মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ভোলা জেলার অন্তর্ভুক্ত একটি দ্বীপ। এই দ্বীপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলায় এটি অবস্থিত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এই দ্বীপের অপরূপ দৃশ্য প্রতিটি পর্যটকের মনে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।
প্রাকৃতিক রূপ সৌন্দর্যই এই দ্বীপের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। এই দ্বীপের নদী চর সবুজ মাঠ ঘাস গাছ লতা একত্রিত হয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে। এই অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য প্রতিটি পর্যটকের কাছে নয়নাভিরাম দৃশ্যে ধরা দেয়।
সূচিপত্র:-
- মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড
- মনপুরা দ্বীপ কোথায় অবস্থিত
- মনপুরা দ্বীপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
- ঢাকা থেকে মনপুরায় কিভাবে যাবেন
- মনপুরা দ্বীপের দর্শনীয় স্থান
- মনপুরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কখন যেতে হবে
- মনপুরায় কোথায় কিভাবে থাকবেন
- মনপুরা থাকা অবস্থায় কি ধরনের খাবার খাবেন
- মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ টিপস
- লেখকের মন্তব্য
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড:-
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে মেঘনা নদীর মোহনায় অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর
এই দ্বীপ। কোলাহলমুক্ত নির্জন পরিবেশ যিনারা খোঁজেন তাদের জন্য এটা আদর্শ
গন্তব্য হতে পারে। এখানকার নির্মল বাতাস সবুজে ঘেরা অরণ্য আপনাকে মানসিক
প্রশান্তি দেবে এবং আপনার মধ্যে অন্যরকম ভালোলাগা তৈরি করবে। মনপুরা দ্বীপ
ভ্রমণ গাইডে আমরা জানতে পারবো মনপুরা দ্বীপে আপনি কিভাবে যাবেন, কখন যাবেন,
কোথায় ঘুরবেন, কিভাবে আপনার ভ্রমণটাকে আরো প্রাণবন্ত করে তুলবেন, এ ব্যাপারে
বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এটা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জায়গা।
এই দ্বীপের প্রধান আকর্ষণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। বিস্তৃত চর ভূমি, সবুজে ঢাকা
মাঠ, নারিকেল গাছের সারী আর নদীর শান্ত ঢেউ, সবকিছু মিলিয়ে এক অনন্য
দৃশ্য তৈরি করেছে। বিকেলে নদীর পারে সূর্য অস্তের লালাভা চারপাশকে
রাঙিয়ে তুলে। এরকম দৃশ্যের পরিবেশ দেখলে আপনি আকৃষ্ট হবেন। আকাশ নদী
মিলনের রেখায় সূর্যের ধীরে ধীরে ডুবে যাওয়া দৃশ্য আপনার মনকে আলোড়িত করবে। এ
দৃশ্য প্রকৃতি প্রেমী ও ফটোগ্রাফারদের জন্য একটি স্বর্গরাজ্য বলা যেতে পারে।
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী আপনি যদি মনপুরায় যেতে চান তাহলে আপনাকে ভোলা
জেলায় যেতে হবে। সেখান থেকে বাস এবং লঞ্চ দুটোতেই ভোলা জেলায় পৌঁছানো যায়
।
সেখান থেকে ট্রলার বা স্পিড বটে মনপুরা যাওয়া যায়। মনপুরা হচ্ছে একটি বিচ্ছিন্ন
দ্বীপ এজন্য লঞ্চই হচ্ছে এই দ্বীপের যাওয়ার প্রধান বাহন ঢাকা সদরঘাট থেকে
প্রতিদিন হাতিয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চ ছেড়ে যায় এবং কিছু সময়ের ব্যবধানে এই
