OrdinaryITPostAd

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ


 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ, বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং একটি জনপ্রিয় স্বাধীন পেশা। এ কারণে অনেকেই এই পেশার প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। ধৈর্য, দক্ষতা এবং সঠিক পরিকল্পনা না  থাকায় অনেকে কাজ পান না। তখন তারা মাঝপথেই ছেড়ে দেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ে-কাজ-না-পাওয়ার-কারণ

শুধুমাত্র কোর্স শেষ করলেই দক্ষ হওয়া যায় না। কাজ পাওয়ার জন্য প্র্যাকটিক্যাল স্কিল এবং অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সর্বপ্রথম আপনাকে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ক্লায়েন্ট এমন  ফ্রিল্যান্সারকে খোঁজেন, যিনি তার সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবেন। 

সূচিপত্র:-

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ:-

ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা। স্বাধীন পেশার কারণে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে বা করছে। শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা বিশ্বের তরুণ তরুণীরা বা মধ্যবয়স্ক লোকেরা স্বাধীনভাবে ঘরে বসে আয় করার জন্য এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন। নিজের ইচ্ছামত স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসের কাজ করার সুবিধা এসব কারণে ফ্রিল্যান্সিং অনেকের কাছে খুব আকর্ষণীয় কাজ। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ, এই কাজ শুরু করার পর অনেকে দীর্ঘ সময় চেষ্টা করার পরও কাজ পান না। এতে নিজেদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়। তখন অনেকেই মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ কি? কাজ না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে দক্ষতা না থাকা। আমাদের মধ্যেকার বেশির ভাগ ব্যক্তির ধারণা, একটি কোর্স করলেই কাজ করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। এখানে অনেক প্রতিযোগিতা। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ, আপনার যদি ভালো মানের দক্ষতা না থাকে তাহলে এখানে টিকে থাকা অনেক কষ্টকর। শুধু থিওরিটিক্যাল জ্ঞান থাকলে হবে  না, বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ক্লায়েন্ট এমন একটি ফ্রিল্যান্সারকে খোঁজেন যে তার কাজের সমাধান করে দিতে পারবে। প্রোফাইল অনেকের সঠিকভাবে তৈরি করতে পারে না।

নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে অনেকেই প্রোফাইল পেশাদার ভাবে সাজাতে পারেনা। প্রোফাইলে ছবি, আকর্ষণীয় প্রোফাইল, পরিষ্কার বর্ণনা, শক্তিশালী পোর্টফোলিও যা কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দুর্বল প্রোফাইল দেখলে ক্লায়েন্ট, অন্য কাউকে বেছে নেয়। অনেকে প্রপোজাল লেখার ক্ষেত্রে ভুল করে থাকে। অনেকে কপি পেস্ট করে একই ধরনের প্রপোজাল সব জায়গায় পাঠান।  ক্লাইন্ট এটা পছন্দ করেন না। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা প্রপোজাল লিখতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ, একটি ভালো প্রপোজাল আপনার কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

পোর্টফোলিও না থাকা বা দুর্বল পোর্টফলিও কাজ না পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা দায়ী। ক্লাইন্টরা  আপনার কাজের নমুনা দেখতে চায়। যাতে তারা বুঝতে পারে আপনার কাজের দক্ষতা কতটুকু। আপনার পোর্টফোলিও না থাকলে ক্লায়েন্টেকে বিশ্বাস করানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শুরুতে কিছু ডেমো প্রজেক্ট তৈরি করে নিন এবং পোর্টফোলিও সাজিয়ে ফেলুন। এখানে অনেক প্রতিযোগিতা। একটি কাজের জন্য হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সার আবেদন করেন। যার কারণে নতুনদের জন্য কাজ পাওয়া আরো কঠিন হয়ে যায়।

অনেকে কম রেটে কাজ করতে চাইলেও কাজ পান না। কেননা শুধু কাজের দামই গুরুত্বপূর্ণ না। এখানে কাজের মান ও দক্ষতার গুরুত্বতা রয়েছে । নতুন ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে ধৈর্যের অভাব দেখা যায়।  নতুনরা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ চেষ্টা করার পর যখন কাজ পান না তখন হতাশ হয়ে পড়েন। তারা মনে করেন আমাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং না। অনেকে হয়তো জানেন না, ফ্রিল্যান্সিং একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। এখানে ধৈর্য ধরে  নিয়মিত চেষ্টা করতে হয়।

