোন জিনিস কেনা ।  আপনি কোন জেলা থেকে ভ্রমণের জন্য যাত্রা শুরু করবেন তা তো আমার জানা নেই আপনি যেখানে আছেন সেখানে থেকে সিলেট শহরে চলে আসুন।  সিলেট শহরের জাফলং যাওয়ার জন্য অনেক ধরনের যানবাহন পাবেন সেগুলোতে আপনাকে জাফলংয়ে  যেতে হবে।

আমি ভাড়ার কথা লিখছি না কেননা এগুলো ভাড়া সাধারন পরিবর্তনশীল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন,  শহরের লোকজনের সঙ্গে কথা বলুন> হালকা কিছু কিনুন ছোট ছোট দোকানদারের সঙ্গে কথা বলুন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন ,আপনি সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন আপনি দিন গিয়ে দিন ঘুরে আসলে তেমন কিছু দেখতে পাবেন না আপনি যদি মনের মতন করে জাফলং দেখতে চান  তাহলে অবশ্যই আপনাকে সেখানে বেশ কয়েকদিন থাকতে হবে থাকা বলতে আবশ্যিক হোটেলে রাত্রে যাপন করতে হবে সে ক্ষেত্রে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন রয়েছে ।

৮০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকার পর্যন্ত হোটেল আছে , একটু উন্নত পরিবেশ চাইলে সেগুলোর ভাড়া ২০০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হয়। এখানে আমি হালকা ধারণা দিলাম। খাবারের খরচের জন্য আপনাকে একটি বাজেট রাখতে হবে সাধারণ রেস্টুরেন্ট জনপ্রতি এক বেলা খাবার খেলে ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত রাখতে হবে । ডাউকি নদীতে আপনি যদি নৌকায় চড়ে কিছুক্ষণ সময় কাটাতে চান তাহলে সেখানে একটা খরচের ব্যাপার আছে। 

আপনি যদি দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখার জন্য একটা গাইড নিতে চান তাহলে সেখানেও আপনার একটি খরচ আছে । সেখানে খরচের মাত্রাটা আরেকটু বেড়ে যাবে। সব মিলিয়ে সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী ভ্রমণের খরচ তেমন বেশি না,  আপনার সঠিক পরিকল্পনা এবং দলবদ্ধভাবে যদি ভ্রমণ করেন তাহলে কম খরচের মধ্যেই হবে। অগ্রিম টিকিট বুক করলে বাড়িতে ভাড়া এড়ানো যায়। বাজেট অনুযায়ী হোটেল নির্ধারণ করলে অনেক খরচ কম আসে।  আপনি যদি ভ্রমণ করতে চান তাহলে সম্ভাব্য খরচের একটা ধারণা নিয়ে প্রস্তুতি নিলে জাফলং সফর হবে আনন্দময় সাশ্রয়ী চিরস্মরণীয় । 

কোথায় থাকবেন:-

সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড নিয়ে , জাফলংয়ে  গেলে প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়ায় আমরা কোথায় থাকবো। আরামদায়ক ও নিরাপদ আবাসনে না থাকলে, আপনি ভ্রমণ করে আরাম পাবেন না। আপনার সঠিক চিন্তা করে আরামদায়ক জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। পর্যটকদের অনেকে জাফলংয়ে না থেকে সিলেটের শহরে চলে আসেন বা সিলেট শহরে অবস্থান করা পছন্দ করেন।  শহরে কিছু জায়গায় বিভিন্ন মানের হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউস রয়েছে।  সাধারণ মানের হোটেল অতি সহজে পাওয়া যায় যেখানে ৮০০ থেকে ২০০০ টাকার মধ্যেই রুম ভাড়া করা সম্ভব।

এসব হোটেলে প্রয়োজনীয় মৌলিক সুবিধা আছে যেমন পরিষ্কার কক্ষ বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা থাকে। অল্প খরচের মধ্যে এগুলো হোটেলে থাকা ভালো হয় । অন্যদিকে আরামদায়ক পরিবেশের জন্য মাঝারি বা উন্নত মানের হোটেলে হোটেল বেছে নিতে পারেন। এসব হোটেলে এয়ার কন্ডিশন, গরম পানি, রুম সার্ভিস এবং কখনো কখনো রেস্টুরেন্টের সুবিধাও  থাকে। প্রতি রাতে দুই হাজার থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত ভালো মানের কক্ষ পাওয়া যায় । যিনারা প্রকৃতিকে ভালোবাসেন প্রকৃতির কাছে থাকতে চান। 