লঞ্চটিই আবার মনপুরা দ্বীপে নিয়ে যায়। এছাড়া ঢাকা অথবা বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে
মনপুরা আসতে পারেন । তবে এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই নৌ পথকে ডেঞ্জার
হিসেবে ধরা হয়। আমি লঞ্চগুলোর ছাড়ার সময় উল্লেখ করলাম না। কারণ অবস্থার
পরিপেক্ষিতে সময় পরিবর্তন হয়।
আপনি ভ্রমণ করার আগ দিয়ে ভালোভাবে খোঁজ নিয়ে তবেই ভ্রমণ শুরু করবেন।
নদীপথের এই ভ্রমণ আপনাকে এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেবে। বিশাল আকৃতির নদী, নৌকার
চলাচল ও মাঝ নদীর বাতাস এ ভ্রমণকে আর উপভোগ করে তুলবে। আবহাওয়ার বিষয়ে জানার
পরে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে হবে। কেননা বর্ষাকালে নদীপথ অনেকটা ঝুঁকি
পূর্ণ হয়ে ওঠে। একে ঘুরে দেখার জন্য সাইকেল এবং মোটরসাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়।
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী এই দ্বীপটি মোটরসাইকেলে ঘুরে দেখার জন্য
তেমন বেশি সময় লাগে না।
প্রতিটি স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি তৈরি হয়। স্থানীয় বাজার, নদীর পাড়,
চরাঞ্চল, গ্রামীণ পথ সব কিছুতেই রয়েছে এক ধরনের সরল সৌন্দর্যের
অনুভূতি। বিশেষ করে শীতকালে অতিথি পাখির আগমন দ্বীপের পরিবেশকে আরো প্রাণবন্ত করে
তোলে। এখানে বিভিন্ন ধরনের খাওয়ার হোটেল আছে। স্থানীয়ভাবে অনেক ধরনের
টাটকা মাছের ভর্তা ঝোল গ্রামীন হোটেলে দেশীয় খাবার পাওয়া যায়। শীতকালে
হাঁসের মাংসের ভুনা, মনপুরা দ্বীপের একটি জনপ্রিয় খাবার। এছাড়া মহিষের দুধের দই
নদীর টাটকা ইলিশ মাছ, গলদা চিংড়ির স্বাদ নিতে পারেন।
এখানে বিলাসবহুল রিসোর্ট নেই তবে সরল ও স্বাভাবিক পরিবেশে থাকার সরকারি
পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভবন এবং কিছু বেসরকারি হোটেলে বেশ স্বল্প খরচে
থাকা যায়। মনপুরা চরগুলোতে শীতের মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের পাখি আসে এবং এদের কল
কাকলীতে মুখরিত হয়ে থাকে। মনপুরার চরের সংখ্যা ছোট বড় মিলে প্রায় দশটি।
এগুলো চর পাতালিয়া , চর নিজাম, চরপিয়াল, লালচর, চর শামসুদ্দিন, ডাল
চর , কলাতলীরচর ও চড় নজরুল । এখানে আপনি সূর্যদয় এবং সূর্যাস্ত
দেখতে পাবেন । সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্য এ দ্বীপের খ্যাতি রয়েছে।
মনপুরা যেতে হলে আপনাকে শীতকালে যেতে হবে।
এ সময় নদীর পানি শান্ত থাকে আকাশ পরিষ্কার থাকে। রাস্তাঘাট ভালো
থাকে, শীতকালে আসলে পুরো এলাকা ঘুরে দেখতে আপনার অনেক সুবিধা হবে। কিন্তু
বর্ষাকালের নদী অনেকটা ঝুঁকি অন্য হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাটে কাদা হয়ে
যায়। দ্বীপ ঘুরে দেখার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা তৈরি হয়। বর্ষাকালে
দ্বীপের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পেলেও যাতায়াতের অনেক বড় সমস্যা হয়ে
দাঁড়ায় হয় । সকল দিক নিরাপত্তার কথা ভেবে শীতকালে ভ্রমণ করায় সবচেয়ে বেশি