অনেক সফল ফ্রিল্যান্সার দীর্ঘ সময় কাজ পাননি। কিন্তু উনারা হাল ছাড়েন নি। যার কারণে  উনারা আজকে হতে পেরেছেন সফল ফ্রিল্যান্সার। নতুনদের জন্য মার্কেটপ্লেসে কাজ না পাওয়া একটি সাধারণ বিষয়। কিন্তু এর পেছনের কারণগুলো আপনাকে বুঝতে হবে এবং সেগুলো সংশোধন করতে হবে। তাহলে সফলতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভালো প্রপোজাল লেখা, দক্ষতা বৃদ্ধি, ধৈর্য ধরা এবং সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে চেষ্টা চালিয়ে গেলে  আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করতে পারবেন। মনে রাখবেন, ব্যর্থতা মানে সব কিছু শেষ নয়। এটি একটি শেখার ধাপ, এ মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে পারেন, তাহলে সফলতা অবশ্যই আসবে। 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে-কাজ-না-পাওয়ার-কারণ


দক্ষতার অভাব এবং পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস না থাকা:-

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ। আপনার দক্ষতা না থাকলে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। নতুনদের দক্ষতার অভাব এবং পর্যাপ্ত প্র্যাকটিস না থাকার কারণে অনেকে কাজ পান না। ফ্রিল্যান্সিংয়ের শুরুতে লোকমুখে শুনে আমাদের মধ্যে একটি ধারণা তৈরি হয়। তা হল, কোন একটি কোর্স করলে অথবা ইউটিউবে যেসব ফ্রিল্যান্সিং নিয়ে ভিডিও আছে সেগুলো দেখে কাজ করলেই অর্থ আয় করা যায়। কিন্তু বাস্তবে তা না। শুধু ভিডিও দেখে  জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, হাতে কলমে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তবেই আপনি কাজের আশা করতে পারেন।

কাউরো একটি বিষয়ে মৌলিক ধারণা থাকা সত্ত্বেও সেটি নিয়ে সে বাস্তবে প্রয়োগ করতে পারে না, তখন বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। যেমন একজন গ্রাফিক্স ডিজাইনার ডিজাইনের নিয়ম কানুন সবকিছুই জানেন।  কিন্তু বাস্তবে উনি ডিজাইন করতে গেলে দক্ষতার অভাবে আকর্ষণীয় কোন ডিজাইন করতে পারছেন না। তাহলে তার সেই জ্ঞান ক্লাইন্টের কাছে তেমন মূল্যায়ন হবে না। একজন কনটেন্ট রাইটার ব্লগ লিখতে জানে।  কিন্তু পাঠকে আকর্ষণ করার মতন তেমন কোন লেখা লিখতে পারেন না।

তাহলে তিনি কাজ পেতে ব্যর্থ হবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ। আপনি কি- জানেন ? সেটা বড় কথা না।  আপনি একটি কাজ দক্ষতার সহিত কিভাবে করতে পারবেন সেটা বড় কথা। অনুশীলন দক্ষতা বৃদ্ধি করে। আপনি যদি পর্যাপ্ত অনুশীলন না করেন, তাহলে আপনি দক্ষ হতে পারবেন না। অনেকে শেখার পর ভালোভাবে প্র্যাকটিস করেন না। প্র্যাকটিস না থাকার কারণে, অনেক কিছু ভুলে যায় এবং কাজ করার সময় আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। আপনি যদি প্র্যাকটিস ভালো ভাবে না করেন।

তাহলে কাজের গতি কমে যাবে। ভুলের পরিমাণ বেড়ে যাবে, কাজের মান কমে যাবে। মার্কেটপ্লেসে ক্লাইন্টেরা এমন কাউকে বেছে নেন, যিনি দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন। এখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। এখানে আপনাকে টিকে থাকতে হলে অন্যদের চেয়ে নিজেকে আলাদা ভাবে তৈরি করতে হবে। এটি সম্ভব হয় শুধুমাত্র নিয়মিত অনুশীলন ও দক্ষতার মাধ্যমে। প্রতিদিন স্কিল নিয়ে কাজ করলে ধীরে ধীরে উন্নতি হয়। নতুন নতুন টেকনিক শেখা, পুরনো কাজগুলো রিভিউ করা এবং নিজের ভুলগুলো সংশোধন করা। এই অভ্যাসগুলো আপনাকে আরো দক্ষ করে তুলবে। 