উনারা জাফলংয়ে  কিছু হোটেল আছে সেখানে থাকতে পারেন। কেউ যদি ঘুম থেকে উঠে পাহাড় দেখতে চান এবং সন্ধ্যার সময় নদীর পাশে সময় কাটাতে চান এই অভিজ্ঞতা গুলো সত্যিই অনন্য। তাহলে আপনাকে সেই রকম জায়গায় থাকতে হবে। ভাড়া মৌসুম ভেদে কমবেশি হতে পারে। মৌসুমের সময় আপনি বুকিং না করলে রুম পাওয়া কঠিন হতে পারে। কেউ কেউ চা বাগানে কাছের রিসোর্টে থাকতে পছন্দ করেন।

সবুজ চা বাগানের পাশে শান্ত পরিবেশ, এ ধরনের রিসোর্টে রাত কাটানোর এক আলাদা অনুভূতি তৈরি করে। এটি প্রকৃতি প্রেমী কোন নবদমপতিদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হতে পারে। থাকার জায়গা নির্ধারিত করার সময় আপনাকে কয়েকটি বিষয়ে মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ পরিবহন সুবিধা কেমন তা দেখতে হবে। হোটেল থেকে জাফলং  আসার সহজ কিনা । তৃতীয়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান বিবেচনা করা উচিত।

সিলেটের-জাফলং-ভ্রমণ-গাইড

সেখানে যাওয়ার পর কি ধরনের খাবার খাবেন:-

সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী আপনি যদি সেখানে যান তাহলে ঐতিহ্যবাহী খাবার গুলো খেয়ে আপনাকে ভ্রমণের পূর্ণতা নিয়ে আসতে হবে। সিলেটের নিজস্ব কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার রয়েছে যেগুলোর স্বাদ আমাদের দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে মিলবে না। সিলেটের বিখ্যাত খাবার গুলোর মধ্যে সাতকরা গরুর মাংস একটি জনপ্রিয় খাবার। সাতকরা এক ধরনের লেবু জাতীয় ফল যার টক স্বাদ মাংসের সাথে মিশে এক অসাধারন স্বাদ তৈরি করে। এটা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। যার স্বাদ ঘ্রাণ অনেকদিন মনে থাকবে।

 যারা টক জাতীয় খাবার পছন্দ করেন ওনাদের জন্য বিশেষ এক আকর্ষণী। এ অঞ্চলের তাজা নদীর মাছও পাওয়া যায়। ডাউকি নদী ও আশেপাশের অন্যান্য জলাশয় থেকে সংগ্রহীত মাছ দ্বারা তৈরি ঝোল ভুনা যেটা আপনার মন চায় সেটা খেতে পারেন। স্থানীয় হোটেল বা রেস্টুরেন্টে আমাদের দেশি  মাছের বিভিন্ন পদের তরকারি পাওয়া যায়। যেমন রুই কাতলা ও ছোট মাছের ঝোল এগুলো আপনি খেতে পারেন। দেশি মুরগি এবং পাহাড়ের সবজি সিলেট অঞ্চলের বেশ জনপ্রিয়। পাহাড়ি লাউ, শাকসবজি,  স্বাস্থ্যকর কিছু খাবার পাবেন, যিনারা সবজি জাতীয় খাবার পছন্দ করেন উনারা এসব খাবার খেতে পারেন।

এছাড়া দেশি মুরগির ঝোল ভুনা ভর্তা বিভিন্ন ধরনের রান্না করা তরকারি পাওয়া যায়। আপনার মনে যেটা চায় সেটা আপনি খেতে পারেন। আপনাকে খাবার খাওয়ার সময় অবশ্যই কিছু নিয়ম নীতি মেনে চলতে হবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখে আপনাকে ভালো মানের স্বাস্থ্যকর হোটেল বেছে নিতে হবে। অবশ্যই আপনাকে রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর হোটেল বা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সব মিলিয়ে খাবারের অভিজ্ঞতা হবে বৈচিত্র্যময় উপভোগ্য।

স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার আপনার দেশীয় খাবার সব মিলিয়ে ভ্রমণের যোগ করবে অসাধারণ এক পরিবেশ । প্রকৃতির সৌন্দর্য এবং সুস্বাদু খাবার এই দুটো মিলে আপনার ভ্রমণকে করে তুলবে পরিপূর্ণ। তাই সিলেটের জাফলং ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী জাফলংয়ে গিয়ে শুধু চোখ দিয়ে দেখা নয়, খাবারের স্বাদ  গ্রহণ করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। স্থানীয় চায়ের দোকানে বসে গরম চা পান করার অভিজ্ঞতা আপনার ভ্রমণে নতুন আনন্দ যোগ করবে। সিলেটের বিখ্যাত সাতস্তরের চা অনেকের কাছে কৌতূহলের বিষয়। 