ভালো হবে। এখানকার অধিকাংশ মানুষ মৎস্য শিকার ও কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত। তবে
তাদের জীবন সংগ্রাম ময় হলেও অতিথি পরায়ণতায় কোন ঘাটতি নেই।
উনাদের এই মানবিক আচরণ ভ্রমণকে আরো মানবিক ও হৃদয় স্পর্শী করে তোলে। ভ্রমণে
গেলে অবশ্যই আপনাকে কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সঙ্গে রাখা
ভালো। কারণ এখানে আধুনিক ব্যাংকিং সুবিধা সীমিত, মোবাইল নেটওয়ার্ক সব সময় থাকে
না। আপনার প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত জিনিস সঙ্গে নিয়ে নিতে হবে। পরিবেশ পরিচ্ছন্ন
রাখা প্রত্যেক ভ্রমণকারীর দায়িত্ব। প্লাস্টিক বা ময়লা ফেলে দ্বীপের
সৌন্দর্য নষ্ট করা উচিত নয়।
আপনি এই দ্বীপে ভ্রমণে গেলে হরিণ দেখতে পাবেন। জোয়ারের সময় হরিণগুলো প্রধান
সড়কের কাছে চলে আসে প্রধান সড়কের কাছে চলে আসে। হরিণের পাল পারা পারের
সময় গাড়ি থামাতে হয় । নদী ভ্রমণের সময় আপনাকে অবশ্যই লাইফ জ্যাকেট রাখতে হবে।
হোটেল ত্যাগ করার আগে আপনার জিনিসপত্র ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখে নিতে হবে। যদি
সাইকেলিং করতে চান তাহলে সবকিছু ঠিক আছে কিনা তা দেখে নেবেন এবং দরদাম করে
নেবেন।
মনপুরা দ্বীপ কোথায় অবস্থিত:-
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মনোমুগ্ধকর দ্বীপ হলো মনপুরা ভোলা জেলা এবং বরিশাল
বিভাগের মধ্যে পড়ে মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত এতিমটি প্রকৃত প্রাকৃতিক
সৌন্দর্যে ভরপুর। এর চারদিকে নদী এবং শান্ত জীবন যাপনের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
নদীর মাঝখানে অবস্থিত হওয়ায় এই বিশাল জল রাশি দ্বীপটিকে আরো আকর্ষণীয় করে
তুলেছে । ভৌগলিকভাবে এই দ্বীপ বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ
অংশ। এই দ্বীপ মূল ভূখণ্ড হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ায়, একমাত্র নদীপথই এর বাহক। নদী
বাহিত পলি দ্বারা এই দ্বীপটি গঠিত বিস্তীর্ণ চর ভূমি, সবুজ ঘাস, সবুজ গাছপালা
দ্বারা আবৃত হওয়ায় দ্বীপের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরো আকর্ষণীয় করে
তুলেছে।
এই দ্বীপ চারদিকে নদী দ্বারা বেষ্টিত যার ফলে পরিবেশ সবসময় নির্মল ও শান্ত থাকে।
আপনি যদি ভোরের সময় এবং বিকেলে নদীর পাড়ে দাঁড়ান তাহলে এই দ্বীপের প্রকৃতির
অপূর্বরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। নদী চর উপকূলীয় প্রকৃতির একসঙ্গে মিলিত
হয়ে এ দ্বীপ গঠিত হয়েছে। মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী এই দ্বীপে গেলে আপনি
নদী, সবুজ মাঠ, গ্রামীণ পরিবেশ, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবগুলো একসঙ্গে উপভোগ করতে
পারবেন। শহরের ব্যস্ত পরিবেশ থেকে নির্জন পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে এই দ্বীপ
টিকে আপনি বেছে নিতে পারেন। মনপুরা উপজেলা হিসেবেও পরিচিত।
চারটি ইউনিয়ন নিয়ে এই উপজেলা গঠিত। এই এলাকায় অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ ও
মাছ ধরার সঙ্গে জড়িত। নদী এবং সাগরের কাছে হওয়ায় মৎস্য সম্পদ এখানে প্রচুর।