দুর্বল এবং ভুল প্রপোজাল লেখা:-

ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ। কাজ পাওয়ার জন্য ভালো প্রপোজাল লেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ক্লায়েন্টের চোখে পড়তে হলে অবশ্যই আপনাকে ভালো প্রোপজাল লিখতে হবে। আপনার দুর্বল এবং ভুল প্রোপজল লেখার কারণে  কাজ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। অনেক নতুন ফ্রিল্যান্সারদের মধ্যে কাজের দক্ষতা দেখা যায়। কিন্তু ভালো প্রপোজাল না লেখার কারণে ক্লায়েন্ট তাদেরকে এড়িয়ে যায়। ক্লায়েন্ট এড়িয়ে যাওয়া মানে কাজ হারিয়ে যাওয়া। আপনি দুর্বল প্রপোজাল লিখে কখনোই ক্লায়েন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবেন না। অনেকের মধ্যে দেখা যায় একই ধরনের প্রপোজাল কপি পেস্ট করে বিভিন্ন  জব পোস্টে পাঠান। এতে প্রোপজল  টি দ্রুত বাতিল হয়ে যায়। 

অবশ্যই একটি প্রোপোজাল কাজের চাহিদা অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা অত্যন্ত জরুরী। কাজটি না বুঝে প্রোপজল লেখা নতুনদের মধ্যে এই ভুলটি প্রায় দেখা যায় । জব ডেসক্রিপশন না পড়ার কারণে অনেক ফ্রিল্যান্সার ক্লায়েন্টের সমস্যা ধরতে পারেন না। যার কারণে প্রোপোজলে  এমন কিছু লেখা হয় যা কাজের সাথে কোন মিল নেই বা অপ্রাসঙ্গিক। এসব ক্ষেত্রে ক্লায়েন্ট অবশ্যই মনে করবেন এই ফ্রিল্যান্সার কাজ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উপযুক্ত না। অতএব কাজটি বোঝার পর আপনাকে প্রপোজাল লিখতে হবে।

 অনেকের মধ্যে দেখা যায়  প্রোপোজলে নিজের সম্পর্কে বেশি কথা বলে। কিন্তু ক্লায়েন্টের সমস্যা নিয়ে তেমন কিছু বলে না। মনে রাখবেন ক্লাইন্ট আপনার জীবনের গল্প  শুনতে চান না। ক্লায়েন্ট চায় আপনি তার কাজের সমাধান করে দিতে পারবেন কিনা। প্রোপোজাল সুন্দর একটি গঠন দিয়ে লিখতে হবে। এলোমেলো অগোছালো প্রপোজাল পড়তে  ক্লায়েন্ট আগ্রহী হন না। তাই সংক্ষিপ্ত আকারে প্রফেশনাল ভাবে প্রোপজল লিখতে হবে। ভুল প্রোপজল ফ্রিল্যান্সারের কাজ না পাওয়ার অন্যতম একটি কারণ।

এই সমস্যার সমাধান করতে হলে, আপনাকে সফল ফ্রিল্যান্সারদের প্রপোজাল থেকে শিখতে হবে। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা প্রোপজল লিখতে হবে। এতে আপনার সফলতার সুযোগ বাড়িয়ে দিবে। একটি ভালো প্রোপোজাল শুধু কাজ পাওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দেবে না বরং আপনার দক্ষতার পরিচয় ফুটিয়ে তুলবে। একটি ভালো প্রোপোজাল লেখার দক্ষতা আপনার ফ্রিল্যান্সিং সফলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

পোর্টফোলিও না থাকা বা দুর্বল পোর্টফলিও থাকা:- 

ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন জনপ্রিয় পেশা। এই পেশায় সফলতা আনতে গেলে আপনার একটি শক্তিশালী পোর্টফোলিও দরকার। ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনার দক্ষতা কেমন, অভিজ্ঞতা কেমন, আপনার কাজের মান কেমন?  আপনার পোর্টফোলিওর মাধ্যমে এসব জিনিস ক্লায়েন্ট দেখবেন। তাহলে অবশ্যই পোর্টফলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের পোর্টফলিও না থাকা বা দুর্বল পোর্টফলিও থাকার কারণে কাজ পেতে ব্যর্থ হন। আপনার যদি পোর্টফলিও না থাকে, তাহলে আপনি  ক্লায়েন্টের কাছে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে পারবেন না।