জাফলং ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ টিপস:-

সিলেটের জাফলং  ভ্রমন গাইড অনুযায়ী, প্রকৃতির সৌন্দর্যের আকর্ষণ জাফলংয়ে যাওয়ার আগে অবশ্যই আপনাকে কিছু জিনিস জানা দরকার, যা আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ স্বাচ্ছন্দময় এবং আনন্দদায়ক করবে। আপনার সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতন মনোভাব আপনাকে অপ্রত্যাশিত ঝামেলা থেকে রক্ষা করবে। ভ্রমণের প্রতিটি মুহূর্তকে করে তুলবে আকর্ষণীয়। ভ্রমণের আগে আপনাকে অবশ্যই সময় নির্বাচিত করতে হবে। বর্ষাকালে জাফলং এর সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি ফুটে ওঠে। এ সময় নদীর স্রোত বেশি থাকার কারণে নদীতে নামার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবে । 

যাতায়াত ও থাকার ব্যবস্থা আগে থেকেই নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে অথবা ছুটির দিনে গেলে আগে থেকেই হোটেল বুকিং করতে হবে। তাছাড়া আপনি যেকোনো সময় সমস্যায় পড়তে পারেন। একইভাবে বাস ট্রেনের টিকিট আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখতে হবে। এগুলো করে রাখলে অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকে নিজেকে এড়ানো যায়। পরিবেশকে রক্ষা করতে হবে , পরিবেশ সংরক্ষণের সচেতনতা আমাদের প্রতিটি মানুষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এই এলাকা প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর,  যেখানে সেখানে  প্লাস্টিক বোতল খাবারের প্যাকেট ফেলে নোংরা পরিবেশ তৈরি করা উচিত না। 

নিজের ব্যবহৃত  ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে, আমরা পরিবেশ রক্ষা করব, প্রকৃতির সৌন্দর্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব । আরামদায়ক পোশাক আপনাকে সঙ্গে রাখতে হবে। স্যান্ডেল স্পোর্টস জুতা ছাতা বা ক্যাপ সঙ্গে রাখা ভালো ,আপনি  যদি বর্ষাকালে সেখানে যান অবশ্যই আপনাকে অতিরিক্ত পোশাক রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ঔষধ পানির বোতল প্রয়োজনীয় নথিপত্রের সঙ্গে রাখতে হবে । স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্মান ভদ্র আচরণ করা উচিত। জাফলং  সীমান্তবর্তী অঞ্চল এই অঞ্চলের চলার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় কিছু নিয়ম নীতি আছে। সেগুলো অবশ্যই আপনাকে মেনে চলতে হবে।

নিরাপত্তা বাহিনীর নির্দেশ মেনে চললে কোন সমস্যা হবে না। আপনাকে আপনার বাজেট নিয়ন্ত্রণ করে চলতে হবে ভ্রমণের আগে অবশ্যই আপনাকে খরচ হিসাব করে নিতে হবে। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে চললে , দলবদ্ধ ভাবে গেলে আপনি অনেক  কম খরচে ভ্রমণ শেষ করতে পারবেন । জাফলং গিয়ে পৌঁছানোর পর কোন সময় আপনি নদী এবং পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যাবে সে সময়ের ক্ষেত্রে আপনাকে একটু বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে ।

সকালের দিকে যদি যান তখন রোদের প্রখরতা কম থাকে সে সময় পাহাড় এবং নদীর সৌন্দর্য ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন। কিন্তু দুপুরের সময় প্রচন্ড রোদ থাকে। এ সময় প্রকৃতির দিকে ভালোভাবে তাকানো যায় না। বিকেলে পাহাড় নদীর সৌন্দর্য ভালো ভাবে উপভোগ করা যায়।  জাফলং ভ্রমণ গাইডে যে টিপস গুলো দেওয়া আছে সেগুলো আপনি যদি অনুসরণ করেন তাহলে আপনার ভ্রমন হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত সুশৃংখল এবং নিরাপদ।

লেখকের মন্তব্য:-

নিজের সহজ সরলতার মাধ্যমে পাহাড় ,নদী, পাথর এবং চা বাগানের মেলবন্ধন দিয়ে এমন করে নিজেকে সাজিয়েছে যেখানে কৃত্রিম কোন সাজসজ্জার প্রয়োজন নেই। এখানে ভ্রমণের পরিকল্পনা যতটা গুরুত্ব পূর্ণ তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা। পর্যটকদের অসচেতনতা কারণে প্রকৃতি তার সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে । 

অতএব আমরা যখন ভ্রমণ করব প্রকৃতিকে তার নিজস্ব রূপে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করব। জাফলং এর মতন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরা জায়গাকে উপভোগ করতে হলে শুধু চোখ নয় মন কেউ খোলা রাখতে হবে। তবেই আপনি এর সৌন্দর্য, উদ্দীপনা, সতেজতা, উপভোগ অনুভব করে নিজেকে প্রাণবন্ত করতে পারবেন ।

                                                   আবার দেখা হবে অন্য কোন লিখনের মাধ্যমে  

                                                                           “ আল্লাহ্ হাফেজ “ 
 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