মনপুরা দ্বীপ বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূল অঞ্চলে অবস্থিত। মেঘনার মোহনায় অবস্থিত
হওয়ায় এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অন্যরকম। যিনারা প্রকৃতির কাছে যেতে চান এবং
শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চান উনাদের জন্য মনপুরা দ্বীপ একটি চমৎকার
গন্তব্য স্থান হতে পারে।
মনপুরা দ্বীপের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:-
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর একটি বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য ভরপুর একটি মনপুরা এটি বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলার একটি উপজেলা মেঘনা
নদীর মোহনায় অবস্থিত এই দ্বীপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
চারদিকে নদীর বিস্তীর্ণ জলরাশি এবং মাঝখানে সবুজে ঘেরা বনভূমি এক মনোমুগ্ধকর
পরিবেশ তৈরি করেছে দ্বীপজুড়ে সবুজ ঘাসে ঢাকা মাঠ এবং সারি সারি নারকেল গাছ
প্রকৃত প্রেমীদের জন্য বিশেষ করে ভোরবেলা সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের সময় দ্বীপের
পরিবেশ আরো সুন্দর হয়ে ওঠে।
এই দ্বীপে সব সময় শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশ বিরাজ করে। শহরের ব্যস্ত
জীবনে থাকতে থাকতে একঘেয়েমি দূর করার জন্য কোলাহলমুক্ত প্রকৃতির সঙ্গে মেশার
সুযোগ পাওয়া যায় এই দ্বীপে । আপনি এখানে এসে নদীর পাশে বসে নদীর ঢেউয়ের শব্দ
শোনা, খোলা আকাশের নিচে হাঁটাহাঁটি এবং গ্রামীণ পথ ধরে ঘুরে বেড়ানো এসব অভিজ্ঞতা
মনকে প্রশান্ত করে। এই দ্বীপ ভ্রমণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে।
এখনো বড় ধরনের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী কিন্তু এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও
নির্জনতা মানুষকে আকৃষ্ট করে। আপনি নতুন প্রকৃতির মাঝে সময় কাটাতে চাইলে এবং
নতুন কোন অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে এই দ্বীপে যেতে পারেন। এই দ্বীপ টি বাংলাদেশের
সুন্দর ও সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। দ্বীপের চারদিকে জলরাশি, সবুজ প্রাকৃতিক
সৌন্দর্য, এখানকার মানুষের সরল জীবন যাপন পদ্ধতি এই দ্বীপকে আরো সৌন্দর্য
দিয়েছে। আপনি গ্রামাঞ্চলের স্বাদ গন্ধ উপভোগ করতে চাইলে এই দ্বীপে
আসতে পারেন।
ঢাকা থেকে মনপুরায় কিভাবে যাবেন:-
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই দ্বীপ ভোলা জেলার
মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। অনেক ভ্রমণ প্রেমী এই দ্বীপে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
উপভোগ করার জন্য যেতে আগ্রহী হন কিন্তু অনেকেই জানেন না ঢাকা থেকে মনপুরায়
কিভাবে যেতে হয় । ঢাকা থেকে মনপুরায় যেতে চাইলে আপনি দু ধাপে যেতে
পারেন। প্রথমে আপনাকে ভোলা যেতে হবে প্রথমে আপনাকে ভোলা যেতে হবে তারপরে ভোলা
থেকে নদীপথে মনপুরায় যেতে হবে। লঞ্চের মাধ্যমে এখানে আপনাকে যেতে হবে। মনপুরা
দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী ঢাকা সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ভোলার