একজন ক্লায়েন্ট যখন আপনাকে কাজ দিতে চাইবেন তখন তিনি দেখতে চাইবেন আপনি অতীতে কি ধরনের কাজ করেছেন। কাজের মান কেমন ছিল। যদি দেখানোর মত কোন কাজ না থাকে তাহলে ক্লায়েন্ট অন্য কাউকে বেছে নেবেন। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ। যার কারণে  আপনার দক্ষতা আছে কিন্তু ক্লায়েন্টের চাহিদা অনুপাতে আপনি দক্ষ না। যার কারণে দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও অনেকে কাজ পান না। দুর্বল পোর্টফলিও থাকাও ক্ষতিকর। 

অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় পোর্টফলিও তৈরি করেছেন কিন্তু সেখানে কাজের মান ভালো না বা কাজগুলো সঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়নি। এসবের জন্য ক্লায়েন্টের মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তখন ক্লায়েন্ট শক্তিশালী পোর্টফোলিও ফ্রিল্যান্সারের দিকে চলে যান। এটি শুধু কাজ পাওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয় না বরং একজন ফ্রিল্যান্সারের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস ও  পেশাদারিত্ব কেউ ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই শুরু থেকে সফল হতে চাইলে একটি শক্তিশালী আকর্ষণীয় পোর্টফোলিও তৈরি করা অত্যন্ত জরুরী। এটি আপনার  দক্ষতার প্রমাণ বহন করে। যা সফলতার পথে একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ। করবে । 

অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং কম রেটে কাজ করা:-

ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন জনপ্রিয় পেশা। বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একই প্লাটফর্মে আমরা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি। এই সফলতার পাশাপাশি  বড় একটি সমস্যা তৈরি হচ্ছে।  অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা এবং কম রেটে কাজ করার প্রবণতা। আমাদের কাজের দাম এবং মান উভয়কে নষ্ট করে। অতিরিক্ত প্রতিযোগিতার কারণে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে উঠছে। একটি কাজের জন্য হাজার হাজার ফ্রিল্যান্সাররা আবেদন করেন। যার কারণে ক্লায়েন্টের সামনে অনেক বিকল্প থাকে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে নতুন ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কাজ পাওয়া খুব  কঠিন হয়ে যায়। অভিজ্ঞ ফ্রিল্যান্সারদের সঙ্গে টিকে থাকা নতুনদের জন্য অনেক কষ্টকর ব্যাপার। কারণ তাদের পোর্টফলিও, রিভিউ এবং কাজের অভিজ্ঞতা কম থাকে। ফলে অনেক সময় দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাজ পাওয়ার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন।  কম রেটে কাজ করার ফলে মার্কেটপ্লেসে একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের ক্ষেত্রে কম রেটে কাজ করার প্রবণতা প্রায় দেখা যায়। 

এতে অল্প সময়ের মধ্যে কিছু কাজ পেলেও পরবর্তীতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। আপনি যদি একবার কম রেটে কাজ শুরু করেন। তাহলে পরবর্তীতে রেট বাড়ানো খুব কঠিন হয়ে যায়। কম রেটে কাজ করার কারণে কাজের মান কমে যায়। এতে কাজের গুণগত মান ঠিক থাকে না এবং  ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট হন না। তখন একজন ফ্রিল্যান্সারের  রেপুটেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একজন ফ্রিল্যান্সারের ভবিষ্যতে কাজ পাওয়া সম্ভাবনাকে  নষ্ট করে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ না পাওয়ার কারণ।  এই সমস্যা  সমাধানের জন্য আপনি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

সর্বপ্রথম আপনাকে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং নির্দিষ্ট নিস নিয়ে কাজ করতে হবে। এতে প্রতিযোগিতা কম হয় এবং নিজেকে দক্ষ ফ্রিল্যান্সার হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। আপনি যদি শুরুতে কম রেটে কাজ করে থাকেন। তাহলে ধীরে ধীরে রেট বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকতে হবে এর পাশাপাশি  ক্লায়েন্টের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করতে হবে এবং মানসম্মত কাজ প্রদান করতে হবে। 

ফ্রিল্যান্সিংয়ে-কাজ-না-পাওয়ার-কারণ

ধৈর্যের অভাব এবং নিয়মিত চেষ্টা না করা:- 

ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা। এই পেশায় সফলতা অর্জন করতে হলে ধৈর্য এবং সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমান সময় দ্রুত গতিসম্পন্ন পৃথিবীতে আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে সফলতা অর্জন করতে চাই। কিন্তু কোন বড় অর্জনই একদিনের সম্ভব নয়। আপনি যদি সফলতা অর্জন করতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্য ধরে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য, চেষ্টা, সঠিক পরিকল্পনা না থাকলে আপনি কখনো সফলতা অর্জন করতে পারবেন না। ধৈর্য এমন  একটি গুণ যা কঠিন পরিস্থিতিতে স্থির থাকতে সাহায্য করে।