উদ্দেশে একাধিক লঞ্চ ছেড়ে যায়।
আপনি যদি রাতে লঞ্চে ভোলার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাহলে পরের দিন সকালে
ভোলায় পৌঁছে যাবেন । ভোলায় পৌঁছানোর পর সেখান থেকে মনপুরা যাওয়ার জন্য
ট্রলার স্পিডবোর্ড বা স্থানীয় অন্য কোন যান ব্যবহার করে ভোলা থেকে মনপুরা যেতে
হবে । ভোলা থেকে মনপুরায় যেতে বেশ কয়েক ঘন্টা সময় লাগে। এই যাত্রার সময়
চারিদিকে বিশাল জল রাশি, ছোট বড় নৌকা, নদীর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে আপনার দু নয়ন
পূর্ণ হবে এ দৃশ্যকে অনেক ভ্রমণকারী অপলক দৃষ্টিতে উপভোগ করেন।ভোলা যাওয়ার
দ্বিতীয় পদ্ধতি হচ্ছে, ঢাকা থেকে আপনি বাসে ভোলায় যেতে পারেন।
প্রথমে আপনাকে বরিশাল বা লক্ষ্মীপুর জেলায় যেতে হবে। তারপর সেখান থেকে ফেরীতে
ভোলা জেলায় যেতে হবে। তারপরে ভোলা যাওয়ার পর মনপুরায় যাওয়ার জন্য স্থানীয়
নৌযানে মনপুরায় পৌঁছাতে হবে। তাহলে আর কোন সমস্যা নেই। পৌঁছে গেলেন,
সেখানে পৌঁছানোর পর প্রাকৃতিক রূপ প্রাকৃতিক গুণ সবকিছু উপভোগ করছেন। মন মত
চলাফেরা করছেন। হ্যাঁ এবার বাড়ি ফেরার পালা আপনি যে পথে মনপুরা পৌঁছিয়েছেন
ঠিক সে পথেই বাড়ি পৌঁছে যাবেন।
মনপুরা দ্বীপের দর্শনীয় স্থান:-
মনপুরা দ্বীপের পূর্ব-পশ্চিম এবং উত্তর দিকে মেঘনা নদীর প্রবাহমান আর দক্ষিণ দিকে
রয়েছে বঙ্গোপসাগর। মনপুরা দ্বীপ থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার অসাধারণ সুযোগ
রয়েছে। এছাড়া এ দ্বীপে আরো দেখতে পাবেন হরিণের অভয়া শ্রম, মনপুরা
ল্যান্ডিং স্টেশন এবং চৌধুরী প্রজেক্ট। মেঘনা নদীর ৫০০ মিটার ভিতরে মনপুরা
ল্যান্ডিং স্টেশন তৈরি করা হয়েছে। এ দ্বীপেগ্রামীন পরিবেশটাও অনেক পর্যটকে
আকর্ষণ করে।
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী ছোট বড় বাড়ি ঘর সারি সারি নারকেলের গাছ সব
মিলিয়ে একটি মনমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে আর এটিই মানুষকে বা প্রযোটক কে আকর্ষণ
করে। এ দ্বীপের লোকজনের আচার আচরণ খুব মনোমুগ্ধকর, তারা সহজ সরলভাবে জীবন যাপন
করে থাকেন, আপনি গেলে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে বুঝতে পারবেন উনারা কি পরিমাণ
সহজ সরল তারা খুব অতিথি পরায়ন । তাদের এই সহজ সরল মনোভাব আপনাকে বারবার আকৃষ্ট
করবে।
মনপুরা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে কখন যেতে হবে:-
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর এই মনপুরা
দ্বীপ মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। আপনি যদি মনপড়া দিয়ে প্রমাণ করতে চান মনপুরা
দ্বীপ ভ্রমণ করতে চান তাহলে আপনাকে শীতকাল বেছে নিতে হবে কেননা এ সময় নদী শান্ত
থাকে এবং আবহাওয়া পরিষ্কার থাকে এ সময় নদীপথে যাতায়াত করা ও নিরাপদ। আপনি
শীতকাল ছাড়াও গ্রীষ্মকালে যেতে পারেন গ্রীষ্মকালে আবহাওয়া গরম হলেও নদীর বাতাসে
স্বস্তি পাবেন এ সময় দ্বীপের পরিবেশ একটুও রুক্ষ মনে হলেও প্রকৃতির এক অসাধারণ
সাজানো-গোছানো নীরবতা আপনাকে মুগ্ধ করবে।
কিন্তু গরমের কারণে দিনের বেলায় ভ্রমণ একটু কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। মনপুরা দ্বীপ
ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী তাই সকাল এবং বিকেলে ঘোরাঘুরি করতে পারেন। বর্ষাকালে মন
পোড়া দ্বীপের সৌন্দর্য অন্য রূপ ধারণ করে। চারিদিকে শুধু পানি আর পানি। গাছ লতা
আরো সতেজ হয়ে ওঠে । এ সময় নদীতে প্রচন্ড স্রোত থাকে এবং নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ
করে। ফলে নদী পথে যাতায়াত অনেকটা ঝুঁকি পূর্ণ হয়ে যায়। সেজন্য শীতকাল
ভ্রমণে ক্ষেত্রে আমি উপযুক্ত মনে করি। আপনার মন যদি চাই বর্ষাকালের মনপুরা
দেখতে তাহলে আপনি যেতে পারেন. তবে যাওয়ার আগে অবশ্যই সকল সর্তকতা অবলম্বন করে
আপনি যেতে পারেন।
মনপুরায় কোথায় কিভাবে থাকবেন:-
মনপুরা বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সুন্দর ও শান্ত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভরপুর
একটি দ্বীপ। এই দ্বীপ ভোলা জেলার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। এই দ্বীপের
সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিবছর অনেক পর্যটক আসেন। কিন্তু এখানে আসার
আগে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, মনপুরায় গেলে কোথায় কিভাবে থাকবো। মনপুরা
বাণিজ্যিক পর্যটন এলাকা হিসেবে অনেক পিছিয়ে আছে। কিন্তু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের
ক্ষেত্রে অনেক মনোরম দৃশ্য ধারণ করে আছে।বাণিজ্যিক ভাবে পিছিয়ে থাকার কারণে
সেখানে বড় বড় রিসোর্ট , পর্যটন হোটেল বা বিলাসবহুল হোটেল এখনো গড়ে ওঠেনি।
তবে কিছু স্বাভাবিক ব্যবস্থার মধ্যে পর্যটকেরা ভালোভাবে থাকতে পারেন। এখানে থাকার
জন্য সরকারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভবন এবং কিছু বেসরকারি হোটেল আছে। মনপুরা দ্বীপ
ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী সেগুলোতে খুবই স্বল্প খরচে থাকা যায়। এখানে নামি দামি
বিলাসবহুল হোটেল না থাকলেও যেগুলো আছে সেগুলো একজন পর্যটকের জন্য যথেষ্ট। এখানে
গেস্ট হাউসে এবং আতিথেয়তার মাধ্যমে অতি সহজেই থাকা যায়। যিনারা একেবারে, শান্ত
প্রকৃতির কাছে থেকে কিছু দিন কাটাতে চান। উনাদের জন্য মনপুরা অদ্বিতীয়
একটি স্থান।
মনপুরা থাকা অবস্থায় কি ধরনের খাবার খাবেন:-
বাংলাদেশের দক্ষিণ অঞ্চলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর একটি দ্বীপ হচ্ছে মনপুরা।
নদী বেষ্টিত এই দ্বীপে ভ্রমণে গেলে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়। এখানকার
স্থানীয় খাবারও ভ্রমণকারীদের আকর্ষণ করে। এখানে দেশীয় খাবার গুলো খুবই
স্বাস্থ্যকর এবং সুস্বাদু। এখানে খাবার খেলে আপনি তাজা নদীর মাছের স্বাদ
উপভোগ করতে পারবেন। ইলিশ মাছ, রুই মাছ, বোয়াল মাছ বিভিন্ন ধরনের নদীর মাছ
খাবারের হোটেলে এগুলোতে অতি সহজে পাওয়া যায়। পর্যটকের কাছে প্রিয় যে খাবারগুলো
আছে তার মধ্যে শুটকি মাছকে ধরা যায়। মনপুরায় বিভিন্ন ধরনের নদীর মাছের শুটকি
পাওয়া যায়।
যিনারা শুটকি মাছ খেতে পছন্দ করেন উনারা এখানে শুটকি মাছের স্বাদগুলো উপভোগ করতে
পারেন। দ্বীপ অঞ্চলের শুটকি মাছ খুবই পরিচিত একটি খাবার। শুটকি ভর্তা, শুটকি