বাধা, ব্যর্থতা এবং প্রতিকূলতা আসবেই। ধৈর্য ধরে যারা এগিয়ে যেতে পারে তারাই শেষ পর্যন্ত সফল হয়। অপরদিকে যারা অল্পতেই হতাশ হয়ে পড়েন এবং ফলাফল না পেলে চেষ্টা ছেড়ে দেন তারা কখনোই সফলতা অর্জন করতে পারে না। ধৈর্যের অভাব হলে মানুষ অস্থির হয়ে ওঠে। এ কারণে সঠিক সিদ্ধান্ত সে নিতে পারে না । সমস্যার সম্মুখীন হলে সে নিজেকে হারিয়ে  ফেলে দেয়। নিয়মিত চেষ্টা ধারাবাহিক সফলতার গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। কোন কাজ একটু  চেষ্টা করে ছেড়ে দিলে ফলাফল পাবেন না। 

আবার  মাঝে মধ্যে করলেও কাঙ্খিত ফল আসবে না। প্রতিদিন একটু একটু করে এগিয়ে যেতে হবে। আর এতেই আপনার বড় সাফল্যের  ভিত্তি গড়ে উঠবে। কিন্তু প্রথমে অনেকে খুব আগ্রহ নিয়ে শুরু করলেও কিছুদিন পরে এসে আগ্রহ ধরে রাখতে পারেন না। তারা নিয়মিত কাজ করতে পারেন না। এই কারণে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি হয় না এবং তারা পিছিয়ে পড়েন। আপনি ধৈর্য ধরে নিয়মিত চেষ্টা না করলে আপনার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। আপনি বারবার ব্যর্থতার সম্মুখীন হবেন এবং নিজের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন।

অথচ আপনি যদি ধৈর্য ধরে নিয়মিত চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকেন। তাহলে একসময় অবশ্যই উন্নতি করতে পারবেন। আপনি যদি সফল ব্যক্তিদের জীবনের দিকে তাকান তাহলে দেখতে পাবেন তারা কখনোই হাল ছাড়েননি। তারা ধৈর্য ধরে কঠোর পরিশ্রম করে লক্ষ্য অর্জন করেছেন। বিশেষ করে  ফ্রিল্যান্সিংয়ের  ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেকে দ্রুত সফলতা চান। দ্রুত সফলতা না পেয়ে কাজ ছেড়ে দেন। তারা বুঝতে পারে না দক্ষতা অর্জন এবং ভালো অবস্থানে পৌঁছাতে সময় লাগে।

আপনি যদি ধৈর্য ধরে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যান। তাহলে ধীরে ধীরে সফলতা আপনার কাছে ধরা দেবে। এসব সমস্যার সমাধানের জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রথমে আপনাকে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পরিকল্পনা করতে হবে ।  তৃতীয়তঃ ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে তা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। নিজের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন ধীর গতিতে স্থির ভাবে এগিয়ে যাওয়াই প্রকৃত সফলতার মূল রহস্য।

লেখকের মন্তব্য:-

ধৈর্যের অভাব এবং নিয়মিত চেষ্টা না করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে একটি বাস্তব সত্য তুলে ধরতে চাই। প্রযুক্তি আবিষ্কারের ফলে আমরা এমন একটি জায়গায়  পৌঁছে গিয়েছি, সেখানে সবকিছু দ্রুত পাওয়ার প্রবণতা আমাদের মানসিকতাকে প্রভাবিত করছে। এই দ্রুত পাওয়ার প্রবণতা আমাদের মধ্যে এমন একটি ধারণা তৈরি করেছে যে, সফলতা মানে তাৎক্ষণিক ফলাফল।

বাস্তব জীবনে পিছিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ধারণাটা অনেক দায়ী। ধৈর্য এবং নিয়মিত চেষ্টা এই দুটোই আপনার সফলতার ভিত্তি। এই দুটো গুন ছাড়া বড় অর্জন কখনো সম্ভব না। তাই আমাদের উচিত নিজেদের মধ্যে এ গুণগুলো গড়ে তোলা এবং প্রতিদিন একটু একটু করে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়া।    http://

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ২

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৩

এইটা একটি বিজ্ঞাপন এরিয়া। সিরিয়ালঃ ৪