ভাজি, অথবা শুটকি দিয়ে তৈরি করা ঝাল তরকারি, কিছু কিছু ভ্রমণকারীর কাছে খুবই
আকর্ষণীয়। আপনার মন চাইলে আপনি শুটকি মাছের স্বাদ ভোগ করতে পারেন। এ
অঞ্চলে প্রচুর মহিষ পালন করা হয়। মহিষের দুধের তৈরি দই এখানে খুব জনপ্রিয় একটি
খাবার। এখানে প্রায় স্থানীয় দোকানগুলোতে এই সুস্বাদু দই পাওয়া যায়। এই
দই সুস্বাদ হওয়ার কারণে, পর্যটকেরা এখানে আসার পর খোঁজ করে খেয়ে থাকেন।
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ টিপস:-
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক মনোরম সৌন্দর্যে ভরপুর একটি দ্বীপ হচ্ছে মনপুরা । এটি
ভোলা জেলার মেঘনা নদীর মোহনায় অবস্থিত। নদী বেষ্টিত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে
এই দ্বীপটি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। নতুন কোন জায়গা ভ্রমণের
আগে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিস জেনে রাখলে আপনার ভ্রমণ হয়ে উঠবে নিরাপদ ও
আনন্দদায়ক। এই দ্বীপে যাওয়ার আগে যাতায়াত সম্পর্কে সঠিক ধারণা জেনে
নেওয়া জরুরী। এই দ্বীপটি নদীবেষ্টিত হওয়ার কারণে লঞ্চ ট্রলার বা স্পিডবোর্ড এর
মাধ্যমে ভ্রমণ করতে হয়।
যার কারনে সময়সূচী সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। তাহলে চলার পথে অতিরিক্ত
ঝামেলা এড়ানো সম্ভব হয়। যেহেতু নদীপথের যাত্রা সেহেতু অবশ্যই
আপনাকে আবহাওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। বর্ষাকালে নদীতে
প্রচুর স্রোত থাকে এবং মাঝে মাঝে ঝড়ো হওয়া দেখা দেয় তাই ভ্রমণের আগে আবহাওয়ার
পূর্বভাস জানা দরকার। কোথায় থাকবেন এ ব্যাপারে আগে থেকে ধারণা নেওয়া উচিত।
সেখানে বড় বড় হোটেল বা রিসোর্ট নেই। এখানে সাধারণ গেস্ট হাউস এবং ছোট ছোট
আবাসিক হোটেল পাওয়া যায়।
প্রয়োজনে স্থানীয় লোকজন বা গাইডের সাহায্যে নেওয়া যেতে পারে। প্রয়োজনীয়
জিনিসপত্র সঙ্গে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীপ এলাকায় শহরের মতো সবকিছু
সহজে পাওয়া যায় না। সে কারণে ব্যক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস প্রয়োজনীয় ঔষধ
পানির বোতল শুকনো খাবার সঙ্গে রাখা ভালো। ভ্রমণের সময় কোন অসুবিধা হলে
সহজে মোকাবেলা করা যায়।
লেখকের মন্তব্য:-
মনপুরা দ্বীপ ভ্রমণ গাইড অনুযায়ী সবকিছু মিলিয়ে মন পোড়া দ্বীপের ভ্রমন আমার
কাছে ছিল। এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। এখানে প্রকৃতির খুব কাছে আপনি যেমন
যেতে পারবেন তেমনি এখানকার গ্রামের মানুষের সহজ সরল জীবন যাপনের পদ্ধতির সম্পর্ক
জানতে পারবেন। এদেশের পর্যটকের সম্ভাবনা নতুনভাবে দেখে মনপুরা
দ্বীপের মত জায়গা গুলোকে আরো গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পরিকল্পনার মাধ্যমে এ দ্বীপে
সংস্কৃতি ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব। এখান থেকে ভ্রমণকারীরা যিনারা প্রকৃতি
ভালবাসেন এবং প্রকৃতির রূপ গন্ধ উপভোগ করতে চান উনাদের জন্য মনপুরা দ্বীপ একটি
আদর্শ গন্তব্যস্থান বলে আমি মনে করি।


.webp)
.webp)

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url